পাহাড়ি ফুল (এক অচেনা যুদ্ধের কাহিনী): চৌধুরী আহসান
১ বাবুছড়া ক্যাম্পের অপরিসর আঙিনায় সৈনিকরা জলপাই রঙের ম্যাট বিছিয়ে রাইফেল পরিষ্কারে ব্যস্ত। প্রতিমাসে একবার গোটা ক্যাম্প জুড়ে চলে পরিষ্কার ঘষামাজার কাজ। এই শত্রুপুরীতে সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু মিলিমিটার চাইনিজ রাইফেল সৈনিকদের একমাত্র ভরসা। বুট, রাইফেল, রুটি এই তিন ঠিক তো সৈনিক ঠিক। একবেলা ভাত না খেলেও সই কিন্তু এক মুহূর্ত রাইফেল ছাড়া থাকা বিপদজনক। হাবিলদার মন্তাজ মিয়া কাঠের টুলে বসে সৈনিকদের তদারকি করে। দুপুরের মিঠা রোদে ঝিম ধরে আসতে চায়। ঝিম ধরলেও সৈনিকদের একরত্তি উপায় নেই ওর চোখকে ফাঁকি দেয়। ফাঁকি দিবেই বা কেমন করে? তিরিশ বছরের চাকুরি জীবনে মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর এই কাজেই তো দিন গুজরান করলো। এ্যাই! রমজান এতো তাড়া কিসের, ট্রেন ধরবি নাকি? দেখি তোর ব্যারেলটা? হাবিলদার মন্তাজ আলোর দিকে মুখ ঘুরিয়ে বাম চোখ বন্ধ করে নানাভাবে উল্টেপাল্টে দেখে। আরও পরিষ্কার হবে রে। হাবিলদার মন্তাজ নিজেই ক্লিনিং রড উঠিয়ে তাতে যত্নের সাথে সাদা ফ্লানেল কাপড় জড়ায়। দেখিয়ে দেয় যুতসই পরিষ্কার করতে হয় কেমন করে। নো তাড়াহুড়া, রাইফেল পরিস্কার করতে হয় ধীরে সুস্থে মহব্বতের সাথে। বিবির গায়ে যখন হাত লাগাস তখন যেমন মহব্ব...