বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

পাহাড়ের দেয়ালে ঠেকা পিঠ এবং জন ত্রিপুরার বিস্ফোরক সতর্কতা- ইনজেব চাঙমা

জন ত্রিপুরা

"যে শান্তি জন্য রক্ত দিয়েছি, যে শান্তির জন্য শান্তি বাহিনী গঠন হয়েছিল, শান্তির জন্য অস্ত্র জমা দিয়েছিল, সে শান্তি আর পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকবে না। তাই বলছি, প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় সরকার, প্রিয় বাঙালি বন্ধুরা, প্রিয় পাহাড়ি বন্ধুরা, চোখ খুলুন আপনাদের। চোখ খোলার সময় এসে গেছে।"

গত ২৩ জুন ২০২৬, বান্দরবানের লামা উপজেলার নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় পাহাড়িদের ভূমি বেদখল, হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন জুম্ম তরুণদের প্রতিনিধি জন ত্রিপুরা। তাঁর এই বক্তব্য কেবল কোনো সাধারণ প্রতিবাদ নয়, বরং দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের মনে জমে থাকা গভীর ক্ষোভ ও তীব্র বারুদের এক বিস্ফোরক বহিঃপ্রকাশ।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পাহাড়ের সেই ঐতিহাসিক চুক্তি আজো পূর্ণাঙ্গ আলোমুখ দেখেনি। ভূমি কমিশন কার্যকর না থাকায় প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ হতে হচ্ছে আদিবাসীদের। এই চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে জন ত্রিপুরা সমাবেশে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন:

"এই লেখা পড়া আমাদের কাজে দিবে না, টাকা পয়সা আমাদের কাজেই দিবে না। যে বিল্ডিং আমাদের কাজেই দিবে না, যার কারণে আমি সম্পদ খুঁজি, সে সম্পদ যদি রাষ্ট্র নিরাপত্তা, দেশ, সরকার দিতে না পারে, আমাদের মা-বোনদের এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিতে না পারে তাহলে সেই আইন শৃঙ্খলা আমি চাই না। আমি নিজের নিরাপত্তা নিজেই তৈরি করবো। সেটি যদি বেআইনি পথে হয়, সেটি যদি অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয় আমি সেথার জন্য প্রস্তুত।"

জন ত্রিপুরার এই বক্তব্য আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার জন্য এক চরম সতর্কবার্তা। যখন একটি অঞ্চলের নাগরিকরা নিজেদের মৌলিক নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় আইনি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন তা সমগ্র দেশের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সন্তু লারমার অবর্তমানে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর দেওয়া কঠিন হুঁশিয়ারি। জন ত্রিপুরা বলেন:

"আপনারে সর্তক করছি, সন্তু লারমা যদি মৃত্যু হয় তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম কি অবস্থায় হয় তখন আপনারা বুঝতে পারবেন না। এই সন্তু লারমার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনই শান্তি বজায় রয়েছে। যেদিন সন্তু লারমা মারা যাবে সেদিন দেখবেন এ পার্বত্য চট্টগ্রাম আর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তখন বুঝবেন এই সরকার কি ভুল করেছে। ...অপেক্ষায় থাকবেন না সন্তু লারমা মৃত্যুর জন্য। এটি ভুল করবেন। তার বেঁচে থাকার অবস্থায় আমাদের শান্তি প্রতিষ্ঠায় করতে হবে। যদি সে মারা যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আর কোন দিন শান্তি হবে না।"


এই তরুণ নেতার বক্তব্য প্রমাণ করে, পাহাড়ের শান্তি আজ কতটা ভঙ্গুর সুতোয় ঝুলছে। শান্তিবাহিনীর অস্ত্র সমর্পণের পর দীর্ঘ ২৯ বছর পার হলেও শান্তি না আসায় তরুণদের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। জন ত্রিপুরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এই মুহূর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই দুঃখ ও ক্ষোভ না বুঝে যদি ভাবা হয় যে অস্ত্র দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যাবে, তবে সেটি হবে "মস্তবড় বোকামি কাজ।"

সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশ সরকারের উচিত পাহাড়ের এই আর্তনাদ ও ক্ষোভের গভীরতা অনুধাবন করা। দমন-পীড়ন বা শক্তির ভাষা নয়, বরং সন্তু লারমার জীবদ্দশাতেই পার্বত্য চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং ভূমি কমিশনের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমেই কেবল পাহাড়ের এই সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। আর কতকাল পাহাড় এই উপেক্ষার আগুনে জ্বলবে? রাষ্ট্রকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

পাহাড়ি ঝরনার বাঁক ও একটি ক্লান্ত তরীর উপাখ্যান: পার্বত্য চুক্তির তিন দশক: ইনজেব চাঙমা

১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরের শীতের সকালটি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এক নতুন বসন্তের আবাহন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে পাহাড়ের বুক চিরে কেবল বুলেটের আর্তনাদ আর বারুদের গন্ধ বের হতো, সেখানে এক টুকরো শান্তির কপোত উড্ডয়ন করেছিলপার্বত্য চুক্তি হাত ধরে। চুক্তির সেই ঐতিহাসিক দলিলটি ছিল পাহাড়ের জখম হওয়া বুকে এক পশলা উপশম। কিন্তু কালের নিয়মে, সময়ের দীর্ঘ নদী বেয়ে আজ যখন আমরা প্রায় তিন দশক পার করছি, তখন সেই শান্তির কপোত কি সত্যি নীড় খুঁজে পেয়েছে, নাকি তা কোনো চোরাবালিতে ডানা হারিয়ে ছটফট করছেতা আজ এক বিরাট জিজ্ঞাসার মুখোমুখি।

সম্প্রতি পাহাড়ের এক তরুণ কণ্ঠের আক্ষেপযেখানে তিনি নেতৃত্বকে "মাঝনদীতে দিক হারানো এক বিকল ইঞ্জিনের জাহাজের" সাথে তুলনা করে জনগণকে সেই ভাঙা তরী মেরামতেরমেকানিকহওয়ার আহ্বান জানিয়েছেনতা আমাদের এক গভীর আত্মোপলব্ধির দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়।

সমালোচকদের চোখে (অংহ্লাচি মারমা, তথ্য প্রচার সম্পাদক,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। গত কাল ২৩ জুন ২০২৬ Paharerkantho নামে পেজ থেকে এ বক্তব্য), বিশেষ করে তার দৃষ্টিতে, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) আজ তার সেই পুরনো বৈপ্লবিক জৌলুস হারিয়ে এক ধূসর গোধূলিতে এসে দাঁড়িয়েছে। যে তরীটি একদা উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে অধিকারের তীরে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল, অস্ত্র সমর্পণের পর তা যেন আজ এক নিশ্চল পাথরের মতো জলের স্রোতে ভাসছে। অভিযোগ উঠেছে, বিপ্লবের আগুন যেখানে মশাল হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা ব্যক্তিস্বার্থ আর সুবিধাবাদের মৃদু আলোয় নিভে যাচ্ছে। আন্দোলনের নামে এক ধরনের মায়াজাল বা কুয়াশা তৈরি করে সাধারণ মানুষকে এক অনন্ত অপেক্ষায় বন্দি রাখা হয়েছে। তার দাবি, এই জরাজীর্ণ তরীর হাল পরিবর্তন করতে হবে; সাধারণ মানুষকেই হতে হবে সেই কারিগর, যারা আন্দোলনের এই মৃতপ্রায় ইঞ্জিনে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে।

কিন্তু এই কঠোর নির্মম সমীকরণের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক পরম মানবিক ঐতিহাসিক সত্য, যা কেবল ক্ষোভের চোখে দেখা সম্ভব নয়। দীর্ঘ চব্বিশটি বছর যারা পাহাড়ের অরণ্যে, শ্বাপদসংকুল গুহায়, আকাশের নিচে রাত জেগে অধিকারের লড়াই করেছিলেন, সেই শান্তিবাহিনীর সৈনিকেরা তো রোবট ছিলেন না; তারা ছিলেন মানুষ। ১৯৯৭ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা ছিলেন চূড়ান্তভাবেরণক্লান্ত

দীর্ঘদিন পরিবার-পরিজনহীন, স্নেহের ছায়াবঞ্চিত এবং মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা সেই ক্লান্ত মানুষগুলো রাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন যুদ্ধের বিভীষিকা মুছে ফেলে একটুখানি স্নেহের ওমের নিচে, আপনজনদের পাশে শান্তিতে বাঁচতে। এই শান্তিকামনা কোনো কাপুরুষতা বা সুবিধাবাদ নয়, এটি জীবনের এক চিরন্তন স্বাভাবিক ব্যাকুলতা। তারা তাদের শ্রেষ্ঠ যৌবন পাহাড়ের ধূলিকণায় উৎসর্গ করে অবশেষে এক টুকরো নিরাপদ, স্বাধীন আশ্রয়ের খোঁজে ঘরে ফিরেছিলেন।

জেএসএস যখন বন্দুকের নল ছেড়ে নিয়মতান্ত্রিক কূটনৈতিক লবিংয়ের টেবিলে বসে অধিকার আদায়ের দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে লিপ্ত, ঠিক তখনই পাহাড়ের আকাশে জমা হতে শুরু করে অন্য এক কালো মেঘ। চুক্তির  কম-বেশী পাওয়া এবংকি বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার সুযোগে পাহাড়ের অন্দরে জন্ম নেয় চুক্তি-বিরোধী চরমপন্থী নতুন নতুন ধারা। ঘরের শত্রুরা যখন উগ্র মূর্তিতে অবতীর্ণ হলো, তখন পাহাড়ের সবুজ উপত্যকা আবারো এক রক্তাক্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। জেএসএস-কে তখন এক হাতে সামলাতে হয়েছে রাষ্ট্রের সাথে প্রতিশ্রুতির দরকষাকষি, আর অন্য হাতে লড়তে হয়েছে ঘরের ভেতরের ভাতৃঘাতী আত্মক্ষয়ী যুদ্ধ। এই দ্বিমুখী ঝড়ে তরীর গতি শ্লথ হওয়াটাই যেন ছিল প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম।

৯৭-এর চুক্তি-পরবর্তী জেএসএস-এর এই যাত্রাপথকে কেবলব্যর্থতাবাসুবিধাবাদবলে দাগিয়ে দেওয়া ইতিহাসের প্রতি অবিচার হবে। নদী যেমন তার চলার পথে কখনো শান্ত, কখনো খরস্রোতা, জেএসএস-এর আন্দোলনও তেমনি আজ এক দীর্ঘস্থায়ী শান্ত রাজনৈতিক পরিক্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মের সেইমেকানিকহওয়ার ডাকটিকে আমাদের ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে। তবে তা তরীটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, বরং (যদি) তার পাল ছিঁড়ে যাওয়া অংশটুকু জোড়া লাগানোর জন্য। পাহাড়ের মানুষের অধিকারের লড়াই কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষোভের বিষয় নয়, এটি অস্তিত্বের লড়াই। অতীতের ক্লান্তি বর্তমানের ক্ষোভকে একীভূত করে, নবীন প্রবীণের মেলবন্ধনে যদি এই জরাজীর্ণ তরীকে আবার সচল করা যায়, তবেই পাহাড়ে শান্তির সেই অধরা সূর্যটি একদিন সত্যি উদিত হবে।

 

সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

বৃত্তবন্দী মানুষেরা- ইনজেব চাঙমা

সেদিন ছিল ১৭ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, এক অলস বুধবার। চারদিকের আকাশ সকাল থেকেই মেঘের ঘন চাদরে ঢাকা। মাঝে মাঝে সেই মেঘের বুক চিরে সূর্য তার তেজস্বী উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে বটে, কিন্তু তাতে আলো ছড়ানোর চেয়ে গুমোট ভ্যাপসা গরমই বাড়ছিল কেবল। প্রকৃতির এই অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মাঝেই আমি ডুবে ছিলাম প্রিয় কাজে—চাকমা সাহিত্য পত্রিকা ‘চাদি’ ও চাঙমা সংবাদ পত্র “হিলর পচ্জন”র প্রকাশনা নিয়ে টেবিলজুড়ে আমার ব্যস্ততা।

বেলা ঠিক ১১:৫৬ মিনিটে হাতের মুঠোফোনটি তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান চাকমা (নলেজ)-এর নাম। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে গম্ভীর ও কিছুটা তাড়া মেশানো কণ্ঠ ভেসে এল, "জেএসএস অফিসে আসো।"

সকালে স্রেফ নুন দিয়ে ভাত খাইয়ে আমার ছোট্ট মেয়ে জধা চাকমাকে সবেমাত্র ঘুম পাড়িয়েছিলাম। একটু ইতস্তত করে বললাম, "মেয়েটা ঘুমাচ্ছে তো, একটু পরে আসলে হয় না?" উত্তর এল সংক্ষিপ্ত ও অনমনীয়, "তাড়াতাড়ি আসলে ভালো হয়।"

মনটা কু ডাকল। একটা সংশয় মনের কোণে উঁকি দিল—কী এমন জরুরি দরকার, যা আমার জন্য অপেক্ষা করছে? আবার ভাবলাম, কদিন আগেই তো জেএসএস সাধারণ সম্পাদক সমীর দাকে আমাদের চাকমা লেখা (লেঘা) কোর্সটি চালু করার অনুরোধ করেছিলাম; হয়তো সেই বিষয়েই কোনো ইতিবাচক আলোচনা হবে।

সংশয় ঝেড়ে ফেলে মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে কোলে নিলাম। সোজা রওনা হলাম অফিসের উদ্দেশ্যে। সেখানে গিয়ে দেখি জ্ঞান চাকমা নলেজ (সাংগঠনিক সম্পাদক, জেএসএস, দিঘীনালা থানা শাখা) এবং প্রদীপ চাকমা (দপ্তর সম্পাদক, জেএসএস, দিঘীনালা থানা শাখা) বসে আছেন, পাশে এক বয়োবৃদ্ধ মানুষ। উনার সাথে কি কথা যেন বলছেন। আমাদের দেখেই জ্ঞান চাকমা রূঢ় স্বরে বললেন, "মেয়েকে তার মায়ের কাছে দিয়ে এসো।" জধার মা দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে বসে শাকসবজি বিক্রি করে। নিরুপায় হয়ে মেয়েকে তার মায়ের জিম্মায় রেখে দ্রুত আবার অফিসে ফিরে এলাম।

কিন্তু চেয়ারে বসতে না বসতেই ঘরের বাতাস যেন বিষিয়ে উঠল। কোনো ভূমিকা ছাড়াই জ্ঞান চাকমা আচমকা তর্জন-গর্জন শুরু করলেন, "তুমি একটা বেকুব, বেআক্কল! তোমার মতো মানুষকে মেরে ফেললে কী বা ক্ষতি হবে? বড়জোর জেএসএস থেকে বহিষ্কার হতে হবে, এই তো!" একের পর এক অপমানজনক গালিগালাজ ধেয়ে আসতে লাগল আমার দিকে।

আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। আমতা আমতা করে বললাম, "আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। কী হয়েছে?" তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, "তোমাকে সাইনবোর্ড দিতে কে বলেছে?" "কীসের সাইনবোর্ড? আমি তো কোথাও কোনো সাইনবোর্ড দিইনি!" আকাশ থেকে পড়লাম আমি। আমার বিস্ময়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি আরও জ্বলে উঠলেন, "তুমি না দিলে কে দেবে? তোমার সব কাজ আজ থেকে বন্ধ। তুমি আর কোনো কাজ করতে পারবে না এখানে। তুমি কি ত্রিদীপকে চেয়ারম্যান করতে চাও? মনে রেখো, এখানে আমি ছাড়া কেউ চেয়ারম্যান হতে পারবে না!"

তাঁর কথার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রদীপ চাকমা রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন। আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, "তুমি কোন ইউনিয়নের লোক? কেন সেখানে কাজ করো?" এরপর জ্ঞানের দিকে তাকিয়ে বললেন, "তুমি কেন বহিষ্কার হবে হে? এই ইনজেবকে হাত-পা ভেঙে রেখে দিলে কী এমন হবে? কিচ্ছু হবে না!"

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করে শামীল দা বললেন, "আমি তোমাকে বহুকাল ধরে চিনি। আচ্ছা, তুমি যদি সাইনবোর্ডটা দিয়েও থাকো, সেটা সরিয়ে নিলেই তো ঝামেলা চুকে যায়।"

আমি জোড়হাতে বিনীতভাবে বললাম, "দা, আমি তো কোনো পর মানুষ নই। সবার সহযোগিতা নিয়েই তো কাজ করছি। এটি শুধু আমার ব্যক্তির কাজ নয়। এই সাইনবোর্ড আমি দিইনি। আমি নিশ্চয়ই কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি, এটা খতিয়ে দেখা দরকার। গত ২৩ মার্চ আমি যে তিনটি সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম, তা তো জ্ঞান চাকমা নিজেই ভেঙে দিয়েছেন। তারপর থেকে তো আমি ওমুখো হইনি। তাছাড়া, তখন তো প্রয়োজন মনে করে এলাকার গণ্যমান্য সকলের সাথে পরামর্শ করে, অধিবেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেকই ‘অঝাপাত স্কয়ার’-এর সাইনবোর্ড দিয়েছিলাম। সেটা নিয়ে যখন জ্ঞান চাকমার এত আপত্তি, তখন আমি কেন আবার নতুন করে দিতে যাব?"

আমার যুক্তিপূর্ণ আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ হতে পারল না। প্রদীপ চাকমা হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন, "কোনো কথা নয়! এখান থেকে উঠে যাও। আর যেন তোমাকে চোখের সামনে না দেখি। অন্যথায় লাঠি পেটা করে বের করে দেব!"

আর কোনো কথা না বাড়িয়ে, এক বুক অপমান আর লাঞ্ছনা নিয়ে আমি সেই তপ্ত ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। সুব্রত দার দোকানে বসে এক কাপ চা খেলাম, কিন্তু ভেতরের অস্বস্তিটা কমছিল না। সত্যটা যাচাই করতে নিজেই গেলাম সেই মোড়ে। গিয়ে দেখি, সত্যিই কোনো নতুন সাইনবোর্ড নেই।

জ্ঞান চাকমাকে ফোন করে জানালাম, "আমি তো কোনো সাইনবোর্ড দেখছি না।" তিনি ওপাশ থেকে নির্দেশ দিলেন, "পূর্ব কোণায়, মানে কবাখালী রোডের দিকে গিয়ে দেখো।"

সেখানে গিয়ে দেখলাম, একটি সাইনবোর্ড দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সেটি তো নতুন নয়! সেটি তো সেই ২৩ মার্চে দেওয়া পুরোনো সাইনবোর্ডটিই, যা পূর্বেই স্থাপন করা হয়েছিল। আমি পুনরায় জ্ঞান চাকমাকে ফোন করে বললাম, "এটি তো ২৩ মার্চের দেওয়া পুরোনো সাইনবোর্ড, কোনো নতুন বোর্ড নয়।" উত্তরে জ্ঞান চাকমা তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন, "আমার চোখে কি লের পড়েছে? এতদিন তো দেখিনি!" আমি দৃঢ়কণ্ঠে বললাম, "আমার কাছে প্রমাণ আছে, ছবি তোলা আছে। আপনি চাইলে দেখতে পারেন। আর যারা সাইনবোর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে তাদের থেকে জিজ্ঞেস করে দেখেন তারা কয়টি ভেঙ্গে দিয়েছে আর আমি কয়টি সাইনবোর্ড দিয়েছি"

স্মৃতির পাতা হাতড়ালে মনে পড়ে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দীঘিনালার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা-বাবুছড়া সংযোগ সড়ক মোড়টির নাম দেওয়া হবে “অঝাপাত স্কয়ার”। সেই সামাজিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই গত ২৩ মার্চ আমি জয় চাকমাকে সাথে নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ডটি স্থাপন করেছিলাম।

অথচ, সেই মহৎ উদ্যোগের পর থেকেই জ্ঞান চাকমা (নলেজ) বারবার আমাকে কটূক্তি করেছেন, হুমকি দিয়েছেন। এমনকি আমাকে জেএসএম বা ইউপিডিএফ করার ‘পরামর্শ’ দিয়ে নিজের ইউনিয়নে কাজ না করার জন্য লিখিত নোটিশ পর্যন্ত পাঠিয়েছেন।

আজকের পৃথিবী বিজ্ঞানের ডানায় ভর করে বহুদূরে এগিয়ে গেছে। ঘরে বসেই আমরা লহমায় হাতের মুঠোয় পেয়ে যাচ্ছি পুরো দুনিয়ার খবরাখবর। মানুষ মহাকাশ জয় করছে, সীমানা পেরিয়ে অজানাকে চিনছে। অথচ, আমরা? নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য আর সংস্কৃতির সুতোয় যারা সমাজকে বাঁধতে চাই, তারা আজও কোন আদিম হিংসা আর সংকীর্ণতার বৃত্তে বন্দী হয়ে আছি? প্রগতির আলো কি তবে আমাদের এই বৃত্তের অন্ধকারকে কখনো স্পর্শ করতে পারবে না?

 

 

 


 


রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের নামে জনগণের বিরুদ্ধে রাজনীতি- ইনজেব চাঙমা

 


পূর্ণস্বায়ত্তশাসন, শব্দটি একসময় অনেকের কাছে আশার প্রতীক ছিল। মনে হতো, এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রাম। বিশ্বাস ছিল, যারা এই দাবি তোলে, তারা পার্বত্য চুক্তির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে জনগণের জন্য নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খুলতে চায়। কিন্তু আজ প্রশ্ন একটাই, এই পূর্ণস্বায়ত্তশাসন কি আদৌ জনগণের জন্য, নাকি জনগণের বিরুদ্ধেই পরিচালিত একটি রাজনীতি?
২০২২ সালের ৯ জুন দুধুকছড়ার ঘটনা সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেয়। একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা মেজর মোঃ এমদাদুল ইসলামের হাতে দাবিনামা তুলে দেওয়া কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম নয়, এটি প্রকাশ্য চাপ প্রয়োগ। সেদিনই বোঝা গিয়েছিল, পূর্ণস্বায়ত্তশাসন এখানে নীতির বিষয় নয়, এটি ভয় দেখানোর একটি কৌশল।
এরপর থেকে দৃশ্যপট আরও নগ্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কবি–সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সরকারি চাকরিজীবী, যারা কেউই অস্ত্রধারী নন, কেউই ক্ষমতাবান নন, শুধু ভিন্নমত পোষণ করেন। মতের অমিল মানেই দেশদ্রোহী, শত্রু, দালাল, কিংবা “জনবিরোধী”। এই রাজনীতিতে যুক্তির কোনো স্থান নেই, আছে শুধু লেবেল আর হুমকি (অন্য বিষয় উল্লেখ করলাম না। কেননা কোন মহৎ উদ্দেশ্যর কিছু ক্ষতি হয়)।
সবচেয়ে নৈতিকভাবে দেউলিয়া চিত্রটি দেখা যায়, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ করানো, অশালীন ভাষায় প্ল্যাকার্ড - স্লোগান শেখানো, এটি রাজনৈতিক সচেতনতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহিংসতার ভাষায় দীক্ষিত করার চেষ্টা। আমরা তো শিখে এসেছি, সন্তানের সামনে মা–বাবা ঝগড়া করে না। অথচ এখানে রাজনীতির নামে শিশুদের মনে ”হিংসা, ধ্বংসাত্মক বিষ বপন" করা হচ্ছে।
১৯৯৮ সালের “পূর্ণস্বায়ত্তশাসন” শ্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠিত দলটি আজ নিজেদের আয়নায় তাকালে কী দেখবে? জনগণের ঐক্য, নাকি জনগণের বিভাজন? মুক্তির রাজনীতি, নাকি ভয়ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ?
একদিকে ঐক্যের কথা বলা হয়, “এগত্তর”র বুলি আওড়ানো হয়; অন্যদিকে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ করানো, অশালীন ভাষায় প্ল্যাকার্ড - স্লোগান শেখানো, ভিন্নমতাবলম্বীদের সামাজিকভাবে চরিত্রহনন করা হয়। এই দ্বিচারিতা কোনো মুক্তিকামী আন্দোলনের লক্ষণ নয়, এটি ক্ষমতা রক্ষার রাজনীতির পরিচয়।
পূর্ণস্বায়ত্তশাসন জনগণের ন্যায্য দাবি হতে পারে। আর যে আন্দোলন প্রশ্নকে দমন করে, শিশুদের ব্যবহার করে, আর জনগণের ওপরই আক্রমণ চালায়, সে আন্দোলন মুক্তির পথ দেখায় না। বরং তা প্রমাণ করে, সমস্যার নাম স্বায়ত্তশাসন নয়; সমস্যার নাম সেই রাজনীতি, যা জনগণকে বাদ দিয়ে নিজেদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়।
এই রাজনীতি বদলানো না গেলে, পূর্ণস্বায়ত্তশাসন শব্দটি ইতিহাসে আর অধিকার নয়, ভয়ের প্রতিশব্দ হিসেবেই লেখা থাকবে।
১৩ জুন ২০২৬ খ্রি.  

সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

চাকমা বর্ণমালা: ঐতিহাসিক বিকাশ, বর্ণসংখ্যা বিতর্ক ও আধুনিক মান্যতা- ইনজেব চাঙমা


ভূমিকা

চাকমা জনগোষ্ঠীর ভাষা বর্ণমালা দক্ষিণ এশিয়ার আদিবাসী ভাষাতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভাষার লিখিত রূপ কোনো জাতির সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় চর্চা জ্ঞানসংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। চাকমা ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছেএটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য হলেও, বর্ণসংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান। এই প্রবন্ধে চাকমা বর্ণমালার সংখ্যা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বিতর্ক, ধর্মীয় সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট এবং আধুনিক কালে এর মান্যতা প্রযুক্তিগত বিকাশ আলোচনা করা হয়েছে।

চাকমা বর্ণমালার সংখ্যা: গবেষণাগত মতভেদ

চাকমা বর্ণমালার সংখ্যা নির্ধারণে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা পাওয়া যায়। ভাষাবিদ George Abraham Grierson তার বহুল আলোচিত গবেষণাগ্রন্থ Linguistic Survey of India- চাকমা ভাষার ৩৩টি বর্ণমালা উল্লেখ করেন।¹
পরবর্তীকালে সতীশ চন্দ্র ঘোষ চাকমা জাতি গ্রন্থে ৩৭টি বর্ণমালা কথা উল্লেখ করেন।²
আবার নোয়ারাম চাকমা তার পাঠ্যবই চাকমার বর্ণমালার পত্তম শিক্ষা-তে ৩৯টি বর্ণমালা উল্লেখ করেন।³
এই ভিন্নমতগুলো মূলত উচ্চারণভেদ, যুক্তধ্বনি আঞ্চলিক ব্যবহারের পার্থক্য থেকে উদ্ভূত বলে অনুমান করা যায়।

আধুনিক মান্যতা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত

বর্ণসংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নিরসনের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে আয়োজিত একটি কর্মশালায় ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ চাকমা সমাজের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, চাকমা ভাষার জন্য ৩৩টি বর্ণমালাই প্রমিত ব্যবহারযোগ্যবর্তমানে শিক্ষা, সাহিত্য লিখিত যোগাযোগে এই বর্ণমালাই ব্যবহৃত হচ্ছে।

ধর্মীয় ঐতিহ্য প্রাচীন সাহিত্য

চাকমারা একসময় তান্ত্রিক বৌদ্ধমতে বিশ্বাসী ছিলেন। এই ধর্মীয় ধারার অনুসারী লুরি বা পুরোহিতরা চাকমা বর্ণমালায় ধর্মগ্রন্থ আঘরতারা রচনা করেন, যা চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রাচীনতম পুঁথি হিসেবে বিবেচিত।
আঠারো শতকে (প্রায় ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) চাকমা সাধক কবি শিবচরণ চাকমা বর্ণমালায় গোজেনলামা গীতি-কবিতা রচনা করেন।এসব সাহিত্যকর্ম থেকে প্রতীয়মান হয় যে চাকমা বর্ণমালার ব্যবহার বহু শতাব্দী পূর্ব থেকেই প্রচলিত।

প্রযুক্তিগত বিকাশ ডিজিটাল চর্চা

আধুনিক যুগে চাকমা বর্ণমালার প্রসারে প্রযুক্তির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ২০০১ সালে মোস্তফা জব্বার চাকমা বর্ণমালার প্রথম সফটওয়্যার তৈরি করেন, যা চাকমা ভাষাকে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে।এর ফলে ভাষাটি শিক্ষা প্রকাশনায় নতুন মাত্রা লাভ করে।

উপসংহার

চাকমা বর্ণমালা একটি প্রাচীন জীবন্ত ভাষাতাত্ত্বিক ঐতিহ্য। বর্ণসংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ২০০৭ সালের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বর্তমানে ৩৩টি বর্ণমালা মান্যতা পেয়েছে। প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজিটাল চর্চা পর্যন্তচাকমা বর্ণমালার ধারাবাহিক ব্যবহার এর ঐতিহাসিক গভীরতা সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করে।


রেফারেন্স / ফুটনোট তালিকা

  1. Grierson, G. A. (1903). Linguistic Survey of India. Calcutta: Government of India Press.
  2. ঘোষ, সতীশ চন্দ্র. (১৯০৯). চাকমা জাতি. কলকাতা।
  3. চাকমা, নোয়ারাম. (১৯৫৯). চাকমার বর্ণমালার পত্তম শিক্ষা. রাঙামাটি।
  4. চাকমা ভাষা বিষয়ক কর্মশালা প্রতিবেদন. (২০০৭). রাঙামাটি।
  5. চাকমা ধর্মীয় পুঁথি: আঘরতারা (প্রাচীন পাণ্ডুলিপি)
  6. শিবচরণ চাকমা. (১৭৭৭ আনু.). গোজেনলামা (গীতি-কবিতা)
  7. প্রথম আলো. (২৫ ডিসেম্বর ২০১৩). “চাকমা বর্ণমালার সফটওয়্যার ডিজিটাল উদ্যোগ

পাহাড়ের দেয়ালে ঠেকা পিঠ এবং জন ত্রিপুরার বিস্ফোরক সতর্কতা- ইনজেব চাঙমা

জন ত্রিপুরা "যে শান্তি জন্য রক্ত দিয়েছি, যে শান্তির জন্য শান্তি বাহিনী গঠন হয়েছিল, শান্তির জন্য অস্ত্র জমা দিয়েছিল, সে শান্তি আর পার্বত...