মিঙিনি নদীর তীরে এক রক্তাক্ত ইতিহাস - ইনজেব চাঙমা
এই তো সেদিন। চৌদ্দই অক্টোবর। মিঙিনি নদীর কূলে শরতের সিক্ত বাতাসে জ্বলে উঠেছিল চিতার লেলিহান শিখা। সেই আগুনে ধীরে ধীরে ভস্মীভূত হয়েছিল এক নিরন্ন, নিরীহ মানুষের দেহ। আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। সারা বেলা ঝরেছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। প্রকৃতি যেন নিজেও সেদিন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। তবু নিভে যায়নি চিতার আগুন। কারণ, সে আগুন কেবল কাঠের স্তূপে জ্বলেনি; জ্বলে উঠেছিল মানুষের বুকে, শোকাতুর জনতার হৃদয়ে, অধিকারবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘশ্বাসে। যাঁর দেহ সেদিন মিঙিনি নদীর তীরে আগুনের লেলিহান শিখায় ছাই হয়ে গিয়েছিল, তাঁর নাম শহীদ ভরদাস মনি চাঙমা। বয়স ষাট বছর। পিতা প্রয়াত কুমুদ্যা চাকমা। নিবাস বানছড়া, ৫১ নং দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। তিনি কোনো যুদ্ধজয়ী সেনাপতি ছিলেন না, ছিলেন না অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা কোনো যোদ্ধা। তিনি ছিলেন পাহাড়ের মাটিতে শিকড় গেড়ে বেঁচে থাকা এক সাধারণ মানুষ, একজন জুম্ম কৃষক। জুমের ধান, বনের আলু আর নাতি-নাতনিদের মুখের হাসিতেই ছিল তাঁর জীবনের সুখ। মাটির সঙ্গে ছিল তাঁর নাড়ির সম্পর্ক; ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো আর পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়াই ছিল তাঁর প্রতিদিনের সংগ্রাম। পাহাড়ী ...