শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

চাঙমা বর্ণমালা: আত্মবিস্মৃত জাতির নিরব আত্মসমর্পণ- ইনজেব চাঙমা

 

চাঙমা বর্ণমালা নিয়ে আজ যে প্রশ্ন—“এ থেকে লাভ কী?”—এটি আসলে সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রশ্নগুলোর একটি। কারণ এই প্রশ্নের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক জাতির নিজের শিকড়কে অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা করার মানসিকতা। যে জাতি নিজের লিপিকেই “অপ্রয়োজনীয়” ভাবতে শেখে, তাকে আর বাইরে থেকে ধ্বংস করার প্রয়োজন পড়ে না—সে নিজেই নিজের ইতিহাস মুছে ফেলে।
বাস্তবতা আরও নির্মম। চাঙমা সমাজের বিপুল অংশ আজ নিজেদের বর্ণমালা চিনে না। এটিই কোনো সাধারণ অজ্ঞতা নয়—এটি একটি সাংস্কৃতিক পতনের দলিল। আর যাঁদের আমরা ‘সচেতন’ বলি, তাঁদের বড় অংশই এই বিচ্ছিন্নতার বাইরে নন। প্রশ্ন তাই তীক্ষ্ণভাবে ফিরে আসে—যে নিজের বর্ণমালাই পড়তে জানে না, সে কোন অর্থে সচেতন?
একসময় এই জাতির জীবন ছিল নিজস্ব লিপিতে বোনা। কবিতা, বারমাস, পালাগান, এমনকি দৈনন্দিন হিসাব—সবই লেখা হতো নিজেদের বর্ণমালায়। ভাষা ছিল জীবনের শ্বাস, আর লিপি ছিল তার দৃশ্যমান শরীর। কিন্তু সেই শরীরকে আমরা ধীরে ধীরে অস্বীকার করেছি। চাঙমা রাজবাড়ি-এর ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক পরিসর থেকে শুরু হয়ে, গৌরিকা-এর মতো বাংলা-নির্ভর প্রকাশনার বিস্তারে যে প্রবণতা গড়ে ওঠে, তা একসময় সাংস্কৃতিক দাসত্বের রূপ নেয়। বাংলা শেখা দোষ নয়—কিন্তু নিজের বর্ণমালাকে বিসর্জন দিয়ে অন্য ভাষার ছায়ায় আত্মপরিচয় খোঁজা নিঃসন্দেহে পরাজয়ের নামান্তর।
আজ প্রযুক্তির যুগে চাঙমা বর্ণমালা লেখা সবচেয়ে সহজ। ডিজিটাল ফন্ট, মোবাইল, কম্পিউটার—সবই হাতের মুঠোয়। তবুও আমরা লিখি না। কারণ সমস্যাটি প্রযুক্তির নয়, মানসিকতার। যে মানসিকতা নিজের লিপিকে গুরুত্বহীন মনে করে, তাকে কোনো প্রযুক্তি উদ্ধার করতে পারে না।
এখানে দায় চাপিয়ে দেওয়ার খেলা দীর্ঘদিন ধরে চলছে—রাষ্ট্রের দিকে, সমাজের দিকে, নীতিনির্ধারকদের দিকে। রাষ্ট্রের অবহেলা সত্য, সামাজিক উদাসীনতাও সত্য। কিন্তু সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো—আমরা নিজেরাই এই পরাজয়কে স্বাভাবিক করে নিয়েছি। নিজেরাই নিজেদের ভাষাকে “ঐচ্ছিক সংস্কৃতি” বানিয়ে ফেলেছি। এই আত্মসমর্পণের চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু নেই।
জাতপ্রেম, দেশপ্রেম যদি কেবল বক্তৃতা, দিবস আর স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা কেবল আত্মপ্রবঞ্চনা। নিজের বর্ণমালাকে প্রতিদিনের জীবনে ফিরিয়ে না আনা মানে—নিজের ইতিহাসকে চুপচাপ কবর দেওয়া।
আজ প্রশ্ন তাই আর নিরীহ নয়। প্রশ্ন এখন সরাসরি আঘাত করে—আমরা কি নিজেরাই নিজের বর্ণমালার কফিন বহন করছি না? কারণ সত্য হলো, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে বাইরে থেকে আক্রমণ প্রয়োজন হয় না, যদি সেই জাতি নিজেই নিজের ভাষাকে অব্যবহৃত করে তোলে।
চাঙমা বর্ণমালা আজ আমাদের সামনে কেবল একটি লিপি নয়—এটি একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষা উত্তীর্ণ না হলে, আমরা ধীরে ধীরে শুধু ভাষাহীনই নই, ইতিহাসহীন এক নামমাত্র পরিচয়ে পরিণত হব।

১ মে: অধিকার, শান্তি ও শ্রমের এক ঐতিহাসিক সমাপতন- ইনজেব চাঙমা


সত্যের এক সহজাত শক্তি আছে; একে সাময়িকভাবে অবদমিত করে রাখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়। ঠিক তেমনি, অন্যায়ের ভিত যতই গভীর হোক না কেন, তা কখনো চিরস্থায়ী হতে পারে না। ইতিহাসের এই অমোঘ সত্যই আমাদের শেখায় অতীতকে মূল্যায়ন করতে এবং বর্তমানকে অনুধাবন করতে। বিশেষ করে ২০২৬ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে মে তারিখটি এক অনন্য ঐতিহাসিক সমাপতনের নাম, যেখানে প্রশাসনিক দলিল, আধ্যাত্মিক শান্তি এবং শ্রমের অধিকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড নয়, বরং এটি ১১টি জুম্ম জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি দীর্ঘ ইতিহাসের এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। এই অঞ্চলের প্রশাসনিক সামাজিক কাঠামোর বিবর্তনে ১৯০০ সালের 'Chittagong Hill Tracts Regulation' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মে তারিখে কার্যকর হওয়া এই আইনটি এই অঞ্চলের ভূমি অধিকার এবং স্বতন্ত্র প্রশাসনিক সত্তার ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে নানা বিতর্ক বা আলোচনা থাকলেও, এটি যে এই অঞ্চলের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এই দিনটির গুরুত্ব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধি লাভ এবং মহাপরিনির্বাণের স্মৃতিবিজড়িত এই তিথিটি বিশ্বজুড়ে শান্তি, অহিংসা করুণার বাণী প্রচার করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কাছে এটি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং তাদের সাংস্কৃতিক জাতিগত পরিচয়ের এক গভীর আধ্যাত্মিক বহিঃপ্রকাশ। বুদ্ধের প্রদর্শিত মৈত্রী সাম্যের পথ আজও আমাদের এই অঞ্চলে শান্তি সহাবস্থানের প্রেরণা জোগায়।

এই আধ্যাত্মিক ঐতিহাসিক আবহের সাথে যুক্ত হয়েছে বিশ্বব্যাপী পালিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস শিকাগোর শ্রমিকদের রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সভ্যতার প্রতিটি ইট পাথরে মিশে আছে শ্রমজীবী মানুষের ঘাম। শ্রমের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের যে ডাক মে দিবস দেয়, তা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ন্যায়বিচারকামী মানুষের জন্য চিরকাল প্রাসঙ্গিক।

মে তারিখটি যখন এই তিনটি ভিন্ন মাত্রাকে ধারণ করে, তখন তা আর কেবল একটি সাধারণ ছুটির দিন থাকে না। এটি হয়ে ওঠে একটি বহুমাত্রিক চেতনার প্রতীক:

  • ন্যায়বিচার: যা ১৯০০ সালের রেগুলেশনের আইনি কাঠামোর সাথে যুক্ত।
  • শান্তি: যা বুদ্ধের বাণীর মাধ্যমে অন্তরে প্রবেশ করে।
  • অধিকার: যা মে দিবসের সংগ্রামী চেতনার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়।

এই ত্রিমাত্রিক চেতনা আমাদের শেখায় বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে এবং মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।

পরিশেষে বলা যায়, মে আমাদের সামনে এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসা ছুড়ে দেয়। সত্যকে ধারণ করে এবং অন্যায়কে বর্জন করে আমরা কেমন সমাজ গড়তে চাই? পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমগ্র বিশ্বের জন্য এই দিনটির শিক্ষা হলোশান্তি, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানই একটি স্থিতিশীল মানবিক সমাজ গঠনের একমাত্র পথ। যেখানে মানুষের পরিচয় হবে তার মানবিকতায়, আর সমাজ পরিচালিত হবে সত্য ন্যায়ের ভিত্তিতে।

 

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগাজিন: দুই দশকের সাহিত্যিক মানচিত্র (১৯৭২–১৯৯১)- ইনজেব চাঙমা


‘লিটল ম্যাগাজিন’—এই শব্দবন্ধটির কোনো যুৎসই বাংলা প্রতিশব্দ আজও স্থির হয়নি। একে ‘ক্ষুদে সাহিত্যপত্র’ বলা গেলেও, তাতে এর বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি, বিদ্রোহী মনন ও সৃজনশীল দায়বদ্ধতার সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে না। বাংলা সাহিত্যের পরিসরে ‘লিটল ম্যাগাজিন’ আজ চেয়ার–টেবিলের মতোই পরিচিত ও স্বীকৃত এক সাংস্কৃতিক পরিভাষা। প্রাবন্ধিক আবদুল মান্নান সৈয়দের ভাষায়, লিটল ম্যাগাজিন হলো সেই অপ্রতিষ্ঠানিক, অ-ব্যবসায়িক এবং প্রতিবাদী চেতনা-উদ্ভূত প্রকাশনা, যা মূলধারার সাহিত্যচর্চার বাইরে দাঁড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও মননের চারপাশে আবর্তিত হয়।

বাংলা সাহিত্যে ষাটের দশকে ঢাকাকেন্দ্রিক যে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার ঢেউ পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে লাগে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই। ১৯৭২ সাল থেকে এই অঞ্চলে লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের প্রথম সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। দুর্গম ভৌগোলিক বাস্তবতা, প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যপত্রিকার অনুপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক অবহেলার মধ্যেই পার্বত্য জনপদের তরুণরা তাদের সৃজনশীল অভিব্যক্তির আশ্রয় খুঁজে নেয় এই ক্ষুদ্র অথচ তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশনাগুলোতে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সদ্য গড়ে ওঠা শিক্ষক সমাজ এবং সচেতন তরুণদের হাত ধরেই এখানে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গতানুগতিকতার বাইরে নতুন কিছু করার তাড়না থেকেই জন্ম নেয় এসব সাহিত্যপত্র।

গবেষণালব্ধ তথ্যানুযায়ী, ১৯৭২ থেকে ১৯৯১—এই দুই দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা থেকে মোট ২৮৯টি লিটল ম্যাগাজিন ও সাহিত্য সংকলনের সন্ধান পাওয়া যায়। বিষয়বস্তু ও প্রকাশক সংগঠনের প্রকৃতি অনুযায়ী এই বিপুল প্রকাশনাধারাকে সাতটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে প্রকাশিত হয় ৭৮টি সংকলন; ক্রীড়া, সামাজিক ও কল্যাণমূলক সংগঠন থেকে ৫৬টি; রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন থেকে ৩৫টি; বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৮টি; শিশু ও কিশোর সংগঠন থেকে ১৩টি; এবং অন্যান্য ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকাশিত হয় মোট ৬৯টি সংকলন। এই সংখ্যাতাত্ত্বিক বিস্তারই প্রমাণ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্যচর্চা কতটা প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক ছিল।

এই আন্দোলনে কয়েকটি সংগঠনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭২ সালে রাঙ্গামাটি থেকে প্রকাশিত জুভাপ্রদের উদ্যোগে সন দেওয়ান সম্পাদিত ‘বিজু’ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয়। প্রকল্পনা সাহিত্যাঙ্গন সর্বাধিক আটাশটি প্রকাশনা বের করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে; শাহরীয়ার রুমী সম্পাদিত ‘রৌদ্রদগ্ধের গান’ এবং নন্দলাল শর্মা সম্পাদিত ‘প্রথম আশার রশ্মি’ এই ধারার স্মরণীয় সংকলন। জুম পাহাড়ের ঐতিহ্য, জীবনবোধ ও সাহিত্যচর্চাকে কেন্দ্র করে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল (জাক) এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ভূমিকা পালন করে। অপরদিকে, ১৯৮৮ সালে গঠিত বান্দরবান সাহিত্যাঙ্গন ‘রক্তাক্ত একুশে’ ও ‘অরণ্য কমল’-এর মতো মানসম্পন্ন সংকলনের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগাজিনগুলো কেবল কবিতার খাতা বা সৃজনশীল পরীক্ষাগার ছিল না; এগুলোর ভেতর গভীরভাবে উপস্থিত ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিবাদী চেতনা। বিঝু, বিহু, বিষু, সাংগ্রাই ও বৈসুকের মতো আঞ্চলিক উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বহু সংকলন পাহাড়ি জনজীবনের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরে। ‘সপ্তবর্ণ’, ‘রেঁনেসা’, ‘পাজন’-এর মতো সংকলনে এই উৎসবচেতনার শিল্পিত প্রতিফলন দেখা যায়। আবার ‘পাহাড়িকা গুঞ্জন’ বা ‘পাহাড়ী’-র মতো সংকলনে উঠে আসে জাতিসত্তা, আঞ্চলিক ইতিহাস এবং পাহাড়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ। একুশে ফেব্রুয়ারি ও বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংকলনগুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তরুণদের সংগ্রামী মনন ও প্রতিবাদী স্বর।

তবে এই আন্দোলনের পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। প্রধান অন্তরায় ছিল অর্থনৈতিক সংকট। উদ্যোক্তারা ছাত্রজীবন শেষ করার পর বাস্তব জীবনের চাপে পড়ে অনেক সময় সংগঠন ধরে রাখতে পারেননি। ফলে বহু লিটল ম্যাগাজিন দীর্ঘজীবী হয়নি। মুদ্রণ ব্যয় কমাতে সাইক্লোস্টাইল বা ফটোস্ট্যাটে ছাপিয়ে নামমাত্র মূল্যে প্রকাশ ছিল সাধারণ ঘটনা। যথাযথ সংরক্ষণের অভাব, সম্পাদকের নাম বা প্রকাশকাল অনুল্লেখিত থাকার কারণে আজ গবেষকদের কাছে বহু মূল্যবান তথ্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।

তবু এসব সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বাংলা সাহিত্যচর্চার বিকাশে লিটল ম্যাগাজিনগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। আজকের বহু প্রতিষ্ঠিত পাহাড়ি কবি, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিকের সাহিত্যযাত্রার প্রথম পাঠশালা ছিল এই ক্ষুদ্র সাহিত্যপত্রগুলো। ১৯৭২ থেকে ১৯৯১—এই দুই দশকের লিটল ম্যাগাজিনসমূহ পার্বত্য জনপদের সাহিত্যিক জাগরণ, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় ও সৃজনশীল প্রতিরোধের এক অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল হয়ে আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।


তথ্যসূত্র:
নন্দলাল শর্মা, পার্বত্য চট্টগ্রামের লিটল ম্যাগাজিন

𑄢𑄇𑄃𑄨𑄚𑄴 𑄢𑄎𑄳𑄠𑄧 𑄥𑄧𑄁𑄥𑄧𑄘𑄧𑄖𑄴 𑄛𑄧𑄣𑄳𑄠 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄃𑄬𑄃𑄮𑄎𑄨 𑄚𑄧𑄇𑄴𑄝𑄌𑄴

 


𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄹𑄶 𑄃𑄬𑄛𑄳𑄢𑄨𑄣𑄴 𑄸𑄶𑄸𑄼 𑄈𑄧𑄝𑄧𑄢𑄬 𑄟𑄧𑄎𑄨𑄟𑄴 𑄟𑄨𑄠𑄚𑄴𑄟𑄢𑄴 𑄃𑄬 𑄢𑄈𑄃𑄨𑄚𑄴 𑄢𑄎𑄳𑄠𑄧 𑄥𑄧𑄁𑄥𑄧𑄘𑄧𑄖𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄘𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄛𑄧𑄣𑄳𑄠 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄃𑄬𑄃𑄮𑄎𑄨 𑄚𑄧𑄇𑄴𑄝𑄌𑄴 𑄦𑄧𑄠𑄬𑅁 𑄥𑄪𑄚𑄚𑄪 𑄥𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧𑄙𑄧𑄚𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄡𑄬 𑄃𑄧𑄁 𑄇𑄨𑄠𑄃𑄮 𑄎𑄧𑄃𑄮 𑄚𑄋𑄬 𑄌𑄨𑄚𑄴𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬, 𑄢𑄈𑄃𑄨𑄚𑄴 𑄚𑄳𑄠𑄥𑄧𑄚𑄣𑄴𑄣𑄨𑄑𑄨𑄎𑄴 𑄛𑄢𑄴𑄑𑄨 (RNP) 𑄃𑄬 𑄛𑄳𑄢𑄢𑄴𑄗𑄨 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄝𑄬 𑄝𑄪𑄗𑄨𑄓𑄁 𑄑𑄃𑄪𑄚𑄴𑄥𑄨𑄛𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄞𑄮𑄘𑄧𑄖𑄴 𑄎𑄨𑄚𑄴𑄬𑅁
𑄃𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄥𑄨𑄢𑄴𑄝𑄌𑄧𑄚𑄧𑄖𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄣𑄠𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄮 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄨𑄚𑄴𑅁 𑄣𑄳𑄦𑄘𑄨𑄊𑄧𑄣𑄨 𑄢𑄎𑄴𑄚𑄧𑄭𑄖𑄨𑄇𑄴 𑄃𑄬𑄃𑄮𑄎𑄨 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄝𑄬 𑄇𑄟𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄚 𑄌𑄋𑄴𑄟𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄛𑄧𑄣𑄳𑄠𑄬𑄈𑄝𑄧𑄖𑄳𑄠 𑄢𑄎𑄳𑄠𑄧 𑄥𑄧𑄁 𑄥𑄧𑄁𑄥𑄧𑄘𑄧𑄖𑄴 𑄃𑄬𑄃𑄮𑄎𑄨 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄬𑄝 𑄎𑄪 𑄛𑄬𑄣𑄧𑅁
𑄥𑄪𑄚𑄚𑄪 𑄥𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧𑄙𑄧𑄚𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄃𑄇𑄴𑄈𑄧𑄢𑄨 𑄟𑄨𑄠𑄚𑄴𑄟𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄛𑄪𑄣𑄨𑄥𑄴 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄝𑄬 𑄘𑄮𑄣𑄴 𑄇𑄟𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄬𑅁 𑄛𑄪𑄣𑄨𑄥𑄴 𑄌𑄉𑄪𑄢𑄨 𑄗𑄪𑄟𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄚 𑄖𑄬 𑄓𑄃𑄨𑄁𑄚𑄬𑄑𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄓𑄬𑄞𑄬𑄣𑄴𑄟𑄬𑄚𑄴𑄑𑄴 𑄛𑄢𑄴𑄑𑄨 𑄗𑄨𑄘𑄧 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄃 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄘𑄧𑄖𑄳𑄠𑄃𑄨 𑄥𑄟𑄌𑄴 𑄃 𑄢𑄎𑄴𑄚𑄧𑄭𑄖𑄨𑄇𑄴 𑄞𑄣𑄬𑄘𑄨 𑄇𑄟𑄴 𑄏𑄧𑄣𑄴𑄧𑄛𑄧𑄣𑄴𑄧 𑄉𑄧𑄢𑄬𑅁
𑄃𑄬 𑄈𑄧𑄝𑄧𑄢𑄚𑄴 𑄟𑄨𑄠𑄚𑄴𑄟𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄞𑄌𑄴, 𑄦𑄧𑄢𑄧𑄇𑄴 𑄃 𑄥𑄦𑄨𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄇𑄟𑄴𑄮 𑄥𑄳𑄢𑄨𑄟𑄧𑄖𑄴 𑄎𑄳𑄠𑄮𑄖𑄨𑄛𑄣 𑄥𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄞𑄨𑄣𑄬 𑄎𑄚𑄬𑄣𑄧𑅁 𑄃 𑄖𑄬 𑄇𑄧𑄣𑄧, 𑄃𑄬 𑄎𑄨𑄚𑄚 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄢𑄎𑄴𑄚𑄧𑄭𑄖𑄨𑄇𑄴 𑄛𑄧𑄖𑄴 𑄘𑄧𑄛𑄴𑄘𑄧𑄞 𑄦𑄧𑄣𑄧𑅁
𑄚𑄚𑄚𑄴 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄧𑄘𑄬, 𑄃𑄬 𑄎𑄧𑄠𑄴 𑄟𑄨𑄠𑄚𑄴𑄟𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄨𑄉𑄮𑄚𑄴 𑄌𑄨𑄉𑄮𑄚𑄴 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄏 𑄃 𑄇𑄟𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄈𑄚𑄴 𑄛𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄚 𑄦𑄧𑄣𑄧𑅁

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

𑄥𑄢𑄴𑄑𑄨𑄜𑄨𑄇𑄬𑄑𑄴𑄝𑄧𑄣 𑄥𑄧𑄟𑄌𑄴 𑄃 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄎𑄬𑄛𑄴 𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 - 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄎𑄬𑄝𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟


𑄃𑄬 𑄥𑄧𑄟𑄏𑄧𑄖𑄴 𑄥𑄢𑄴𑄑𑄨𑄜𑄨𑄇𑄬𑄑𑄴 𑄝𑄧𑄣 𑄞𑄧
𑄢𑄴𑄛𑄪𑄢𑄴, 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄎𑄬𑄛𑄴 𑄝𑄧𑄣 𑄚𑄬𑄃𑄨𑅁 𑄃𑄨𑄠𑄮𑄖𑄴 𑄛𑄧𑄢𑄨𑄇𑄴𑄈𑄬 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠  𑄃𑄊𑄧𑄚𑄴, 𑄥𑄨𑄊𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄚𑄬𑄃𑄨; 𑄓𑄨𑄉𑄳𑄢𑄨 𑄃𑄊𑄬, 𑄟𑄫𑄣𑄴𑄝𑄮𑄙𑄴 𑄚𑄬𑄃𑄨𑅁 𑄃𑄬 𑄥𑄨𑄇𑄴𑄈𑄬 𑄚𑄬𑄃𑄨𑄇𑄬𑄚𑄬𑄭𑄥𑄨𑄇𑄴𑄈𑄬𑄢𑄴 𑄘𑄧𑄏 𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄥𑄧𑄟𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄧𑄢𑄴𑄉𑄧𑄢𑄬 𑄛𑄢 𑄝𑄧𑄢𑄴𑄝𑄧 𑄝𑄬𑄃𑄨 𑄡𑄢𑄴𑅁

𑄔𑄇𑄖𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄦𑄮𑄑𑄬𑄣𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄷𑄺𑄺 𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄟𑄨𑄣𑄬 𑄃𑄪𑄖𑄴𑄙𑄮𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄧𑄚 𑄊𑄧𑄘𑄧𑄚 𑄚𑄪𑄃𑄧 𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄊𑄧𑄘𑄧𑄚 𑄚𑄧𑄠𑄴 𑄃 𑄥𑄧𑄟𑄏𑄧𑄖𑄴 𑄃𑄬 𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴 𑄚𑄧 𑄊𑄧𑄘𑄬 𑄃𑄬𑄙𑄳𑄠𑄧𑄇𑄴𑄠𑄳𑄠𑄧 𑄚𑄧𑄠𑄴- 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄛𑄪𑄎𑄨 𑄡𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄙𑄧𑄇𑄧𑄢𑄴 𑄣𑄁𑄘 𑄃𑄢𑄪𑄇𑄴𑅁 𑄜𑄬𑄥𑄴𑄝𑄪𑄇𑄧𑄖𑄴 𑄍𑄨𑄖𑄳𑄠𑄬 𑄖𑄧𑄗𑄳𑄠𑄧𑄟𑄧𑄎𑄨𑄟𑄴 𑄃𑄬 𑄞𑄨𑄘𑄨𑄢𑄬 𑄹𑄻 𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩 𑄟𑄨𑄣𑄬𑄃𑄊𑄧𑄚𑄴𑅁 𑄃𑄬 𑄖𑄧𑄗𑄳𑄠𑄧𑄠𑄚𑄴 𑄡𑄪𑄚𑄨 𑄥𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄦𑄧𑄠𑄴, 𑄥𑄣𑄬𑄚𑄴 𑄥𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄝𑄚 𑄣𑄌𑄴𑄉𑄧𑄢𑄬 𑄛𑄢 𑄚𑄧𑄠𑄴- 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄝𑄨𑄜𑄧𑄣𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄘𑄧𑄣𑄨𑄣𑄴𑅁

𑄟𑄪𑄃𑄨 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄝𑄬 𑄛𑄧𑄢𑄇𑄴𑄛𑄢𑄇𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄇𑄧𑄝𑄁 𑄌𑄋𑄴- 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄟𑄨𑄣𑄬𑄃𑄪𑄚𑄴 𑄞𑄮𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄧𑄢𑄧𑄛𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄖𑄢 𑄈𑄘𑄪𑄚𑄨 𑄉𑄧𑄢𑄧𑄚𑄴, 𑄈𑄘𑄧𑄚𑄴𑅁 𑄖𑄢 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄴 𑄃 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄚𑄴 𑄢𑄊𑄬𑄠𑄳𑄠 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄚𑄨𑄏𑄬𑄚𑄨𑅁 𑄝𑄬𑄚𑄳𑄠 𑄛𑄮𑄖𑄳𑄠 𑄊𑄪𑄟𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄃𑄪𑄘𑄨 𑄉𑄋𑄧𑄖𑄴 𑄡𑄬𑄃𑄨 𑄊𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄟𑄚𑄨 𑄉𑄪𑄌𑄴𑄉𑄌𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄃𑄢𑄧 𑄝𑄉𑄧 𑄇𑄟𑄧𑄖𑄴 𑄡𑄚𑄴𑅁 𑄝𑄚 𑄥𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄪𑄢𑄧𑄚𑄴-𑄛𑄨𑄢𑄮𑄚𑄚𑄨𑄠𑄳𑄠𑄧 𑄖𑄢 𑄝𑄪𑄚𑄧𑄚𑄴𑅁 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄎𑄣𑄬 𑄚𑄧𑄠𑄴- 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄦𑄬𑄣𑄜𑄬𑄣 𑄉𑄧𑄢𑄚𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄢𑄴𑄠𑄳𑄠𑄧 𑄃𑄬 𑄥𑄧𑄟𑄌𑄴 𑄗𑄨𑄉𑄨 𑄃𑄊𑄬𑅁
𑄖𑄪𑄃𑄧 𑄛𑄪𑄎𑄮𑄢𑄴 𑄃𑄨𑄙𑄧𑄖𑄴 𑄃𑄪𑄘𑄬- 𑄃𑄬 𑄟𑄨𑄣𑄬𑄃𑄪𑄚𑄴 𑄥𑄧𑄖𑄳𑄠𑄨 𑄇𑄧
𑄚𑄧 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄴𑄌𑄧𑄇𑄳𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄥𑄨𑄠𑄬𑄢𑄴 𑄦𑄧𑄃𑄨 𑄗𑄚𑄴, 𑄥𑄣𑄬𑄚𑄴 𑄥𑄬 𑄇𑄧𑄢𑄧𑄟𑄴 𑄇𑄢𑄴? 𑄇𑄧𑄢𑄧𑄟𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄟𑄨𑄣𑄬𑄢𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴; 𑄇𑄧𑄢𑄧𑄟𑄴 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄢𑄴𑅁 𑄇𑄨𑄖𑄴𑄬 𑄃𑄬 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄘𑄫𑄢𑄴𑄚𑄨𑄘𑄨𑄢𑄬 𑄗𑄨𑄘𑄧 𑄉𑄧𑄌𑄴𑄍𑄬, 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄮𑄟𑄧𑄢 𑄝𑄧𑄚𑄴𑄘𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄢𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄚𑄢𑄴 𑄝𑄨𑄜𑄧𑄣𑄴 𑄦𑄧𑄠𑄬 𑄃 𑄖𑄢𑄢𑄴 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄮𑄟𑄧𑄢𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄥𑄪𑄏𑄧𑄚 𑄦𑄖𑄳𑄠𑄢𑄴 𑄝𑄚𑄬𑄠𑄳𑄠𑅁 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄚𑄨𑄛𑄧𑄢𑄴𑄞 𑄚𑄬𑄃𑄨, 𑄚𑄳𑄠𑄠𑄴 𑄚𑄬𑄃𑄨- 𑄃𑄊𑄬 𑄝𑄚 𑄥𑄪𑄏𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄣𑄭𑄥𑄬𑄚𑄴𑄥𑄴𑅁

 𑄝𑄬𑄉𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄝𑄬𑄌𑄴 𑄘𑄧𑄢𑄧𑄉𑄧𑄢𑄬𑄛𑄢 𑄛𑄮𑄃𑄨𑄘𑄳𑄠 𑄦𑄧𑄣𑄴, 𑄃𑄬 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄇𑄧𑄢𑄧𑄟𑄴 𑄃𑄨𑄢𑄨 𑄡𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄖𑄪𑅁 𑄇𑄇𑄴𑄬 𑄌𑄨𑄚𑄧𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄇𑄧𑄢𑄧𑄟𑄴 𑄌𑄝𑄨 𑄘𑄬 𑄞𑄪𑄇𑄴𑄖𑄧𑄞𑄮𑄉𑄨𑄢𑄬, 𑄇𑄇𑄴𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄛𑄪𑄢𑄴 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄧𑄖𑄴 𑄇𑄣𑄨 𑄣𑄨𑄞𑄨 𑄘𑄬𑅁 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄝𑄚 𑄃𑄧𑄚𑄳𑄠𑄠𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴- 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄴𑅁

𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄟𑄨 𑄡𑄪𑄚𑄨 𑄦𑄧𑄣𑄧𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄗𑄬𑄃𑄨, 𑄥𑄣𑄬𑄚𑄴 𑄃𑄬 𑄃𑄧𑄣𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄪𑄏𑄪𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄨𑄚𑄧𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄴 𑄃𑄧𑄞𑄧𑅁 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄎𑄮𑄛𑄴 𑄣𑄮𑄃𑄨 𑄛𑄧𑄢𑄨𑄝𑄧, 𑄈𑄟𑄇𑄴𑄇𑄠𑄴 𑄘𑄨 𑄛𑄬𑄝𑄧𑅁 𑄟𑄨𑄣𑄬𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄛𑄧𑄕𑄳𑄠𑄧 𑄝𑄚𑄚 𑄃𑄬 𑄈𑄌𑄳𑄠𑄬𑄖𑄴, 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄮𑄟𑄧𑄢𑄢𑄬 𑄥𑄨𑄠𑄬𑄢𑄴 𑄝𑄚𑄚 𑄃𑄬 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄈𑄌𑄳𑄠𑄬𑄖𑄴 𑄞𑄋𑄨 𑄚𑄧 𑄛𑄢𑄨𑄣𑄬- 𑄃𑄬 𑄥𑄧𑄟𑄏𑄧𑄖𑄴 𑄥𑄢𑄴𑄑𑄨𑄜𑄨𑄇𑄬𑄑𑄴𑄝𑄧𑄣 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄟𑄧𑄚𑄨𑄌𑄴𑄏𑄧𑄢𑄧 𑄥𑄨𑄚𑄴𑄘𑄬𑄝𑄌𑄴 𑄦𑄎𑄨 𑄡𑄬𑄝𑄧𑅁 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄉𑄬 𑄥𑄬 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄈𑄬𑄟 𑄚𑄧 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄧𑅁

ঝার বাজ্যেই হরিং ধাবানা- ইনজেব চাঙমা

 

চাঙমা প্রবাদ— “ঝার বাজ্যেই হরিং ধাবানা”—এর অর্থ, ছোট্ট বিষয়ে বড়সড় কাজ সাধন করা। সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় এই প্রবাদটির প্রাসঙ্গিকতা ভয়াবহভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবাধিকারকর্মী ও চাকমা সার্কেলের উপদেষ্টা রাণী ইয়েন ইয়েনকে দেওয়া একটি তথাকথিত “সতর্কপত্র” তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী কোনো নির্দিষ্ট আইন উল্লেখ না করেই “আইন মেনে চলার” নির্দেশ দিয়ে যে নোটিশ প্রদান করেছেন, তা প্রশাসনিক শালীনতার পরিপন্থী এবং স্পষ্টতই ক্ষমতার অপব্যবহার। এই নোটিশের মাধ্যমে একজন নাগরিককে ভীত করা হয়েছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কী অপরাধ, কোন আইনে, কীভাবে—তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
 
এই বিষয়ে প্রথম আলো (আজ প্রতিবেদন)-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নূর খান যথার্থভাবেই মন্তব্য করেছেন যে, এই চিঠি মানুষের কণ্ঠরোধের একটি পরোক্ষ প্রচেষ্টা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে অতীতেও এ ধরনের দমনমূলক চর্চা চালু ছিল। তাঁর ভাষায়, “আমরা ক্রমান্বয়ে পূর্বের দিকেই ফিরে যাচ্ছি”—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
 
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—রাণী ইয়েন ইয়েন তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নোটিশের লিখিত জবাব পাঠালেও প্রশাসন দাবি করেছে যে তারা সেটি পায়নি। অথচ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ই–মেইলের মাধ্যমে জবাব পাঠানো হয়েছে এবং নোটিশটি “অস্পষ্ট, অস্বচ্ছ ও ভিত্তিহীন অভিযোগে ভরা”, যা কার্যত মানহানির শামিল।
 
তিনি যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন—একটি দমনমূলক সময় থেকে বেরিয়ে আসার কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন কেন আবার ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক অস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে?
 
রাঙামাটি জেলা প্রশাসন যেখানে রাণী ইয়েন ইয়েনকে “ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর” অভিযোগে নোটিশ দিচ্ছে, সেখানে একই অভিযোগকে কেন্দ্র করে অগাস্টিনা চাকমা ও চঞ্চনা চাকমার বিরুদ্ধে ঢাকা ও তিন পার্বত্য জেলায় সেটেলার বাঙালিদের বিক্ষোভ মিছিল রাষ্ট্রের নীরবতায় আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।
 
খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভে সাম্প্রদায়িক ও হত্যার হুমকিমূলক স্লোগান— “একটা একটা সন্তু ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর”—উচ্চারিত হওয়া কেবল আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতাই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্ন হলো, বাকস্বাধীনতার অভিযোগে একজন আদিবাসী নারী মানবাধিকারকর্মী নোটিশ পান, অথচ প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেওয়া উগ্র গোষ্ঠীগুলো নির্বিঘ্নে রাস্তায় নামে—এ কেমন ন্যায়বিচার?
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল চেতনা ছিল বাকস্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী অপশক্তির তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। রাণী ইয়েন ইয়েনকে দেওয়া নোটিশ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়—এই অপশক্তিগুলোর চাপ রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
 
এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; এটি পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক কণ্ঠরোধের একটি কৌশল হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক বৈশিষ্ট্যই ছিল এই অঞ্চলকে জুম্ম অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তার স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু আজ সেই চুক্তির চেতনাকে উপেক্ষা করে উগ্রবাদী ও মৌলবাদী শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে জুম্ম জনগণের বাকস্বাধীনতা ও ন্যূনতম মৌলিক অধিকার হরণ করা হলে, এই অঞ্চল অনিবার্যভাবেই অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হবে।
বস্তুতপক্ষে, এই ধরনের নোটিশ ও দমনমূলক আচরণ মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান দেখানোর শামিল নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো—প্রতিটি নাগরিককে তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া নয়। সরকারকে অবশ্যই এই পথ থেকে সরে আসতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যে আশঙ্কাজনক ধারা তৈরি হচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, “ঝার বাজ্যেই হরিং ধাবানা”—এই প্রবাদটি কেবল কথায় নয়, বাস্তব ইতিহাসের নির্মম সত্য হয়ে উঠবে।

চাঙমা বর্ণমালা: আত্মবিস্মৃত জাতির নিরব আত্মসমর্পণ- ইনজেব চাঙমা

  চাঙমা বর্ণমালা নিয়ে আজ যে প্রশ্ন—“এ থেকে লাভ কী?”—এটি আসলে সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রশ্নগুলোর একটি। কারণ এই প্রশ্নের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক জাতির ন...