শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

নোয়ারাম চাঙমা : অঝাপাতের শেষ প্রদীপটি যিনি জ্বালিয়ে রেখেছিলেন - ইনজেব চাঙমা

একটি জাতির ইতিহাস শুধু রাজা-রাজড়ার ইতিহাস নয়। ইতিহাসের পাতা শুধু রাজদণ্ড হাতে থাকা মানুষদের নামেই পূর্ণ হয় না। ইতিহাসের গভীরতম জায়গাগুলোতে কখনো কখনো লেখা থাকে এমন কিছু মানুষের নাম, যাঁরা কোনো সিংহাসনে বসেননি, কোনো রাজমুকুট পরেননি, কোনো ক্ষমতার দম্ভ দেখাননি; তবু নিঃশব্দে নিজের জীবন পুড়িয়ে আলো জ্বালিয়েছেন জাতির পথের জন্য।

তাঁদের হাতে থাকে না রাজদণ্ড, থাকে কলম।তাঁদের মুখে থাকে না ক্ষমতার ভাষা- থাকে মাতৃভাষার উচ্চারণ। তাঁদের স্বপ্ন নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। চাঙমা ভাষা, সাহিত্য ও অঝাপাতের ইতিহাসের সেই নীরব আলোকবর্তিকাদের একজন নোয়ারাম চাঙমা

তাঁর জীবনকে যতই কাছে থেকে দেখি, ততই মনে হয়, এটি শুধু একজন মানুষের জীবনী নয়; এটি একটি ভাষার জন্য লড়াই করা এক মানুষের কাহিনি। এটি একজন অনাথ শিশুর গল্প, যে জীবনের শুরুতেই হারিয়েছিল পিতা-মাতার ছায়া; একজন রাখালের গল্প, যে গরু চরাতেও শব্দের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিল; একজন শিক্ষকের গল্প, যিনি নিজে শিখেছেন এবং অন্যকে শেখানোর ব্রত নিয়েছেন; একজন সাহিত্যিকের গল্প, যিনি নিজের জাতির হারিয়ে যেতে বসা কণ্ঠগুলোকে কাগজে ধরে রাখতে চেয়েছেন। আর সর্বোপরি, এটি একজন ভাষাসেবকের গল্প, যিনি অঝাপাতের অক্ষরগুলোকে মুদ্রিত কাগজে প্রাণ দিতে চেয়েছিলেন।

আমার সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নোয়ারাম চাঙমা ১৯২২ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের ত্রিপুরার গোমেতকুলের তীর্থমোর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শুক্রমণি চাঙমা এবং মাতা কালাবী চাঙমা। কিন্তু জন্মের আনন্দ তাঁর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নাবালক বয়সেই তিনি হারিয়ে ফেলেন মা-বাবাকে।

একটি শিশুর পৃথিবী তখন কত ছোট থাকে! মায়ের আঁচল, বাবার কণ্ঠ, ঘরের উঠান, এই নিয়েই তার পৃথিবী। অথচ সেই পৃথিবীটুকুও নোয়ারামের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল অতি অল্প বয়সে। যে বয়সে অন্য শিশুরা বাবা-মায়ের হাত ধরে পৃথিবী চিনতে শেখে, সে বয়সেই নোয়ারামকে চিনতে হয়েছিল পৃথিবীর নির্মমতা। পরবর্তীতে তাঁর জেটু সাপ্যে চাঙমা ত্রিপুরার গোমেতকুলে গিয়ে মা-বাবাহীন অসহায় নোয়ারামকে সঙ্গে করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মিঙিনি এলাকার বাজেইছড়া গ্রামে নিয়ে আসেন।

সেদিন হয়তো কেউ জানত না, এই অনাথ শিশুটিই একদিন চাঙমা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে নিজের নাম লিখে যাবে।

সে সময় পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষার আলো ছিল খুবই ক্ষীণ। গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয় ছিল না। বই ছিল দুর্লভ। নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ ছিল আরও দুর্লভ। এমন সময় চিৎমরঙ থেকে চংড়াছড়ির ফুলচান কার্বারীপাড়া গ্রামে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এক ভান্তের সঙ্গে সাপ্যে চাঙমার পরিচয় হয়। কথার একপর্যায়ে উঠে আসে মা-বাবাহীন নোয়ারামের কথা। একজন শিশুর অসহায়ত্বের কথা শুনে ভান্তের হৃদয় নরম হয়ে যায়। তিনি নোয়ারামকে চিৎমরঙে নিয়ে যান লেখাপড়া শেখানোর আশায়।


সেখানে তাঁর আরেক ছাত্র ছিলেন
কালিকুমার চাঙমা। দুজনের একসঙ্গে থাকা, খাওয়া ও ছাত্রজীবন শুরু হয়। কিন্তু জীবন যেন নোয়ারামের পথকে বারবার কঠিন করে তুলতে চেয়েছিল। বয়সে ছোট নোয়ারামকে অনেকটা কালিকুমারের কথামতো চলতে হতো। একসময় তাঁদের দুষ্টুমি ভান্তের নজরে আসে। সিদ্ধান্ত হলো, নোয়ারামকে আবার তাঁর জেটুর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আবার পথ। আবার অনিশ্চয়তা। আবার আশ্রয়ের সন্ধান।

যাত্রামণি চাঙমা প্রতি বছর চিৎমরঙে মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে যেতেন। ভান্তের আদেশে তিনি নোয়ারামকে সঙ্গে করে তাঁর জেটু সাপ্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন। পথে লংগদুর যাত্রামণি চাঙমার বাড়িতে রাতযাপন করেন। সেখানে নোয়ারামের মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই, এই কথা জানতে পারেন তিনি।

নোয়ারামের আপন বলতে যেন দূর ভারতের সেই জন্মভূমি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। যাত্রামণি চাঙমা তাঁকে নিজের বাড়িতে রাখাল হিসেবে থাকার প্রস্তাব দেন। নোয়ারাম রাজি হয়ে যান। কারণ জীবনের তখন আর কতটুকুই বা দাবি করার ছিল তাঁর?

নোয়ারাম গরু চরাতে শুরু করলেন। কিন্তু গরুর পাল চরাতে চরাতেও তাঁর মন যেন অন্য কোথাও ঘুরে বেড়াত। সুযোগ পেলেই তিনি লিখতেন। কবিতা লিখতেন, গল্প লিখতেন, কৌতুক লিখতেন, গান লিখতেন।


অভাব তাঁর হাত থেকে কলম কেড়ে নিতে পারেনি। জীবন তাঁকে বই দেয়নি; তিনি নিজের ভেতর থেকেই বইয়ের জগৎ তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। এইভাবেই ধীরে ধীরে তাঁর প্রতিভার কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যাত্রামুড়া গ্রামের এক শিক্ষক যখন পড়াতেন, নোয়ারাম দূর থেকে মনোযোগ দিয়ে তাঁর পাঠ শুনতেন। শুধু শুনতেন না, কখনো শিক্ষকের ভুলও ধরিয়ে দিতেন। বিষয়টি যাত্রামণি চাঙমার চোখ এড়াল না। একদিন তিনি নোয়ারামকে জিজ্ঞেস করলেন—

‘তুমি কি পড়াশোনা পারো?’ নোয়ারামের উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ।’ সেই একটি ‘হ্যাঁ’ যেন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। যাত্রামণি বুঝলেন, এই ছেলেটির ভেতরে কিছু আছে। তিনি তাঁকে শিক্ষক হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপর নোয়ারাম হয়ে উঠলেন ‘নোয়ারাম মাস্টার’। একদিন যে হাত গরুর দড়ি ধরেছিল, সেই হাতেই ধরা পড়ল শিক্ষার প্রদীপ।

যাত্রামণি চাঙমা নোয়ারামের মেধা ও গুণে মুগ্ধ হয়ে নিজের মেয়ে ফুলেশ্বরী চাঙমা-র সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রবীণদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ফুলেশ্বরী চাঙমা তখন কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তবু নোয়ারাম পিছিয়ে যাননি।

কেন?

সম্ভবত তাঁর মনে তখনও জ্বলছিল সেই পুরোনো দিনের কথা, একজন অসহায় অনাথ শিশুকে যিনি আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাঁর কাছে নোয়ারামের ঋণ ছিল কৃতজ্ঞতার, মানবিকতার। তাই কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি বিয়েতে সম্মতি দেন।

নোয়ারাম ও ফুলেশ্বরীর সংসারে একে একে জন্ম নেনবাসন্তি, আরতি, বিরতি, মনদেবী, কল্যাণ সাধন, বিনা দেবী ও রিনা দেবী। সাত সন্তান নিয়ে তাঁদের সংসার পূর্ণ হয়।

কিন্তু ফুলেশ্বরীর রোগ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য নোয়ারাম চাঙমা ছুটে যান চন্দ্রঘোনায়। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় ড. স্ক্রোব-এর সঙ্গে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার পাশাপাশি ড. স্ক্রোব তাঁকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের শর্ত দেন। অসহায় পরিস্থিতিতে নোয়ারাম সেই শর্ত মেনে নেন। চিকিৎসার পর ফুলেশ্বরী সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

এই সময় ড. স্ক্রোব নোয়ারামের মেধা ও দক্ষতায় মুগ্ধ হন। তাঁকে শিক্ষার প্রসারে কাজ করার পরামর্শ দেন। নোয়ারাম সেই পরামর্শকে জীবনের আরেকটি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন। ড. স্ক্রোবের উদ্যোগে নোয়ারাম চাঙমা ময়মনসিংহের বিরিশিরিতে যান। সেখানে প্রায় তিন বছর অবস্থান করেন। তিন বছর পর তিনি ফিরে আসেন আবার তাঁর পাহাড়ে,  গ্রামে। কিন্তু এবার তিনি আর আগের সেই নোয়ারাম নন। জীবন তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে—অভাব শিখিয়েছে, সংগ্রাম শিখিয়েছে, শিক্ষা শিখিয়েছে, মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, নিজের জাতির ভাষাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে।

চাঙমা ভাষার ইতিহাসে ১৯৫৯ সাল একটি স্মরণীয় বছর। এই বছর চট্টগ্রামের ইসলামিয়া লিথো অ্যান্ড প্রিন্টিং প্রেস থেকে নোয়ারাম চাঙমা প্রকাশ করেন ‘চাঙমার পত্থম শিক্ষা’। ছাপাখানার অক্ষরে চাঙমা বর্ণমালায় একটি বই!

আজকের দিনে হয়তো এই ঘটনাকে সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু সেই সময়ের বাস্তবতা বিবেচনা করলে বোঝা যায়, এটি কত বড় সাহসের কাজ ছিল। এটি শুধু একটি বই প্রকাশ নয়। এটি ছিল অক্ষরকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। এটি ছিল ভাষাকে কাগজে স্থায়ী করার চেষ্টা। এটি ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে নিজের ভাষার প্রথম পাঠ তুলে দেওয়ার চেষ্টা।

চাঙমা সমাজের সর্বস্তর থেকে বইটি স্বাগত জানানো হয়েছিল বলে তৎকালীন স্মরণলেখায় উল্লেখ পাওয়া যায়। আরও জানা যায়, তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান স্কুল টেক্সটবুক বোর্ড বইটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় বলে সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়। পরবর্তীতে এর তৃতীয় সংস্করণের ২০১৭সাল  তথ্য পাওয়া যায়।

এই একটি বইয়ের মধ্য দিয়েই নোয়ারাম চাঙমা যেন বলে গেলেন‘আমাদের ভাষাও বই হতে পারে। আমাদের অক্ষরও ছাপাখানায় বাঁচতে পারে। আমাদের শিশুরাও নিজের ভাষায় পড়তে পারে।’

‘চাঙমার পত্থম শিক্ষা’ শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই সমাদৃত হয়নি; তৎকালীন চাঙমা রাজা ত্রিদিব রায়ও বইটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, তিনি নোয়ারাম চাঙমার এই উদ্যোগকে জাতির ঐতিহাসিক গৌরব ও ভাবপ্রকাশের নতুন দ্বার উন্মোচনকারী হিসেবে দেখেছিলেন এবং তাঁকে ‘জাতীয় সেবক’ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিলেন।

রাজা ত্রিদিব রায়ের বক্তব্যের মর্মার্থ ছিল- চাঙমা জাতির প্রাচীন ঐতিহাসিক গৌরব, নানা কথা ও কাহিনী এতদিন জাতীয় লেখনীর মাধ্যমে যথাযথভাবে রূপ পায়নি। নোয়ারামের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে চাঙমা জাতির উন্নতি ও ভাবপ্রকাশের একটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

এই স্বীকৃতি নোয়ারামের ব্যক্তিগত সম্মানই শুধু নয়; এটি ছিল চাঙমা ভাষা ও অঝাপাতের প্রতি একটি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।

নোয়ারাম চাঙমা শুধু নতুন বই লেখেননি। তিনি ফিরে গিয়েছিলেন অতীতের কাছেও। চাঙমা সমাজের মুখে মুখে বেঁচে থাকা পুরোনো লোকগীতি ও পালাগান তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। স্বর্গপালা, লক্ষীপালা, বুদ্ধলামা, এসব লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি চাঙমাদের প্রসিদ্ধ লোকগীতি রাধামন-ধনপুদি পালা নিয়েও তিনি পাণ্ডুলিপি রচনা করেছিলেন বলে সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়।

তিনি যেন বুঝেছিলেন, একটি জাতির সাহিত্য শুধু নতুন করে লেখা বইয়ে থাকে না; তার আসল শিকড় লুকিয়ে থাকে মানুষের মুখে মুখে ফিরে বেড়ানো গান, পালা, কাহিনী আর স্মৃতির মধ্যে। সেই হারিয়ে যেতে বসা কণ্ঠগুলোকে তিনি কাগজে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সামনে তখনও সেই পুরোনো বাধাঅর্থের অভাব

অনেক পাণ্ডুলিপি ছিল। অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ছাপাখানায় নেওয়ার মতো অর্থ ছিল না। ফলে তাঁর বহু মূল্যবান সংগ্রহ ও রচনা অপ্রকাশিত থেকে যায়। একজন লেখকের কাছে এর চেয়ে বড় বেদনা আর কী হতে পারে? কলম ছিল। কাগজ ছিল। সৃষ্টি ছিল। কিন্তু বই হয়ে ওঠার সামর্থ্য ছিল না। যতটুকু পেরেছেন, ততটুকুই রেখে গেছেন।

অর্থের সংকটের মধ্যেও তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশ করতে সক্ষম হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • চাঙমার পত্থম শিক্ষা
  • পরিবার পরিকল্পনা গান

তাঁর মৃত্যুর পর ‘পার্বত্য রাজ লহরি’ প্রকাশিত হয় বলে সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়। তাঁর বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম, লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও পাণ্ডুলিপি চাঙমা সাহিত্য-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নোয়ারাম চাঙমার ভাষাসেবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর অনুবাদকর্ম।

খ্রিস্টধর্মাবলম্বী চাঙমাদের জন্য তিনি বাইবেলের বিভিন্ন গল্প চাঙমা অক্ষর ও ভাষায় অনুবাদ ও প্রকাশ করেছিলেন বলে সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়।

অন্য ভাষার ধর্মীয় ও নৈতিক কাহিনীকে নিজের মাতৃভাষায় রূপ দেওয়া ছিল শুধু অনুবাদের কাজ নয়; এটি ছিল ভাষাকে নতুন বিষয়বস্তু ধারণের উপযোগী করে তোলারও একটি প্রয়াস। অঝাপাতের অক্ষরে এসব লেখা ছিল তাঁর কাছে ভাষাকে জীবিত রাখার আরেকটি পথ।

নোয়ারাম চাঙমার কাছে অঝাপাত ছিল শুধু কয়েকটি অক্ষরের সমষ্টি নয়। অক্ষরের মধ্যে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন জাতির স্মৃতি। একটি জাতি তার গল্প হারালে শুধু গল্প হারায় না, সে তার অতীতের একটি অংশ হারায়। একটি জাতি তার ভাষা হারালে শুধু কথা বলার মাধ্যম হারায় না, সে নিজের পরিচয়ের একটি দরজা হারায়।

নোয়ারাম তাই অক্ষরকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। তিনি চাঙমা বর্ণমালায় লিখেছেন। শিখিয়েছেন। বই প্রকাশ করেছেন। অনুবাদ করেছেন। লোকসাহিত্য সংগ্রহ করেছেন।

অর্থাৎ তিনি অঝাপাতকে শুধু ব্যবহার করেননি; অঝাপাতের জন্য একটি ব্যবহারিক জগৎ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন।

নোয়ারাম চাঙমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি হলো, তিনি তাঁর নিজের স্বপ্নের পূর্ণ বিকাশ দেখে যেতে পারেননি। রাঙামাটি প্রকাশনীর প্রচেষ্টায় ‘লক্ষীপালা’ প্রকাশের পথে ছিল। বর্ণমালা চার্টও প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু নোয়ারাম সেই বই কিংবা চার্ট দেখে যেতে পারেননি। আঞ্জিসহ বিভিন্ন লেখা ও পাণ্ডুলিপ। 

আরও পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র সুহৃদ চাঙমা শাম, খামতি, অহোম, বার্মিজ, থাই প্রভৃতি বর্ণমালার সঙ্গে চাঙমা বর্ণমালার তুলনামূলক চার্ট তৈরি করেন। চাঙমা ভাষায় ‘ধ্বনিতত্ত্ব’-সহ বর্ণমালার বয়স ও সময়কাল নিয়ে গবেষণামূলক কাজও প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু এসব অগ্রগতির কোনোটি তাঁর চোখে পড়েনি। যে মানুষটি প্রথম ছাপার অক্ষরে চাঙমা বর্ণমালাকে বইয়ের পাতায় দেখতে চেয়েছিলেন, তিনি তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের গবেষণার এই অগ্রগতি দেখে যেতে পারেননি। কী অদ্ভুত নিয়তি!

যে মানুষটি ভবিষ্যতের জন্য বীজ বুনেছিলেন, তিনি নিজে সেই বৃক্ষের ছায়ায় বসতে পারেননি।

১৯৭৮ সালের ৮ নভেম্বর নোয়ারাম চাঙমার জীবনাবসান ঘটে। তাঁর চলে যাওয়া ছিল শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি ছিল একটি ভাষাসেবকের বিদায়। একটি কলম থেমে গেল। একটি কণ্ঠ নীরব হলো। কিন্তু অঝাপাতের অক্ষরগুলো রয়ে গেল। তিনি যে বই রেখে গেলেন, যে পাণ্ডুলিপি রেখে গেলেন, যে লোকগান সংগ্রহ করে গেলেন, যে ভাষাপ্রেম রেখে গেলেন, সেগুলোই আজ তাঁর জীবনের সাক্ষ্য।

একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য অনেক সময় তাঁর মৃত্যুর পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নোয়ারাম চাঙমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

তাঁর স্মৃতি ও সাহিত্য-ভাষাসেবার অবদানকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য পদক’। চাঙমা সাহিত্য, ভাষা ও বর্ণমালায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন, এমন ব্যক্তি বা সৃষ্টিশীল মানুষকে তাঁর স্মরণে এই পদক প্রদান করা হয়।

এ পর্যন্ত দুইজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই পদক প্রদান করা হয়েছে— ১. চিত্রশিল্পী চুণীলাল দেওয়ান
২. কবি মুকুন্দ চাঙমা। 

 এই পদক কেবল একটি সম্মাননা নয়; এটি নোয়ারাম চাঙমার রেখে যাওয়া আদর্শের উত্তরাধিকার বহন করে। যে মানুষটি ভাষা, সাহিত্য ও অক্ষরের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁর নামে সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি প্রদান নিঃসন্দেহে তাঁর স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

নোয়ারাম চাঙমার স্মৃতি আজও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফিরে আসে। ২০২৪ সালে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (উপপরিচালক জিতেন চাঙমা) নোয়ারাম চাঙমার জন্মদিন উপলক্ষে জন্মদিন উদযাপন ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন, সাহিত্যকর্ম, ভাষাসেবা এবং চাঙমা অক্ষর ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে তাঁর অবদান নতুন করে আলোচনায় আসে।

এ ধরনের আয়োজন শুধু একজন প্রয়াত সাহিত্যিককে স্মরণ করা নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে নিজের ভাষা, বর্ণমালা ও সাহিত্য-ঐতিহ্যের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও একটি কার্যকর মাধ্যম।

নোয়ারাম চাঙমার জীবনকে যদি এক বাক্যে বলতে হয়, তবে আমি বলব—

তিনি নিজের জীবনের আলো দিয়ে একটি জাতির অক্ষরকে জ্বালিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন।

অনাথ শিশুটি হারিয়ে যায়নি। রাখাল ছেলেটি হারিয়ে যায়নি। ‘নোয়ারাম মাস্টার’ হারিয়ে যাননি। কবি হারিয়ে যাননি। লেখক হারিয়ে যাননি। লোকসাহিত্য সংগ্রাহক হারিয়ে যাননি। অনুবাদক হারিয়ে যাননি। ভাষাসেবকও হারিয়ে যাননি। তাঁরা সবাই মিলে আজও বেঁচে আছেন তাঁর কাজের ভেতর। আজ আমরা যখন চাঙমা ভাষা ও অঝাপাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত—এই পথ একদিনে তৈরি হয়নি।

কোনো এক কঠিন সময়ে একজন মানুষ নিজের সামর্থ্যের সীমা অতিক্রম করে এই পথের ওপর প্রথম দিকের কিছু পাথর বসিয়েছিলেন।

তিনি হলেন নোয়ারাম চাঙমা। তাঁর হাতে ছিল না বিপুল অর্থ। ছিল না বড় কোনো প্রতিষ্ঠান। ছিল না ক্ষমতার আসন। ছিল শুধু একটি স্বপ্ন—

নিজের জাতির ভাষা যেন হারিয়ে না যায়। নিজের জাতির অক্ষর যেন মুছে না যায়।
নিজের জাতির গল্প যেন বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে না যায়। 

সেই স্বপ্ন নিয়েই তিনি লিখেছেন, সংগ্রহ করেছেন, অনুবাদ করেছেন, বই প্রকাশ করেছেন, শিক্ষা দিয়েছেন।

আজ তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পরও তাঁর নাম উচ্চারিত হয় অঝাপাতের প্রসঙ্গে, চাঙমা ভাষার মুদ্রিত শিক্ষার প্রসঙ্গে, লোকসাহিত্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গে এবং ভাষা-সাহিত্যের উত্তরাধিকার রক্ষার প্রসঙ্গে।

এই তো একজন মানুষের সত্যিকারের অমরত্ব। মানুষ চলে যায়। সময় চলে যায়। শরীর একদিন আগুণে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু যে মানুষ একটি জাতির ভাষায় নিজের জীবন লিখে যান, তাঁর মৃত্যু হয় না। নোয়ারাম চাঙমাও তাই মৃত্যুকে অতিক্রম করে আছেন তাঁর অক্ষরের মধ্যে।

তিনি ছিলেন অঝাপাতের প্রাণপুরুষ।
তিনি ছিলেন চাঙমা ভাষার নিবেদিত সেবক।
তিনি ছিলেন লোকসাহিত্যের নীরব সংগ্রাহক।
তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, কবি, লেখক ও অনুবাদক।
আর সর্বোপরি, তিনি ছিলেন তাঁর জাতির জন্য নিজেকে নিঃশেষ করে দেওয়া এক সত্যিকারের সেবক।

তাঁর হাতে যে প্রদীপ জ্বলেছিল, সেটি আজ আর তাঁর হাতে নেই। কিন্তু সেই প্রদীপের আলো এখনও অঝাপাতের অক্ষরে, চাঙমা ভাষার বইয়ে, লোকসাহিত্যের পাণ্ডুলিপিতে এবং নতুন প্রজন্মের ভাষাপ্রেমে জ্বলছে।

নোয়ারাম চাঙমা তাই শুধু অতীতের একজন মানুষ নন, তিনি আমাদের ভাষার বর্তমানের একটি ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের প্রতি একটি দায়বদ্ধতার নাম। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র প্রণাম।


তথ্যসূত্র

১. কল্যাণ সাধন চাঙমা — নোয়ারাম চাঙমার পারিবারিক ও জীবনসংক্রান্ত তথ্য।

২. অপনিকা চাঙমা — পারিবারিক স্মৃতি ও জীবনকথা।

৩. সাংবাদিক মোকছেদ, সাপ্তাহিক বনভূমি, রাঙামাটি — নোয়ারাম চাঙমার জীবন ও প্রয়াণসংক্রান্ত স্মরণলেখা।

৪. আর্য্যমিত্র চাঙমা, খাগড়াছড়ি।

৫. ননাধন চাঙমা, রাঙামাটি। 

৬. সাপ্তাহিক বনভূমি, ২০ নভেম্বর ১৯৭৮ — নোয়ারাম চাঙমার প্রয়াণ ও কর্মের স্মরণলেখা।

৭. ‘চাঙমার পত্থম শিক্ষা’ — নোয়ারাম চাঙমা; ৩য়সংস্করণ  সংগৃহীত তথ্য।

৮. নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য পদক - নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ, পদকপ্রাপ্তদের সংক্রান্ত সংগৃহীত তথ্য।

৯. খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, ২০২৪ — নোয়ারাম চাঙমার জন্মদিন উদযাপন ও আলোচনা সভা সংক্রান্ত তথ্য।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

আশাধন চাকমা: পাহাড়, মানুষ ও জীবনের কথক এক নিভৃতচারী কবি - ইনজেব চাঙমা

  

    পার্বত্য চট্টগ্রামের সমকালীন সাহিত্যভুবনে আশাধন চাকমা একজন তরুণ কবি, লেখক, অনুবাদক শিক্ষক। পাহাড়ের প্রকৃতি, জুমচাষিদের জীবন, মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক বাস্তবতা এবং পার্বত্য জনজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রধান অনুষঙ্গ। প্রচার আত্মপ্রচারের চেয়ে সৃষ্টির মধ্যেই তিনি খুঁজে পান তাঁর আনন্দ। তাই নিভৃতচারী এই কবির সাহিত্যযাত্রা নীরব হলেও তার অন্তর্গত স্বর গভীর জীবনঘনিষ্ঠ।

    আশাধন চাকমা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার থাচি পাড়া নামের এক পাহাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পত্যমনি চাকমা একজন গ্রামপ্রধান কার্বারি এবং মা চন্দ্ররেখা চাকমা গৃহীনি। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আশাধন সবার ছোট।

    পাহাড়ের কোলে জন্ম এবং সেখানেই বেড়ে ওঠার সুবাদে শৈশব থেকেই তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি, জুমচাষিদের জীবনযাপন এবং পাহাড়ি জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখ জীবনসংগ্রাম। সবুজ পাহাড়, অরণ্য, ঝরনা, নদী-ছড়া এবং জুমের মাঠ তাঁর বেড়ে ওঠার নিত্যসঙ্গী। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে গভীর সম্পর্ক, তা তাঁর মনোজগতে শৈশব থেকেই স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তা সৃষ্টিশীলতার ভেতরেও সেই পাহাড়ি জীবন প্রকৃতির অনুরণন শোনা যায়।

    প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে প্রবেশের আগেই তাঁর পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় পরিবারের পরিমণ্ডলে। বড় ভাই, যিনি নিজেও একজন শিক্ষক, ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের শিক্ষাগুরু। বড় ভাইয়ের শাসন স্নেহের মধ্য দিয়েই তাঁর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে।

    আশাধন বড়মোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর জুরাছড়ি উপজেলার ভুবনজয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পাঁচ বছর অধ্যয়ন শেষে ২০১৪ সালে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি পাস করেন।

    তাঁর সাহিত্যজীবনের প্রকৃত সূচনাও এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়জীবনে। সময় থেকেই তিনি টুকটাক কবিতা গল্প লিখতে শুরু করেন। চারপাশের প্রকৃতি, মানুষের জীবন এবং নিজের দেখা-শোনা নানা অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে তাঁর কল্পনা সৃষ্টিশীলতার উপাদান হয়ে উঠতে থাকে।

    এসএসসি পাসের পর তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কলেজজীবনে রাঙামাটি তাঁর কাছে শুধু শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকেনি; বরং পুরো পার্বত্য জনপদই হয়ে উঠেছিল তাঁর জ্ঞান অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এক বিস্তৃত পাঠশালা। মানুষের বিচিত্র জীবন-জীবিকা, সমাজ সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তাঁর চিন্তার পরিধিকে ক্রমশ বিস্তৃত করে।

    এই সময় কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন পথিকৃৎপাঠাগার পাঠাগারটি তাঁদের নিয়মিত বইপড়া, সাহিত্য আলোচনা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। সপ্তাহে তিন-চার দিন বন্ধুরা সেখানে মিলিত হয়ে বই পড়তেন, আলোচনা করতেন এবং সাহিত্য নিয়ে আড্ডা দিতেন। ধীরে ধীরে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষও পাঠাগারের সঙ্গে যুক্ত হন। পাঠাগারের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় সাহিত্য সাংস্কৃতিক আড্ডারও আয়োজন করা হতো।

    ২০১৬ সালে তিনি প্রথম শ্রেণিতে এইচএসসি পাস করেন। একই বছর রাঙামাটি সরকারি কলেজে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। চার বছর অধ্যয়ন শেষে ২০২০ সালে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কলেজে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে ২০২১ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    শিক্ষকতা ছিল তাঁর শৈশবের স্বপ্ন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি সেই স্বপ্নকে পেশাগত জীবনে রূপ দেন। প্রথমে বরকল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০২৫ সালে এনটিআরসিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি রাঙামাটি জেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই শিক্ষকতা করছেন।

    তাঁর কাছে শিক্ষকতা নিছক জীবিকার অবলম্বন নয়; এটি মানুষ সমাজ গঠনের এক মহান দায়িত্ব। তাঁর বিশ্বাস, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকই জ্ঞান, মূল্যবোধ মানবিকতার আলোয় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারেন।

    শিক্ষকতা তাঁর পেশা হলেও সাহিত্যচর্চাই তাঁর নেশা। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ অনুবাদসাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি কাজ করে চলেছেন। তিনি খুব বেশি লেখেন না; বরং প্রয়োজন অন্তর্গত তাগিদ থেকেই লেখেন। তাঁর লেখার ভেতর ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি পাহাড়ি সমাজ, মানুষের জীবন সমকালীন বাস্তবতার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

    তাঁর গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বুব সবন মিঝিলিগ ডরবুব সবনস্বনামধন্যচিহ্নম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। গল্পটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্কের দ্বন্দ্ব, তার সামাজিক পটভূমি এবং মানুষের করুণ বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে মিঝিলিগ ডর গল্পে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বিশেষ সময়ের অপহরণের ঘটনাকে গল্পের বয়ানে তুলে ধরা হয়েছে।

    তাঁর বেশ কয়েকটি কবিতা প্রবন্ধও বিভিন্ন প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছেআন্ধার দিনুনর কহ্দা’, ‘লরবো লারমা’, ‘তুই এভে ভিলিনেই’, ‘তুই যেদিন থেবে কবি’, ‘সে মিলেবু মুআন এবং এক্কান লাঙর সিধি

    তাঁর কবিতার প্রকাশনা-পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে কক্ ক্রিয়েটিভ থেকে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ আবেদি- মাধ্যমে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে আশাধন চাকমার পাঁচটি কবিতা স্থান পেয়েছে। যৌথ এই কাব্যগ্রন্থে তাঁর কবিতার অন্তর্ভুক্তি সমকালীন কবিতাঙ্গনে তাঁর সৃষ্টিশীল উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    আশাধন চাকমার সাহিত্যিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর অনুবাদচর্চা। চাকমা ভাষা সাহিত্যের সৃষ্টিকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছেন।

    বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত চাকমা সাহিত্য- তিনি বেশ কয়েকটি গল্পের বাংলা অনুবাদ করেছেন। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকার সাহিত্যিক মৃত্তিকা চাকমার বান হক্কানির ধনপানা নাটক দুটিরও তিনি বাংলা অনুবাদ করেছেন। একই লেখকের উলুগাজর ভূত গল্পটিও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন, যা কানাডা থেকে প্রকাশিত হয়।

     ছাড়া পাহাড়ের আরেক শক্তিশালী কবি লেখক শিশির চাকমার জুমবলা লরবো অংলা গল্পও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন।

    তাঁর অনুবাদচর্চা কেবল ভাষার রূপান্তর নয়; এর মধ্য দিয়ে চাকমা সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। এক ভাষার সাহিত্যকে অন্য ভাষার পাঠকের কাছে উন্মুক্ত করার এই প্রয়াস তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়কে আরও তাৎপর্যময় করেছে।

    আশাধন চাকমা বিভিন্ন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি বাংলা একাডেমি চাকমা সাহিত্য পর্ষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখক ইউনিয়ন এবং জাক (জুম ইসথেটিক কাউন্সিল)-এর সদস্য। শিক্ষকতার ব্যস্ততার মধ্যেও সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর এই সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে।

    আশাধন চাকমার সাহিত্যচিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তি, সমাজ বিশ্বজনীনতার সমন্বয়। তাঁর বিশ্বাস, একজন কবি বা লেখক কেবল লেখার জন্য লেখেন না; লেখার পেছনে থাকতে হয় একটি অন্তর্গত উদ্দেশ্য সামাজিক দায়বোধ। ব্যক্তির রুচি ভালো লাগা যেমন লেখার উৎস হতে পারে, তেমনি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং বিশ্বজনীনতার চেতনাও একজন লেখকের সৃষ্টিকে অর্থবহ করে তোলে।

    তাঁর দৃষ্টিতে কবি কেবল নিজের অনুভূতি, আনন্দ-বেদনা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই বলবেন না; তাঁর চারপাশের মানুষ, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের জীবনও সাহিত্যে উঠে আসবে। কারণ সাহিত্য কেবল ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ নয়সাহিত্য একই সঙ্গে সময়, সমাজ মানুষের জীবনেরও দলিল।

    আশাধন চাকমা পাহাড়ের মাটি মানুষের জীবন থেকে উঠে আসা এক তরুণ নিভৃতচারী কবি, লেখক অনুবাদক। শিক্ষকতার মতো দায়িত্বশীল পেশার পাশাপাশি তিনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ অনুবাদের মধ্য দিয়ে নিজের সাহিত্যিক পথ নির্মাণ করে চলেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে পাহাড়ের প্রকৃতি যেমন উপস্থিত, তেমনি উপস্থিত মানুষের জীবন, সমাজের দ্বন্দ্ব, ইতিহাসের অভিঘাত এবং প্রান্তিক মানুষের অনুভূতি।

    ২০২৫ সালে কক্ ক্রিয়েটিভ থেকে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ আবেদি-তে তাঁর পাঁচটি কবিতার অন্তর্ভুক্তি তাঁর সাহিত্যযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। পাশাপাশি বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে চাকমা সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও তিনি করে যাচ্ছেন।

    প্রচারবিমুখ এই তরুণ কবির সাহিত্যযাত্রা তাই নীরব হলেও তা অর্থবহ। শিক্ষক হিসেবে তিনি মানুষ গড়ার কাজে নিয়োজিত, আর লেখক হিসেবে মানুষের কথা বলার দায় বহন করছেন। পাহাড়, প্রকৃতি, মানুষ সমাজের প্রতি তাঁর যে গভীর দায়বোধসেটিই ভবিষ্যতে তাঁর সাহিত্যকে আরও পরিণত, বিস্তৃত স্বতন্ত্র করে তুলবেএই প্রত্যাশা অমূলক নয়।

তথ্যসূত্র

  • কবির দেওয়া প্রাপ্ত তথ্য
  • “আবেদি” কবিতা সংকলনে প্রকাশিত কবিতা ও কবির পরিচিতি

 

 

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

চাঙমা সাহিত্যের বিকাশ : সংকলন, সাহিত্যসংগঠন, কবি-লেখক ও নাট্যচর্চার -

 
চাঙমা সাহিত্যের বিকাশ : সংকলন, সাহিত্যসংগঠন, কবি-লেখক ও নাট্যচর্চার -

১. বিজু (স্বাধীন বাংলাদেশত পল্যা বিজু) — ১৯৭২
২. জুনি — ১৯৭২
৩. সাঙু — ১৯৭২
৪. লুরা — ১৯৭২
৫. ফুরামোন — ১৯৭২
৬. চাঙমা গান (চাঙমা লিপি) — ১৯৭৩
৭. চিজি বই — ১৯৭৩
৮. বারগি — ১৯৭৩
৯. চাঙমা বাংলা কধাতারা — ১৯৭৩
১০. রাঞ্জুনি — ১৯৭৪
১১. চাঙমা ভাষায় ইতিবৃত্ত — ১৯৭৪
১২. চাঙমা ভাষায় ধ্বনিতত্ত্ব — ১৯৭৪
১৩. পালি, প্রাকৃত, মায়াং ও চাকমা — ১৯৭৪
১৪. শিঙ্গা — ১৯৭৪
১৫. গোজেন লামা — ১৯৭৫
১৬. বিজুগুলো — ১৯৭৬
১৭. ছদক — ১৯৭৬
১৮. থেঝেরা — ১৯৭৬
১৯. আহ্ওঝর চাঙমা গান — ১৯৭৭
২০. গেংখুলি — ১৯৭৭
২১. চাঙমা গান — ১৯৭৭
২২. কথোপকথন — ১৯৭৭
২৩. চিজির গান — ১৯৭৭
২৪. রঙগীত — ১৯৭৭
২৫. রানজুনি — ১৯৭৭
২৬. চাঙমা গান — ১৯৭৮
২৭. পাদারঙর কোচপানা — ১৯৭৮
২৮. রংধং — ১৯৭৮
২৯. বনফুল — ১৯৭৮
৩০. ক’জলি — ১৯৭৮
৩১. রঙধং — ১৯৭৮
৩২. চাঙমা ছড়া — ১৯৭৯
৩৩. বিজু — ১৯৭৯
৩৪. রিপরিপ — ১৯৮০
৩৫. রাধামন ধনপুদি (১ম খণ্ড) — ১৯৮০
৩৬. রেঙ — ১৯৮০
৩৭. বিজু — ১৯৮০
৩৮. ইরুক — ১৯৮১
৩৯. বিজুফুল — ১৯৮১
৪০. রাধামন ধনপুদি (২য় খণ্ড) — ১৯৮১
৪১. হুয়াঙ ছেরে চাঙমা গীত — ১৯৮১
৪২. ইরুক — ১৯৮১
৪৩. সত্রং — ১৯৮২
৪৪. ইরুক — ১৯৮২
৪৫. চাঙমা আগপুদি — ১৯৮২
৪৬. অয় নয় বৈদ্য — ১৯৮২
৪৭. জুম — ১৯৮৩
৪৮. কজমাপাদা — ১৯৮৩
৪৯. চাকমা পরিচিতি — ১৯৮৩
৫০. ফদাংতাং — ১৯৮৩
৫১. পাজন — ১৯৮৩
৫২. রানজুনি — ১৯৮৩
৫৩. পাত্তলী — ১৯৮৩
৫৪. মৈত্রী বাণী — ১৯৮৩
৫৫. চম্পক — ১৯৮৪
৫৬. নিবিলির ফুগুদি কানা — ১৯৮৪
৫৭. হিয়াংসিক — ১৯৮৪
৫৮. সাঙেত — ১৯৮৪
৫৯. বিশ্বজ্যোতি — ১৯৮৪
৬০. স্বত্তিকা — ১৯৮৪
৬১. লাড়েই — ১৯৮৪
৬২. ফদাংতাং — ১৯৮৪
৬৩. কোচপানা — ১৯৮৪
৬৪. আগমলিম — ১৯৮৪
৬৫. আরুক — ১৯৮৪
৬৬. পাজন — ১৯৮৪
৬৭. কিজিং — ১৯৮৩/১৯৮৫ হিসেবে তালিকাভুক্ত
৬৮. রদঙ — ১৯৮৫
৬৯. পাজন — ১৯৮৫
৭০. Ray — ১৯৮৫
৭১. চাঙমা গান বই (১৮টি গান) — ১৯৮৫
৭২. ইধরেগা — ১৯৮৬
৭৩. এক ঝাক বিজোল রোদ — ১৯৮৬
৭৪. কবরক জুম আঙিযায় অইলুম — ১৯৮৭
৭৫. কজ’ফুল — ১৯৮৭
৭৬. The Voice Ratsu — ১৯৮৬
৭৭. হুচ — ১৯৮৬
৭৮. পরাণ দান — ১৯৮৭
৭৯. কার্পাচ্চোই শাপ খেলং — ১৯৯৪

কবি-লেখক ও নাট্যচর্চার -
১. ননাধন চাঙমা
২. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা
৩. সুহৃদ চাঙমা
৪. সুগত চাঙমা
৫. রমণী মোহন চাঙমা
৬. রঞ্জিত দেওয়ান
৭. দেবী প্রসাদ দেওয়ান
৮. উদয় শংকর দেওয়ান
৯. ভগদত্ত খীসা
১০. বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা
১১. বিক্রমাদিত্য তঞ্চঙ্গ্যা
১২. চম্পা দেওয়ান
১৩. ছন্দা তালুকদার
১৪. কনিকা চাঙমা
১৫. মণি স্বপন দেওয়ান
১৬. অমর শান্তি চাঙমা
১৭. সত্যবীর
১৮. অমিতাভ চাঙমা
১৯. সত্যজিত চাঙমা
২০. নির্মল চাঙমা
২১. চুণীলাল দেওয়ান
২২. সলিল রায়
২৩. ধনঞ্জয়
২৪. পরমানন্দ বিকাশ দেওয়ান
২৫. অমূল্য রঞ্জন চাঙমা
২৬. সুপপিরঅ বরুং
২৭. বসনা চাঙমা
২৮. বিনয় শংকর চাঙমা
২৯. দেবজ্যোতি চাঙমা
৩০. সমর কান্তি চাঙমা
৩১. নন্দিতা চাঙমা
৩২. সাবিত্র্রী চাঙমা
৩৩. রাজা দেবাশীষ রায়
৩৪. রূপায়ন দেওয়ান
৩৫. কুমার সমিত রায়
৩৬. জুমপুত আরমানি
৩৭. সুবীর দেওয়ান
৩৮. সীতাংশু খীসা
৩৯. কুমার নন্দিত রায়
৪০. ননু দেওয়ান
৪১. নিতীশ দেওয়ান
৪২. সুমেধ কুমার দেওয়ান
৪৩. বাসনা বিকাশ দেওয়ান
৪৪. ড. মানিক লাল দেওয়ান
৪৫. সমীরণ চাঙমা
৪৬. নিবারণ চন্দ্র দেওয়ান
৪৭. বিকাশ দেওয়ান
৪৮. চন্দনা চাঙমা
৪৯. গায়ত্রী চাঙমা
৫০. শ্যামল কান্তি তালুকদার
৫১. পরিমল বিকাশ চাঙমা
৫২. বিদ্যুৎ তালুকদার
৫৩. মানস মুকুর চাঙমা
৫৪. গৌতম চাঙমা
৫৫. রিকু চাঙমা
৫৬. শিশির কান্তি চাঙমা
৫৭. মৃত্তিকা চাঙমা
৫৮. বিমল মমেন চাঙমা
৫৯. প্রভাত চাঙমা
৬০. প্রীতি কুসুম চাঙমা
৬১. তরুণ কুমার চাঙমা
৬২. জুনসদক চাঙমা
৬৩. দীপ্তিময় তালুকদার
৬৪. কংকনা চাঙমা
৬৫. কবিতা চাঙমা
৬৬. আর্য্যমিত্র চাঙমা
৬৭. রিনোধ বিহারি চাঙমা
৬৮. বাজুধন চাঙমা
৬৯. কনকচাপা চাঙমা
৭০. মঙ্গল কুমার চাঙমা
৭১. দীপেন দেওয়ান
৭২. পুষ্পিতা খীসা
৭৩. স্মৃতেন্দু বিকাশ চাঙমা
৭৪. অমলেন্দু চাঙমা
৭৫. অনাথ স্মৃতি চাঙমা
৭৬. শ্যামল কুমার চাঙমা
৭৭. শান্তিময় চাঙমা
৭৮. মানস কুমার চাঙমা
৭৯. বজেন্দু চাঙমা
৮০. শুভ্রা চাঙমা
৮১. চিরজ্যোতি চাঙমা
৮২. চিরঞ্জীব চাঙমা
৮৩. ঝিমিত ঝিমিত চাঙমা
৮৪. রাস্কীন চাঙমা
৮৫. মিশন চাঙমা
৮৬. পুষ্পিতা খীসা
৮৭. লুনা চাঙমা
৮৮. জিনি চাঙমা
৮৯. লালন চাঙমা
৯০. ভাগ্যচন্দ্র চাঙমা
৯১. সহেলী চাঙমা
৯২. বীর কুমার চাঙমা
৯৩. জ্যোতি গজাল
৯৪. শিশি চাঙমা
৯৫. সুপ্রিয় তালুকদার
৯৬. যশেশ্বর চাঙমা
৯৭. চন্দন চাঙমা
৯৮. হরিকিশোর চাঙমা
৯৯. গিরি বিজয় চাঙমা
১০০. ধন বিকাশ চাঙমা
১০১. নয়ন জ্যোতি চাঙমা
১০২. নিহার বিন্দু চাঙমা
১০৩. জ্ঞানদীপ্ত চাঙমা
১০৪. সুখেশ্বর চাঙমা
১০৫. নির্মলেন্দু চাঙমা
১০৬. সি. পি. রায়
১০৭. অজান্তা চাঙমা
১০৮. জ্ঞানানন্দ শ্রমণ
১০৯. খগেন্দ্র চাঙমা
১১০. জয়মণি চাঙমা
১১১. সুজাতা চাঙমা
১১২. সুজিত চাঙমা
১১৩. পুলক চাঙমা
১১৪. অভয় চাঙমা
১১৫. হরেন্দ্র চাঙমা
১১৬. অনুপম চাঙমা
১১৭. তুষিতা চাঙমা
১১৮. কেতন চাঙমা
১১৯. রতন চাঙমা
১২০. প্রবীণ খীসা
১২১. হিমাদ্রী রায়
১২২. মিলন চাঙমা
১২৩. প্রমেশ চাঙমা
১২৪. সুজিত বিকাশ চাঙমা
১২৫. প্রীতম রায়
১২৬. প্রদীপ চাঙমা
১২৭. জ্যোৎস্না বিকাশ চাঙমা
১২৮. রাজ রতন চাঙমা
১২৯. বড়তোষ চাঙমা
১৩০. কল্যাণময় চাঙমা
১৩১. ধর্মরত রাঙী
১৩২. চঞ্চু চাঙমা
১৩৩. ধীমান খীসা
১৩৪. প্রতাপ চাঙমা
১৩৫. হেন্ত বিকাশ চাঙমা
১৩৬. বসুদত্ত চাঙমা
১৩৭. রবি শংকর চাঙমা
১৩৮. শ্যামল মিত্র চাঙমা
১৩৯. অতীশ চাঙমা
১৪০. মেহযিয়্যা চাঙমা
১৪১. উদয়ন চাঙমা
১৪২. প্রমিত রায়
১৪৩. সত্য কুমার চাঙমা
১৪৪. ধবল কিরণ চাঙমা
১৪৫. সুরভি কুসুম চাঙমা
১৪৬. জ্যোতিরিন্দ্র চাঙমা
১৪৭. রাজ কুমার চাঙমা
১৪৮. প্রবর্তন চাঙমা
১৪৯. জটিল বিহারি চাঙমা
১৫০. বাবু দেওয়ান চাঙমা
১৫১. নিরু বিকাশ চাঙমা
১৫২. প্রমান্দ্রিয় চাঙমা
১৫৩. যামিনী রঞ্জন চাঙমা
১৫৪. প্রিয় কান্তি চাঙমা
১৫৫. অনিল বিকাশ চাঙমা
১৫৬. সীমা দেওয়ান
১৫৭. উৎপল দেওয়ান
১৫৮. উর্মি চাঙমা
১৫৯. অন্তরা চাঙমা
১৬০. সজীব চাঙমা
১৬১. অরুণ জ্যোতি চাঙমা
১৬২. অনুশ্রী দেওয়ান
১৬৩. অসিত বরণ চাঙমা
১৬৪. সুরেশ চন্দ্র চাঙমা
১৬৫. সুমনান্দ শ্রমণ
১৬৬. ইতি চাঙমা
১৬৭. সুবর্ণা চাঙমা
১৬৮. সীমা খীসা
১৬৯. ইউজিন খীসা
১৭০. বিকিরণ চাঙমা
১৭১. গৌতম দেওয়ান
১৭২. শুভাশীষ চাঙমা
১৭৩. অঞ্জন চাঙমা
১৭৪. মলিনা চাঙমা
১৭৫. মোহন চাঙমা
১৭৬. ইন্দুলাল চাঙমা
১৭৭. পল দেওয়ান
১৭৮. তুষার কান্তি দেওয়ান
১৭৯. তপন কান্তি দেওয়ান
১৮০. বীরভদ্র চাঙমা
১৮১. জওহর লাল চাঙমা
১৮২. রুদ্র প্রতাপ
১৮৩. স্মৃতিকণা চাঙমা
১৮৪. বিনয় চাঙমা
১৮৫. জিতেন্দ্র চাঙমা
১৮৬. জতিল চাঙমা
১৮৭. জ্ঞান বিকাশ চাঙমা
১৮৮. খোকন চাঙমা
১৮৯. বরুণ কান্তি তালুকদার
১৯০. ইপদেব খীসা
১৯১. নমিতা দেওয়ান
১৯২. সন্তোষ জীবন চাঙমা
১৯৩. বিজন দেওয়ান
১৯৪. অচিন্ত্য চাঙমা
১৯৫. সিনথিনা চাঙমা
১৯৬. নীতিশ চাঙমা
১৯৭. সুশান্ত চাঙমা
১৯৮. তৃপ্তি শংকর চাঙমা
১৯৯. মধুমঙ্গল চাঙমা
২০০. প্রণয়ন খীসা
২০১. পুলক রায়
২০২. সুদত্ত চাঙমা
২০৩. চাঙমা জুম্মবি খীসা
২০৪. ফেলাযিয়্যা চাঙমা
২০৫. ননুমণি চাঙমা
২০৬. চিত্রমোহন চাঙমা
২০৭. অমর কান্তি চাঙমা
২০৮. দীপ্তিময় তঞ্চঙ্গ্যা
২০৯. ভবন্ত চাঙমা
২১০. সোনা কান্তি দেওয়ান
২১১. নিমাই চাঙমা
২১২. আলপনা চাঙমা
২১৩. সুনীল কান্তি চাঙমা
২১৪. অভয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা
২১৫. ধন কুমার চাঙমা
২১৬. ফদাংতাং চাঙমা
২১৭. নুদিবানা চাঙমা
২১৮. মায়া সোনা চাঙমা
২১৯. অরুণ চাঙমা
২২০. মধুমঙ্গল চাঙমা

তথ্য: নন্দলাল শর্মা

নোয়ারাম চাঙমা : অঝাপাতের শেষ প্রদীপটি যিনি জ্বালিয়ে রেখেছিলেন - ইনজেব চাঙমা

একটি জাতির ইতিহাস শুধু রাজা-রাজড়ার ইতিহাস নয়। ইতিহাসের পাতা শুধু রাজদণ্ড হাতে থাকা মানুষদের নামেই পূর্ণ হয় না। ইতিহাসের গভীরতম জায়গাগুলোতে ক...