পোস্টগুলি

আন্দোলন কার জন্য, আর মূল্য দিচ্ছে কারা? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
কিছু কিছু সংবাদ কেবল সংবাদ হয়ে থাকে না; তা মানুষের বিবেকের দরজায় এসে কড়া নাড়ে। হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা প্রশ্নগুলোকে জাগিয়ে তোলে। গত ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে হিল ভয়েসে প্রকাশিত সাজেকের একটি সংবাদ আমাকে তেমনই গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে সাজেকে চলমান সড়ক অবরোধের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীর অভাবে ওয়ারেন্টি ত্রিপুরা (২৬) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর দুপুরে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম জৌপুই পাড়ায় সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একটি সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায়, অথচ সেই আলো দেখার আগেই নিভে গেল এক মায়ের জীবনপ্রদীপ। একটি পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। এই মৃত্যু শুধু একজন নারীর মৃত্যু নয়; এটি দুর্গম পাহাড়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দৈন্য, যোগাযোগের অসহায়ত্ব এবং আমাদের সামষ্টিক দায়িত্বহীনতার এক বেদনাবিধুর প্রতিচ্ছবি। সাজেকের মানুষের চিকিৎসাসংকট নতুন কোনো বাস্তবতা নয়। পাহাড়ের পর পাহাড় পেরিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। পর্যাপ...

১০ নভেম্বর মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার মৃত্যুবার্ষিকী: বিএনপি সরকার কি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করবে? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে ১০ নভেম্বর কেবল একটি তারিখ নয়; এটি শোক, বেদনা, আত্মত্যাগ ও অসমাপ্ত স্বপ্নের এক স্মৃতিবহ দিন। ১৯৮৩ সালের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জুম্ম জনগণের অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সাবেক সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা) নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, ‘বিভেদপন্থী গিরি-প্রকাশ-দেবেন-পলাশ চক্র’ নামের একটি সশস্ত্র গ্রুপের  হাতে । তাঁর মৃত্যুতে একটি জীবনের অবসান ঘটেছিল, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও ইতিহাসের কাছে রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলো আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। মৃত্যুর ৩৩ বছর পর, ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দশম জাতীয় সংসদে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে সংসদ তা গ্রহণ করে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর জাতীয় সংসদে একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের এই ঘটনা ছিল নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন উঠেছিল, এত দীর্ঘ সময় পর কেন এই শোক প্রস্তাব? সংসদ সচিবালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস...

জুম্ম জনগোষ্ঠীর জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন: ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ - ইনজেব চাঙমা

ব্রিটিশ আমল: শোষণ, বঞ্চনা ও সংগঠিত হওয়ার সূচনা ১৮৬০ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে নানা ধরনের শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি প্রণয়ন করে। এই বিধির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য একটি পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, শিক্ষা ও জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যায়। এমন এক বাস্তবতায় ১৯১৫ সালে জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণ, শিক্ষা বিস্তার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের সূচনা করেন রাজমোহন দেওয়ান ও তাঁর সহযোগীরা। তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হলেও ঔপনিবেশিক শাসনের বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় চাকমা যুব সমিতি। এই সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল চাকমা যুবসমাজকে সংগঠিত করা এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত করা। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ শাসনের শোষণ ও প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে পাহাড়ের শিক্ষিত ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যেও সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ঘনশ্যাম দেওয়ান ও স্নেহ কুমার চাকমার নেতৃত্বে ১৯২০ সালে প্রতিষ...

পল পটের ইতিহাস পড়তে গিয়ে প্রসীত খীসার কথা মনে পড়ে: মুক্তির স্বপ্ন, রক্তাক্ত বাস্তবতা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
ইতিহাসের পাতা কখনো কখনো বর্তমানের রাজনীতিকে নতুন করে চিনতে শেখায়। কম্বোডিয়ার খেমাররুজ নেতা পল পটের নৃশংস শাসনামলের ইতিহাস পড়তে গিয়ে আমার বারবার মনে পড়ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইউপিডিএফ নেতা প্রসীত বিকাশ খীসার কথা। পল পটের নেতৃত্বে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ, দমন-পীড়ন ও মানবিক বিপর্যয় সংঘটিত হয়েছিল, তা ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। একটি আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত মানুষের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও জীবনকে বিপন্ন করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার নির্মম মূল্য দিতে হয়েছিল লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বাস্তবতা কম্বোডিয়ার ইতিহাসের অনুরূপ নয়। তবে আদর্শের নামে মানুষকে স্বপ্ন দেখানো, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শিতা এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সংগ্রামী নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা প্রসীত বিকাশ খীসা পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দেখিয়ে জুম্ম ছাত্র-ছাত্রী ও যুবসমাজের একটি অংশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর মন্ত্রমুগ্ধকর রাজনৈতিক বক্তব্য ও সংগ্রামের আহ্বানে...

পর্যটনের আড়ালে সাজেকের সংকট: সহিংসতা, অবরোধ, জীবিকার অনিশ্চয়তা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অপরিহার্যতা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পাহাড়ের বুকে মেঘের ভেলা, দিগন্তজোড়া সবুজ অরণ্য, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সাজেক। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই জনপদ পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের মতো সুন্দর। কিন্তু পাহাড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে বসবাসকারী জুম্ম জনগোষ্ঠীর জীবন যে কতটা সংগ্রামময়, তা বাইরে থেকে সব সময় বোঝা যায় না। এখানে প্রকৃতি কখনো জীবিকার আশীর্বাদ, আবার কখনো নির্মম দুর্যোগের কারণ। অন্যদিকে মানুষের সৃষ্ট বিরোধ, সহিংসতা, অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বহুবার সাধারণ মানুষের জীবনকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার দিকে। সাজেকের সংকট আজকের নয়। অতীতের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, ২০২৫ সালের ইঁদুর বন্যায় জুমের ফসলহানি, বিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক সময়ের নিরাপত্তা ও যোগাযোগসংক্রান্ত অস্থিরতা, সব মিলিয়ে এই জনপদের মানুষের জীবনসংগ্রাম দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। ২০২৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ সাজেকের সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ১ অক্টোবর উজোবাজারে মিছিল, ১১ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধ, ২৬ অক্টোবর দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক, ১ নভেম্বরের পাল্টাপাল্টি অবরোধ এবং পরবর্তী...

পাহাড়ের রাজনীতি: মুক্তির স্বপ্ন, নাকি মানুষের বন্দিত্ব? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে যারা রাজনীতির পথে হাঁটে, একসময় তাদের হাতেই যদি সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা শৃঙ্খলিত হয়, তবে সেই রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। পাহাড়ের রাজনীতিতে এমন অনেক অভিজ্ঞতা জমে আছে, যার ক্ষত হয়তো দৃশ্যমান নয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত। ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে হিল ভয়েসে প্রকাশিত সাজেকের ৩০ অক্টোবর এক গ্রামবাসীকে মারধর ও গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগসংবলিত সংবাদটি পড়ে আমার স্মৃতির দরজা হঠাৎ খুলে গেল। ফিরে গেলাম ২০১৪ সালের দিঘীনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে। মনে হলো, সময়ের ব্যবধান এক যুগ হলেও সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের গল্প যেন খুব একটা বদলায়নি। হিল ভয়েসের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর সাজেকের মাচলং বাজার এলাকায় মেয়েরঞ্জন চাকমা (৩৫) নামের এক গ্রামবাসীকে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর দুই চাঁদা সংগ্রাহক গাছচোগা চাকমা ও খোকন চাকমা ওরফে ত্রিশা বাপ মারধর করেন। অভিযোগের কারণ, তিনি নাকি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পক্ষের লোকজনকে পাঁচ কেজি মাছ দিয়েছিলেন। আরও বলা হয়েছে, মারধরের পর স্থানীয় মুরুব্বিদের মধ্যস্থতায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শর্তসাপেক্ষে মায়ের বাড়িত...

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এবং ইউপিডিএফের ভূমিকা - ইনজেব চাঙমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষের মতাদর্শিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত পাহাড়ের জনজীবনে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। এই সংঘাতের অভিঘাতে প্রাণহানি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অথচ দীর্ঘ সশস্ত্র সংগ্রাম, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল, পাহাড়ে ফিরে আসবে শান্তি, নিশ্চিত হবে নিরাপত্তা, উন্মুক্ত হবে উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। কিন্তু সেই প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হয়েছে? কেন পাহাড়ের মানুষকে আজও সংঘাত, আতঙ্ক ও অপহরণের খবর শুনতে হয়? অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই আন্দোলনের ভেতরেই কেন তৈরি হলো বিভাজন ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই কথাটির মানে বুঝতে গিয়ে একটু অতীতটা পরখ করতে হবে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সরকার ...

এমএন লারমার স্মৃতিচর্চা কি রাজনৈতিক বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে না? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  ইউপিডিএফ এর নেতা মাইকেল চাকমার সাম্প্রতিক পোস্টে খাগড়াছড়ি পানছড়িতে এমএন লারমাকে ঘিরে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতাকে ‘লাথি মারার প্রতিযোগিতা’ এবং সংগ্রামী চেতনা ধ্বংসের রাজনীতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমন বক্তব্য শুধু অতিরঞ্জিত নয়, বাস্তবতারও একপেশে পাঠ। এমএন লারমাকে স্মরণ করার পথ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতি বছর ফুটবল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ নানা সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও অবদান তুলে ধরার প্রয়াস থাকে। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে স্মরণানুষ্ঠান আয়োজন করা মানেই কাউকে অবমাননা করা নয়। জেএসএসের রাজনৈতিক অবস্থান, নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনা যখন তথ্য ও যুক্তির পরিবর্তে অপবাদ, বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক কল্পনানির্ভর হয়ে ওঠে, তখন তা আর গঠনমূলক সমালোচনা থাকে না। মনে রাখা দরকার, এমএন লারমা কোনো একক রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস ও রাজনৈতিক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁকে স্মরণ ক...

এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরেক বিপদে সাজেকবাসী - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন কমান্ডো অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। ইতিহাসের সেই লাদেনের সঙ্গে সাজেকের লাদেন চাকমার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু একই নামের আড়ালে আজ সাজেকের এক সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে, যা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে, মুক্তির সংগ্রামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার সকাল ১০টার দিকে গঙ্গারাম সুরুং নালার বাসিন্দা মৃত চন্দ্র চাকমার ছেলে লাদেন চাকমার (৩৫) ওপর সেনাবাহিনীর সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সাজেক হিল (ফেসবুক আইডি) অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর সাজেক উজোবাজারে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সড়ক অবরোধ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর লাঠিচার্জে লাদেন চাকমা গুরুতর আহত হন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অটোরিকশায় করে দীঘিনালায় নেওয়ার পথে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, বাঘাইহাট জোনের এক সেনা কর্মকর্তা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী ...

চাকমা সাহিত্যের এক ঐতিহাসিক সংকলন: শ্রম, সাধনা ও অপূর্ণতার গল্প - ইনজেব চাঙমা

ছবি
একটি ভাষার মৃত্যু শুধু তার শব্দ হারিয়ে যাওয়া নয়, হারিয়ে যাওয়া একটি জাতির স্মৃতি, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়েরও একাংশ। আর সেই ভাষার সাহিত্যকে সংকলন ও অনুবাদের মাধ্যমে বৃহত্তর পাঠকসমাজের সামনে তুলে ধরা মানে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে এক ধরনের সাংস্কৃতিক লড়াই। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময়ের শ্রম, সাধনা ও নিষ্ঠার ফসল ‘চাকমা সাহিত্য’  বাংলা একাডেমির অনুবাদ বিভাগের ‘বাংলা ব্যতীত বাংলাদেশের অন্যান্য ভাষার সাহিত্য ও অনুবাদ সিরিজ’ -এর প্রথম উদ্যোগ। শ্রাবণ ১৪৩৩/জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত ৭৬৮ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থ চাকমা সাহিত্যের দীর্ঘ যাত্রাপথকে মলাটবন্দি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। এই উদ্যোগের জন্য বাংলা একাডেমির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ আজমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় কর্মযজ্ঞের বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব হতো না। তবে একটি গ্রন্থ প্রকাশই শেষ কথা নয়; প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন সেই গ্রন্থ ভাষার শিকড়কে আরও গভীরে পৌঁছে দেয়, নতুন পাঠক তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেয় নিজস্ব সাহিত্যিক উত্তরাধিকার। বইটির মধ্যে মাত্র ৯টি কবিতা ও ২টি ছোটগল্প চাকমা বর...

চাকমা ভাষা: স্বাতন্ত্র্য, আত্মপরিচয় ও আত্মবিস্মৃতির সংকট - ইনজেব চাঙমা

ভাষা কেবল মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; ভাষা একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক। ভাষার মধ্যেই বেঁচে থাকে একটি জাতির অতীত, তার জীবনবোধ ও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব। তাই নিজের ভাষাকে অবহেলা করা মানে কেবল কয়েকটি শব্দ বা বর্ণকে হারিয়ে ফেলা নয়, বরং নিজের ইতিহাস ও পরিচয়ের একটি অংশকে বিস্মৃত হওয়া। চাঙমা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা মত ও বিতর্ক চলে আসছে। মোঃ আবদুল আউয়ান বলেছেন, “চাকমা উপভাষা নয়, একটি পৃথক ভাষা বটে।” ড. অশোক বিশ্বাসের বক্তব্যেও চাকমা ভাষার স্বতন্ত্র সত্তার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তাঁর মতে, চাকমা ভাষা ইন্দো-আর্য ও মঙ্গোলীয়-ভোটো-বর্মী ভাষার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। চাকমা বর্ণমালা বা অঝাপাতের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়েও গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। ড. গ্রিয়ারসনের বক্তব্য অনুযায়ী, চাঙমা ও শান বর্ণমালা একই উৎস থেকে বিকশিত হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্কিম চন্দ্র চাঙমার মতে, চাকমা বর্ণমালায় একসময় ৩৩টি বর্ণ ছিল; পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে আরও কিছু বর্ণ যুক্ত হয়েছে। ভাষা ও বর্ণমালা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। ভা...

সংস্কৃতির অবক্ষয়, বিভক্ত সমাজ ও হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
নৃত্যুশিল্পী রাশিয়া চাঙমা ও ছাত্রী ঝর্ণা চাঙমা মানুষই মানুষকে গড়ে তোলে, আবার মানুষের হাতেই মানুষের স্বপ্ন ভেঙে যায়। একটি জাতির সভ্যতার পরিচয় কেবল তার ভাষা, ঐতিহ্য কিংবা উৎসবে নয়; প্রকাশ পায় মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, ন্যায়বিচার ও দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়। অথচ আমাদের চাঙমা সমাজে সেই মানবিক মূল্যবোধ ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে কি না, তা আজ গভীরভাবে ভাবার বিষয়। সম্প্রতি দুজন কিশোরীকে ঘিরে কিছু ঘটনা আমার মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ মাচালং উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝর্ণা চাঙমাকে নিয়ে একটি বক্তব্য সামনে আসে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী তাকে খুঁজছে। ১১ অক্টোবর সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলাকালে সে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলেছিল। এর পর জ্ঞানকীর্তি চাঙমার ফেসবুক পোস্টে রাশিয়া চাঙমা নামের আরেক কিশোরীকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর রাশিয়ার বিয়ের খবর পাওয়া গেছে। তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি এবং বিয়েতে অভিভাবকের সম্মতি ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় ...