বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

আশাধন চাকমা: পাহাড়, মানুষ ও জীবনের কথক এক নিভৃতচারী কবি - ইনজেব চাঙমা

  

    পার্বত্য চট্টগ্রামের সমকালীন সাহিত্যভুবনে আশাধন চাকমা একজন তরুণ কবি, লেখক, অনুবাদক শিক্ষক। পাহাড়ের প্রকৃতি, জুমচাষিদের জীবন, মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক বাস্তবতা এবং পার্বত্য জনজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রধান অনুষঙ্গ। প্রচার আত্মপ্রচারের চেয়ে সৃষ্টির মধ্যেই তিনি খুঁজে পান তাঁর আনন্দ। তাই নিভৃতচারী এই কবির সাহিত্যযাত্রা নীরব হলেও তার অন্তর্গত স্বর গভীর জীবনঘনিষ্ঠ।

    আশাধন চাকমা ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার থাচি পাড়া নামের এক পাহাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পত্যমনি চাকমা একজন গ্রামপ্রধান কার্বারি এবং মা চন্দ্ররেখা চাকমা গৃহীনি। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে আশাধন সবার ছোট।

    পাহাড়ের কোলে জন্ম এবং সেখানেই বেড়ে ওঠার সুবাদে শৈশব থেকেই তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি, জুমচাষিদের জীবনযাপন এবং পাহাড়ি জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখ জীবনসংগ্রাম। সবুজ পাহাড়, অরণ্য, ঝরনা, নদী-ছড়া এবং জুমের মাঠ তাঁর বেড়ে ওঠার নিত্যসঙ্গী। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে গভীর সম্পর্ক, তা তাঁর মনোজগতে শৈশব থেকেই স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তা সৃষ্টিশীলতার ভেতরেও সেই পাহাড়ি জীবন প্রকৃতির অনুরণন শোনা যায়।

    প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে প্রবেশের আগেই তাঁর পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় পরিবারের পরিমণ্ডলে। বড় ভাই, যিনি নিজেও একজন শিক্ষক, ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের শিক্ষাগুরু। বড় ভাইয়ের শাসন স্নেহের মধ্য দিয়েই তাঁর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে।

    আশাধন বড়মোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর জুরাছড়ি উপজেলার ভুবনজয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পাঁচ বছর অধ্যয়ন শেষে ২০১৪ সালে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি পাস করেন।

    তাঁর সাহিত্যজীবনের প্রকৃত সূচনাও এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়জীবনে। সময় থেকেই তিনি টুকটাক কবিতা গল্প লিখতে শুরু করেন। চারপাশের প্রকৃতি, মানুষের জীবন এবং নিজের দেখা-শোনা নানা অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে তাঁর কল্পনা সৃষ্টিশীলতার উপাদান হয়ে উঠতে থাকে।

    এসএসসি পাসের পর তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কলেজজীবনে রাঙামাটি তাঁর কাছে শুধু শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকেনি; বরং পুরো পার্বত্য জনপদই হয়ে উঠেছিল তাঁর জ্ঞান অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের এক বিস্তৃত পাঠশালা। মানুষের বিচিত্র জীবন-জীবিকা, সমাজ সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তাঁর চিন্তার পরিধিকে ক্রমশ বিস্তৃত করে।

    এই সময় কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন পথিকৃৎপাঠাগার পাঠাগারটি তাঁদের নিয়মিত বইপড়া, সাহিত্য আলোচনা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। সপ্তাহে তিন-চার দিন বন্ধুরা সেখানে মিলিত হয়ে বই পড়তেন, আলোচনা করতেন এবং সাহিত্য নিয়ে আড্ডা দিতেন। ধীরে ধীরে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষও পাঠাগারের সঙ্গে যুক্ত হন। পাঠাগারের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় সাহিত্য সাংস্কৃতিক আড্ডারও আয়োজন করা হতো।

    ২০১৬ সালে তিনি প্রথম শ্রেণিতে এইচএসসি পাস করেন। একই বছর রাঙামাটি সরকারি কলেজে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হন। চার বছর অধ্যয়ন শেষে ২০২০ সালে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কলেজে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে ২০২১ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    শিক্ষকতা ছিল তাঁর শৈশবের স্বপ্ন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি সেই স্বপ্নকে পেশাগত জীবনে রূপ দেন। প্রথমে বরকল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০২৫ সালে এনটিআরসিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি রাঙামাটি জেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই শিক্ষকতা করছেন।

    তাঁর কাছে শিক্ষকতা নিছক জীবিকার অবলম্বন নয়; এটি মানুষ সমাজ গঠনের এক মহান দায়িত্ব। তাঁর বিশ্বাস, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকই জ্ঞান, মূল্যবোধ মানবিকতার আলোয় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারেন।

    শিক্ষকতা তাঁর পেশা হলেও সাহিত্যচর্চাই তাঁর নেশা। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ অনুবাদসাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি কাজ করে চলেছেন। তিনি খুব বেশি লেখেন না; বরং প্রয়োজন অন্তর্গত তাগিদ থেকেই লেখেন। তাঁর লেখার ভেতর ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি পাহাড়ি সমাজ, মানুষের জীবন সমকালীন বাস্তবতার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

    তাঁর গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বুব সবন মিঝিলিগ ডরবুব সবনস্বনামধন্যচিহ্নম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। গল্পটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্কের দ্বন্দ্ব, তার সামাজিক পটভূমি এবং মানুষের করুণ বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে মিঝিলিগ ডর গল্পে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বিশেষ সময়ের অপহরণের ঘটনাকে গল্পের বয়ানে তুলে ধরা হয়েছে।

    তাঁর বেশ কয়েকটি কবিতা প্রবন্ধও বিভিন্ন প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছেআন্ধার দিনুনর কহ্দা’, ‘লরবো লারমা’, ‘তুই এভে ভিলিনেই’, ‘তুই যেদিন থেবে কবি’, ‘সে মিলেবু মুআন এবং এক্কান লাঙর সিধি

    তাঁর কবিতার প্রকাশনা-পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে কক্ ক্রিয়েটিভ থেকে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ আবেদি- মাধ্যমে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে আশাধন চাকমার পাঁচটি কবিতা স্থান পেয়েছে। যৌথ এই কাব্যগ্রন্থে তাঁর কবিতার অন্তর্ভুক্তি সমকালীন কবিতাঙ্গনে তাঁর সৃষ্টিশীল উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    আশাধন চাকমার সাহিত্যিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর অনুবাদচর্চা। চাকমা ভাষা সাহিত্যের সৃষ্টিকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছেন।

    বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত চাকমা সাহিত্য- তিনি বেশ কয়েকটি গল্পের বাংলা অনুবাদ করেছেন। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকার সাহিত্যিক মৃত্তিকা চাকমার বান হক্কানির ধনপানা নাটক দুটিরও তিনি বাংলা অনুবাদ করেছেন। একই লেখকের উলুগাজর ভূত গল্পটিও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন, যা কানাডা থেকে প্রকাশিত হয়।

     ছাড়া পাহাড়ের আরেক শক্তিশালী কবি লেখক শিশির চাকমার জুমবলা লরবো অংলা গল্পও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন।

    তাঁর অনুবাদচর্চা কেবল ভাষার রূপান্তর নয়; এর মধ্য দিয়ে চাকমা সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। এক ভাষার সাহিত্যকে অন্য ভাষার পাঠকের কাছে উন্মুক্ত করার এই প্রয়াস তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়কে আরও তাৎপর্যময় করেছে।

    আশাধন চাকমা বিভিন্ন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি বাংলা একাডেমি চাকমা সাহিত্য পর্ষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখক ইউনিয়ন এবং জাক (জুম ইসথেটিক কাউন্সিল)-এর সদস্য। শিক্ষকতার ব্যস্ততার মধ্যেও সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর এই সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে।

    আশাধন চাকমার সাহিত্যচিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তি, সমাজ বিশ্বজনীনতার সমন্বয়। তাঁর বিশ্বাস, একজন কবি বা লেখক কেবল লেখার জন্য লেখেন না; লেখার পেছনে থাকতে হয় একটি অন্তর্গত উদ্দেশ্য সামাজিক দায়বোধ। ব্যক্তির রুচি ভালো লাগা যেমন লেখার উৎস হতে পারে, তেমনি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং বিশ্বজনীনতার চেতনাও একজন লেখকের সৃষ্টিকে অর্থবহ করে তোলে।

    তাঁর দৃষ্টিতে কবি কেবল নিজের অনুভূতি, আনন্দ-বেদনা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই বলবেন না; তাঁর চারপাশের মানুষ, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের জীবনও সাহিত্যে উঠে আসবে। কারণ সাহিত্য কেবল ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ নয়সাহিত্য একই সঙ্গে সময়, সমাজ মানুষের জীবনেরও দলিল।

    আশাধন চাকমা পাহাড়ের মাটি মানুষের জীবন থেকে উঠে আসা এক তরুণ নিভৃতচারী কবি, লেখক অনুবাদক। শিক্ষকতার মতো দায়িত্বশীল পেশার পাশাপাশি তিনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ অনুবাদের মধ্য দিয়ে নিজের সাহিত্যিক পথ নির্মাণ করে চলেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে পাহাড়ের প্রকৃতি যেমন উপস্থিত, তেমনি উপস্থিত মানুষের জীবন, সমাজের দ্বন্দ্ব, ইতিহাসের অভিঘাত এবং প্রান্তিক মানুষের অনুভূতি।

    ২০২৫ সালে কক্ ক্রিয়েটিভ থেকে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ আবেদি-তে তাঁর পাঁচটি কবিতার অন্তর্ভুক্তি তাঁর সাহিত্যযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। পাশাপাশি বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে চাকমা সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও তিনি করে যাচ্ছেন।

    প্রচারবিমুখ এই তরুণ কবির সাহিত্যযাত্রা তাই নীরব হলেও তা অর্থবহ। শিক্ষক হিসেবে তিনি মানুষ গড়ার কাজে নিয়োজিত, আর লেখক হিসেবে মানুষের কথা বলার দায় বহন করছেন। পাহাড়, প্রকৃতি, মানুষ সমাজের প্রতি তাঁর যে গভীর দায়বোধসেটিই ভবিষ্যতে তাঁর সাহিত্যকে আরও পরিণত, বিস্তৃত স্বতন্ত্র করে তুলবেএই প্রত্যাশা অমূলক নয়।

তথ্যসূত্র

  • কবির দেওয়া প্রাপ্ত তথ্য
  • “আবেদি” কবিতা সংকলনে প্রকাশিত কবিতা ও কবির পরিচিতি

 

 

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

চাঙমা সাহিত্যের বিকাশ : সংকলন, সাহিত্যসংগঠন, কবি-লেখক ও নাট্যচর্চার -

 
চাঙমা সাহিত্যের বিকাশ : সংকলন, সাহিত্যসংগঠন, কবি-লেখক ও নাট্যচর্চার -

১. বিজু (স্বাধীন বাংলাদেশত পল্যা বিজু) — ১৯৭২
২. জুনি — ১৯৭২
৩. সাঙু — ১৯৭২
৪. লুরা — ১৯৭২
৫. ফুরামোন — ১৯৭২
৬. চাঙমা গান (চাঙমা লিপি) — ১৯৭৩
৭. চিজি বই — ১৯৭৩
৮. বারগি — ১৯৭৩
৯. চাঙমা বাংলা কধাতারা — ১৯৭৩
১০. রাঞ্জুনি — ১৯৭৪
১১. চাঙমা ভাষায় ইতিবৃত্ত — ১৯৭৪
১২. চাঙমা ভাষায় ধ্বনিতত্ত্ব — ১৯৭৪
১৩. পালি, প্রাকৃত, মায়াং ও চাকমা — ১৯৭৪
১৪. শিঙ্গা — ১৯৭৪
১৫. গোজেন লামা — ১৯৭৫
১৬. বিজুগুলো — ১৯৭৬
১৭. ছদক — ১৯৭৬
১৮. থেঝেরা — ১৯৭৬
১৯. আহ্ওঝর চাঙমা গান — ১৯৭৭
২০. গেংখুলি — ১৯৭৭
২১. চাঙমা গান — ১৯৭৭
২২. কথোপকথন — ১৯৭৭
২৩. চিজির গান — ১৯৭৭
২৪. রঙগীত — ১৯৭৭
২৫. রানজুনি — ১৯৭৭
২৬. চাঙমা গান — ১৯৭৮
২৭. পাদারঙর কোচপানা — ১৯৭৮
২৮. রংধং — ১৯৭৮
২৯. বনফুল — ১৯৭৮
৩০. ক’জলি — ১৯৭৮
৩১. রঙধং — ১৯৭৮
৩২. চাঙমা ছড়া — ১৯৭৯
৩৩. বিজু — ১৯৭৯
৩৪. রিপরিপ — ১৯৮০
৩৫. রাধামন ধনপুদি (১ম খণ্ড) — ১৯৮০
৩৬. রেঙ — ১৯৮০
৩৭. বিজু — ১৯৮০
৩৮. ইরুক — ১৯৮১
৩৯. বিজুফুল — ১৯৮১
৪০. রাধামন ধনপুদি (২য় খণ্ড) — ১৯৮১
৪১. হুয়াঙ ছেরে চাঙমা গীত — ১৯৮১
৪২. ইরুক — ১৯৮১
৪৩. সত্রং — ১৯৮২
৪৪. ইরুক — ১৯৮২
৪৫. চাঙমা আগপুদি — ১৯৮২
৪৬. অয় নয় বৈদ্য — ১৯৮২
৪৭. জুম — ১৯৮৩
৪৮. কজমাপাদা — ১৯৮৩
৪৯. চাকমা পরিচিতি — ১৯৮৩
৫০. ফদাংতাং — ১৯৮৩
৫১. পাজন — ১৯৮৩
৫২. রানজুনি — ১৯৮৩
৫৩. পাত্তলী — ১৯৮৩
৫৪. মৈত্রী বাণী — ১৯৮৩
৫৫. চম্পক — ১৯৮৪
৫৬. নিবিলির ফুগুদি কানা — ১৯৮৪
৫৭. হিয়াংসিক — ১৯৮৪
৫৮. সাঙেত — ১৯৮৪
৫৯. বিশ্বজ্যোতি — ১৯৮৪
৬০. স্বত্তিকা — ১৯৮৪
৬১. লাড়েই — ১৯৮৪
৬২. ফদাংতাং — ১৯৮৪
৬৩. কোচপানা — ১৯৮৪
৬৪. আগমলিম — ১৯৮৪
৬৫. আরুক — ১৯৮৪
৬৬. পাজন — ১৯৮৪
৬৭. কিজিং — ১৯৮৩/১৯৮৫ হিসেবে তালিকাভুক্ত
৬৮. রদঙ — ১৯৮৫
৬৯. পাজন — ১৯৮৫
৭০. Ray — ১৯৮৫
৭১. চাঙমা গান বই (১৮টি গান) — ১৯৮৫
৭২. ইধরেগা — ১৯৮৬
৭৩. এক ঝাক বিজোল রোদ — ১৯৮৬
৭৪. কবরক জুম আঙিযায় অইলুম — ১৯৮৭
৭৫. কজ’ফুল — ১৯৮৭
৭৬. The Voice Ratsu — ১৯৮৬
৭৭. হুচ — ১৯৮৬
৭৮. পরাণ দান — ১৯৮৭
৭৯. কার্পাচ্চোই শাপ খেলং — ১৯৯৪

কবি-লেখক ও নাট্যচর্চার -
১. ননাধন চাঙমা
২. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা
৩. সুহৃদ চাঙমা
৪. সুগত চাঙমা
৫. রমণী মোহন চাঙমা
৬. রঞ্জিত দেওয়ান
৭. দেবী প্রসাদ দেওয়ান
৮. উদয় শংকর দেওয়ান
৯. ভগদত্ত খীসা
১০. বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা
১১. বিক্রমাদিত্য তঞ্চঙ্গ্যা
১২. চম্পা দেওয়ান
১৩. ছন্দা তালুকদার
১৪. কনিকা চাঙমা
১৫. মণি স্বপন দেওয়ান
১৬. অমর শান্তি চাঙমা
১৭. সত্যবীর
১৮. অমিতাভ চাঙমা
১৯. সত্যজিত চাঙমা
২০. নির্মল চাঙমা
২১. চুণীলাল দেওয়ান
২২. সলিল রায়
২৩. ধনঞ্জয়
২৪. পরমানন্দ বিকাশ দেওয়ান
২৫. অমূল্য রঞ্জন চাঙমা
২৬. সুপপিরঅ বরুং
২৭. বসনা চাঙমা
২৮. বিনয় শংকর চাঙমা
২৯. দেবজ্যোতি চাঙমা
৩০. সমর কান্তি চাঙমা
৩১. নন্দিতা চাঙমা
৩২. সাবিত্র্রী চাঙমা
৩৩. রাজা দেবাশীষ রায়
৩৪. রূপায়ন দেওয়ান
৩৫. কুমার সমিত রায়
৩৬. জুমপুত আরমানি
৩৭. সুবীর দেওয়ান
৩৮. সীতাংশু খীসা
৩৯. কুমার নন্দিত রায়
৪০. ননু দেওয়ান
৪১. নিতীশ দেওয়ান
৪২. সুমেধ কুমার দেওয়ান
৪৩. বাসনা বিকাশ দেওয়ান
৪৪. ড. মানিক লাল দেওয়ান
৪৫. সমীরণ চাঙমা
৪৬. নিবারণ চন্দ্র দেওয়ান
৪৭. বিকাশ দেওয়ান
৪৮. চন্দনা চাঙমা
৪৯. গায়ত্রী চাঙমা
৫০. শ্যামল কান্তি তালুকদার
৫১. পরিমল বিকাশ চাঙমা
৫২. বিদ্যুৎ তালুকদার
৫৩. মানস মুকুর চাঙমা
৫৪. গৌতম চাঙমা
৫৫. রিকু চাঙমা
৫৬. শিশির কান্তি চাঙমা
৫৭. মৃত্তিকা চাঙমা
৫৮. বিমল মমেন চাঙমা
৫৯. প্রভাত চাঙমা
৬০. প্রীতি কুসুম চাঙমা
৬১. তরুণ কুমার চাঙমা
৬২. জুনসদক চাঙমা
৬৩. দীপ্তিময় তালুকদার
৬৪. কংকনা চাঙমা
৬৫. কবিতা চাঙমা
৬৬. আর্য্যমিত্র চাঙমা
৬৭. রিনোধ বিহারি চাঙমা
৬৮. বাজুধন চাঙমা
৬৯. কনকচাপা চাঙমা
৭০. মঙ্গল কুমার চাঙমা
৭১. দীপেন দেওয়ান
৭২. পুষ্পিতা খীসা
৭৩. স্মৃতেন্দু বিকাশ চাঙমা
৭৪. অমলেন্দু চাঙমা
৭৫. অনাথ স্মৃতি চাঙমা
৭৬. শ্যামল কুমার চাঙমা
৭৭. শান্তিময় চাঙমা
৭৮. মানস কুমার চাঙমা
৭৯. বজেন্দু চাঙমা
৮০. শুভ্রা চাঙমা
৮১. চিরজ্যোতি চাঙমা
৮২. চিরঞ্জীব চাঙমা
৮৩. ঝিমিত ঝিমিত চাঙমা
৮৪. রাস্কীন চাঙমা
৮৫. মিশন চাঙমা
৮৬. পুষ্পিতা খীসা
৮৭. লুনা চাঙমা
৮৮. জিনি চাঙমা
৮৯. লালন চাঙমা
৯০. ভাগ্যচন্দ্র চাঙমা
৯১. সহেলী চাঙমা
৯২. বীর কুমার চাঙমা
৯৩. জ্যোতি গজাল
৯৪. শিশি চাঙমা
৯৫. সুপ্রিয় তালুকদার
৯৬. যশেশ্বর চাঙমা
৯৭. চন্দন চাঙমা
৯৮. হরিকিশোর চাঙমা
৯৯. গিরি বিজয় চাঙমা
১০০. ধন বিকাশ চাঙমা
১০১. নয়ন জ্যোতি চাঙমা
১০২. নিহার বিন্দু চাঙমা
১০৩. জ্ঞানদীপ্ত চাঙমা
১০৪. সুখেশ্বর চাঙমা
১০৫. নির্মলেন্দু চাঙমা
১০৬. সি. পি. রায়
১০৭. অজান্তা চাঙমা
১০৮. জ্ঞানানন্দ শ্রমণ
১০৯. খগেন্দ্র চাঙমা
১১০. জয়মণি চাঙমা
১১১. সুজাতা চাঙমা
১১২. সুজিত চাঙমা
১১৩. পুলক চাঙমা
১১৪. অভয় চাঙমা
১১৫. হরেন্দ্র চাঙমা
১১৬. অনুপম চাঙমা
১১৭. তুষিতা চাঙমা
১১৮. কেতন চাঙমা
১১৯. রতন চাঙমা
১২০. প্রবীণ খীসা
১২১. হিমাদ্রী রায়
১২২. মিলন চাঙমা
১২৩. প্রমেশ চাঙমা
১২৪. সুজিত বিকাশ চাঙমা
১২৫. প্রীতম রায়
১২৬. প্রদীপ চাঙমা
১২৭. জ্যোৎস্না বিকাশ চাঙমা
১২৮. রাজ রতন চাঙমা
১২৯. বড়তোষ চাঙমা
১৩০. কল্যাণময় চাঙমা
১৩১. ধর্মরত রাঙী
১৩২. চঞ্চু চাঙমা
১৩৩. ধীমান খীসা
১৩৪. প্রতাপ চাঙমা
১৩৫. হেন্ত বিকাশ চাঙমা
১৩৬. বসুদত্ত চাঙমা
১৩৭. রবি শংকর চাঙমা
১৩৮. শ্যামল মিত্র চাঙমা
১৩৯. অতীশ চাঙমা
১৪০. মেহযিয়্যা চাঙমা
১৪১. উদয়ন চাঙমা
১৪২. প্রমিত রায়
১৪৩. সত্য কুমার চাঙমা
১৪৪. ধবল কিরণ চাঙমা
১৪৫. সুরভি কুসুম চাঙমা
১৪৬. জ্যোতিরিন্দ্র চাঙমা
১৪৭. রাজ কুমার চাঙমা
১৪৮. প্রবর্তন চাঙমা
১৪৯. জটিল বিহারি চাঙমা
১৫০. বাবু দেওয়ান চাঙমা
১৫১. নিরু বিকাশ চাঙমা
১৫২. প্রমান্দ্রিয় চাঙমা
১৫৩. যামিনী রঞ্জন চাঙমা
১৫৪. প্রিয় কান্তি চাঙমা
১৫৫. অনিল বিকাশ চাঙমা
১৫৬. সীমা দেওয়ান
১৫৭. উৎপল দেওয়ান
১৫৮. উর্মি চাঙমা
১৫৯. অন্তরা চাঙমা
১৬০. সজীব চাঙমা
১৬১. অরুণ জ্যোতি চাঙমা
১৬২. অনুশ্রী দেওয়ান
১৬৩. অসিত বরণ চাঙমা
১৬৪. সুরেশ চন্দ্র চাঙমা
১৬৫. সুমনান্দ শ্রমণ
১৬৬. ইতি চাঙমা
১৬৭. সুবর্ণা চাঙমা
১৬৮. সীমা খীসা
১৬৯. ইউজিন খীসা
১৭০. বিকিরণ চাঙমা
১৭১. গৌতম দেওয়ান
১৭২. শুভাশীষ চাঙমা
১৭৩. অঞ্জন চাঙমা
১৭৪. মলিনা চাঙমা
১৭৫. মোহন চাঙমা
১৭৬. ইন্দুলাল চাঙমা
১৭৭. পল দেওয়ান
১৭৮. তুষার কান্তি দেওয়ান
১৭৯. তপন কান্তি দেওয়ান
১৮০. বীরভদ্র চাঙমা
১৮১. জওহর লাল চাঙমা
১৮২. রুদ্র প্রতাপ
১৮৩. স্মৃতিকণা চাঙমা
১৮৪. বিনয় চাঙমা
১৮৫. জিতেন্দ্র চাঙমা
১৮৬. জতিল চাঙমা
১৮৭. জ্ঞান বিকাশ চাঙমা
১৮৮. খোকন চাঙমা
১৮৯. বরুণ কান্তি তালুকদার
১৯০. ইপদেব খীসা
১৯১. নমিতা দেওয়ান
১৯২. সন্তোষ জীবন চাঙমা
১৯৩. বিজন দেওয়ান
১৯৪. অচিন্ত্য চাঙমা
১৯৫. সিনথিনা চাঙমা
১৯৬. নীতিশ চাঙমা
১৯৭. সুশান্ত চাঙমা
১৯৮. তৃপ্তি শংকর চাঙমা
১৯৯. মধুমঙ্গল চাঙমা
২০০. প্রণয়ন খীসা
২০১. পুলক রায়
২০২. সুদত্ত চাঙমা
২০৩. চাঙমা জুম্মবি খীসা
২০৪. ফেলাযিয়্যা চাঙমা
২০৫. ননুমণি চাঙমা
২০৬. চিত্রমোহন চাঙমা
২০৭. অমর কান্তি চাঙমা
২০৮. দীপ্তিময় তঞ্চঙ্গ্যা
২০৯. ভবন্ত চাঙমা
২১০. সোনা কান্তি দেওয়ান
২১১. নিমাই চাঙমা
২১২. আলপনা চাঙমা
২১৩. সুনীল কান্তি চাঙমা
২১৪. অভয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা
২১৫. ধন কুমার চাঙমা
২১৬. ফদাংতাং চাঙমা
২১৭. নুদিবানা চাঙমা
২১৮. মায়া সোনা চাঙমা
২১৯. অরুণ চাঙমা
২২০. মধুমঙ্গল চাঙমা

তথ্য: নন্দলাল শর্মা

চাঙমা সাহিত্যের বিকাশ : গৈরিকা থেকে আশির দশকের সাহিত্য-প্রকাশনা আন্দোলন - ইনজেব চাঙমা

চাঙমা বা চাকমা সাহিত্যের ইতিহাস মূলত একটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, লোকস্মৃতি ও আত্মপরিচয় রক্ষার ইতিহাস। এই সাহিত্যধারার শিকড় প্রোথিত রয়েছে লোকগাথা, গেংখুলি, পালাগান, লোককথা, ছড়া ও মৌখিক ঐতিহ্যের গভীরে। তবে আধুনিক মুদ্রিত সাহিত্যচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে রাঙামাটির চাকমা রাজবাড়ি থেকে প্রকাশিত ‘গৈরিকা’ পত্রিকা একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
    তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল-মে মাসে, ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখে ‘গৈরিকা’র প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। রাণী বিনীতা রায়ের উদ্যোগে প্রকাশিত এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন প্রভাত কুমার দেওয়ান। পরবর্তী সময়ে অরুণ রায়ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। ‘গৈরিকা’র মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি সুসংগঠিত সাহিত্যিক পরিসর তৈরি হয়। চাকমা ভাষার কবিতা ও সাহিত্যও ক্রমে মুদ্রিত রূপ পেতে শুরু করে।
    এই ধারার উত্তরসূরি হিসেবে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে চাঙমা ভাষা ও সাহিত্যে যে বিপুলসংখ্যক সংকলন, সাময়িকী ও গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, তা আজকের চাঙমা সাহিত্যচর্চার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
১. সত্তরের দশকের সূচনা ও প্রকাশনা
‘লুরা’ (১৯৭২), সম্পাদক: দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, মুড়ল্যা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী প্রকাশনায় ছিল— বাংলা কত্তা (অংশ) ও মুড়ল্যা কত্তা (অংশ) গল্প- দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা ও অমূল্য রঞ্জন চাঙমা। কবিতা- সুপপিরঅ বরুং ও বসনা চাকমা। 
‘ফুরামোন’ (বৈশাখী পূর্ণিমা, ১৯৭২) সম্পাদক: দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, মুড়ল্যা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল উবাগীত, চাঙমা ছড়া, আহ্নোনাগা- ‘সাবেরং নাং তার’ গল্প, হঅর চন্দ্র চাঙমার গীত এবং দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমার কবিতা।
‘জুনি’ (১ জুন ১৯৭২) সম্পাদক: নন্দিতা চাঙমা ও শিবানি দেওয়ান, জুভাপ্রদ মহিলা সংসদ কর্তৃত প্রকাশিত। ‘পহ্’র ওইয়্যে’ কনিকা চাঙমা , লেখক- ‘কৃষ্ণকিশোর চাঙমা’ ও  ছন্দা তালুকদার। 
‘সাঙু’ (১ নভেম্বর ১৯৭২) সম্পাদক: রমণী মোহন চাকমা, জুভাপ্রদ কর্তৃত প্রকাশিত।  রচয়িতাদের মধ্যে ছিলেন-  উদয় শংকর দেওয়ান, সত্যবীর, ননাধন চাঙমা এবং ছন্দা তালুকদার।
২. ১৯৭৩-১৯৭৫ : ভাষা, গান ও ইতিহাসচর্চা
‘চাঙমা গান’ (১৯৭৩) সম্পাদক: রঞ্জিৎ দেওয়ান ও ঝর্ণা চাঙমা জুভাপ্রদকর্তৃত প্রকাশিত। অংশগ্রহণকারী- রঞ্জিৎ দেওয়ান, বি. খীসা ও ননাধন চাঙমা।
‘চিজি বই’ (১৯৭৩) জুভাপ্রদ কর্তৃত প্রকাশিত। লেখক-ননাধন চাঙমা। ‘বারগি’ (১২ মে ১৯৭৩) জুভাপ্রদ কর্তৃত প্রকাশিত। গল্প- চম্পা দেওয়ান , ‘চাঙমা ইন বার্মা ছাড়িবার ইতিহাস’ - ননাধন চাঙমা, ‘এঝ ভেইল্যা’ - বিক্রমাদিত্য তঞ্চঙ্গ্যা ‘আফ্রিকা কঙ্গো’ - উদয় শংকর দেওয়ান। 
‘চাঙমা বাংলা কধাতারা’ (১৯৭৩) সম্পাদক: ননাধন চাঙমা জুভাপ্রদ কর্তৃত প্রকাশিত।  ‘শিঙ্গা’ (১৯৭৪) সম্পাদক: বিনয় শংকর চাঙমা, পাহাড়ী ছাত্র সমিতি সাংস্কৃতিক বিভাগ “গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠী” কর্তৃক প্রকাশিত। কবিতা লিখেছেন- ননাধন চাঙমা, দেবজ্যোতি চাঙমা, রমণী মোহন চাঙমা, সমর কান্তি চাঙমা, ভগদত্ত খীসা, বিনয় শংকর চাঙমা ও রঞ্জিত দেওয়ান।
    ‘রাঞ্জুনি’ (২২ জানুয়ারি ১৯৭৪) সম্পাদক: ননাধন চাঙমা, দেবী প্রসাদ, উদয় শংকর দেওয়ান, সুকুমার আ ও কনিকা, জুভাপ্রদ কর্তক প্রকাশিত।  ‘চাঙমা ভাষায় ইতিবৃত্ত’ (১৯৭৪) লেখক- ননাধন চাঙমা জুভাপ্রদ কর্তক প্রকাশিত।  ‘চাঙমা ভাষায় ধ্বনিতত্ত্ব’ (১৯৭৪) লেখক- ননাধন চাঙমা। ‘পালি, প্রাকৃত, মায়াং ও চাকমা’ লেখক- ননাধন চাঙমা। এ গ্রন্থে পালি, প্রাকৃত, মায়াং ও চাকমা ভাষার তুলনামূলক আলোচনা করা হয়।
‘ওয়া’ (১৯৭২, আষাঢ়ী পূর্ণিমাÑ সম্পাদক: সাহানা দেওয়ান, মুড়ল্যা ও জাগরণী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্তক প্রকাশিত।  চাঙমা কবিতা লিখেছেন সুপ্রিয় বরুং ও শাখনামা। ‘গোজেন লামা’ (জুলাই ১৯৭৫) সম্পাদনা- ননাধন চাঙমা শ্যামা প্রসাদ।  জুভাপ্রদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক সংসদ কর্তক প্রকাশিত। 
৩. ১৯৭৬-১৯৭৯ : কবিতা, গান ও তরুণ সাহিত্যিকদের উত্থান
‘বিজুগুলো’ ( ১৯৭৬) ধরন কবিতা সংকলনসম্পাদক- সুদত্ত খীসা জুভাপ্রদ কর্তক প্রকাশিত। ‘ছদক’ (জুলাই ১৯৭৬) সম্পাদক: সুহৃদ চাঙমা, জুভাপ্রদ ধরন: কবিতা সংকলন ‘ থেঝেরা’ (১৯৭৬) সম্পাদক: অমিতাভ চাঙমা, জুভাপ্রদ ।  ‘আহ্ওঝর চাঙমা গান’ (ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭)।সম্পাদক: সুগত চাঙমা সংগঠন: জুভাপ্রদ। অংশগ্রহণকারী- ননাধন চাঙমা, মণি সপন দেওয়ান, অমর শান্তি চাঙমা, রঞ্জিত দেওয়ান ও রমণী মোহন।
‘গেংখুলি’ (১৯৭৭) সম্পাদক: সুহৃদ চাঙমা ও ধুঙ্যা চাঙমা। অংশগ্রহণকারী- 
ননাধন চাঙমা, সত্যজিত চাঙমা, নির্মল চাঙমা, চুণীলাল দেওয়ান, সলিল রায়, ধুঙ্যা চাঙমা, মাধবিকা, কর্ণ, ধনঞ্জয়, মুকুন্দ, তিক্, দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, পরমানন্দ বিকাশ দেওয়ান, সদক ও গুংগু।
    ‘চাঙমা গান’ (জুন ১৯৭৭) সম্পাদক: সুগত চাঙমা জুভাপ্রদ কর্তক প্রশাশিত। অংশগ্রহণকারী- দেব, রঞ্জিত, ননাধন, রমণী মোহন, অমর শান্তি, ফণীন্দ্র, সুশান্ত, জনি রায় ও রিপন। ‘কথোপকথন’ (১৯৭৭) সম্পাদক: অংচহ্লা ও ননাধন জুভাপ্রদ কর্তক প্রকাশিত। বাংলা বাক্যের চাঙমা ও মারমা অনুবাদ নিয়ে প্রকাশনা।
‘চিজির গান (নভেম্বর ১৯৭৭) সম্পাদক: সুগত চাঙমা। অংশগ্রহণকারী- সলিল রায়, ননাধন, রঞ্জিত ও ভগদত্ত খীসা। ‘রঙগীত’ (১৯৭৭) অংশগ্রহণকারী- ননাধন, সুশান্ত, ননুমণি, রমণী মোহন, রঞ্জিত, ফণীন্দ্র ও জনি রায়।
৪. ১৯৭৮ : বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চার উত্থান
‘চাঙমা গান’ (জানুয়ারি ১৯৭৮) সম্পাদক: সুগত ও দেবী প্রসাদ দেওয়ান। অংশগ্রহণকারী- ননাধন, অমর কান্তি, চিত্রমোহন, রঞ্জিত দেওয়ান, দেব, ফণীন্দ্র, রমণী মোহন, সুশান্ত, জুনি রায়, ননুমণি, রিপন, সলিল রায় ও ভগদত্ত খীসা।
‘পাদারঙর কোচপানা’ (১৯৭৮) দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা। জুভাপ্রদ কর্তৃক প্রকাশিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমার চাঙমা কবিতা সংকলন এবং সুগত চাঙমার ‘সবুজাভ ভালোবাসা’র অনুবাদ এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘রংধং’ (১৯৭৯) সুগত চাঙমার ২৪টি চাঙমা কবিতা নিয়ে সংকলন।
৫. বনফুল প্রকাশনা কমিটি (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) কর্তক প্রকাশিত  ‘বনফুল’ (সেপ্টেম্বর ১৯৭৮) সম্পাদক: সুহৃদ চাঙমা। চাঙমা গান ও কবিতা রচনায় অংশ নেন-  নবরশ্মি চাঙমা, রিপম দেওয়ান, জুনো সদক চাঙমা, নির্মল চাঙমা, জ্ঞানের আলো চাঙমা, প্রান্তিকা চাঙমা, ঠাকুর বিমল মোমেন চাঙমা ও পরমানন্দ বিকাশ দেওয়ান।
৬. মুড়াল্যা লিটারেচার গ্রুপ (আলবেরুনী হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) এই সংগঠনটি তিনটি বিজু সংকলনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা বের করে। ‘ক’জলি’ (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮) সম্পাদক- সুসময় চাঙমা ও সজীব চাঙমা। কবিতা- মানসজ্যোতি চাঙমা, সুব্রত চাঙমা ও নিবারণ চন্দ্র দেওয়ান।
‘বিজু’ (এপ্রিল ১৯৭৯) সম্পাদক- সুসময় চাঙমা। কবিতা- চন্দনা চাঙমা, সৃজনী, দেবাশীষ রায়, ইন্দ্রনীল, তপেন্দু বিকাশ চাঙমা, মনোরঞ্জন চাঙমা, শ্রীমঙ্গল চাঙমা ও চাঙমা কল্পতরু।
‘বিজু’ (এপ্রিল ১৯৮০) সম্পাদক- সুসময় চাঙমা। প্রবন্ধ: অ্যানথ্রোপলজি- সুহৃদ চাঙমা; চাঙমা কধা গাছছাড়া- সুসময় চাঙমা। অনুগল্প: রাঙা বিজুর ফুল গাছ’- অনু খীসা। ছড়া- সুসময় চাঙমা, সঞ্চয় চাঙমা, পান্থ, শিশির কান্তি চাঙমা, ফেলাযিয়্যা চাঙমা, পরিমল চাঙমা, রাস্কীন চাঙমা, সুদত্ত খীসা, ইন্দ্রনীল ও ননাধন।
‘রাধামন-ধনপুদি’ ( প্রথম খণ্ড, জুন ১৯৮০) সম্পাদক- সুগত চাঙমা ও সুসময় চাঙমা। ‘রেঙ’ (সেপ্টেম্বর ১৯৮০) সম্পাদক- সুসময় চাঙমা।
কবিতা লিখেছেন- সুহৃদ চাঙমা, গৌতম চাঙমা, রিকু চাঙমা, শিশির কান্তি চাঙমা, মৃত্তিকা চাঙমা, বিমল মমেন চাঙমা, সত্যজিত চাঙমা, মনোরঞ্জন চাঙমা, সঞ্চয় চাঙমা, শ্যামল কান্তি তালুকদার, তরুণ কুমার চাঙমা, দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, প্রভাত চাঙমা, নানধন চাঙমা, সুসময় চাঙমা ও প্রীতি কুসুম চাঙমা।
‘বিজু’ (এপ্রিল ১৯৮১) সম্পাদক- সুসময় চাঙমা।
কবিতা- দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, ননাধন চাঙমা, মনোরঞ্জন চাঙমা, সুসময় চাঙমা, দীপ্তিময় তালুকদার, কংকনা চাঙমা, কবিতা চাঙমা, সুহৃদ চাঙমা, আর্য্যমিত্র চাঙমা, সঞ্চয় চাঙমা, শিশির কান্তি চাঙমা, রিনোধ বিহারি চাঙমা, নির্মল চাঙমা, বাজুধন চাঙমা, মানস মুকুর চাঙমা, মৃত্তিকা চাঙমা, কনকচাপা চাঙমা, জুনি, মঙ্গল কুমার চাঙমা, দীপেন দেওয়ান ও পুষ্পিতা খীসা। এই সংকলনে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা ‘রাধামন-ধনপুদি’ গ্রন্থের সমালোচনাও করেন।
৭. হিল্লো সাহিত্য সংসদ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ‘বিজুফুল’ (এপ্রিল ১৯৮১) সম্পাদক- মৃত্তিকা চাঙমা ও মঙ্গল কুমার চাঙমা। গদ্য: নিঝিরেদ কজমা ‘সবনর নাতদি মরনা’- সুহৃদ চাঙমা। কবিতা- মধুমিতা চাঙমা, মৃত্তিকা চাঙমা, হীরালাল চাঙমা, শিশির কান্তি চাঙমা, ননাধন চাঙমা, নিকুঞ্জ চাঙমা, সতিময় চাঙমা, মনোরঞ্জন চাঙমা ও অনাথ স্মৃতি চাঙমা।
‘বিজুফুল’ (এপ্রিল ১৯৮২) সম্পাদক- স্মৃতেন্দু চাঙমা। কবিতা- অমলেন্দু চাঙমা, অনাথ স্মৃতি চাঙমা, শ্যামল কুমার চাঙমা, শান্তিময় চাঙমা, মানস কুমার চাঙমা, ঝিমিত ঝিমিত চাঙমা, মৃত্তিকা চাঙমা ও স্মৃতেন্দু বিকাশ চাঙমা।
‘বিজুফুল’ (এপ্রিল ১৯৮৩) সম্পাদক- মানস মুকুর চাঙমা। গল্প-মৃত্তিকা চাঙমা ও মানস মুকুর চাঙমা। কবিতা- ভগদত্ত খীসা, মঙ্গল চাঙমা, বীর কুমার চাঙমা, ননাধন চাঙমা, মানস কুসুম চাঙমা, শিশির চাঙমা, বড়তোষ চাঙমা, লাল প্রেম চাঙমা, প্রীতিকুসুম চাঙমা ও তরুণ কুমার চাঙমা।
৮. রাঙ্গামাটি এস্থেটিকস কাউন্সিল: রাঙামাটি থেকে প্রকাশিত এই ধারাটি পরবর্তীকালে জুম এস্থেটিকস কাউন্সিল (জাক) নামে পরিচিত হয়।
‘রাধামন-ধনপুদি’ (দ্বিতীয় খণ্ড, ১৯৮১) সম্পাদক- চিরজ্যোতি চাঙমা।
‘সত্রং’ (এপ্রিল ১৯৮২) সম্পাদক- শ্যামল কুমার চাঙমা। গল্প ও প্রবন্ধে ছিলেন- মূল শোভা রাণী ত্রিপুরা, মানস মুকুর চাঙমা, জুম্মবি চাঙমা, ভাগ্যচন্দ্র চাঙমা, সুগত চাঙমা ও রাজা দেবাশীষ রায়। কবিতা- পরিমল চাঙমা, রঞ্জিত চাঙমা, প্রণয়ন খীসা, পুলক রায়, সুদত্ত চাঙমা, বিমল মমেন চাঙমা, প্রভাত চাঙমা, মনোরঞ্জন চাঙমা, সহেলী চাঙমা, সুসময় চাঙমা, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বীর কুমার চাঙমা, জ্যোতি গজাল, শিশির চাঙমা, সুহৃদ চাঙমা ও সুপ্রিয় তালুকদার।
‘ইরুক’ (১৯৮২) সম্পাদক- দীপেন দেওয়ান ও কৃষ্ণ চাঙমা। প্রবন্ধ- রাস্কীন চাঙমা, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও আর্য্যমিত্র চাঙমা। গল্প- বিমল মোমেন চাঙমা।
কবিতা- ননাধন চাঙমা, শিশির চাঙমা, মৃত্তিকা চাঙমা, জিনি চাঙমা, লালন চাঙমা, মানস মুকুর চাঙমা, বীর কুমার চাঙমা, গ গুলি ও দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা।
‘পাত্তলী’ (১৯৮৩) সম্পাদক- লালন চাঙমা ও বীর কুমার চাঙমা। ‘হিয়াংসিক’ (১৩ এপ্রিল ১৯৮৪) সম্পাদক- লালন চাঙমা। গল্প- অচেনা চাঙমা ও মানস মুকুর চাঙমা। প্রবন্ধ- মঙ্গল কুমার চাঙমা। কবিতা- ননাধন চাঙমা, সুহৃদ চাঙমা, বীর কুমার চাঙমা, চাঙমা শান্তিময়, যশেশ্বর চাঙমা, মিশন চাঙমা, চন্দন চাঙমা, লালন চাঙমা, হীরালাল চাঙমা, মৃগনাথ চাঙমা, শ্যামল তালুকদার ও ফেলাযিয়্যা চাঙমা।
‘সাঙেত’ (আগস্ট ১৯৮৪) সম্পাদক- চন্দন চাঙমা ও হরিকিশোর চাঙমা। গল্প- মানস মুকুর চাঙমা ও হরিকিশোর চাঙমা। কবিতা- পুষ্পিতা খীসা, মঙ্গল চাঙমা, তরুণ কুমার চাঙমা, গিরি বিজয় চাঙমা, ধন বিকাশ চাঙমা, নয়ন জ্যোতি চাঙমা ও নিহার বিন্দু চাঙমা।
‘রদঙ’ (১৯৮৫)  সম্পাদক: যশেশ্বর চাঙমা। গল্প- মানস মুকুর চাঙমা।
কবিতা- চাঙমা জুম্মবি খীসা, বীর কুমার চাঙমা ও সুহৃদ চাঙমা।
‘ইধরেগা’ (১৯৮৬) সম্পাদক-  নির্মলেন্দু চাঙমা ও সুখেশ্বর চাঙমা। গল্প- নির্মলেন্দু চাঙমা। কবিতা- সজীব চাঙমা, নিমাই চাঙমা, কনক শর্মা ও সুখেশ্বর চাঙমা।
‘এক ঝাক বিজোল রোদ’ (১৯৮৬)  সম্পাদক- ঝিমিত ঝিমিত চাঙমা। প্রবন্ধ- কৃষ্ণচন্দ্র চাঙমা ও ঝিমিত ঝিমিত চাঙমা। কবিতা- মৃত্তিকা চাঙমা, বীর কুমার চাঙমা, দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা ও চন্দনা চাঙমা। গান- রঞ্জিত দেওয়ান।
গীতিনাট্য ‘রাধামন-ধনপুদি’- লালন চাঙমা।
‘কবরক জুম আঙিযায় অইলুম’ (১৯৮৭) কবিতা- মৃত্তিকা চাঙমা ও নির্মল চাঙমা।
‘কজ’ ফুল’ (২২ জুন ১৯৮৭) সভাপতি/সম্পাদক: জ্ঞানদীপ্ত চাঙমা। ছড়া- সুখেশ্বর চাঙমা, নির্মলেন্দু চাঙমা, জ্ঞানদীপ্ত চাঙমা, সি.পি. রায়, অজান্তা চাঙমা, ভগদত্ত খীসা, জ্ঞানানন্দ শ্রমণ, খগেন্দ্র চাঙমা, জয়মণি চাঙমা, তরুণ চাঙমা, সুজাতা চাঙমা, সুজিত চাঙমা ও পুলক চাঙমা।
৯. ইরুক প্রকাশনী (রাঙামাটি): ‘ইরুক’ (সেপ্টেম্বর ১৯৮১) সম্পাদক-  সুহৃদ চাঙমা, রাস্কীন চাঙমা ও মৃত্তিকা চাঙমা। কবিতা- মৃত্তিকা চাঙমা, মিশন চাঙমা, শিশির চাঙমা, প্রীতি কুসুম চাঙমা, কৃষ্ণ চাঙমা, সত্যজিত চাঙমা, পুষ্পিতা খীসা, সুহৃদ চাঙমা, সঞ্চয় চাঙমা, রাস্কীন চাঙমা ও কনকচাপা চাঙমা।
‘ইরুক’ (ডিসেম্বর ১৯৮১) সম্পাদক- সুহৃদ চাঙমা ও মৃত্তিকা চাঙমা। গল্প ও প্রবন্ধ- প্রীতি কুসুম চাঙমা, রাস্কীন চাঙমা, লুনা চাঙমা ও মানস মুকুর চাঙমা।
কবিতা- রাজা দেবাশীষ রায়, কনকচাপা চাঙমা, শ্যামল কান্তি তালুকদার, মৃত্তিকা চাঙমা, মিশন চাঙমা, নির্মল চাঙমা, পুষ্পিতা খীসা, কৃষ্ণ চাঙমা, শিশির চাঙমা, দীপ্তিময় তঞ্চঙ্গ্যা ও ভবন্ত চাঙমা।
১০. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা- 
‘সত্রং’ (১৯৮২) হিল্লো লিটারেচার গ্রুপ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) সম্পাদকমণ্ডলী- চিরজ্যোতি চাঙমা, মানস মুকুল চাঙমা, শ্যামল চাঙমা, বজেন্দু চাঙমা, শুভ্রা চাঙমা ও মঙ্গল কুমার চাঙমা।
‘চাঙমা আগপুদি’ (১৯৮২) প্রকাশনা- চাকমা ভাষায় প্রকাশনা পরিষদ। সম্পাদক-  চিরজ্যোতি চাঙমা ও মঙ্গল চাঙমা।
‘জুম’ (এপ্রিল ১৯৮৩)  প্রকাশনা: জুম প্রকাশনা (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)
গল্প- অভয় চাঙমা।]কবিতা- সুহৃদ চাঙমা, সুসময় চাঙমা, হরেন্দ্র চাঙমা ও অনুপম চাঙমা।
‘কজমাপাদা’ (এপ্রিল ১৯৮৩) প্রকাশনা: আরুক, রাঙামাটি।
কবিতা- তুষিতা চাঙমা, কেতন চাঙমা, রতন চাঙমা, প্রবীন খীসা, হিমাদ্রী রায়, মিলন চাঙমা, প্রমেশ চাঙমা, সুজিত বিকাশ চাঙমা, প্রীতম রায় ও যশেশ্বর চাঙমা।
‘চাকমা পরিচিতি’ (১৯৮৩) প্রকাশক: বরগাঙ পাবলিকেশন্স, রাঙামাটি। লেখক- সুগত চাঙমা।
‘চম্পক’ (এপ্রিল ১৯৮৪) প্রকাশক: চম্পক পাবলিকেশন্স। সম্পাদক: বীর কুমার চাঙমা, সঞ্চয় চাঙমা ও প্রতিম রায়। কবিতা- প্রদীপ চাঙমা, তুষিতা চাঙমা, জ্যোৎস্না বিকাশ চাঙমা, প্রতিম রায়, বীর কুমার চাঙমা, যশেশ্বর চাঙমা, সঞ্চয় চাঙমা, রাজরতন চাঙমা ও বড়তোষ চাঙমা।
১১. ছাত্র সংগঠনগুলোর সাহিত্যচর্চা       
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা ট্রাইবেল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন
প্রকাশনা-    
ফদাংতাং’ (১৯৮৩), কাবিদ্যাঙ- দীপেন চাঙমা।
‘লাড়েই’ (এপ্রিল ১৯৮৪), প্রবন্ধ- জুনো সদক চাঙমা। গল্প- রাস্কীন চাঙমা।  কবিতা- ননাধন চাঙমা, ফেলাযিয়্যা চাঙমা, কবিতা চাঙমা, সুসময় চাঙমা, লালন চাঙমা, নুদিবানা চাঙমা, উর্মি চাঙমা, অনিল বিকাশ চাঙমা, অন্তরা চাঙমা, সজীব চাঙমা, অনুপম চাঙমা, চাঙমা সীমা দেওয়ান ও চাঙমা উৎপল দেওয়ান।   ফদাংতাং’ (জুন ১৯৮৪), গল্প- কনকচাপা চাঙমা। কবিতা- ফেলাযিয়্যা চাঙমা, অভয় চাঙমা, লালন চাঙমা, হরিন্দ্র সিং, অনুপম চাঙমা, নন্দীতা খীসা ও উৎপল দেওয়ান।
‘জধু’ (এপ্রিল ১৯৮৫) গল্প- অভয় চাঙমা। কবিতা- দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, ফেলাযিয়্যা চাঙমা, কবিতা চাঙমা, কনকচাপা চাঙমা ও অনুপম চাঙমা।
১২. রাঙামাটি ট্রাইবেল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন
‘কোচপানা’ (১৯৮৪), সম্পাদক: প্রতিম রায়।
‘পাজন’ (১৯৮৫), সম্পাদক: মিশন চাঙমা ও প্রতিম রায়। কবিতা- চাঙমা সতীশ শংকর, নিমাই চাঙমা, আলপনা চাঙমা, সুনীল কান্তি চাঙমা, অভয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, ধন কুমার চাঙমা ও তুষার কান্তি চাঙমা।
ঞযব ঠড়রপব জধঃংঁ (১৯৮৬) সম্পাদক: অরুণ জ্যোতি চাঙমা। কবিতা- অনুশ্রী দেওয়ান, অসিত বরণ চাঙমা ও অনুপম চাঙমা।
১৩. বৌদ্ধ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রকাশনা
‘বিশ্বজ্যোতি’ (১৯৮৪), সংগঠন: বৌদ্ধ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ। সম্পাদক: সঞ্চয় চাঙমা ও অরুণ চাঙমা। কবিতা- সুরেশ চন্দ্র চাঙমা ও প্রতাপ চাঙমা।
‘স্বত্তিকা’ সংগঠন: সেন্টার ফর পাবলিকেশন অব বুদ্ধিজম। প্রথম সংখ্যা- সম্পাদক রেভা. ধর্মালংকার। কবিতা- সুমনান্দ শ্রমণ, ইতি চাঙমা, সুবর্ণা চাঙমা, পুষ্পিতা খীসা, সীমা খীসা ও ইউজিন খীসা।
দ্বিতীয় সংখ্যায়- চিত্তরঞ্জন চাঙমা ও দীপেন দেওয়ান।
তৃতীয় সংখ্যায়- বিনয় শংকর চাঙমা।
‘মৈত্রী বাণী’ প্রকাশক: পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ, ঢাকা। তিনটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। পর্যায়ক্রমে সম্পাদনা করেন সুসময় চাঙমা, বিমলতিষ্য ভিক্ষু ও ডা. নিহার কুমার চাঙমা। প্রথম সংখ্যায় মৃত্তিকা চাঙমা ও সুসময় চাঙমার কবিতা প্রকাশিত হয়।
১৪. কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রকাশনা
চাঙমা সাহিত্যের বিস্তারে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ময়মনসিংহ প্রবাসী পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্রছাত্রীবৃন্দ
‘রানজুনি’ (এপ্রিল ১৯৭৭), সম্পাদক- সুমেধ কুমার দেওয়ান। কবিতা- সুমেধ কুমার দেওয়ান, চন্দনা চাঙমা, ড. মানিক লাল দেওয়ান, মলিনা চাঙমা, মোহন চাঙমা, বিকাশ দেওয়ান, ইন্দুলাল চাঙমা, সীমা দেওয়ান ও পল দেওয়ান।
রাঙামাটি সরকারি কলেজ- 
‘পাজন’ (১৯৮৩), সম্পাদক- যশেশ্বর চাঙমা। প্রবন্ধ- সতীশ শংকর চাঙমা। গল্প- খোকন চাঙমা, বরুণ কান্তি তালুকদার ও ইপদেব খীসা। কবিতা- তৃপ্তি শংকর চাঙমা, স্মৃতিকণা চাঙমা, বিনয় চাঙমা, জিতেন্দ্র চাঙমা, যশেশ্বর চাঙমা, জটিল চাঙমা, জ্ঞান বিকাশ চাঙমা ও রতন চাঙমা।
‘পাজন’ (১৯৮৪), সম্পাদক- অবিনাশ চাঙমা। গল্প- নমিতা দেওয়ান ও যশেশ্বর চাঙমা। কবিতা- প্রদীপ চাঙমা, মিথিলা চাঙমা, জগৎ চাঙমা, দেবাশীষ খীসা, অবিনাশ চাঙমা, সন্তোষ জীবন চাঙমা, বিজন দেওয়ান, অচিন্ত্য চাঙমা, সিনথিনা চাঙমা, খোকন চাঙমা, নীতিশ চাঙমা ও সুশান্ত চাঙমা।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ- 
‘রানজুনি’ (১৯৮৩), সম্পাদক- শুভাশীষ চাঙমা। কবিতা- অনিল বিকাশ চাঙমা, তুষার কান্তি দেওয়ান, অঞ্জন চাঙমা, তপন কান্তি দেওয়ান, বীরভদ্র চাঙমা, জওহর লাল চাঙমা, রুদ্র প্রতাপ ও মোহন চাঙমা।
১৫. ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকাশনা- 
তরুণ কুমার চাঙমা ঠিকানা: খারিক্ষ্যং বনানী পাঠাগার, বন্দুভাঙা। চাঙমা গানের একটি বই প্রকাশ করেন, যাতে ১৮টি গান ছিল। ১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত।
শ্রীকৃষ্ণ চাঙমা-
‘আরুক’ (১৯৮২, বিজয় দিবস) পাঁচ বছর ধরে পাঁচ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগের উল্লেখ রয়েছে। প্রবন্ধ- রাজ কুমার চাঙমা। কবিতা- বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, প্রতিম রায় ও তুষিকা চাঙমা।
‘আরুক’ (১৯৮৩, বিজু), গল্প/প্রবন্ধ- বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও সোনা কান্তি দেওয়ান। কবিতা- ধবল কিরণ চাঙমা, সুরভি কুসুম চাঙমা, ননাধন চাঙমা, জ্যোতিরিন্দ্র চাঙমা, রাজ কুমার চাঙমা, সুহৃদ চাঙমা, দীপেন দেওয়ান ও প্রবর্তন চাঙমা।
‘আরুক’ (১৯৮৪, বিজু), প্রবন্ধ- যামিনী রঞ্জন চাঙমা ও রমণী মোহন চাঙমা।
কবিতা- মৃত্তিকা চাঙমা, মিঠু চাঙমা, প্রতিম রায়, জটিল বিহারী চাঙমা, বড়তোষ চাঙমা, রঞ্জিত চাঙমা, সুসময় চাঙমা, বাবু দেওয়ান চাঙমা, নিরু বিকাশ চাঙমা, পুষ্পিতা খীসা ও প্রমেন্দ্রিয় চাঙমা।
১৬. চাঙমা নাটকের বিকাশ
সাহিত্যের পাশাপাশি নাটকও চাঙমা সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়।
নাট্যকার                    নাটকের নাম                          মঞ্চায়ন
ননাধন চাঙমা         ধেঙা বৈদ্য                                  ১৯৭৮
ননাধন চাঙমা        নীল মোন’ সবন                          ১৯৭৯
ভগদত্ত খীসা        অয় নয় বৈদ্য                                   ১৯৮২
চিরজ্যোতি চাঙমা       আনাত ভাজি উদে কা মু             ১৯৮৩
শান্তিময় চাঙমা        যে দিনত যে কাল                      ১৯৮৪
শান্তিময় চাঙমা           বিজু রামর স্বর্গত যানা              ১৯৮৫
শান্তিময় চাঙমা           আন্ধারত জুনি পহ্’র                      ১৯৮৬
মোঃ আরাফান আলী      পরাণ দান                       ১৯৮৭   
    এসব নাট্যচর্চা প্রমাণ করে, চাঙমা সাহিত্য কেবল মুদ্রিত বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি মঞ্চ, সংগীত, অভিনয় ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত ছিল।
    চাঙমা সাহিত্যের ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি ধারাবাহিক বিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গৈরিকা থেকে শুরু হওয়া মুদ্রিত সাহিত্যচর্চা পরবর্তী সময়ে নানা সাময়িকী, সাহিত্যসংকলন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ছাত্রসমাজের প্রকাশনার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়। ১৯৭০-এর দশকে এই আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং ১৯৮০-এর দশকে এসে তা এক বহুমাত্রিক সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলনে রূপ নেয়।
    এই সময়ে কবিতা যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি গল্প, প্রবন্ধ, ভাষাতত্ত্ব, ইতিহাস, লোকসাহিত্য, গান, অনুবাদ, সাক্ষাৎকার, সাহিত্যসমালোচনা ও নাটকও চাঙমা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
    সুহৃদ চাঙমা, সুগত চাঙমা, ননাধন চাঙমা, দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, মৃত্তিকা চাঙমা, বীর কুমার চাঙমা, বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, মানস মুকুর চাঙমা, সুসময় চাঙমা, রঞ্জিত দেওয়ান, রমণী মোহন চাঙমা, লালন চাঙমা, পুষ্পিতা খীসা, ভগদত্ত খীসা, চিরজ্যোতি চাঙমা, যশেশ্বর চাঙমা, মঙ্গল কুমার চাঙমা, কনকচাপা চাঙমা, সঞ্চয় চাঙমা, রাস্কীন চাঙমা, প্রীতি কুসুম চাঙমা, শ্যামল কুমার চাঙমা, দীপেন দেওয়ানসহ অসংখ্য কবি-লেখকের সম্মিলিত প্রয়াসে এই সাহিত্যধারা বিকশিত হয়েছে।
    অতএব, চাঙমা সাহিত্য কোনো একক ব্যক্তি, একক সংগঠন বা একটি নির্দিষ্ট গ্রন্থের সৃষ্টি নয়; এটি কয়েক প্রজন্মের লেখক, কবি, সম্পাদক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রকাশকদের সম্মিলিত সাধনার ফসল। আর সেই দীর্ঘ যাত্রার আধুনিক মুদ্রিত ইতিহাসে ১৯৩৬ সালের ‘গৈরিকা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনাবিন্দু, যার পরবর্তী উত্তরাধিকার বহন করে সত্তর ও আশির দশকের অসংখ্য সাহিত্যসংকলন চাঙমা সাহিত্যকে একটি স্বতন্ত্র লিখিত সাহিত্যধারায় প্রতিষ্ঠিত করার পথ তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র 

নন্দলাল শর্মা, গিরি দর্পন
বাংলাপিডিয়া, 
হিলবিড২৪, ‘গৈরিকা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম পত্রিকা’ 
যুগান্তর, ‘বৈচিত্র্যের সাহিত্যে উর্বর রাঙামাটি’ 
জুম জার্নাল, ‘চাকমা জাতির ইতিহাস চর্চা’ 
সুগত চাকমা, বাংলাদেশের চাকমা ভাষা ও সাহিত্য, রাঙামাটি: ২০০২ 

আশাধন চাকমা: পাহাড়, মানুষ ও জীবনের কথক এক নিভৃতচারী কবি - ইনজেব চাঙমা

        পার্বত্য চট্টগ্রামের সমকালীন সাহিত্যভুবনে আশাধন চাকমা একজন তরুণ কবি , লেখক , অনুবাদক ও শিক্ষক। পাহাড়ের প্রকৃতি , জুমচাষি...