পোস্টগুলি

প্রমোদ বিকাশ কার্বারি: পাহাড়ের বহুমুখী প্রতিভার এক দীপ্তিমান নাম - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ পথরেখায় যে কজন মানুষ তাঁদের মেধা, মনন, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার আলো দিয়ে স্বতন্ত্র এক পরিসর নির্মাণ করেছেন, প্রমোদ বিকাশ কার্বারি  (ফেলাজেয়্যা) তাঁদের অন্যতম। পাহাড়ের মানুষের কাছে তিনি অধিক পরিচিত পি. বি. কার্বারি নামে। শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, কবি, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবী, এক জীবনের ভেতর এতগুলো পরিচয়কে ধারণ করা সহজ নয়। অথচ প্রমোদ বিকাশ কার্বারির জীবন যেন সেই বহুমাত্রিকতারই এক দীর্ঘ ও দীপ্তিমান পাঠ।  তাঁর জীবনের বৃহৎ অংশ কেটেছে শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যসাধনায়। শ্রেণিকক্ষে তিনি জ্ঞানের আলো বিলিয়েছেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রে জ্ঞান ও দক্ষতার প্রসার ঘটিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগে যুক্ত থেকেছেন, আর সাহিত্যের পাতায় তুলে এনেছেন পাহাড়ের মানুষ, প্রকৃতি, জীবন, অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে। বিশেষত চাকমা ভাষায় তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যচর্চা তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্যভুবনে একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ আসন দিয়েছে। একজন মানুষের জীবনের মূল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি কী রেখে গেলেন পরবর্তী প্রজন্মে...

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন: চুক্তির বদলে নতুন কমিটি, নাকি সমাধানের নতুন পথ?

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংকটের ইতিহাস দীর্ঘ। সংঘাত, অবিশ্বাস, ভূমি ও অধিকার প্রশ্ন, প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সব মিলিয়ে পাহাড়ের সংকট বহুস্তরীয়। এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসান এবং রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের অধিকার ও স্বশাসনের প্রশ্নকে স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বরং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের নতুন তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পর সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। ১০ সেপ্টেম্বর সরকার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’ ও ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠন করে। এরপর থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন এসব কমিটির গঠন, প্রতিনিধিত্ব ও কার্যপরিধি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। প্রশ্ন তাই স্বাভাবিকভাবে...

“সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন” আসলে কী? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
আজ এই প্রশ্নটি আমার মনে খুব বেশি দোলা দিচ্ছে , “ সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন ” আসলে কী ? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সারাদেশের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও গ্রাফিতি অঙ্কনের মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয় । বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি অঙ্কনের উদ্যোগ শুরু হয় । তবে একটি বিষয় শুরুতেই বলে রাখা প্রয়োজন , পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রাফিতি অঙ্কনের চিন্তা ২০২৪ সালের পর থেকেই শুরু হয়েছিল , বিষয়টি এমন নয় । এরও আগে আমাদের সংগঠ “চাঙমা সাহিত্য একাডেমি” তখন নাম ছিল “নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ” মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছিল - বিহার, স্কুল , কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে অঝাপাত বা চাঙমা বর্ণমালা অঙ্কন করা হবে । উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মাতৃভাষা ও বর্ণমালাকে শিক্ষার্থীদের সামনে দৃশ্যমান করে তোলা । কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তখন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি । ২০২৪ সালের পর যখন সারাদেশে গ্রাফিতি অঙ্কনের একটি নতুন জোয়ার সৃষ্টি হলো , তখন মনে হলো , এবার হয়তো সবার কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে...