পোস্টগুলি

পার্বত্য চুক্তির ছায়াতলে পাহাড়ের দীর্ঘশ্বাস: মুক্তি না মুক্তিপণ? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইবে বলে স্বপ্ন দেখেছিল জুম্ম জনগণ। মনে হয়েছিল , দীর্ঘ দশকের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় শেষে এবার বুঝি ফিরবে নিজ ভূমিতে অধিকার , জুমে ফলবে সোনালি ফসল। কিন্তু স্বপ্নের আয়ু বড় ক্ষণস্থায়ী। চুক্তির কাগজের কালি শুকোতে না শুকোতেই পাহাড় দেখল এক নতুন অন্ধকার। চাকমা প্রবাদে বলে - “ এ্যারা খেইয়ে বাঘ দরে ধেই , চিত খেইয়্যা বাক লাঘত পায় ” - অর্থাৎ এক বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে না পেতেই আরও ভয়াবহ বিপদে জড়িয়ে পড়া। আজকের পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জীবনের নির্মম সত্য যেন এই প্রবাদটিই। একদিকে চুক্তি মোতাবেক বেদখল হওয়া জায়গা - জমি আজও ফেরত মেলেনি। ভূমি কমিশন কাগজে - কলমে আছে , বাস্তবে নেই। অন্যদিকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের আগুনে পুড়ছে পাহাড়। আধিপত্যের লড়াই , চাঁদাবাজি , অস্ত্রের ঝনঝনানি , আর প্রতিনিয়ত অপহরণের আতঙ্কে পাহাড়ি মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। যে চুক্তি মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল , সেই চুক্তির পরেই যেন দুর্দশা আরও নতুন করে বেড়ে গেছে। পার্ব...

সাজেকে বুক চিরে অবরোধ: একটি অধিকার প্রতিষ্ঠা যুদ্ধের দিনলিপি - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনের কথা উঠলেই অনেকে এর জন্য ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে দায়ী করেন। কিন্তু বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই বিভাজনের শিকড় চুক্তির আগের রাজনৈতিক মতপার্থক্য, বিশেষ করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও রাজনৈতিক কৌশলগত দ্বন্দ্বের মধ্যেও বিস্তৃত। ফলে জুম্ম জনগণের রাজনৈতিক বিভাজনকে কেবল পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ফল হিসেবে দেখলে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো আড়ালে থেকে যায়। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর শান্তিবাহিনীর সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি গণপরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের একটি অংশ পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সামনে রেখে ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) গঠন করে। অন্যদিকে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবেই জুম্ম রাজনীতিতে দুটি পৃথক রাজনৈতিক ধারার বিকাশ ঘটে। চুক্তির পর অস্ত্র জমা দিয়ে যখন শান্তি বা...

সাজেকের রাজনীতি: জনগণের মুক্তি, নাকি দলীয় আধিপত্য? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফের রাজনীতি দেখে আমি লজ্জিত ও হতাশ। যে রাজনীতি জুম্ম জনগণের অধিকার ও মুক্তির স্বপ্ন দেখায়, সেই রাজনীতিই যদি মানুষকে বিভক্ত করে, প্রতিপক্ষকে বিতাড়িত করতে চায় এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে সেই রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আজ ১১ অক্টোবর সাজেকে সড়ক অবরোধ ( সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা  অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু), মিছিল কিংবা সমাবেশে অংশগ্রহণ না করলে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে, এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা উদ্বেগজনক। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণকেই যদি জরিমানার ভয় দেখানো হয়, তবে সেই আন্দোলনে মানুষের স্বাধীনতার মূল্য কোথায়? অবরোধের উদ্দেশ্য যদি জেএসএসকে সাজেক থেকে বিতাড়িত করা হয়, তবে প্রশ্ন জাগে, এক দলকে সরিয়ে দিয়ে কি জুম্ম জনগণের মুক্তি আসবে? এর আগে এগত্তর পন্থীদের পক্ষ থেকেও নিজ নিজ এলাকা থেকে সংগ্রাম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দের যুগের পরও এই বিভক্ত রাজনীতি জুম্ম জনগণের ভাগ্য কতটা বদলাতে পেরেছে? বরং দলীয় বিরোধের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।...

ক্ষতবিক্ষত পাহাড়ের বুকে সাজেক: এক আর্তনাদের নাম - ইনজেব চাঙমা

ছবি
সাজেক,  শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মেঘের সমুদ্র, পাহাড়ের ঢেউ। পর্যটকের চোখে সে রাঙামাটির ছাদ, মেঘের উপত্যকা। কিন্তু যে মানুষটা সাজেকের বাঁশের মজা ঘরে রাত কাটায়, তার কাছে সাজেক কোনো ভ্রমণের গল্প নয়, সাজেক হলো শেষ আশ্রয়ের নাম। মানচিত্রে সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং ইউনিয়ন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন, ৭০২ বর্গমাইল জুড়ে তার বিস্তার। উত্তরে ত্রিপুরা, পূর্বে মিজোরাম- দুই আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারে ঘেরা এক জনপদ। পশ্চিমে দীঘিনালা, দক্ষিণে লংগদু। এই উপত্যকার বুকে তিনটি পাড়া রুইলুই, হামারি আর কংলাক। রুইলুই জেগে আছে ১৭২০ ফুট উঁচুতে, ১৮৮৫ সাল থেকে। আর কংলাক - ১৮০০ ফুট উঁচুতে, আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে। এখানে আদিকাল থেকে বাস লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা আর চাকমাদের। ২০২২ সালের গণনায় ৩১,৩৮৫ জন মানুষ। প্রতিটি মানুষেরই একটা দেশত্যাগের গল্প আছে। কেউ এসেছে দীঘিনালার পোড়া ভিটা থেকে, কেউ রাঙামাটির উচ্ছেদ হওয়া গ্রাম থেকে, কেউ বান্দরবানের গহীন থেকে। দুমুঠো ভাত আর একটু নিরাপদ ঘুমের খোঁজে তারা একদিন সাজেকের ঢালে বাঁশের ঘর তুলেছিল।  পাহাড় কখনো শান্ত থাকে না। পার...