বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

শান্তির সুখবর, নাকি পুরোনো ক্ষতের ওপর নতুন প্রলেপ? - ইনজেব চাঙমা

 

 
“পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি নিয়ে সুখবর আসবে”—মন্ত্রীর কণ্ঠে উচ্চারিত এই বাক্য খবরের কাগজের শিরোনামে যেন এক টুকরো রোদ্দুর হয়ে ঝরে পড়ে। অথচ সেই রোদ পাহাড়ের গহিনে পৌঁছায় না। সেখানে বহুকাল ধরে জমে থাকা ছায়া, দীর্ঘশ্বাস আর না-শুকানো রক্তের দাগ। স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকে জুম্ম জনগোষ্ঠীর মাথার ওপর দিয়ে যে রাষ্ট্রীয় লাঙলের ফলা চলেছে, তার ফসল কি সত্যিই শান্তি? নাকি সেই লাঙলের প্রতিটি টানে তাদের স্বর্গভূমি তিলে তিলে শ্মশানের নীরবতা ধারণ করেছে?
 
শান্তি কোনো মঞ্চের মাইকে ঘোষিত পঙ্‌ক্তি নয়। শান্তি কোনো প্রজ্ঞাপনের কালিতে লেখা অনুচ্ছেদ নয়। শান্তি হলো সেই নদী, যা ন্যায়ের উৎস থেকে উৎসারিত হয়ে সম্মানের উপত্যকা পেরিয়ে আত্মপরিচয়ের সাগরে গিয়ে মেশে।
 
যখন বিচারহীনতার রাত্রি ফুরায় না, যখন নিজভূমে পরবাসী হয়ে বাঁচতে হয়, যখন মাতৃভাষার শব্দগুলো রাষ্ট্রের দরজায় কড়া নেড়ে ফিরে আসে—তখন ‘শান্তি’ শব্দটি কেবল একটি ধ্বনিমাত্র। তার ভেতরে প্রাণ থাকে না।
 
পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বকীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পাহাড়ি-বাঙালি ভেদাভেদ নেই।” আহা, কী স্নিগ্ধ উচ্চারণ!
কিন্তু পাহাড়ের বুক চিরে শুনুন। কর্ণফুলী কি সেই সমতার কলকল গায়? সাজেকের মেঘ কি আজও নিঃসংকোচে জুমঘরে নেমে আসে?
 
বাস্তবের পাহাড় বলে ভিন্ন কথা। যেখানে সম্মতিহীন মানচিত্রে ভূমি অধিগ্রহণের কালো দাগ পড়ে, যেখানে ‘নিরাপত্তা’ নামের লৌহকপাট সংস্কৃতির উঠানে ঝুলে থাকে, সেখানে ‘ভেদাভেদ নেই’ এই বাক্যটি রাজনীতির সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো একটি ছবি হয়ে যায়। ছবির ভেতর জীবন নেই।
উনিশশো সাতানব্বই সালের দুই ডিসেম্বর। একটি কলম, একটি কাগজ, একরাশ স্বপ্ন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। পাহাড় ভেবেছিল, এই বুঝি তার দীর্ঘ রাত্রির অবসান।
 
অথচ আটাশটি বসন্ত পার হয়ে গেল। চুক্তির অক্ষরগুলো কাগজের কারাগারে বন্দি রয়ে গেল। ভূমি কমিশন নামের ঠোঁটে হাসি নেই, কাজ নেই। তার টেবিলে জমে থাকা হাজার হাজার দরখাস্ত ধুলোর সঙ্গে মিশে পুরাণ হয়ে যাচ্ছে। স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি আজও দূরের পাহাড়চূড়ায় মেঘের মতো ভাসে। ধরা দেয় না। আর অস্থায়ী ক্যাম্পের ‘অস্থায়ী’ শব্দটি স্থায়ী হতে হতে পাহাড়ের অভিধানে নতুন অর্থ লিখেছে।
 
এই ক্ষতবিক্ষত বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে আবার যখন “সুখবর”-এর ডমরু বাজে, তখন পাহাড়ের বুক কেঁপে ওঠে। এ বুঝি নতুন সুর, নাকি পুরোনো রাগিণীর পুনরাবৃত্তি?
 
শান্তিরও রঙ আছে। যদি শান্তির রঙ হয় একরঙা, যদি শান্তির অর্থ হয় সবাইকে একই ছাঁচে ঢেলে নেওয়া, যদি শান্তির নাম হয় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের শিকলকে ফুল দিয়ে সাজানো—তবে সে শান্তি জুম্ম জনগোষ্ঠীর জন্য শান্তি নয়। সে এক সুনিপুণ অভিশাপ।
 
জুম্ম মানুষের শান্তি অন্যরকম। তাদের শান্তি হলো জুমের আগুন নেভার পর নিশ্চিন্ত ঘুম। তাদের শান্তি হলো নিজের বাগানের আমগাছে নিজের অধিকার। তাদের শান্তি হলো বিজু, সাংগ্রাই, বৈসাবিতে বন্দুকের ছায়া ছাড়া নাচের অধিকার। তাদের শান্তি হলো আদালতে নিজের ভাষায় কান্নার অর্থ বোঝাতে পারা।
 
শান্তি আসে না ভাষণে। শান্তি আসে ফিরিয়ে দেওয়ায়। শান্তি আসে ভূমির দলিল ফিরিয়ে দিলে।
শান্তি আসে চুক্তির প্রতিটি অক্ষরকে পাহাড়ের পাথরে, নদীর স্রোতে, মানুষের ঘরে প্রাণ দিলে।
শান্তি আসে যখন রাষ্ট্র পাহাড়কে ‘সমস্যা’র চোখে না দেখে ‘সম্পদে’র চোখে দেখে। যখন সে বোঝে, বাংলাদেশের মানচিত্র কেবল সমতলের সবুজে নয়, পাহাড়ের বুনো ফুলেও আঁকা।
 
এই সত্য ছাড়া যেকোনো “সুখবর” কেবল পুরোনো ক্ষতের ওপর নতুন প্রলেপ। প্রলেপে ক্ষত ঢাকে, কিন্তু ভেতরে পচন ধরে। আর সেই পচনের গন্ধ একদিন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে এই বলে—
স্বাধীনতার পর থেকে একটি জাতির মাথার ওপর দিয়ে হালচাষ চলেছিল। আর তাদের স্বর্গভূমি তিলে তিলে শ্মশান হয়েছিল। ক্ষত সারাতে হলে আগে প্রলেপ সরাতে হয়। আলো আর হাওয়া লাগাতে হয়। তারপরই কেবল শান্তি নামের বনফুল ফোটে।

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

দিঘীনালার আকাশে বিঝুর রঙ- ইনজেব চাঙমা

 

বিঝু আসে কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়—বিঝু আসে স্মৃতিতে, শিকড়ে, রক্তের ভেতর বহমান এক ইতিহাস হয়ে। দিঘীনালার আকাশে যখন রঙিন বেলুন উড়ে উঠল, তখন তা নিছক একটি মেলার উদ্বোধন ছিল না; ছিল শতাব্দীর সংগ্রাম, টিকে থাকার লড়াই এবং জাতিগত স্মৃতির এক অনুচ্চারিত ঘোষণা।
৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে দিঘীনালায় অনুষ্ঠিত বিঝু মেলার শুভ উদ্বোধন যেন সেই ইতিহাসেরই এক দৃশ্যমান রূপ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেএসএস (এমএন লারমা গ্রুপ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাঙমা এবং চাঙমা জাতির ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বের প্রতীক ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। সভাপতিত্ব করেন বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ণ বিকাশ চাঙমা। সঞ্চালনায় ছিলেন সমীর চাঙমা, আর স্বাগত বক্তব্যে ইতিহাস ও ভাষার সেতুবন্ধন ঘটান চাঙমা ভাষা গবেষক আনন্দ মোহন চাঙমা।
বক্তৃতায় বিমল কান্তি চাঙমা স্মরণ করিয়ে দেন—বিঝু মানে শুধু হাসি-খুশির উৎসব নয়; বিঝু মানে ইতিহাস। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত সেই অমোঘ সত্য—“চাঙমা যেখানে, সেখানেই বিঝু”—একটি বাক্যের ভেতরেই ধারণ করে পাহাড়, জঙ্গল, নদী আর মানুষের অবিরাম যাত্রার কাহিনি। একসময় দিঘীনালা ছিল গভীর অরণ্য—হিংস্র প্রাণীর আবাস, ভয় আর অনিশ্চয়তার নাম। বাঘের থাবায় প্রাণ হারিয়েছে কত মানুষ; তবু মানুষ থামেনি। প্রতিকূল প্রকৃতি ও বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে, অনাবাদী জমিকে আবাদে রূপান্তর করে, জীবনকে আঁকড়ে ধরে চাঙমারা আজও টিকে আছে। সেই টিকে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই তারা আজও বিঝু উদযাপন করে।
চাঙমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের কণ্ঠে উঠে আসে ইতিহাসের আরও গভীর এক অধ্যায়। তিনি স্মরণ করান ১৯১৪ সালের ঘটনা—রাজা ভূবন মোহন রায়-এর আমলে ব্রিটিশ শাসকরা মিঙিনি রিজার্ভ এলাকায় জুম চাষ বন্ধ করতে সৈন্য পাঠাতে উদ্যত হয়েছিল। তখন রাজা দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন, “সৈন্য লাগবে না—এটা আমাদের বিষয়।” সেই আত্মমর্যাদাপূর্ণ ঘোষণাই জন্ম দেয় প্রতিবাদের। সান্তু চাকমা (কারবারি)-র নেতৃত্বে জুমচাষিরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। শেষপর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয় জুম চাষ মেনে নিতে। এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অঞ্চলটি চাঙমা সার্কেলের অংশ হয়ে ওঠে—মাটি পায় তার মালিকানা, মানুষ পায় তার অধিকার।
রাজা আরও বলেন, সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে। অনেকেই নতুন প্রজন্মকে নিয়ে হতাশ; কিন্তু তিনি আশাবাদী। তাঁর চোখে আজকের তরুণরা আগের চেয়ে বেশি জ্ঞানী, বেশি সচেতন। লাল-সবুজ পতাকা হাতে ঋতুপূর্ণা চাঙমা, মনিকা চাঙমা ও রূপনা চাঙমা, কিংবা বিশ্বমুখী যাত্রায় সুরাকৃষ্ণ চাঙমা—তারা কেবল ব্যক্তি নয়; তারা একটি জাতির মুখ, একটি ইতিহাসের প্রতিনিধি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যখন দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি, গুইমারা ও রাঙ্গামাটি জ্বলছিল, তখন এই নতুন প্রজন্মই রাজপথে নেমে এসেছিল—ন্যায়, অধিকার ও অস্তিত্বের পক্ষে।
বিঝুর মানবিক দর্শন এই প্রেক্ষাপটে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একসময় বিঝু মানে ছিল ঘরে ঘরে আদর-স্নেহের আদান-প্রদান—বুড়বুড়িদের গোসল করানো, হাঁস-মুরগি আদার দেওয়া, গরিব-দুঃখীদের ধান-চাল দিয়ে সহায়তা করা। এই সহমর্মিতা, এই সামাজিক বন্ধনই বিঝুর প্রকৃত প্রাণ। উৎসবের চাকচিক্য বদলাতে পারে, সময়ের সঙ্গে রীতিও বদলাতে পারে; কিন্তু এই মূল্যবোধ হারিয়ে গেলে বিঝু কেবল একটি আয়োজন হয়ে থাকবে—আত্মাহীন এক অনুষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ২০১৯ খ্রি. চাঙমা সাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে দিঘীনালায় বিঝু মেলার সূচনা হয়, যা আজও ধারাবাহিকভাবে চলমান। দিঘীনালার বিঝু মেলা তাই শুধু আনন্দের আয়োজন নয়—এ এক জীবন্ত ইতিহাস, এক চলমান সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি নীরব আহ্বান—
শিকড় ভুলে যেও না; কারণ শিকড়েই আছে তোমার পরিচয়, তোমার শক্তি, তোমার বিঝু।

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

বই পড়েই বাঁচবে ভাষা, জাগবে জাতি- ইনজেব চাঙমা

 


ভাষার প্রাণটা ঠিক কোথায় থাকে—এই প্রশ্নটা আজ আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
বর্ণমালা শিখলেই কি ভাষা বাঁচে? ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ করালেই কি একটি জাতির ভাষা সমৃদ্ধ হয়?
দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে চাঙমা সাহিত্য একাডেমি একটি মৌলিক সত্য উপলব্ধি করেছে—ভাষার আসল শক্তি থাকে পাঠকের হৃদয়ে। থাকে বই পড়ার অভ্যাসে। বই ছাড়া ভাষা কেবল অক্ষরের কাঠামো হয়, প্রাণ পায় না।
এই উপলব্ধি থেকেই ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুরু হয় বই পড়া আন্দোলন। এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচালক সুনানু জিতেন চাঙমা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা উপজেলা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নবকমল চাঙমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাচালং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুনানু দেবপ্রসাদ দেওয়ান, চাঙমা ঔপন্যাসিক আর্য্যমিত্র চাঙমা ও চাঙমা সাহিত্য একাডেমি সুনানু ত্রিদিব কান্তি চাঙমা।
এই আন্দোলন যে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রমাণ মেলে পরবর্তী কার্যক্রমে।

২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দিঘীনালা সরকারি কলেজে বই পড়া আন্দোলনের শুভ উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত মাচাং মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনানু তরুন কান্তি চাঙমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনানু ড. রুপন চাঙমা ও সাবেক শান্তি বাহিনী সুনানু দীপঙ্কর প্রসাদ চাঙমা।
এরপর ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দিঘীনালার প্রতিটি উচ্চ বিদ্যালয়ে “শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ” শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে বইয়ের গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—পাঠক তৈরি করা।
মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে একাডেমির কর্মীরা একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী বর্ণমালা শিখলেও বই পড়ার সুযোগ ও উপকরণের অভাবে সেই দক্ষতা ধরে রাখতে পারে না। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা মানুষ তৈরি করে না; বই পড়াই মানুষকে চিন্তাশীল করে তোলে।
বই পড়া কেবল জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়, এটি আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের ভাষায় লেখা গল্প পড়ে, নিজের জাতির ইতিহাস জানে, নিজের সংস্কৃতির কথা আবিষ্কার করে—তখন তার ভেতরে জন্ম নেয় আত্মমর্যাদা। তখন সে আর নিজের পরিচয় নিয়ে সংকুচিত হয় না।
এই কারণেই চাঙমা সাহিত্য একাডেমির লক্ষ্য এখন দ্বিমুখী—একদিকে বর্ণমালা ও ভাষা শিক্ষার কাজ অব্যাহত রাখা, অন্যদিকে বই পড়ার গভীর ও স্থায়ী অভ্যাস গড়ে তোলা। এজন্য প্রয়োজন সহজপাঠ্য সাহিত্য, প্রয়োজন গ্রামে গ্রামে ছোট পাঠাগার, বই পড়ার আড্ডা ও পাঠচক্র।
আমরা যদি সত্যিই ভাষা বাঁচাতে চাই, তবে কেবল দিবস পালন বা বক্তৃতা যথেষ্ট নয়। ভাষা বাঁচে তখনই, যখন কেউ আগ্রহ নিয়ে বইয়ের পাতা ওল্টায়।
একটি জাতি জাগে তখনই, যখন তার তরুণেরা পাঠক হয়ে ওঠে।
পরিবর্তনের চাবিকাঠি বই।
আর বই পড়ার অভ্যাসই পারে ভাষাকে বাঁচাতে, জাতিকে জাগাতে।
আজই সময়—বইয়ের দিকে ফিরি,
নিজের ভাষার দিকে ফিরি,
নিজের অস্তিত্বের দিকে ফিরি।

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

অবিনাশী চাঙমা জাতিসত্তা - ইনজেব চাঙমা


ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কিছু জাতি জন্ম নেয় কেবল টিকে থাকার জন্য নয়, বরং প্রতিকূলতার ললাটে জয়ের তিলক এঁকে দেওয়ার জন্য। চাকমা জাতি সেই অদম্য প্রাণশক্তিরই এক অবিনশ্বর নাম। যে জাতির ধমনিতে প্রবাহিত হয় দ্রোহ আর বীরত্বের রক্তধারা, তাদের বিনাশ নেই। আজ সময়ের দাবি হলো সেই রক্তঋণ শোধ করা—নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা আর সংস্কৃতির দীপশিখাকে প্রজ্বলিত রাখার মাধ্যমে।
 
চাকমা জাতির ইতিহাস কোনো সাধারণ খতিয়ান নয়, এটি নিরন্তর সংগ্রামের এক মহাকাব্য। মোগলদের দাপট কিংবা ব্রিটিশদের কূটকৌশল—কোনো কিছুই এই পাহাড়ী অরণ্যের সন্তানদের মেরুদণ্ডকে নত করতে পারেনি। পাকিস্তান শাসনামলে কাপ্তাইয়ের কৃত্রিম জলরাশি দিয়ে যখন এক বিশাল জনপদকে ডুবিয়ে মারার নীল নকশা করা হয়েছিল, তখনো তারা ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠেছিল। পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশেও জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই জাতির স্বকীয়তা মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বারবার। কিন্তু ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মধ্য দিয়ে এই ভূমি ও মানুষের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।
 
আমাদের এই আত্মপরিচয় রক্ষার লড়াইয়ে সবচাইতে ধ্রুপদী ও সাহসী উচ্চারণ ধ্বনিত হয়েছিল মহান সংসদের পবিত্র আঙিনায়। যখন একক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে ক্ষুদ্রতর জাতিসত্তাগুলোকে বিলীন করে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল, তখন জাতির অবিসংবাদিত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা -
"আমি একজন চাকমা। আমাদের নিজস্ব ভাষা আছে, বর্ণমালা আছে। আমি কোনোদিন নিজেকে বাঙালি বলিনি।"
তাঁর এই অকুতোভয় ঘোষণা কেবল একটি বাক্য ছিল না; এটি ছিল হাজার বছরের লালিত সংস্কৃতির অহংকার এবং অস্তিত্ব রক্ষার এক অমোঘ অঙ্গীকার। তিনি শিখিয়ে গেছেন, নাগরিকত্ব আর জাতিসত্তা এক নয়। আমরা এদেশের নাগরিক, কিন্তু আমাদের হৃদস্পন্দনের ভাষা ও বর্ণমালা আমাদের একান্তই নিজস্ব। লারমার সেই তেজস্বী আদর্শ আজও আমাদের ধমনিতে প্রবহমান।
 
একটি জাতির আত্মপরিচয় নিহিত থাকে তার ভাষায়। আমাদের নিজস্ব বর্ণমালা কেবল কতগুলো রেখা নয়, বরং এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের চিন্তা ও দর্শনের প্রতিচ্ছবি। যখন চাপিয়ে দেওয়া হয় ভিন্ন কোনো সত্তা, তখন আমাদের রক্ষা কবচ হয়ে দাঁড়ায় আমাদের ভাষা। নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত হওয়া মানে হলো নিজের শিকড় কেটে ফেলা। তাই আমাদের বর্ণমালাকে কেবল অক্ষরের ফ্রেমে বন্দি না রেখে তাকে সাহিত্যের মূলধারায় এবং আধুনিক জ্ঞানের চর্চায় গ্রহণ করতে হবে।
 
হে আগামীর কাণ্ডারিরা, তোমরা কেবল এক একজন শিক্ষার্থী নও; তোমরা হলে জাতির গর্বের প্রতীক এবং হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের অগ্রদূত।
আধুনিক বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেকে সজ্জিত করো, কিন্তু হৃদয়ের মণিকোঠায় গেঁথে রাখো সেই প্রাচীন পাহাড়ী সুর।
নিজের ইতিহাস ও বর্ণমালা নিয়ে নিবিড় পড়াশোনা করো, যাতে কোনো মিথ্যা তথ্য তোমাদের শেকড়কে উপড়ে ফেলতে না পারে।
 
চাকমা জাতির প্রতিটি সন্তানের শিরায় যে রক্ত বহমান, তা কোনো পরাজয় চেনে না। যারা বারবার মৃত্যুঘণ্টা উপেক্ষা করে ফিরে এসেছে, তাদের নিঃশেষ করার সাধ্য কারও নেই। এখন সময় নিজেকে চেনার, নিজের স্বকীয়তাকে বিশ্বের দরবারে সগৌরবে মেলে ধরার। লারমার সেই স্পর্ধাকে হৃদয়ে ধারণ করে তোমরা এগিয়ে চলো; মনে রেখো, বীরের জাতি কখনো পথ হারায় না, তারা পথ তৈরি করে। শিক্ষা কেবল জীবিকা নয়—শিক্ষা হলো আত্মপরিচয়ের বাতিঘর। সেই বাতিঘরের আলো জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্ব তোমাদেরই। ইতিহাস তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, ভবিষ্যৎ তোমাদের নামে ডাকছে। এগিয়ে চলো—ভাষার জন্য, সংস্কৃতির জন্য, জাতিসত্তার মর্যাদার জন্য।

𑄃𑄧𑄇𑄴𑄈𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄖𑄴 - 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄎𑄬𑄝𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟

 


𑄝𑄨𑄎𑄧𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄖𑄬𑄉𑄬 𑄖𑄬𑄉𑄬 𑄇𑄨𑄏𑄪 𑄎𑄖𑄴 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄟𑄴 𑄦𑄧𑄣𑄧𑄝𑄚 𑄗𑄨𑄉𑄨 𑄗𑄬𑄝𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄝𑄧𑄢𑄧𑄁 𑄚𑄚𑄚𑄴 𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄮𑄃𑄨𑄠𑄬𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄋𑄬 𑄘𑄨 𑄇𑄧𑄝𑄣𑄧𑄖𑄴 𑄖𑄨𑄣𑄧𑄇𑄴𑄧 𑄜𑄪𑄘𑄧 𑄘𑄨𑄝𑄖𑄳𑄠𑅁 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄖𑄴𑄮 𑄥𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄎𑄖𑄴 𑄖𑄢 𑄇𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄖𑄧𑄣𑄧𑄖𑄴 𑄗𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄚𑄧 𑄌𑄚𑄴𑅁 𑄘𑄧𑄋𑄬 𑄚𑄧 𑄛𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄛𑄧𑄢𑄚𑄴 𑄌𑄨𑄟𑄮𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄈𑄧𑄢𑄴 𑄚𑄋𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟𑅁 𑄡𑄬 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄣𑄮 𑄥𑄨𑄢𑄬𑄃𑄨 𑄥𑄨𑄢𑄬𑄃𑄨 𑄝𑄠𑄴 𑄘𑄳𑄢𑄮𑄦𑄧 𑄃 𑄇𑄧𑄎𑄣𑄧𑄢𑄴 𑄣𑄮 𑄙𑄢𑄴, 𑄖𑄢𑄢𑄴 𑄝𑄨𑄚𑄬𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄭𑅁 𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄴𑄟𑄙𑄚𑄬 𑄇𑄧𑄢𑄴, 𑄥𑄬 𑄢𑄨𑄕𑄴 𑄥𑄪𑄎𑄨𑄝𑄢𑄴, 𑄚𑄨𑄎𑄧 𑄞𑄌𑄴, 𑄦𑄧𑄢𑄧𑄇𑄴 𑄃 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄎𑄳𑄦𑄧𑄣𑄴𑄎𑄳𑄦𑄧𑄣𑄳𑄠 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄢𑄊𑄬𑄚𑄬𑄃𑄨𑅁

𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄇𑄴 𑄥𑄪𑄘𑄪𑄢𑄪𑄋𑄮 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄇𑄉𑄮𑄌𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄖𑄨𑄉𑄪𑄌𑄳𑄠 𑄣𑄢𑄬𑄠𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄟𑄧𑄦𑄇𑄝𑄳𑄠𑄧𑅁 𑄟𑄮𑄉𑄧𑄣𑄴 𑄗𑄬𑄋𑄴 𑄙𑄪𑄟𑄴𑄙𑄪𑄟𑄚𑄨 𑄃 𑄝𑄳𑄢𑄨𑄑𑄨𑄥𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄪𑄌𑄣𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄇𑄨𑄌𑄴𑄍𑄪𑄠𑄬 𑄃𑄬 𑄟𑄪𑄢𑄮𑄣𑄳𑄠 𑄟𑄚𑄬𑄭𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄦𑄋𑄬𑄣𑄴 𑄉𑄪𑄎𑄮𑄁 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄘𑄨 𑄚𑄧 𑄛𑄢𑄧𑄚𑄴𑅁 𑄛𑄇𑄨𑄥𑄴𑄖𑄚𑄴 𑄃𑄟𑄧𑄣𑄧𑄖𑄴 𑄇𑄛𑄴𑄖𑄬𑄠𑄚𑄴 𑄉𑄮𑄙 𑄘𑄨𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄊𑄧𑄢𑄴𑄛𑄘 𑄎𑄉 𑄛𑄚𑄨𑄠𑄬 𑄙𑄪𑄝𑄬 𑄘𑄨𑄣𑄬𑄠𑄳𑄠𑄧 𑄖𑄢 𑄃𑄢𑄧 𑄜𑄨𑄚𑄨𑄇𑄴𑄥𑄴 𑄛𑄬𑄭𑄉𑄧 𑄥𑄚𑄴 𑄎𑄉𑄨 𑄃𑄪𑄖𑄴𑄮𑄚𑄴𑅁 𑄛𑄧𑄢𑄬𑄘𑄨 𑄥𑄙𑄨𑄚𑄴 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄏𑄧𑄖𑄴𑄠𑄳𑄠𑄧 𑄣𑄇𑄴 𑄣𑄇𑄴 𑄝𑄋𑄣𑄴 𑄥𑄧𑄟𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄃𑄬 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄖𑄴𑄮𑄢𑄬 𑄞𑄧𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄉𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄝𑄢𑄴𑄝𑄋𑄚𑄬 𑄌𑄬𑄢𑄬𑄌𑄴𑄖 𑄉𑄧𑄢 𑄦𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴, 𑄉𑄧𑄚𑄴𑄘𑄧𑄌𑄧𑄇𑄳𑄢𑄧 𑄎𑄣𑄴 𑄍𑄨𑄚𑄨 𑄷𑄿𑄿𑄽 𑄥𑄣𑄧𑄖𑄴 ”𑄛𑄢𑄴𑄝𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄌𑄧𑄑𑄴𑄧𑄉𑄳𑄢𑄟𑄴 𑄌𑄪𑄇𑄴𑄖𑄨” 𑄉𑄧𑄖𑄴𑄬 𑄝𑄙𑄳𑄠𑄧 𑄃𑄧𑄃𑄨 𑄛𑄠𑄴 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄌𑄴 𑄥𑄧𑄢𑄴𑄉𑄢𑄬𑅁 𑄢𑄎𑄨 𑄦𑄧𑄠𑄴, 𑄎𑄉 𑄃 𑄟𑄚𑄪𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄙𑄨𑄉𑄢𑄴 𑄜𑄬𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄘𑄨𑄝𑄢𑄴𑅁 

𑄃𑄟𑄢𑄴 𑄃𑄬 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄨𑄚𑄴𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄢𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄣𑄢𑄬𑄭𑄠𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄬𑄉𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄝𑄬𑄌𑄴 𑄗𑄚𑄬𑄗𑄧𑄟𑄧𑄉𑄬 (𑄙𑄳𑄢𑄪𑄛𑄧𑄘𑄩) 𑄃 𑄢𑄨𑄬𑄝𑄁 𑄘𑄧𑄢𑄧 𑄇𑄨𑄏𑄬𑄇𑄴 𑄃𑄪𑄖𑄴𑄬 𑄟𑄧𑄦𑄚𑄴 𑄥𑄧𑄁𑄥𑄧𑄘𑄧𑄖𑄴𑅁 𑄡𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄎𑄖𑄴 𑄌𑄨𑄚𑄴𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄬𑄭 𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄨𑄉𑄮𑄚𑄴 𑄌𑄨𑄉𑄮𑄚𑄴 𑄎𑄖𑄴𑄪𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄞𑄧𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄉𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄌𑄬𑄢𑄬𑄌𑄴𑄖 𑄉𑄧𑄖𑄴𑄧𑄚𑄴 𑄥𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄎𑄪𑄟𑄴𑄧 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄛𑄖𑄴𑄧𑄣𑄨 𑄃𑄬𑄟𑄴𑄃𑄬𑄚𑄴 𑄣𑄢𑄴𑄟 𑄢𑄎𑄴𑄘𑄉𑄨 𑄘𑄨 𑄇𑄧𑄣𑄧, 𑄃𑄟𑄨 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟𑅁 𑄃𑄟𑄢𑄴 𑄦𑄧𑄢𑄧𑄇𑄴, 𑄞𑄌𑄴 𑄃𑄊𑄬, 𑄃𑄊𑄬 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄴𑅁 𑄃𑄟𑄨 𑄇𑄧𑄚𑄧𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄬 𑄝𑄋𑄣𑄴 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄝𑄬 𑄌𑄨𑄚𑄴𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄚𑄧 𑄘𑄨𑄃𑄨𑅁

𑄖𑄢𑄴 𑄃𑄬 𑄢𑄎𑄴𑄘𑄉𑄧𑄚𑄨 𑄝𑄚 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄟𑄖𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄃𑄬𑄣𑄧 𑄦𑄎𑄢𑄴 𑄝𑄧𑄏𑄧𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄙𑄪𑄢𑄨 𑄛𑄣𑄬-𑄘𑄪𑄣𑄬 𑄃𑄚𑄳𑄠𑄬 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄚 𑄃 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄁𑄍𑄢 𑄢𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄚 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄨𑄟𑄬𑅁 𑄖𑄬 𑄥𑄨𑄊𑄬𑄃𑄨 𑄡𑄨𑄠𑄬, 𑄚𑄉𑄧𑄢𑄨𑄇𑄴 𑄃 𑄎𑄖𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄃𑄟𑄨 𑄃𑄬 𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄚𑄉𑄧𑄢𑄨𑄇𑄴 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄟𑄢𑄴 𑄝𑄪𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄢𑄨𑄝𑄬𑄋𑄧𑄖𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄃 𑄦𑄧𑄢𑄧𑄇𑄴 𑄃𑄊𑄬𑅁 𑄣𑄢𑄴𑄟 𑄥𑄬 𑄙𑄮𑄇𑄴𑄙𑄮𑄇𑄳𑄠 𑄈𑄌𑄳𑄠𑄬𑄖𑄴 𑄃𑄟 𑄚𑄮𑄣𑄮𑄢𑄨𑄖𑄴 𑄝𑄬𑄃𑄨 𑄡𑄢𑄴𑅁

 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄨𑄚𑄴𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄟𑄨𑄏𑄨 𑄗𑄠𑄴 𑄖𑄢𑄴 𑄞𑄏𑄧𑄖𑄴𑅁 𑄃𑄟 𑄦𑄧𑄢𑄧𑄇𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄝𑄚 𑄇𑄧𑄠𑄬𑄇𑄴𑄈𑄚𑄴 𑄘𑄇𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄝𑄧𑄢𑄧𑄁 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄨 𑄃𑄟𑄢𑄴 𑄛𑄫𑄢𑄴𑄝𑄧𑄛𑄪𑄢𑄪𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄨𑄘𑄬 𑄃 𑄉𑄳𑄠𑄬𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄢𑄪𑄇𑄴𑅁 𑄡𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄇𑄨𑄌𑄴𑄍𑄪 𑄝𑄧𑄣𑄬 𑄝𑄧𑄣𑄬 𑄝𑄪𑄉𑄬 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄦𑄧𑄠𑄴 𑄥𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄎𑄖𑄴 𑄢𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄉 𑄢𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄦𑄧𑄠𑄴 𑄞𑄌𑄴𑅁 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄥𑄮𑄢𑄬 𑄡𑄚 𑄟𑄚𑄬 𑄦𑄧𑄣𑄧 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄥𑄨𑄋𑄮𑄢𑄴 𑄇𑄝𑄨 𑄜𑄬𑄣𑄚𑅁 𑄥𑄬𑄚𑄬 𑄦𑄧𑄢𑄧𑄇𑄴 𑄝𑄚 𑄘𑄮𑄣𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄥𑄎𑄬 𑄢𑄊𑄬𑄭 𑄟𑄚𑄴𑄍𑄮𑄢𑄬 𑄘𑄬𑄊𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄖𑄢𑄬 𑄥𑄦𑄨𑄖𑄳𑄠𑄬𑄢𑄴 𑄟𑄫𑄣𑄴𑄙𑄢𑄖𑄴 𑄃 𑄃𑄙𑄪𑄚𑄨𑄇𑄴 𑄉𑄳𑄠𑄬𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄧𑄌𑄴𑄡 𑄉𑄧𑄎𑄨 𑄣𑄧𑄚𑅁

𑄃𑄮 𑄟𑄪𑄏𑄪𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄨𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄛𑄖𑄴𑄗𑄪𑄣𑄨𑄃𑄪𑄚𑄴, 𑄖𑄪𑄟𑄨 𑄝𑄚 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄛𑄧𑄢𑄴𑄝𑄮𑄠 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄖𑄪𑄟𑄨 𑄦𑄧𑄣 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄟𑄏𑄢𑄴 𑄃 𑄦𑄢𑄬𑄠𑄳𑄠 𑄃𑄪𑄖𑄴𑄨𑄛𑄪𑄖𑄴𑄨 𑄜𑄨𑄢𑄬 𑄃𑄚𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄣𑄧𑄢𑄴𑄝𑄮𑅁 

𑄃𑄙𑄪𑄚𑄨𑄇𑄴 𑄉𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴-𑄝𑄨𑄉𑄴𑄉𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄬 𑄛𑄌𑄴𑄦𑄖𑄳𑄠𑄢𑄴 𑄝𑄚𑄨 𑄥𑄎𑄬 𑄢𑄊𑄬𑄝𑄢𑄴, 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄢𑄨𑄝𑄬𑄋𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄚𑄨 𑄢𑄊𑄧 𑄥𑄬 𑄛𑄪𑄢𑄧𑄚𑄴 𑄘𑄮𑄣𑄴 𑄟𑄪𑄢𑄪𑄣𑄳𑄠 𑄌𑄉𑄣 𑄥𑄪𑄢𑄴𑅁 

𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄇𑄴 𑄃 𑄦𑄧𑄢𑄧𑄇𑄴 𑄚𑄨𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄚𑄨𑄝𑄨𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄛𑄧𑄢-𑄥𑄪𑄚 𑄉𑄧𑄢𑄴, 𑄡𑄬𑄚𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄟𑄨𑄏𑄬 𑄖𑄧𑄗𑄳𑄠𑄧 𑄖𑄧𑄟 𑄥𑄨𑄋𑄮𑄢𑄴 𑄃𑄪𑄉𑄪𑄢𑄨 𑄜𑄬𑄣𑄬 𑄚𑄧 𑄛𑄢𑄬𑅁

𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄖𑄴𑄨𑄇𑄴 𑄛𑄪𑄃𑄧/𑄏𑄨𑄢𑄴 𑄥𑄨𑄢𑄬𑄢𑄴 𑄡𑄬 𑄣𑄮 𑄝𑄬𑄃𑄨 𑄡𑄠𑄴, 𑄥𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄛𑄧𑄢𑄎𑄧𑄠𑄴 𑄚𑄧 𑄟𑄚𑄬𑅁 𑄡𑄢 𑄝𑄢𑄴𑄝𑄋𑄚𑄬 𑄟𑄧𑄢𑄧𑄚𑄧𑄛𑄧𑄙𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄜𑄨𑄢𑄨 𑄃𑄬𑄣𑄇𑄴 𑄖𑄢𑄢𑄬 𑄞𑄧𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄉𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄇𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄥𑄙𑄳𑄠𑄧 𑄚𑄬𑄃𑄨𑅁 𑄃𑄨𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄖𑄧𑄠𑄚𑄴 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄬 𑄌𑄨𑄚𑄨𑄝𑄢𑄴, 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄈𑄌𑄳𑄠𑄬𑄖𑄴𑄮𑄃𑄨 𑄝𑄨𑄌𑄴𑄧𑄘𑄧𑄢𑄴𑄝𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄪𑄇𑄴 𑄃𑄧𑄎𑄧𑄣𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄜𑄪𑄘𑄬 𑄖𑄪𑄣𑄨𑄝𑄢𑄴𑅁 𑄣𑄢𑄴𑄟 𑄥𑄬 𑄝𑄪𑄉𑄧𑄛𑄘 𑄘𑄧𑄢𑄧 𑄟𑄧𑄚𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄝𑄪𑄉𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄚𑄨 𑄖𑄪𑄟𑄨 𑄟𑄪𑄏𑄪𑄋𑄬 𑄃𑄇𑄴𑄮𑄃𑄨 𑄡𑄧; 𑄃 𑄃𑄨𑄙𑄮𑄖𑄴 𑄢𑄊𑄧, 𑄇𑄧𑄎𑄣𑄴 𑄎𑄖𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄛𑄧𑄖𑄴 𑄚𑄧 𑄦𑄎𑄠𑄴, 𑄖𑄢 𑄚𑄪𑄃𑄧 𑄛𑄧𑄖𑄴 𑄜𑄧𑄢𑄚𑄴𑅁 𑄥𑄨𑄇𑄴𑄈 𑄝𑄚 𑄎𑄨𑄁𑄇𑄚𑄨 𑄘𑄮𑄣𑄬 𑄉𑄧𑄋𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴,𑄥𑄨𑄇𑄴𑄈𑄬 𑄦𑄧𑄣𑄧 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄨𑄚𑄴𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄜𑄪𑄘𑄨 𑄖𑄪𑄣𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄝𑄮𑄟𑄴𑄝𑅁 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄇𑄴 𑄖𑄮𑄟𑄴 𑄇𑄨𑄗𑄳𑄠 𑄌𑄬𑄃𑄨 𑄃𑄊𑄬, 𑄟𑄪𑄏𑄪𑄋𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄧𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄖𑄮𑄟𑄢𑄬 𑄚𑄋𑄴 𑄙𑄧𑄢𑄨 𑄘𑄉𑄬𑄢𑄴𑅁 𑄃𑄇𑄴𑄮𑄃𑄨 𑄡𑄧- 𑄞𑄏𑄧𑄖𑄳𑄠𑄭, 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄧𑄖𑄳𑄠𑄭, 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄚𑄴 𑄙𑄧𑄢𑄨 𑄢𑄊𑄬𑄝𑄖𑄳𑄠𑄭𑅁

সংস্কৃতি হারানোর দায় কার? Injeb Changma

 


পাবলিক-এর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে
একটি গাছ যেমন চেনা যায় তার শাল ও ফল দিয়ে, তেমনি একটি জাতি চেনা যায় তার সংস্কৃতি দিয়ে। সংস্কৃতি কোনো আলগা বিষয় নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও জীবনবোধের সমষ্টিগত প্রতিফলন। চাঙমা জাতিসত্তার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি ছিল আমাদের শক্ত ভিত্তি। কিন্তু আজ বাস্তবতা বলছে—আধুনিকতার নামে সেই সংস্কৃতি ক্রমেই অপসংস্কৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে।
একসময় চাঙমা সংস্কৃতি ছিল সংযত, মার্জিত ও স্মার্ট। সামাজিক আচরণে ছিল শালীনতার স্পষ্ট সীমারেখা। আমাদের মায়েরা, ঠাকুরমারা পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরে নিজেদের আচরণে ছিলেন সচেতন। শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সামনে বা জনসমক্ষে শিশুকে দুধ পান করানোর ক্ষেত্রেও ছিল সামাজিক শালীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। সে সময় দেহ নয়, মূল্যবোধই ছিল সংস্কৃতির মূল বাহন।
আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ আধুনিকতার ভুল ব্যাখ্যায় নিজেদের শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আধুনিক হওয়া আর অসংযত হওয়া—এই দুইয়ের পার্থক্য আমরা ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছি। ফলে শালীনতা, সংযম ও সামাজিক সংবেদনশীলতা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তবে এই পরিবর্তনের দায় এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা কোনো নারীকে দেওয়া অন্যায় হবে। এই লেখা কোনো মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, কোনো নারীর স্বাধীনতার বিরোধিতাও নয়। বরং এটি একটি আত্মসমালোচনামূলক স্বীকারোক্তি। কারণ, আমরাই—আমরা সবাই—অধিকারের কথা বলতে বলতে, প্রগতির কথা বলতে বলতে নিজেদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অনেক মূল্যবান উপাদান হারিয়ে ফেলেছি।
অধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দায়িত্ব ছাড়া অধিকার সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে না; বরং দুর্বল করে। সংস্কৃতি রক্ষা মানে কাউকে বেঁধে রাখা নয়, বরং নিজের পরিচয়কে সচেতনভাবে বহন করা। আধুনিকতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রয়োজন ছিল সাংস্কৃতিক বাছবিচার—যা আমরা অনেক ক্ষেত্রে করতে ব্যর্থ হয়েছি।
সংস্কৃতি কখনো স্থবির থাকে না; সময়ের সঙ্গে তার রূপ বদলায়। কিন্তু পরিবর্তন আর অবক্ষয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। আধুনিকতার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটাতে না পারলে আমরা কেবল অনুকরণপ্রবণ এক সমাজে পরিণত হব—যেখানে নিজস্বতা থাকবে না।
আজ তাই প্রশ্নটা অন্য কাউকে নয়, নিজেকেই করা জরুরি—আমরা কি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি শিকড়সমৃদ্ধ পরিচয় দিতে পারছি? নাকি আধুনিকতার মোড়কে নিজেরাই সেই শিকড় কাটছি? সংস্কৃতি রক্ষার দায় কোনো একক প্রজন্মের নয়; এটি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আত্মজিজ্ঞাসা শুরু হোক—এটাই সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

রাষ্ট্রের ভাষা আছে, আদিবাসীর ভাষা নেই - ইনজেব চাঙমা


রাষ্ট্র কথা বলে সংবিধান কথা বলে উন্নয়ন কথা বলে কিন্তু বাংলাদেশের আদিবাসীরা যখন কথা বলতে চায়, তখন রাষ্ট্র কানে তুলা গুঁজে রাখে কারণ তারা যে ভাষায় কথা বলে, সে ভাষা রাষ্ট্রের কাছেঅপ্রয়োজনীয়”, “অলাভজনক”, “পিছিয়ে থাকা”—এই তকমাগুলোই যেন তাদের একমাত্র পরিচয়

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম The Guardian বলছে, আগামী ১০০ বছরে পৃথিবী থেকে অন্তত তিন হাজার ভাষা বিলুপ্ত হবে এই ভবিষ্যদ্বাণী কোনো দূরদেশের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের বাস্তবতা কারণ এখানে রাষ্ট্রীয় অবহেলা, শিক্ষা-নীতির একচোখা দৃষ্টি আর প্রশাসনিক অনীহার কারণে আদিবাসী ভাষাগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে মারা যাচ্ছে

ভাষা গবেষণা সংস্থা Summer Institute of Linguistics জানায়, পৃথিবীতে এমন ৫১টি ভাষা আছে যেগুলোর শেষ একজন বক্তা এখনো জীবিত প্রশ্ন হলোবাংলাদেশে কতটি ভাষা এই তালিকায় ঢোকার অপেক্ষায়? রাষ্ট্র কি কখনো সেই হিসাব কষেছে?

পরিসংখ্যান নির্মম: পৃথিবীর জীবিত ভাষার মাত্র শতাংশ ভাষায় কথা বলে বিশ্বের ৯৪ শতাংশ মানুষ আর বাকি ৯৪ শতাংশ ভাষায় কথা বলে মাত্র শতাংশ মানুষ বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষাগুলো এই ক্ষমতাহীন ৯৪ শতাংশের দলে সংখ্যায় তারা অনেক, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তারা প্রায় অদৃশ্য

বাংলাদেশের Chittagong Hill Tracts কিংবা সমতলের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে জন্ম নেওয়া একটি শিশু যখন স্কুলে যায়, তখন তার প্রথম পাঠই হয় আত্মবিচ্ছেদের পাঠ মাতৃভাষা নয়তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় প্রভাবশালী ভাষা শিশুটি শেখে, নিজের ভাষাঅকাজের”, “ঘরের ভেতরের”, “পিছিয়ে থাকা এভাবেই রাষ্ট্র এক প্রজন্মকে শেখায়নিজেকে অস্বীকার করতে

Living Tongues Institute for Endangered Languages-এর গবেষক Gregory Anderson বলেন, “যখন কোনো জনগোষ্ঠী মনে করে যে তাদের ভাষা অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নের পথে বাধাতখনই সেই ভাষা বিলুপ্তির পথে হাঁটেবাংলাদেশে এই ধারণা রাষ্ট্র নিজেই তৈরি করে দিয়েছে চাকরি, আদালত, প্রশাসন, শিক্ষাসবখানেই আদিবাসী ভাষা অনুপস্থিত তাহলে মানুষ শিখবে কীভাবে যে তাদের ভাষার মূল্য আছে?

একটি শিশু কাঁদে, কারণ সে বলতে পারে না তার কষ্টের ভাষা রাষ্ট্রের কাঠামোয় আদিবাসীর অবস্থাও তাই তারা চিৎকার করেকখনো জমির জন্য, কখনো ভাষার জন্য, কখনো অস্তিত্বের জন্য কিন্তু রাষ্ট্র সেই কান্নাকেউন্নয়ন-বিরোধী”, “বিচ্ছিন্নতাবাদী”, “অযৌক্তিক দাবিবলে দমিয়ে দেয়

ভাষাহীন মানুষ মানে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষ যার ভাষা নেই, তার ইতিহাসও থাকে না রাষ্ট্রের খাতায় তার জ্ঞানকে বলা হয় লোককথা, তার দর্শনকে কুসংস্কার এভাবেই রাষ্ট্র ধীরে ধীরে আদিবাসীদের মানুষ নয়, সমস্যায় পরিণত করে

অথচ ইতিহাস প্রমাণ করেভাষা ফেরানো যায় হিব্রু আইনু ভাষা আজ জীবন্ত, কারণ রাষ্ট্র সেখানে দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশে কেন তা সম্ভব নয়? কেন এখনো আদিবাসী ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করাঝুঁকিপূর্ণমনে হয়? কেন সংবিধানের বহুত্ববাদ কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ?

আদিবাসী ভাষা রক্ষা কোনো অনুগ্রহ নয় এটি রাষ্ট্রের দায় মাতৃভাষায় শিক্ষা, প্রশাসনিক স্বীকৃতি, গবেষণা লিখিত চর্চার সুযোগএসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া ভাষা বাঁচে না

রাষ্ট্র যদি সত্যিই বহুভাষিক, বহুজাতিক হওয়ার সাহস রাখে, তবে তাকে আগে আদিবাসীদের ভাষা ফিরিয়ে দিতে হবে না হলে একদিন ইতিহাস প্রশ্ন করবেতোমাদের উন্নয়ন কার ভাষায় লেখা হয়েছিল, আর কাদের ভাষা চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল?

ভাষা মারা গেলে মানুষ শুধু চুপ করে নামানুষ ধীরে ধীরে রাষ্ট্র থেকেও মুছে যায়

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄃𑄊𑄬, 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩𑄃𑄪𑄚𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄃𑄨 - 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄎𑄬𑄝𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟


𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄥𑄧𑄁𑄝𑄨𑄙𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄃𑄪𑄚𑄴𑄧𑄠𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩𑄃𑄪𑄚𑄴 𑄡𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄧𑄝𑄢𑄴 𑄌𑄚𑄴, 𑄥𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄇
𑄚𑄧𑄖𑄴𑄖𑄪𑄣𑄧𑄙𑄨𑄝𑄬 𑄘𑄨 𑄗𑄠𑄴𑅁 𑄇𑄨𑄖𑄴𑄬 𑄖𑄢 𑄡𑄬 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄮𑄃𑄨 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄧𑄚𑄴, 𑄥𑄬 𑄞𑄌𑄴 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄢𑄴𑄇𑄧𑄚𑄧𑄉𑄧𑄢𑄧𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄃𑄨, 𑄣𑄞𑄴 𑄚𑄬𑄃𑄨, 𑄈𑄪𑄘𑄳𑄢𑄧 𑄚𑄳𑄢𑄨 𑄉𑄮𑄥𑄴𑄒𑄩𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴, 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴 𑄍𑄧𑄣𑄧𑄁 𑄝 𑄍𑄧𑄉𑄧𑄣𑄃𑄨𑄠𑄚𑄨𑄖𑄢𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄟𑄖𑄳𑄢𑄧 𑄌𑄨𑄚𑄴𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬𑅁

𑄃𑄚𑄴𑄖𑄧𑄢𑄴𑄎𑄖𑄨𑄇𑄴 𑄉𑄧𑄕𑄧𑄟𑄙𑄳𑄠𑄧𑄟𑄴 The Guardian 𑄇𑄧𑄠𑄴, 𑄟𑄪𑄏𑄪𑄋𑄬𑄘𑄨 𑄸𑄷𑄶𑄶 𑄥𑄣𑄧 𑄞𑄨𑄘𑄨𑄢𑄬 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄨𑄟𑄨𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄇𑄧𑄟𑄬𑄘𑄨 𑄖𑄨𑄚𑄴 𑄦𑄎𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄞𑄧𑄌𑄴 𑄡𑄬𑄝𑄧𑅁 𑄃𑄬 𑄞𑄧𑄝𑄨𑄥𑄳𑄠𑄧𑄘𑄴𑄝𑄕𑄩 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄘𑄪𑄢𑄴 𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄌𑄴𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴; 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄥𑄴𑄖𑄧𑄝𑄧𑄖𑅁 𑄇𑄨𑄖𑄴𑄬 𑄃𑄬 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄃𑄧𑄝𑄧𑄦𑄬𑄣, 𑄥𑄨𑄇𑄴𑄈-𑄚𑄩𑄘𑄨 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄌𑄮𑄇𑄴 𑄇𑄚𑄴 𑄃 𑄛𑄳𑄢𑄧𑄥𑄥𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄃𑄮𑄌𑄴 𑄚𑄧 𑄗𑄚𑄢𑄴 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄨 𑄛𑄧𑄖𑄴𑄨𑄇𑄴 𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄟𑄬𑄣𑄮𑄟𑄌𑄴 𑄃𑄧𑄃𑄨 𑄡𑄢𑄴𑅁

𑄞𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄝𑄬𑄥𑄧𑄇𑄴 𑄥𑄧𑄁𑄥𑄴𑄗 Summer Institute of Linguistics 𑄇𑄮𑄃𑄨 𑄘𑄬𑄢𑄴, 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄨𑄟𑄨 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄻𑄷𑄠𑄚𑄴 𑄡𑄨𑄠𑄬𑄚𑄨 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄮𑄃𑄨𑄠𑄬 𑄝𑄚 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄝𑄎𑄨 𑄃𑄊𑄬𑅁 𑄥𑄣𑄬𑄚𑄴 𑄛𑄪𑄎𑄮𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄡𑄬, 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄏𑄧𑄖𑄴 𑄇𑄧𑄠𑄴𑄃𑄚𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄃𑄬 𑄖𑄪𑄎𑄨𑄖𑄴 𑄥𑄧𑄟𑄬𑄢𑄴? 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄇𑄨 𑄥𑄬 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄛𑄴 𑄉𑄧𑄌𑄴𑄍𑄬?


𑄚𑄨𑄙𑄪𑄢𑄴 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄛𑄴, 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄨𑄟𑄨𑄖𑄴 𑄝𑄎𑄨 𑄃𑄊𑄬 𑄞𑄏𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄝𑄚 𑄼% 𑄞𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄉𑄮𑄘 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄨𑄟𑄨𑄖𑄴 𑄿𑄺% 𑄟𑄚𑄪𑄌𑄴 𑄃 𑄝𑄉𑄨 𑄿𑄺% 𑄞𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄝𑄚 𑄼% 𑄟𑄚𑄪𑄌𑄴𑅁 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄨𑄠𑄳𑄠𑄧 𑄃𑄬 𑄟𑄬𑄢 𑄟𑄬𑄢 𑄿𑄺% 𑄖𑄧𑄟𑄴𑄝𑄖𑄴𑅁 𑄥𑄧𑄁𑄈𑄳𑄠𑄠𑄴 𑄖𑄢 𑄝𑄬𑄌𑄴 𑄦𑄧𑄣𑄬𑄠𑄳𑄠𑄧, 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴, 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄈𑄬𑄟𑄧𑄖 𑄖𑄢 𑄃𑄨𑄙𑄪 𑄥𑄫𑄚𑄳𑄠𑄧𑅁

𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄦𑄨𑄣𑄴 𑄌𑄘𑄨𑄉𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄝 𑄥𑄧𑄁𑄞𑄫𑄃𑄨𑄠𑄮 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩 𑄌𑄉𑄣𑄖𑄴 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄟𑄴 𑄦𑄧𑄚𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄉𑄪𑄢𑄧 𑄡𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄨𑄇𑄴𑄪𑄣𑄧𑄖𑄴 𑄡𑄠𑄴, 𑄥𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄖𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄣𑄳𑄠 𑄛𑄧𑄢𑄳𑄦𑄚 𑄦𑄧𑄠𑄴 𑄃𑄨𑄖𑄴𑄮𑄇𑄪𑄘𑄪𑄟𑄴 𑄍𑄢 𑄃𑄘𑄟𑄧𑄖𑄴 𑄗𑄚 𑄥𑄚𑄴𑅁 𑄟𑄞𑄌𑄴𑄮𑄃𑄨 𑄚𑄧𑄠𑄴- 𑄖 𑄃𑄪𑄉𑄪𑄢𑄬 𑄝𑄪𑄉𑄬 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄦𑄧𑄠𑄴 𑄈𑄬𑄟𑄧𑄖 𑄝𑄧𑄣 𑄞𑄌𑄴𑅁 𑄉𑄪𑄢𑄧𑄝𑄮 𑄥𑄨𑄊𑄬, 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄴 𑄃𑄧𑄇𑄬𑄎𑄮, 𑄝𑄚 𑄊𑄧𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄇𑄧𑄚, 𑄣𑄬𑄟𑄴 𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬𑅁 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄛𑄨𑄢𑄨𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄢𑄴 𑄛𑄨𑄢𑄨 𑄥𑄬𑄊𑄠𑄴, 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄬 𑄃𑄣𑄘 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄧𑄚𑄬𑄭 𑄃𑄨𑄎𑄬𑄝𑄬 𑄈𑄟𑄴 𑄚𑄧 𑄈𑄚𑅁

Living Tongues Institute for Endangered Languages-𑄃𑄬 𑄉𑄧𑄝𑄬𑄥𑄧𑄇𑄴 Gregory Anderson 𑄇𑄧𑄠𑄴, “𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄎𑄖𑄴 𑄟𑄧𑄚𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄬 𑄖 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄴 𑄖𑄬𑄋 𑄇𑄟𑄚 𑄃 𑄥𑄧𑄟𑄌𑄴 𑄞𑄣𑄬𑄘𑄨 𑄇𑄟𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄙 𑄥𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄥𑄬 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄴 𑄞𑄧𑄌𑄴 𑄡𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄙𑄬 𑄦𑄙𑄬𑅁” 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄌𑄴 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴 𑄝𑄧 (𑄛𑄧𑄢𑄨𑄝𑄬𑄥𑄴) 𑄚𑄨𑄎𑄬 𑄝𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠𑅁 𑄌𑄉𑄧𑄢𑄨, 𑄃𑄘𑄣𑄧𑄖𑄴, 𑄛𑄳𑄢𑄧𑄥𑄥𑄧𑄚𑄴, 𑄥𑄨𑄇𑄴𑄈- 𑄝𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄨𑄖𑄴 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩 𑄞𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄏𑄢 𑄚𑄬𑄃𑄨𑅁 𑄥𑄣𑄬𑄚𑄴 𑄟𑄚𑄪𑄌𑄴 𑄇𑄨𑄋𑄨𑄢𑄨 𑄥𑄨𑄊𑄨𑄝𑄇𑄴 𑄡𑄬 𑄖𑄢𑄢𑄴 𑄟 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄴 𑄟𑄫𑄣𑄳𑄠𑄧 𑄃𑄊𑄬?


𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄉𑄪𑄢𑄴 𑄡𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄇𑄚𑄬, 𑄖𑄬 𑄇𑄮𑄃𑄨 𑄚𑄧 𑄛𑄢𑄬 𑄖 𑄘𑄪𑄊𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄙, 𑄛𑄨𑄢𑄬 𑄛𑄚 𑄇𑄧𑄙𑅁 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄝𑄚𑄬𑄣𑄧 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄥𑄬 𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴𑅁 𑄖𑄢 𑄇𑄨𑄏𑄬𑄇𑄴 𑄇𑄢𑄧𑄚𑄴, 𑄇𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄎𑄉-𑄎𑄧𑄟𑄨𑄣𑄠𑄴, 𑄇𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄞𑄏𑄧𑄢𑄧𑄣𑄠𑄴, 𑄇𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄌𑄋𑄴𑄍𑄢 (𑄃𑄧𑄥𑄴𑄖𑄨𑄖𑄴𑄝𑄧) 𑄣𑄠𑄴𑅁 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄥𑄬 𑄇𑄚𑄚, 𑄇𑄨𑄏𑄬𑄇𑄴𑄃𑄪𑄚𑄴 “𑄃𑄪𑄚𑄴𑄧𑄠𑄧𑄚𑄴-𑄝𑄨𑄢𑄮𑄙𑄩”, “𑄝𑄨𑄌𑄴𑄍𑄨𑄚𑄴𑄧𑄖𑄝𑄘𑄩”, “𑄃𑄧𑄡𑄮𑄇𑄴𑄖𑄨𑄇𑄴 𑄘𑄝𑄨” 𑄇𑄮𑄃𑄨 𑄘𑄧𑄋𑄬 𑄢𑄊𑄠𑄴𑅁

𑄞𑄌𑄴𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄟𑄚𑄬𑄭 𑄟𑄚𑄬 𑄢𑄎𑄴𑄚𑄰𑄖𑄨𑄇𑄧𑄖𑄴 𑄟𑄬𑄣𑄮𑄟𑄌𑄴 𑄟𑄚𑄬𑄃𑄨𑅁 𑄡𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄃𑄨, 𑄖𑄢𑄴 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄇𑄴 𑄚𑄧 𑄗𑄠𑄴 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄈𑄘𑄖𑄴𑅁 𑄖𑄢 𑄉𑄳𑄠𑄬𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄇𑄮 𑄇𑄧𑄠𑄴 𑄣𑄮𑄇𑄧𑄇𑄧𑄙, 𑄖 𑄘𑄧𑄢𑄴𑄥𑄧𑄚𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄇𑄮 𑄇𑄧𑄠𑄴 𑄇𑄪𑄛𑄬𑄎-𑄇𑄪𑄈𑄌𑄳𑄠𑄬𑄖𑄴 (𑄇𑄪𑄥𑄧𑄁𑄥𑄴𑄇𑄢𑄴)𑅁 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄟𑄚𑄪𑄌𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄞𑄬𑄎𑄣𑄳𑄠 𑄝𑄚𑄠𑄴𑅁

𑄃𑄧𑄗𑄧𑄌𑄴 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄉𑄧𑄖𑄴 𑄛 𑄡𑄠𑄴, 𑄞𑄌𑄴 𑄜𑄨𑄢𑄬 𑄃𑄚𑄨 𑄛𑄢𑄬𑅁 𑄦𑄨𑄝𑄳𑄢𑄪 𑄃 𑄃𑄭𑄚𑄪 𑄞𑄌𑄴 𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄝𑄎𑄨 𑄃𑄊𑄬𑅁 𑄇𑄨𑄖𑄴𑄬 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄥𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄞𑄢𑄴 𑄣𑄮𑄃𑄨𑄠𑄬𑅁 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄏𑄧𑄖𑄴 𑄇𑄨𑄖𑄳𑄠𑄬 𑄥𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄛𑄢 𑄚𑄧 𑄡𑄢𑄴? 𑄇𑄨𑄖𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄬𑄡𑄧 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩 𑄞𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄥𑄨𑄇𑄴𑄈𑄃𑄚𑄧𑄢𑄬 𑄏𑄪𑄉𑄨 𑄟𑄧𑄚𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄬? 𑄇𑄨𑄖𑄳𑄠𑄬 𑄥𑄧𑄁𑄝𑄨𑄙𑄚𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄧𑄦𑄪𑄖𑄴𑄧𑄝𑄘𑄴 𑄝𑄚 𑄇𑄉𑄧𑄎𑄮 𑄛𑄘𑄖𑄴?

𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄨 𑄢𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄇𑄪𑄎𑄮𑄣𑄨 𑄉𑄧𑄢𑄚 𑄚𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄟𑄴𑅁 𑄥𑄖𑄴𑄇𑄟𑄴𑅁 𑄟𑄞𑄌𑄴𑄍𑄮𑄃𑄨 𑄥𑄨𑄊𑄚, 𑄛𑄳𑄢𑄧𑄥𑄥𑄧𑄚𑄬 𑄟𑄚𑄨 𑄚𑄬𑄡𑄚, 𑄉𑄧𑄝𑄬𑄥𑄧𑄕 𑄃 𑄣𑄬𑄊𑄚 𑄌𑄧𑄌𑄴𑄡 𑄎𑄪 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄘𑄬𑄚, 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄨 𑄝𑄬𑄇𑄴 𑄢𑄎𑄴𑄚𑄰𑄖𑄨𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄢𑄧𑄞 𑄝𑄘𑄬 𑄞𑄌𑄴 𑄚𑄧 𑄝𑄎𑄬𑅁 

𑄢𑄥𑄴𑄑𑄳𑄢𑄧 𑄡𑄪𑄚𑄨 𑄥𑄧𑄖𑄳𑄠𑄨 𑄝𑄧𑄦𑄪𑄞𑄏𑄧𑄢𑄴, 𑄝𑄧𑄦𑄪 𑄎𑄘𑄧𑄢𑄴 𑄦𑄧𑄞𑄢𑄴 𑄝𑄪𑄉𑄧𑄛𑄧𑄘 𑄘𑄧𑄢𑄧 𑄦𑄧𑄠𑄴, 𑄥𑄣𑄬𑄚𑄴 𑄖𑄢𑄴 𑄃𑄉𑄬 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄚𑄨 𑄜𑄨𑄢𑄬𑄭 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄛𑄧𑄢𑄨𑄝𑄧𑅁 𑄚 𑄦𑄧𑄣𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄝𑄨𑄎𑄧𑄉𑄬 𑄛𑄪𑄎𑄮𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄧, 𑄖𑄮𑄟 𑄃𑄪𑄚𑄴𑄧𑄠𑄧𑄚𑄴 𑄇𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴𑄍𑄮 𑄣𑄬𑄊 𑄦𑄧𑄠𑄬 𑄃 𑄇𑄢𑄴 𑄇𑄢𑄴 𑄞𑄌𑄴 𑄞𑄧𑄌𑄴 𑄚𑄬𑄉𑄚 𑄦𑄧𑄠𑄬? 

𑄞𑄌𑄴 𑄟𑄧𑄢𑄨 𑄉𑄬𑄣𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄎𑄖𑄴 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄨𑄟𑄨𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄦𑄎𑄨 𑄡𑄠𑄴𑅁 𑄖𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄟𑄏𑄢𑄴 𑄚𑄧 𑄗𑄠𑄴𑅁

শান্তির সুখবর, নাকি পুরোনো ক্ষতের ওপর নতুন প্রলেপ? - ইনজেব চাঙমা

    “পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি নিয়ে সুখবর আসবে”—মন্ত্রীর কণ্ঠে উচ্চারিত এই বাক্য খবরের কাগজের শিরোনামে যেন এক টুকরো রোদ্দুর হয়ে ঝরে...