বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

𑄟𑄮𑄚𑄴 𑄟𑄪𑄢𑄴 𑄍𑄧𑄢 𑄉𑄋𑄴 𑄍𑄨𑄢𑄨 𑄟𑄳𑄠𑄢𑄗𑄧𑄚𑄴 𑄟𑄧𑄐𑄴𑄌𑄧𑄖𑄴 𑄛𑄮𑄖𑄧𑄛𑄮𑄖𑄳𑄠 𑄞𑄣𑄬𑄘𑄨 𑄌𑄧𑄑𑄴𑄧𑄉𑄳𑄢𑄟𑄴 𑄝𑄨𑄌𑄴𑄧𑄝𑄨𑄘𑄳𑄠𑄠𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟

𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟
𑄛𑄢𑄴𑄝𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄎𑄬𑄣 𑄟𑄮𑄚𑄴 𑄟𑄪𑄢𑄧 𑄘𑄬𑄏𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄃𑄪𑄘𑄨 𑄃𑄬𑄥𑄳𑄠𑄬 𑄘𑄧𑄋𑄬 𑄚𑄧 𑄛𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄟𑄧𑄚𑄧𑄝𑄧𑄣𑄴, 𑄃𑄉𑄗𑄳𑄠 𑄈𑄘𑄪𑄚𑄨 𑄃 𑄥𑄧𑄝𑄧𑄚𑄚𑄨𑄢𑄬 𑄥𑄧𑄟𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄳𑄠𑄢𑄗𑄧𑄚𑄴 𑄃𑄪𑄘𑄮𑄚𑄧𑄖𑄴 𑄚𑄨𑄎𑄧 𑄞𑄬𑄘𑄟𑄴 𑄘𑄧𑄢𑄧𑄟𑄧𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄌𑄴𑄍𑄬 𑄃𑄘𑄨𑄝𑄥𑄩 𑄛𑄧𑄢𑄴𑄝𑄮𑄠 𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟𑅁 𑄖𑄬 𑄌𑄧𑄑𑄴𑄧𑄉𑄳𑄢𑄟𑄴 𑄝𑄨𑄌𑄴𑄧𑄝𑄨𑄘𑄳𑄠𑄣𑄧𑄠𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄬 Dramatics Department (𑄸𑄶𑄷𑄼–𑄷𑄽 𑄥𑄬𑄥𑄧𑄚𑄴)-𑄃𑄬 𑄛𑄮𑄃𑄨𑄚𑄋𑄨 𑄛𑄧𑄢𑄴𑄝𑄮𑄠𑅁

𑄟𑄪𑄢𑄪𑄣𑄳𑄠 𑄌𑄉𑄣𑄖𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄎𑄪 𑄚𑄧 𑄛𑄚𑄢𑄴 𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟 𑄦𑄙𑄚 𑄃𑄪𑄌𑄴𑄮 𑄚𑄧 𑄃𑄬𑄣𑄧𑅁 𑄚𑄨𑄢𑄨𑄝𑄨𑄣𑄨 𑄟𑄪𑄢𑄪𑄣𑄳𑄠 𑄎𑄨𑄁𑄇𑄚𑄨𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄘𑄬𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄳𑄠𑄢𑄗𑄧𑄚𑄴 𑄟𑄧𑄐𑄴𑄌𑄧𑄖𑄴 𑄃𑄪𑄘𑄚, 𑄃𑄬 𑄣𑄟𑄴𑄝 𑄡𑄖𑄳𑄢 𑄖𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄚𑄴𑄥𑄪𑄢𑄴 𑄣𑄢𑄬𑄃𑄨 𑄉𑄧𑄢 𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄚𑄚𑄚𑄴 𑄇𑄪𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄟𑄙𑄚𑄧𑄖𑄴𑅁 𑄖𑄬 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄪𑄉𑄪𑄢𑄬 𑄝𑄨𑄌𑄳𑄠𑄬𑄌𑄴 𑄃 𑄚𑄨𑄦𑄣𑄴𑄏𑄨 𑄈𑄘𑄪𑄚𑄨 𑄝𑄧𑄣𑄬 𑄖𑄬 𑄛𑄳𑄢𑄧𑄟𑄚𑄴 𑄉𑄧𑄌𑄴𑄍𑄬, 𑄟𑄧𑄚𑄧𑄝𑄧𑄣𑄴 𑄗𑄬𑄣𑄬 𑄡𑄬 𑄇𑄧𑄚𑄧 𑄃𑄢𑄌𑄇𑄴 𑄟𑄬𑄢𑄳𑄦𑄬 𑄚𑄨 𑄛𑄢𑄬𑅁

𑄸𑄶𑄸𑄻 𑄥𑄣𑄧𑄢𑄴 𑄗𑄪𑄟𑄬𑄘𑄨𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄸𑄶𑄸𑄼 𑄥𑄣𑄴 𑄥𑄧𑄁 𑄃𑄬 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄖𑄧𑄠𑄚𑄴 𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟𑄣𑄠𑄴 𑄃𑄬𑄣𑄧 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄟𑄧𑄦𑄬𑄚𑄴𑄘𑄳𑄢𑄧 𑄈𑄬𑄚𑄴𑅁 𑄃𑄬 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄖𑄧𑄠𑄚𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄛𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄉𑄮𑄘 𑄛𑄨𑄖𑄴𑄨𑄟𑄨𑄖𑄴 𑄟𑄳𑄠𑄢𑄗𑄧𑄚𑄴 𑄎𑄨𑄖𑄴𑄝𑄘𑄧𑄖𑄴 𑄥𑄧𑄢𑄨𑄖𑄴 𑄃𑄧𑄃𑄨 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄥𑄬𑄘𑄟𑄧𑄢𑄴 𑄚𑄋𑄴 𑄣𑄬𑄊𑄨𑄣𑄧𑅁
𑄃𑄨𑄢𑄪𑄇𑄴 𑄚𑄋𑄴 𑄉𑄨𑄚𑄨 𑄛𑄢𑄬 𑄛𑄢 𑄖𑄢𑄴 𑄷𑄶𑄥𑄚𑄴 𑄛𑄃𑄮𑄖𑄴𑄨 (𑄃𑄧𑄢𑄴𑄎𑄧𑄚𑄴)-

 1. One Run International Half Marathon (10KM) — 𑄸𑄹.𑄶𑄻.𑄸𑄶𑄸𑄼 𑄷𑄟𑄴 𑄃𑄬𑄥𑄴𑄗𑄚𑄴
2. The Athlete X Organized Run (15KM) — 𑄸𑄸.𑄶𑄻.𑄸𑄶𑄸𑄼
𑄷𑄟𑄴 𑄃𑄬𑄥𑄴𑄗𑄚𑄴  
3. Rangamati Hill Half Marathon (10KM) — 𑄷𑄶.𑄶𑄺.𑄸𑄶𑄸𑄼
𑄷𑄟𑄴 𑄃𑄬𑄥𑄴𑄗𑄚𑄴  
4. Infinity Kutubdia Island Half Marathon (21.1KM) — 𑄸𑄽.𑄶𑄺.𑄸𑄶𑄸𑄼
𑄌𑄳𑄠𑄟𑄴𑄛𑄨𑄠𑄧𑄚𑄴
5. Bhatiary International Marathon (10KM) — 𑄶𑄹.𑄶𑄷.𑄸𑄶𑄸𑄼
𑄿𑄟𑄴 𑄃𑄬𑄥𑄴𑄗𑄚𑄴  
6. Pahartali 10K Run — 𑄷𑄼.𑄶𑄷.𑄸𑄶𑄸𑄼
𑄷𑄟𑄴 𑄢𑄚𑄢𑄴-𑄃𑄛𑄴
7. Chattogram City Half Marathon (21.1KM) — 𑄷𑄼.𑄷𑄸.𑄸𑄶𑄸𑄻
𑄌𑄳𑄠𑄟𑄴𑄛𑄨𑄠𑄧𑄚𑄴
8. Brahman Para 10K Night Run — 𑄓𑄨𑄥𑄬𑄟𑄴𑄝𑄧𑄢𑄴 𑄸𑄶𑄸𑄻
𑄷𑄟𑄴 𑄢𑄚𑄢𑄴-𑄃𑄛𑄴
9. P2P Active Pulse Chattogram Marathon (21.1KM)
𑄸𑄠𑄧 𑄢𑄚𑄢𑄴-𑄃𑄛𑄴
10. Cumilla Marathon (21.1KM) — 𑄶𑄽.𑄷𑄷.𑄸𑄶𑄸𑄻
𑄸𑄠𑄧 𑄢𑄚𑄢𑄴-𑄃𑄛𑄴

𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟 𑄃𑄬 𑄞𑄣𑄬𑄘𑄨 𑄇𑄨𑄗𑄳𑄠𑄬 𑄝𑄚 𑄟𑄳𑄠𑄢𑄗𑄧𑄚𑄧𑄖𑄴 𑄟𑄧𑄙𑄳𑄠𑄬 𑄚𑄧 𑄗𑄮𑄇𑄴- 𑄖 𑄇𑄨𑄗𑄳𑄠𑄬 𑄍𑄨𑄘𑄨 𑄛𑄧𑄢𑄮𑄇𑄴 𑄟𑄪𑄢𑄪𑄣𑄳𑄠 𑄌𑄉𑄣𑄥𑄪𑄟𑄪𑄖𑄴𑄧 𑄥𑄧𑄁 𑄎𑄉𑄖𑄴 𑄛𑄨𑄢𑄨𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄛𑄨𑄢𑄨𑅁 𑄖𑄬 𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄝𑄚 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮 𑄞𑄣𑄬𑄘𑄨 𑄙𑄝𑄘𑄬𑄚 𑄇𑄧𑄎𑄣𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄖𑄬 𑄟𑄪𑄢𑄪𑄣𑄳𑄠 𑄌𑄉𑄣 𑄉𑄞𑄪𑄎𑄳𑄠-𑄉𑄞𑄪𑄢𑄨𑄃𑄪𑄚𑄴 𑄚𑄪𑄃𑄧 𑄃𑄏 – 𑄥𑄧𑄝𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄏𑄢 𑄃 𑄃𑄪𑄌𑄴𑄮𑄟𑄨𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄚𑄋𑄴𑅁

𑄥𑄫𑄖𑄳𑄢𑄧: Chittagong University Indigenous Students (CUIS)

সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

পাহাড়ে ধর্ষণ ও বিচারহীনতা: রাষ্ট্র কি শুনছে? ইনজেব চাঙমা

 

২৩ মে, ২০২৬। বান্দরবানের থানচি উপজেলা সদরের বুক চিরে বেরিয়ে এলো আর্তনাদ—পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ। পরদিন ২৪ মে, পুলিশের জালে ধরা পড়ল ষোলো বছরের এক কিশোর। ঘটনা মর্মান্তিক, নিঃসন্দেহে। কিন্তু পাহাড়ের বাতাসে ভেসে বেড়ানো প্রশ্নটা আরও গভীর: এটি কি নিছকই একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা, নাকি সবুজ পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা রক্তের দাগের আরও একটি নতুন বিন্দু?
পুলিশের খাতাই সাক্ষী দিচ্ছে—২০২৫ সালেই শুধু বান্দরবানে ১১টি শিশু আর দুই গৃহবধূর সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হয়েছে। একই বছরের ৫ মে, জুমখেতে কাজ করতে গিয়ে চিংমা খিয়াং নামের এক নারী ফিরে আসেননি আর। তার নিথর দেহ পাওয়া গিয়েছিল ঝোপের আড়ালে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিনিয়া চাকমার কণ্ঠে তখনও শোনা গেছে সেই চিরচেনা বাক্য—“তদন্ত চলমান”। পাহাড় জানে, এই “চলমান” শব্দটির আড়ালে কত দীর্ঘশ্বাস, কত অন্ধকার রাত জমে থাকে। কত মামলার ফাইল ধুলোয় চাপা পড়ে, আর কত অপরাধী নতুন শিকারের খোঁজে বের হয়।
এই অন্ধকারের হিসেব রেখেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত তাদের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন বলছে—এক বছরে ২৬টি ঘটনায় ৩২ জন জুম্ম নারী ও শিশু ধর্ষণ, যৌন হয়রানি আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার। সংখ্যা নয়, এ যেন পাহাড়ের প্রতিটি ঝরনার জলে মিশে যাওয়া অশ্রুর হিসেব। এ হিসেব বলে দেয়, জুম্ম নারীর শরীর আজও নিরাপদ নয়—না জুমখেতে, না ঘরের আঙিনায়।
তাই ২৫ মে, ২০২৬। রাঙামাটির রাজপথে নেমে এলো পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ আর হিল উইমেন্স ফেডারেশন। বিলাইছড়িতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, থানচিতে শিশুকে ধর্ষণ, আর রাজধানীতে শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড—সব ক্ষোভ একসাথে গর্জে উঠল শ্লোগানে। দাবি একটাই, স্পষ্ট আর তীক্ষ্ণ: দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
কিন্তু প্রশ্নটা রয়েই যায়—এই মিছিল, এই শ্লোগান, এই কান্না—রাষ্ট্র কি শুনতে পায়? চাকমা প্রবাদ আছে—“এ্যাদো কিয়েত কুগুরে বুগানা”। যার অর্থ, ডেকে কোনো লাভ নেই, সে শুনেও শুনবে না। পাহাড়ের মানুষের কাছে রাষ্ট্রের ভূমিকা আজ সেই কুকুরের মতোই—ডাক শুনেও নির্বিকার।
অপরাধ যখন শাস্তি পায় না, তখন তা আর অপরাধ থাকে না, হয়ে ওঠে সংস্কৃতি। পাহাড়ে ধর্ষণ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি বিচারহীনতার এক স্থায়ী ব্যাধি। প্রতিটি দেরি করা বিচার, প্রতিটি ধামাচাপা দেওয়া মামলা অপরাধীর হাতে তুলে দিচ্ছে নতুন করে অস্ত্র। আর ধর্ষণের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
রাষ্ট্র যদি সত্যিই এক পতাকা, এক মানচিত্রের কথা বলে, তবে তার প্রথম প্রমাণ দিতে হবে পাহাড়ের নারী ও শিশুর নিশ্বাসের নিরাপত্তা দিয়ে। কারণ পতাকা শুধু কাপড়ের টুকরো নয়, এটি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে পাহাড়ের প্রতিটি ঝিরি অভিমানে শুকিয়ে যাবে, প্রতিটি জুমঘর থেকে উঠবে প্রতিবাদের আগুন।
আর তখন প্রশ্নটা আরও কঠিন হয়ে ফিরে আসবে—রাষ্ট্র কি শুনছে? নাকি পাহাড়ের কান্না শুধু পাহাড়েই প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে যাচ্ছে?
তথ্যসূত্র: হিল ভয়েচ ও দৈনিক প্রথম আলো (২৫ মে ২০২৬)

শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

𑄃𑄪𑄖𑄴𑄨𑄛𑄪𑄖𑄴𑄨𑄢𑄴 𑄣𑄓𑄬𑄃𑄨 𑄃 𑄣𑄧𑄇𑄧𑄜𑄧𑄇𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄟𑄴- 𑄃𑄨𑄚𑄧𑄎𑄬𑄝𑄴 𑄌𑄋𑄧𑄟

𑄟𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄎𑄨𑄁𑄇𑄚𑄨 𑄦𑄙𑄚𑄴 𑄛𑄧𑄖𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄃𑄪𑄎𑄪 𑄚𑄧 𑄦𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄃𑄟𑄨 𑄛𑄧𑄖𑄴𑄨𑄇𑄴 𑄎𑄧𑄚𑄬 𑄡𑄢𑄴 𑄡𑄢𑄴 𑄎𑄉𑄖𑄴 𑄗𑄬𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄞𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄟𑄚𑄨 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄟𑄧𑄚𑄬 𑄛𑄧𑄢𑄚𑄬 𑄌𑄬𑄢𑄬𑄌𑄧𑄖 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄢𑄴𑅁 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄎𑄧𑄚𑄬 𑄃𑄮𑄌𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄝𑄧𑄎𑄧𑄁 𑄝 𑄞𑄪𑄣𑄴 𑄚𑄧 𑄉𑄧𑄢𑄧𑄚𑄴, 𑄚𑄧 𑄉𑄧𑄢𑄧𑄚𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄧𑄎𑄧𑄚𑄬 𑄇𑄢𑄧𑄢𑄬 𑄣𑄬𑄋𑄴𑅁 𑄖𑄪𑄃𑄧 𑄎𑄨𑄁𑄇𑄚𑄨 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄮𑄚𑄴 𑄃𑄧𑄘𑄴𑄞𑄪𑄖𑄴 𑄗𑄬𑄉𑄧𑄖𑄴 𑄛𑄧𑄢 𑄡𑄠𑄴, 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴 𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄟𑄙𑄚𑄴𑄮 𑄟𑄪𑄠𑄮-𑄟𑄪𑄠𑄨 𑄦𑄧𑄃𑄨 𑄛𑄠𑄴 𑄥𑄨𑄠𑄮𑄖𑄴 𑄈𑄟𑄇𑄴𑄇𑄠𑄴 𑄌𑄨𑄚𑄧𑄛𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄟𑄚𑄪𑄏𑄮𑄢𑄴 𑄃𑄨𑄙𑄪 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄬 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄨 𑄃𑄧𑄙𑄬 𑄌𑄮𑄇𑄴 𑄛𑄬𑄣𑄬 𑄛𑄬𑄣𑄬 𑄢𑄨𑄚𑄨 𑄌𑄚𑅁 𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄦𑄧𑄠𑄧𑄘𑄴 𑄟𑄧 𑄎𑄨𑄁𑄇𑄚𑄨𑄖𑄴 𑄥𑄬 𑄃𑄉𑄗𑄳𑄠 𑄛𑄧𑄢𑄨𑄇𑄴𑄈𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄴𑅁 

𑄃𑄟𑄧𑄢 𑄥𑄧𑄝𑄭 𑄚𑄨𑄎𑄬𑄢𑄴 𑄚𑄨𑄎𑄬𑄢𑄴 𑄇𑄎𑄴 𑄇𑄧𑄢𑄧𑄍𑄨, 𑄚𑄨𑄎𑄬𑄢𑄴 𑄟𑄧𑄖𑄮 𑄇𑄧𑄢𑄬 𑄥𑄧𑄖𑄧𑄖𑄢𑄴 𑄥𑄗𑄬 𑄛𑄧𑄗𑄴 𑄌𑄧𑄣𑄧𑄍𑄨𑅁 𑄛𑄳𑄢𑄧𑄖𑄳𑄠𑄬𑄇𑄬𑄃𑄨 𑄚𑄨𑄎𑄴 𑄚𑄨𑄎𑄴 𑄚𑄨𑄠𑄧𑄖𑄨 𑄃𑄮 𑄇𑄧𑄢𑄴𑄖𑄧𑄝𑄳𑄠𑄬𑄢𑄴 𑄎𑄣𑄬 𑄝𑄧𑄚𑄴𑄘𑄨𑅁 𑄇𑄨𑄚𑄴𑄖𑄪 𑄚𑄨𑄠𑄧𑄖𑄨𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄢𑄨𑄦𑄥𑄴 𑄃𑄬𑄟𑄧𑄚𑄧𑄃𑄨 𑄡𑄬, 𑄟𑄏𑄬𑄟𑄧𑄙𑄳𑄠𑄬 𑄚𑄨𑄎𑄬𑄢𑄴 𑄦𑄧𑄇𑄴 𑄝 𑄘𑄠𑄨𑄖𑄴𑄝𑄧 𑄛𑄣𑄧𑄚𑄴 𑄇𑄧𑄢𑄧𑄖𑄬 𑄉𑄨𑄠𑄬𑄃𑄮 𑄃𑄧𑄚𑄳𑄠𑄬𑄢𑄴 𑄌𑄮𑄈𑄬 𑄃𑄧𑄚𑄨𑄌𑄴𑄍𑄇𑄳𑄢𑄨𑄖𑄧𑄞𑄝𑄬𑄃𑄨 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄩 𑄥𑄬𑄎𑄬 𑄡𑄬𑄖𑄬 𑄦𑄧𑄠𑄴𑅁 𑄃𑄧𑄗𑄧𑄌𑄴 𑄃𑄟𑄧𑄢 𑄝𑄧𑄢𑄝𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄬 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄬𑄢𑄴 𑄛𑄥𑄬 𑄍𑄨𑄣𑄟𑄴, 𑄥𑄪𑄈𑄴-𑄘𑄪𑄂𑄈𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄖𑄴𑄟𑄧 𑄦𑄧𑄠𑄬𑄍𑄨 𑄃𑄬𑄝𑄧𑄁 𑄞𑄧𑄝𑄨𑄥𑄳𑄠𑄧𑄖𑄬𑄃𑄮 𑄝𑄧𑄢𑄝𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄥𑄗𑄬𑄃𑄨 𑄗𑄇𑄧𑄝𑄮𑅁 𑄥𑄟𑄧𑄠𑄨𑄇𑄴 𑄇𑄮𑄚𑄮 𑄏𑄧𑄓𑄴 𑄝 𑄞𑄪𑄣𑄴 𑄝𑄮𑄏𑄝𑄪𑄏𑄨 𑄃𑄟𑄘𑄬𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄃𑄨 𑄘𑄩𑄢𑄴𑄊𑄧𑄘𑄨𑄚𑄬𑄢𑄴 𑄃𑄖𑄴𑄟𑄨𑄇𑄴 𑄝𑄧𑄚𑄴𑄙𑄧𑄚𑄧𑄇𑄬 𑄍𑄨𑄀𑄓𑄬 𑄜𑄬𑄣𑄧𑄖𑄬 𑄛𑄢𑄬 𑄚𑅁

𑄃𑄨𑄢𑄪𑄇𑄴 “𑄉𑄝𑄪𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄟𑄌𑄧𑄖𑄧𑄢𑄴” 𑄟𑄖𑄴𑄮 𑄝𑄬𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄪𑄉𑄧𑄖𑄴 𑄘𑄬𑄊𑄬 𑄚𑄧 𑄛𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄛𑄨𑄢𑄬 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄟𑄴 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠𑅁 𑄃𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄴 𑄟𑄙𑄚𑄴 𑄚𑄨𑄚𑄬𑄃𑄨 𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄝𑄬𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄪𑄉𑄧𑄖𑄴 𑄖𑄧𑄌𑄳𑄠 𑄃 𑄇𑄨𑄏𑄬𑄇𑄴 𑄢𑄧 𑄥𑄢𑄬𑄢𑄴𑅁 𑄟𑄌𑄧𑄖𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄚 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄇𑄟𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄟𑄧𑄚𑄴 𑄢𑄬𑄉 𑄃 𑄥𑄧𑄟𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄦𑄴𑄋𑄬𑄣𑄴𑅁 𑄡𑄧𑄈𑄳𑄠𑄬 𑄥𑄬 𑄦𑄋𑄬𑄣𑄧𑄖𑄴 𑄛𑄨𑄢𑄬 𑄜𑄪𑄘𑄬 𑄝 𑄞𑄬𑄎𑄣𑄴 𑄦𑄧𑄠𑄴, 𑄥𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬 𑄣𑄮 𑄉𑄧𑄢𑄧𑄟𑄴 𑄃𑄧𑄞𑄴 𑄈𑄟𑄇𑄴𑄇𑄠𑄴𑅁 𑄃𑄬 𑄘𑄪𑄇𑄴 𑄝𑄚 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄎𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄃𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄃𑄟 𑄥𑄧𑄟𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄬𑄘𑄧𑄚𑄧𑄖𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄊𑅁 

𑄃𑄟𑄨 𑄝𑄬𑄇𑄴𑄪𑄚𑄬 𑄡𑄢𑄴 𑄡𑄬 𑄇𑄟𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄢𑄴, 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄥𑄚𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄚𑄨𑄝𑄨𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄛𑄧𑄖𑄴 𑄦𑄙𑄨𑄢𑄴𑅁 𑄛𑄧𑄖𑄴𑄨𑄇𑄴 𑄡𑄢𑄴 𑄡𑄢𑄴 𑄞𑄉𑄳𑄠𑄧 𑄃 𑄇𑄟𑄴 𑄎𑄣𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄚𑄴𑄘 𑄃𑄊𑄨𑅁 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴, 𑄞𑄉𑄳𑄠𑄧 𑄥𑄪𑄙𑄮𑄟𑄬 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄖𑄬 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄖𑄬 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄇𑄴 𑄝 𑄇𑄟𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄧𑄘𑄬 𑄟𑄚𑄧𑄌𑄮𑄢𑄴 𑄌𑄮𑄊𑄧𑄖𑄴 𑄟𑄧𑄚𑄬 𑄚𑄧 𑄦𑄧𑄣𑄬𑄃𑄮 𑄃𑄧𑄛𑄢𑄙𑄨 𑄃𑄧𑄃𑄨 𑄛𑄠𑄴𑅁 𑄃𑄧𑄗𑄧𑄌𑄴 𑄃𑄟𑄨 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄎𑄧𑄚𑄬 𑄃𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄠𑄴 𑄃𑄬𑄣𑄧𑄁, 𑄥𑄪𑄊𑄧𑄢𑄴-𑄘𑄪𑄊𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄖𑄧 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄥𑄧𑄟𑄢𑄬 𑄇𑄟𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄣𑄧𑄁 𑄃 𑄟𑄪𑄏𑄪𑄋𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄧𑄖𑄧𑄃𑄮 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄥𑄧𑄟𑄢𑄬 𑄗𑄬𑄝𑄧𑄁𑅁 𑄈𑄇𑄴𑄮𑄚𑄳𑄠 𑄏𑄧𑄢𑄴 𑄝 𑄞𑄪𑄣𑄴 𑄝𑄪𑄏-𑄝𑄪𑄏𑄨 𑄃𑄟𑄢𑄴 𑄃𑄬 𑄢𑄬𑄋𑄝𑄮 𑄞𑄋𑄨 𑄡𑄬𑄃𑄨 𑄚𑄧 𑄛𑄢𑄬 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄟𑄧𑄖𑄳𑄠𑄭𑅁 

𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄪𑄚𑄴 𑄦𑄧𑄠𑄧𑄘𑄴 𑄃𑄟𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄃𑄋𑄧𑄌𑄳𑄠 𑄃𑄚𑄴𑄘𑄢𑄴 𑄢𑄬𑄖𑄴, 𑄟𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄎𑄧𑄣, 𑄖𑄧𑄌𑄳𑄠𑅁 𑄃𑄬𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄦𑄧𑄠𑄧𑄘𑄴 𑄃𑄬 𑄘𑄨𑄚𑄧𑄟𑄙𑄚𑄴 𑄟𑄧𑄢𑄬 𑄃𑄬𑄙𑄧𑄇𑄳𑄠𑄬𑄚𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴𑄇𑄚𑄴 𑄇𑄒𑄧𑄉𑄢𑄧𑄖𑄴 𑄗𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄢𑄊𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄝𑄙𑄳𑄠𑄧 𑄉𑄧𑄌𑄴𑄍𑄬 𑄥𑄨𑄠𑄮𑄖𑄴 𑄟𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄧𑄚𑄴 𑄃𑄧𑄥𑄧𑄖𑄴 𑄃𑄪𑄘𑄴𑄬𑄥𑄳𑄠𑄧 𑄚𑄧 𑄗𑄚𑄢𑄴 𑄛𑄧𑄢𑄧𑄠𑄳𑄠𑄧 𑄟𑄪𑄃𑄨 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄨𑄥𑄚𑄴 𑄃𑄧𑄣𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄃𑄨 𑄃𑄊𑄧𑄁𑅁 𑄟𑄖𑄴𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄨𑄙𑄮𑄖𑄴 𑄢𑄊 𑄛𑄧𑄢𑄨𑄝𑄴, 𑄃𑄬 𑄈𑄇𑄴𑄮𑄚𑄳𑄠 𑄞𑄪𑄣𑄴 𑄝𑄪𑄏𑄴-𑄝𑄪𑄏𑄨 𑄝 𑄟𑄧𑄚𑄴 𑄢𑄬𑄉 𑄞𑄋𑄨 𑄜𑄬𑄣𑄚 𑄃𑄟 𑄃𑄢𑄁 𑄣𑄧𑄇𑄴𑄈𑄳𑄠𑄧 𑄚𑄧𑄠𑄴𑅁 

”𑄃𑄟 𑄃𑄢𑄁 𑄇𑄟𑄴 𑄦𑄧𑄣𑄧𑄘𑄬 𑄃𑄪𑄪𑄖𑄴𑄧𑄛𑄪𑄖𑄴𑄨 𑄗𑄨𑄘𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄚𑅁 𑄥𑄪𑄎𑄨 𑄈𑄨𑄠𑄳𑄠, 𑄖𑄧𑄌𑄳𑄠-𑄛𑄬𑄢𑄎𑄢𑄴 𑄈𑄝𑄬𑄠𑄳𑄠 𑄃 𑄃𑄧𑄥𑄧𑄖𑄴 𑄝𑄧𑄚𑄴𑄘𑄢𑄴 𑄝𑄋𑄬-𑄛𑄨𑄌𑄴𑄍𑄬 𑄗𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄚𑄨𑄎𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄢𑄁 𑄛𑄃𑄮𑄖𑄴𑄨 𑄃 𑄟𑄚𑄴 𑄍𑄨𑄚𑄨 𑄃𑄚𑄚 𑄃𑄟 𑄃𑄢𑄁 𑄣𑄢𑄬𑄃𑄨𑅁”

𑄃𑄬 𑄃𑄪𑄖𑄴𑄨𑄛𑄧𑄖𑄴𑄨 𑄣𑄢𑄬𑄠𑄧𑄖𑄴 𑄣𑄟𑄧𑄖𑄬 𑄡𑄪𑄚𑄨 𑄈𑄇𑄴𑄮𑄚𑄧𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄇𑄢𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄛𑄧𑄢𑄙𑄨 𑄍𑄧𑄣𑄧𑄁 𑄝𑄧𑄘𑄧𑄣 𑄛𑄧𑄢𑄬 𑄖𑄬 𑄥𑄬 𑄖𑄳𑄠𑄉𑄴 𑄝 𑄘𑄪𑄇𑄴 𑄟𑄚𑄨 𑄚𑄬𑄠𑄚 𑄥𑄨𑄠𑄚𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄴 𑄝𑄝𑄧𑄖𑄳𑄠 𑄇𑄧𑄎𑄣𑄴𑅁 𑄃𑄬 𑄟𑄬𑄇𑄧𑄌𑄉 𑄈𑄇𑄴𑄮𑄚𑄳𑄠𑅁 𑄃𑄟𑄨 𑄃𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄎𑄧𑄚𑄬 𑄃𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄎𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄦𑄖𑄴 𑄙𑄧𑄢𑄙𑄧𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄉𑄧𑄢𑄨 𑄦𑄙𑄨𑄝𑄧𑄁𑅁 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄎𑄧𑄚𑄬 𑄃𑄢𑄴 𑄃𑄬𑄇𑄧𑄎𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄘𑄪𑄊𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄠𑄴 𑄗𑄬𑄃𑄨 𑄙𑄧𑄢𑄳𑄠𑄴𑄧 𑄃 𑄃𑄟𑄧𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄃𑄪𑄖𑄴𑄨𑄛𑄧𑄖𑄴𑄨 𑄛𑄮𑄃𑄨𑄘𑄳𑄠𑄚𑄬 𑄘𑄧𑄢𑄧𑄟𑄧𑄢𑄴 𑄗𑄬𑄃𑄨 𑄃𑄟𑄨 𑄃𑄬 𑄃𑄉𑄗𑄳𑄠 𑄈𑄬𑄚𑄴𑄮 𑄛𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄨𑄝𑄴 𑄡𑄬𑄝𑄧𑄁𑅁 𑄘𑄨𑄚𑄬 𑄥𑄬𑄎𑄬 𑄃𑄟 𑄃𑄬 𑄎𑄧𑄙 𑄃 𑄃𑄪𑄖𑄴𑄨𑄛𑄧𑄖𑄴𑄨 𑄣𑄧𑄚 𑄎𑄨𑄖𑄴 𑄃𑄟𑄢𑄴 𑄝𑄬𑄉𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄝𑄬𑄌𑄴 𑄘𑄋𑄧𑄢𑄴 𑄝𑄧𑄣𑄴𑅁 

𑄟𑄬 𑄸𑄸, 𑄸𑄶𑄸𑄼

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

অধিকারের লড়াই ও সম্পর্কের দায়বদ্ধতা- ইনজেব চাঙমা


মানবজীবনের পথচলা কখনো মসৃণ সরলরেখায় হয় না। আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে দাঁড়িয়ে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে না, কেউ কাউকে আঘাত করতে চায় না। তবুও জীবনের কোনো এক অদ্ভুত মোড়ে এসে আমাদের এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে অবলীলাক্রমেই চেনা মানুষগুলোর সামনে নিজেকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে মায়াবদ্ধ মনে হয়। আজ হয়তো আমার জীবনের সেই কঠিন পরীক্ষার দিন।

বর্তমানে 'বর্গা শিক্ষক' শব্দবন্ধটি অনেকের বুকেই এক নীরব বেদনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে আজ সবার মনেই এক গভীর দুঃখ ও হাহাকার বিরাজমান। শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি আত্মিক বন্ধন ও সামাজিক মেরুদণ্ড। যখন সেই মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে বা কোনো টানাপোড়েন তৈরি হয়, তখন হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই দুঃখ কোনো একক ব্যক্তির নয়, এটি আমাদের সামষ্টিক চেতনার এক গভীর ক্ষত।

আমরা সবাই নিজের নিজের কাজ করছি, নিজের মতো করে সততার সাথে পথ চলছি। প্রত্যেকেই নিজ নিজ নিয়তি ও কর্তব্যের জালে বন্দি। কিন্তু নিয়তির পরিহাস এমনই যে, মাঝেমধ্যে নিজের হক বা দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও অন্যের চোখে অনিচ্ছাকৃতভাবেই অপরাধী সেজে যেতে হয়। অথচ আমরা বরাবর একে অপরের পাশে ছিলাম, সুখ-দুঃখে একাত্ম হয়েছি এবং ভবিষ্যতেও বরাবর একসাথেই থাকবো। সাময়িক কোনো ঝড় বা ভুল বোঝাবুঝি আমাদের এই দীর্ঘদিনের আত্মিক বন্ধনকে ছিঁড়ে ফেলতে পারে না।

আজকের দিনটি হয়তো আমার জন্য এক মহাসংকটের, এক নীরব আত্মদহনের। আজ হয়তো পরিস্থিতি আমাকে এমন এক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করেছে যেখানে আমার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও আমি অপরাধীর মতো স্তব্ধ হয়ে আছি। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি বা পারস্পরিক দূরত্ব আমাদের আসল লক্ষ্য নয়।

আমাদের আসল কাজ হলো অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। শোষণের বিরুদ্ধে, বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা ছিনিয়ে আনাই আমাদের মূল লড়াই।

এই অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নামতে গিয়ে যদি সাময়িকভাবে কাউকে 'অপরাধী'র রূপ ধারণ করতেও হয়, তবে সেই ত্যাগ বা গ্লানি মেনে নেওয়াও এক ধরণের বীরত্ব। এই মেঘ ক্ষণস্থায়ী। আমরা আবার একে অপরের হাত ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবো। পারস্পরিক সহানুভূতি, ধৈর্য এবং নিজেদের অধিকারের প্রতি অবিচল থেকে আমরা এই কঠিন সময়কে পার করে যাবো। দিনশেষে আমাদের এই একতা এবং অধিকার আদায়ের জেদ-ই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির সংগ্রাম- ইনজেব চাঙমা

 

একটি সভ্য সমাজের শ্রেষ্ঠতম মানদণ্ড হলো তার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও নিঃস্বার্থ পরোপকারিতা। বর্তমান সময়ে একঝাঁক তরুণের নিঃস্বার্থ কর্মকাণ্ডে সেই সভ্যতারই প্রতিফলন ঘটছে। কারও পারিবারিক অসুস্থতায় রক্তের জোগান দেওয়া, অর্থসংকটে পড়া শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়া, কিংবা অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন পরিবারের মাথার ওপর নতুন ছাদ তৈরি করে দেওয়া—এই সবকিছুই এক পরম মানবিক সংস্কৃতির অংশ। আশার কথা হলো, এই পরার্থপরতা কোনো ধার করা সংস্কৃতি নয়; এটি আবহমান কাল ধরে আমাদের চাকমা সমাজের নিজস্ব ঐতিহ্যের মধ্যেই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু বাহ্যিক সমাজ ও সংস্কৃতির এত অগ্রগতির পরও, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমরা কি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পেরেছি? গভীর অবলোকন বলে, বাহ্যিক আধুনিকতার আড়ালে আজও আমরা সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দি রয়ে গেছি।
 
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, একসময় সামন্ততান্ত্রিক সমাজে সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা ছিল এক দুর্লভ অধিকার। তৎকালীন দেওয়ানদের অন্ধ অনুকম্পা ও অনুমতি ছাড়া সাধারণ ঘরের সন্তানের শিক্ষালাভের কোনো সুযোগ ছিল না। শিক্ষার আলোকে প্রদীপ না ভেবে, নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হুমকিস্বরূপ মনে করা হতো। কিন্তু সময় স্থবির থাকে না। কৃষ্ণকিশোর চাকমার মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের আন্তরিক সহযোগিতা এবং পরবর্তীকালে এম এন লারমা ও সন্তু লারমার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে জুম্ম সমাজ এক যুগান্তকারী রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যায়। তাঁদের আলোকেই আজ চাঙমা সমাজের অগণিত মানুষ দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষায় দীক্ষিত হয়েছে, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

চাকমা তথা জুম্ম জাতির এই আত্মপ্রকাশের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসক থেকে শুরু করে পরবর্তী শাসকরাও কখনোই চায়নি এই জুম্ম জনতা স্বাধিকার ও আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকুক। ফলে ব্রিটিশ আমলে চাকমা রাজ্যকে তিন ভাগে বিভক্ত করে এর শক্তিকে খর্ব করার চেষ্টা করা হয়। সেই ক্ষত শুকানোর আগেই পাকিস্তান আমলে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে লাখো চাকমা মানুষকে নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে এক নির্মম বাস্তুচ্যুত শরণার্থীতে পরিণত করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি; লাখ লাখ বাঙালি পুনর্বাসনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনমিতি পরিবর্তন করে জুম্মদের নিজস্ব ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার এক দীর্ঘমেয়াদি চক্রান্ত চলমান রয়েছে। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তিও বাস্তবায়ন না হওয়াতে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান পুরোপুরি দিতে পারেনি।
 
আজ বরগাঙের পানি বহুদূর গড়িয়েছে, সমাজ আধুনিক হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হার বেড়েছে। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, কাঠামোগত সামন্তবাদ বিলুপ্ত হলেও আমাদের মনস্তত্ত্ব থেকে ‘সামন্ত চিন্তা’ দূর হয়নি। বর্তমানের তথাকথিত জনপ্রতিনিধি বা সমাজপতিদের আচরণে সেই পুরোনো দেওয়ানি মানসিকতার কুৎসিত প্রতিফলন প্রায়শই দৃশ্যমান হয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়:
•কোনো ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মতাদর্শের সাথে সাধারণ মানুষের চিন্তা না মিললে, তাকে প্রাপ্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
•কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যানারে সমাজপতির নাম সামান্য নিচে থাকলে বা বাদ পড়লে, তিনি অহংবোধে আঘাত পেয়ে হুমকি দিতে দ্বিধাবোধ করেন না।
 
শাসক নেই, রাজা-জমিদারের আইনি শাসন নেই, অথচ একশ্রেণীর সুবিধাবাদী মানুষ সমাজকে এখনো নিজেদের ব্যক্তিগত সামন্ততান্ত্রিক তালুক মনে করে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। এই মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারেরই চরম মূল্য চকাচ্ছে আজকের আর্তনাদমুখর পার্বত্য চট্টগ্রাম।
 
এই ঘোর অমাবস্যার মধ্যেও আশার আলো জ্বেলে রেখেছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। যে তরুণরা আজ রাজনীতি বা ক্ষমতার লোভের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তারাই আমাদের প্রকৃত মুক্তিদূত। সমাজের রক্তচক্ষু, রাজনৈতিক সংকীর্ণতা এবং তথাকথিত সমাজপতিদের অহংকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই নিবেদিতপ্রাণ তরুণরাই ভাঙবে নব্য-সামন্তবাদের এই অদৃশ্য দেয়াল।
 
সামন্তবাদ কেবল কোনো শাসনব্যবস্থা নয়, এটি একটি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। যতদিন না আমরা অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে পারছি, যতদিন না ক্ষমতার লোভের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাকে স্থান দিতে পারছি, ততদিন বাহ্যিক আধুনিকতা অর্থহীন। তবে তারুণ্যের এই নিঃস্বার্থ পদচারণাই বলে দেয়—দিনবদল আসন্ন। এই নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রাম তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং সামন্তবাদের অন্ধকার কাটিয়ে এক মুক্ত, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজে পদার্পণ করবে।

সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

ঐতিহ্যের দর্পণে অধিকারের জয়গান- ইনজেব চাঙমা


হৃদয়ের ঔদার্য আর সত্যের আলোয় যিনি প্রদীপ্ত, ক্ষমতার উচ্চাসনে বসেও তিনি মাটির মানুষকে ভুলে যান না। বর্তমান জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, প্রাজ্ঞ আইনবিদ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সম্প্রতি তাঁর নির্বাচনী এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত জনপদে পা রেখে তেমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। সবুজ পাহাড় আর অরণ্যঘেরা সেই জনপদের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে অবলোকনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত হলো এক মহাসত্যের বাণী।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন গৌরব ও বর্তমান বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে তিনি দীপ্ত কণ্ঠে বলেন:

"প্রকৃতপক্ষে ওরাই এই মাটির আদি সন্তান, আদিবাসিন্দা। আজ অবহেলা আর তাচ্ছিল্যে অনেকে ওদের 'ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী' বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু আমি বলি—ওরা ক্ষুদ্র নয়, ওরা হৃদয়ে ও ঐতিহ্যে অনেক বড়। মানবসভ্যতার ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে, এই অঞ্চলে ওদেরই প্রথম পদাচারণা ঘটেছিল। সেই অমোঘ সত্যের আলোকেই আমি ওদের আদিবাসী বলি।"

আদিবাসীদের উন্নত জীবনবোধের প্রশংসা করে এবং আত্মোপলব্ধির এক বেদনাকাতর স্বরে ডেপুটি স্পিকার আরও যোগ করেন, "সংখ্যায় ওরা হয়তো আজ সংখ্যালঘু, কিন্তু ওদের মন-মানসিকতা, নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি অনন্য উচ্চতায় মহিমান্বিত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ ওরা মৌলিক রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো, আমরা বাঙালিরা পরবর্তীতে এখানে এসে ওদের চিরকালীন চারণভূমি ও জায়গা দখল করে নিয়েছি।" তাঁর এই সত্যনিষ্ঠ ও সংবেদনশীল উচ্চারণ আদিবাসী মানুষের হৃদয়ে যেমন আশার আলো জ্বেলেছে, তেমনি সুধীসমাজে সৃষ্টি করেছে এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসা।

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই মানবিক ও সংবেদনশীল রূপটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; এটি তাঁর দীর্ঘদিনের আপসহীন ও ত্যাগের রাজনীতি থেকেই উৎসারিত। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী দুঃসময়ে যখন চারদিকে ছিল ভীতির পরিবেশ, তখন তিনি বুকে সাহস বেঁধে বিএনপির হাজার হাজার নির্যাতিত নেতাকর্মীর পক্ষে আদালতের প্রাঙ্গণে বীরত্বের সাথে আইনি লড়াই লড়েছেন। বিশেষ করে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জননেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলাগুলো মোকাবিলায় তাঁর বিশ্বস্ততা ও আইনি প্রজ্ঞা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দলের অনেক সুপরিচিত আইনজীবী যখন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্বিধাগ্রস্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলেন, তখন ব্যারিস্টার কামাল একজন খাটি ও নিষ্ঠাবান জাতীয়তাবাদী সৈনিক হিসেবে নিজের ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব পালন করেছেন পরম বিশ্বস্ততায়।

ত্যাগের এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, দলীয় অবদানের যথাযোগ্য স্বীকৃতিস্বরূপ দলীয় মনোনয়নে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মেধা ও নিষ্ঠার পুরস্কার হিসেবে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত হন।

সংসদের উচ্চাসনে আসীন হওয়ার পর থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ক্ষমতার মোহাতীত এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে অত্যন্ত দক্ষতা, ধৈর্য এবং সুষম নিরপেক্ষতায় তিনি সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করছেন। তাঁর এই ন্যায়নিষ্ঠ ভূমিকা কেবল নিজ দলের মাঝেই নয়, বরং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের হৃদয়েও গভীর শ্রদ্ধার আসন তৈরি করেছে। এমনকি কট্টর ও আপসহীন সরকারবিরোধী সমাজিক মাধ্যমকর্মী এবং ব্লগারদের মুখেও আজ তাঁর সংসদীয় নিরপেক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারের পক্ষে তাঁর এই বজ্রকণ্ঠ এবং সংসদের ভেতর তাঁর ন্যায়পরায়ণ ভূমিকা—উভয়ই প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণের এক অতন্দ্র প্রহরী। তাঁর এই গৌরবময় কার্যক্রম দেশবাসীকে যেমন আনন্দিত করেছে, তেমনি এক আলোর দিশা দেখিয়েছে।

রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

পাহাড়ের দীর্ঘশ্বাস - ইনজেব চাঙমা

 


পাহাড়ের অরণ্য যখন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে, তখন তার নিস্তব্ধতার গভীরে লুকিয়ে থাকে দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস। ১৯৭১ থেকে ১৯৯৭—এই দীর্ঘ ছাব্বিশটি বছর পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের জন্য কেবল একটি কালপঞ্জি ছিল না। তা ছিল এক অস্তিত্বহীনতার কালখণ্ড। যে মাটিতে জুম্ম জন্ম, সেই মাটিই তার জন্য হয়ে উঠেছিল এক নির্মম বধ্যভূমি আর সন্দেহের কণ্টকশয্যা।
সে সময় পাহাড়ের ঢালে কোনো জুম্ম যুবকের লম্বা চুল কিংবা অঙ্গে সবুজ শার্ট থাকাটাই ছিল অপরাধের পরোয়ানা। পোশাক আর অবয়ব দেখে মানুষকে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দেওয়ার সেই একপাক্ষিক বিচার ব্যবস্থা মানবিকতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।
সাধারণ জীবনযাপনের অতি সামান্য উপকরণও হয়ে উঠত রাষ্ট্রীয় সন্দেহের বীজ। দশ কেজি চাল কিংবা একটি লাক্স সাবান কিনলেই জুটত ‘সন্ত্রাসী বাজার’ অথবা ‘শান্তিবাহিনীর গোপন রসদ’ সরবরাহের অভিযোগ। হাটে গিয়ে সদাই করাও ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। এই সন্দেহের আবর্তে পিষ্ট হয়ে কত প্রাণ অকালে জেলের অন্ধ প্রকোষ্ঠে হারিয়ে গেছে, তার হিসাব ইতিহাসের কোনো পাতায় লেখা নেই।
কোথাও গেলে কিংবা বাজারে গেলে ‘গোল ঘর’-এ নাম লেখাতে হতো। ‘গোল ঘর’ ছিল জুম্মদের জন্য এক বিভীষিকাময় তোরণ। সেখানে নাম এন্ট্রি করার অর্থ ছিল নিজের আত্মসম্মানকে বিসর্জন দেওয়া। প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হতে যখন মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসত, তখন সামান্যতম সন্দেহে মিলত অবর্ণনীয় সাজা।
চেকপোস্টের সেই তল্লাশি কেবল দেহের ছিল না, তা ছিল এক জনগোষ্ঠীর মর্যাদার ওপর পদাঘাত। পরিধেয় বস্ত্র খুলে যখন নিজেকে প্রমাণ করতে হতো, তখন পাহাড়ের আকাশ-বাতাসও যেন অপমানে কুঁকড়ে যেত। সন্ধ্যা নামলে নিরাপত্তার খোঁজে মানুষ গ্রাম ছেড়ে গহিন অরণ্যে আশ্রয় নিত, কিন্তু শান্তির ছায়া মেলেনি কোথাও।
পাহাড়ের এই যন্ত্রণার শেকড় আরও গভীরে। পাকিস্তান আমলে কাপ্তাই বাঁধের মাধ্যমে যে উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলা হয়েছিল, তা আসলে ছিল লক্ষাধিক চাকমার জন্য এক ‘মরণ-ফাঁদ’। নিজের বাস্তুভিটা জলমগ্ন হতে দেখে এক বিশাল জনগোষ্ঠী দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছিল।
সেই থেকে শুরু হওয়া ‘পরবাসী’ জীবনের অভিশাপ আজও এই জনপদের ললাট থেকে মুছে যায়নি। নিজের দেশে থেকেও পরবাসী হওয়ার এমন নজির ইতিহাসে বিরল।
১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মানুষের বুকে এক চিলতে আশার আলো জ্বালিয়েছিল। মানুষ ভেবেছিল, এবার হয়তো বুটের শব্দ কোনো ভোরে তাদের ঘুম ভাঙবে না।
কিন্তু নিয়তির পরিহাস আর রাজনৈতিক জটিলতায় সেই আশা কেবল এক দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে। চাকমাদের প্রচলিত সেই প্রবাদটি আজও কত সত্য—“চিলে সো মারিলে খেরান অলে নেযায়”। অর্থাৎ, চিল ছোঁ মারলে শিকার ধরতে না পারলেও অন্তত ঘাস ছিঁড়ে নিয়ে যায়। চুক্তি হলো সত্য, কিন্তু নতুন সংগঠন ইউপিডিএফ উদ্ভব আর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত সেই ১৯৯৭-পূর্ববর্তী বিভীষিকাকেই যেন নতুন মোড়কে ফিরিয়ে আনল। এভাবে ২৮টি বসন্ত চলে গেল জুম্ম জাতির বুকে।
আজকের প্রজন্ম হয়তো জানে না সেই গোল ঘরের অপমান কিংবা ৫০০ গ্রাম সিদোল কেনার অপরাধে নির্যাতিত হওয়ার গল্প। কিন্তু পাহাড়ের ধুলিকণায় আজও সেই যন্ত্রণার ঘ্রাণ লেগে আছে।
চুক্তি পরবর্তী সময়েও মানুষ যখন নিজভূমে পরবাসীর মতো জীবন কাটায়, তখন প্রশ্ন জাগে—পাহাড়ের এই অন্তহীন রক্তক্ষরণ কি তবে কোনোদিন থামবে না? মলাটবদ্ধ ইতিহাসের বইয়ে নয়, বরং মানুষের যাপিত জীবনে যেদিন আত্মমর্যাদা আর প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে, সেদিনই হয়তো পাহাড়ের এই দীর্ঘশ্বাসের অবসান ঘটবে।
আর সেই মুক্তির একমাত্র পথ হলো ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়ন। চুক্তির প্রতিটি ধারা—ভূমি কমিশন কার্যকর করা, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকে ক্ষমতায়ন, অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার—বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের মানুষের বুকে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস শেষ হবে না। কাগজের চুক্তিকে মাঠের বাস্তবতায় রূপ দিতে পারলেই কেবল কুয়াশা সরে গিয়ে পাহাড়ে নতুন ভোরের আলো ফুটবে।

𑄟𑄮𑄚𑄴 𑄟𑄪𑄢𑄴 𑄍𑄧𑄢 𑄉𑄋𑄴 𑄍𑄨𑄢𑄨 𑄟𑄳𑄠𑄢𑄗𑄧𑄚𑄴 𑄟𑄧𑄐𑄴𑄌𑄧𑄖𑄴 𑄛𑄮𑄖𑄧𑄛𑄮𑄖𑄳𑄠 𑄞𑄣𑄬𑄘𑄨 𑄌𑄧𑄑𑄴𑄧𑄉𑄳𑄢𑄟𑄴 𑄝𑄨𑄌𑄴𑄧𑄝𑄨𑄘𑄳𑄠𑄠𑄧𑄢𑄴 𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟

𑄟𑄠𑄬𑄌𑄨𑄁 𑄟𑄢𑄴𑄟 𑄛𑄢𑄴𑄝𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄎𑄬𑄣 𑄟𑄮𑄚𑄴 𑄟𑄪𑄢𑄧 𑄘𑄬𑄏𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴 𑄃𑄪𑄘𑄨 𑄃𑄬𑄥𑄳𑄠𑄬 𑄘𑄧𑄋𑄬 𑄚𑄧 𑄛𑄌𑄳𑄠𑄬 𑄟𑄧𑄚𑄧...