পোস্টগুলি

চাকমা সাহিত্যের এক ঐতিহাসিক সংকলন: শ্রম, সাধনা ও অপূর্ণতার গল্প - ইনজেব চাঙমা

ছবি
একটি ভাষার মৃত্যু শুধু তার শব্দ হারিয়ে যাওয়া নয়, হারিয়ে যাওয়া একটি জাতির স্মৃতি, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়েরও একাংশ। আর সেই ভাষার সাহিত্যকে সংকলন ও অনুবাদের মাধ্যমে বৃহত্তর পাঠকসমাজের সামনে তুলে ধরা মানে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে এক ধরনের সাংস্কৃতিক লড়াই। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময়ের শ্রম, সাধনা ও নিষ্ঠার ফসল ‘চাকমা সাহিত্য’  বাংলা একাডেমির অনুবাদ বিভাগের ‘বাংলা ব্যতীত বাংলাদেশের অন্যান্য ভাষার সাহিত্য ও অনুবাদ সিরিজ’ -এর প্রথম উদ্যোগ। শ্রাবণ ১৪৩৩/জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত ৭৬৮ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থ চাকমা সাহিত্যের দীর্ঘ যাত্রাপথকে মলাটবন্দি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। এই উদ্যোগের জন্য বাংলা একাডেমির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ আজমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় কর্মযজ্ঞের বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব হতো না। তবে একটি গ্রন্থ প্রকাশই শেষ কথা নয়; প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন সেই গ্রন্থ ভাষার শিকড়কে আরও গভীরে পৌঁছে দেয়, নতুন পাঠক তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেয় নিজস্ব সাহিত্যিক উত্তরাধিকার। বইটির মধ্যে মাত্র ৯টি কবিতা ও ২টি ছোটগল্প চাকমা বর...

চাকমা ভাষা: স্বাতন্ত্র্য, আত্মপরিচয় ও আত্মবিস্মৃতির সংকট - ইনজেব চাঙমা

ভাষা কেবল মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; ভাষা একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক। ভাষার মধ্যেই বেঁচে থাকে একটি জাতির অতীত, তার জীবনবোধ ও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব। তাই নিজের ভাষাকে অবহেলা করা মানে কেবল কয়েকটি শব্দ বা বর্ণকে হারিয়ে ফেলা নয়, বরং নিজের ইতিহাস ও পরিচয়ের একটি অংশকে বিস্মৃত হওয়া। চাঙমা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা মত ও বিতর্ক চলে আসছে। মোঃ আবদুল আউয়ান বলেছেন, “চাকমা উপভাষা নয়, একটি পৃথক ভাষা বটে।” ড. অশোক বিশ্বাসের বক্তব্যেও চাকমা ভাষার স্বতন্ত্র সত্তার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তাঁর মতে, চাকমা ভাষা ইন্দো-আর্য ও মঙ্গোলীয়-ভোটো-বর্মী ভাষার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। চাকমা বর্ণমালা বা অঝাপাতের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়েও গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। ড. গ্রিয়ারসনের বক্তব্য অনুযায়ী, চাঙমা ও শান বর্ণমালা একই উৎস থেকে বিকশিত হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্কিম চন্দ্র চাঙমার মতে, চাকমা বর্ণমালায় একসময় ৩৩টি বর্ণ ছিল; পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে আরও কিছু বর্ণ যুক্ত হয়েছে। ভাষা ও বর্ণমালা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। ভা...

সংস্কৃতির অবক্ষয়, বিভক্ত সমাজ ও হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
নৃত্যুশিল্পী রাশিয়া চাঙমা ও ছাত্রী ঝর্ণা চাঙমা মানুষই মানুষকে গড়ে তোলে, আবার মানুষের হাতেই মানুষের স্বপ্ন ভেঙে যায়। একটি জাতির সভ্যতার পরিচয় কেবল তার ভাষা, ঐতিহ্য কিংবা উৎসবে নয়; প্রকাশ পায় মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, ন্যায়বিচার ও দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়। অথচ আমাদের চাঙমা সমাজে সেই মানবিক মূল্যবোধ ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে কি না, তা আজ গভীরভাবে ভাবার বিষয়। সম্প্রতি দুজন কিশোরীকে ঘিরে কিছু ঘটনা আমার মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ মাচালং উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝর্ণা চাঙমাকে নিয়ে একটি বক্তব্য সামনে আসে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী তাকে খুঁজছে। ১১ অক্টোবর সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলাকালে সে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলেছিল। এর পর জ্ঞানকীর্তি চাঙমার ফেসবুক পোস্টে রাশিয়া চাঙমা নামের আরেক কিশোরীকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর রাশিয়ার বিয়ের খবর পাওয়া গেছে। তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি এবং বিয়েতে অভিভাবকের সম্মতি ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় ...

শান্তি প্রিয় চাকমা: ভাষা, সাহিত্য ও সমাজচেতনায় একজন মানুষ- ইনজেব চাঙমা

ছবি
শান্তি প্রিয় চাকমা একজন ব্যবসায়ী, কবি ও সমাজকর্মী। পেশাগত জীবনে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, গবেষণা এবং ভ্রমণের প্রতি তাঁর রয়েছে গভীর অনুরাগ। নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁর জীবনচর্চার অন্যতম অনুষঙ্গ। চাকমা ভাষায় বাংলা অক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কবিতার বই “নকভাচ”।  ১৯৮২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জুরাছড়ি উপজেলার ৪ নম্বর দুমদুম্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডানে তেছড়ি গ্রামে শান্তি প্রিয় চাঙমার জন্ম। তাঁর পিতা স্নেহ রঞ্জন চাঙমা এবং মাতা বিনতা চাঙমা। ছয় ভাই ও এক বোনের পরিবারে তিনি তৃতীয় সন্তান। শৈশব থেকেই পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর জীবনবোধ গঠনে ভূমিকা রেখেছে। জন্মভূমির প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাপন এবং পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য তাঁর চিন্তা ও আগ্রহের জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে বলে অনুমান করা যায়। তিনি ২০০১ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষা সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে জীবিকার প্রয়োজনে ব্যবসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চার প্রতি ত...

সোনার চাকচিক্যে অন্ধ বিবেক, অন্ধকারে তরুণের ভবিষ্যৎ - ইনজেব চাঙমা

ছবি
শিক্ষার্থী - ঝর্ণা চাঙমা গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ একটি প্রশ্ন তুলেছিলাম, “শিশুর হাতে রাজনীতির নামে বিদ্বেষ তুলে দিচ্ছি না তো?” আজকের ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নকে আরও তীক্ষ্ণ করেছে। মুক্তির নামে আর কত তরুণের স্বপ্ন বলি হবে, কত শিশুর মনে জন্ম নেবে বিদ্বেষ? ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারার রামেসু বাজারসংলগ্ন এলাকায় নিহত আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমার স্মরণে ২০২৬ সালের একই দিনে শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ স্মৃতি সংসদ ও ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা হয়। সংগঠন দুটি ইউপিডিএফের পরিচালনাধীন বলে পরিচিত। নিহতদের স্মরণ ও ন্যায়বিচারের দাবি মানবিক। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে সন্তু লারমার কুশপুত্তলিকা পোড়ানো এবং মিছিলের সামনের সারিতে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি আমাকে ভাবিয়েছে। প্রতিবাদ মানুষের অধিকার; কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা যদি শিশুদের মনে ঘৃণার বীজ বপন করে, তবে তার পরিণতি কী হবে? যে শিশুর হাতে বই-কলম থাকার কথা, তার হাতে বিদ্বেষের মশাল তুলে দিয়ে আমরা কেমন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছি? গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এ ঝর্ণা চাকমার একটি ভিডিও দেখলাম। মাচালং হাইস্কুলে...

সোনার চাকচিক্যে অন্ধ বিবেক, অন্ধকারে তরুণের ভবিষ্যৎ

ছবি
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ একটি প্রশ্ন তুলেছিলাম, “শিশুর হাতে রাজনীতির নামে বিদ্বেষ তুলে দিচ্ছি না তো?” আজকের কিছু ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও তীক্ষ্ণ করে তুলেছে। জাতির মুক্তি ও পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দেখাতে গিয়ে আমরা কি নতুন প্রজন্মের হাতে মুক্তির মশাল, নাকি বিদ্বেষের আগুন তুলে দিচ্ছি? মুক্তির নামে আর কত তরুণের স্বপ্ন বলি হবে, কত শিশুর মনে জন্ম নেবে ঘৃণা? ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারার রামেসু বাজারসংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমার স্মরণে ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ স্মৃতি সংসদ ও ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে নিহতদের স্মরণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা হয়। উল্লেখ্য, সংগঠন দুটি ইউপিডিএফের পরিচালনাধীন বলে পরিচিত। নিহতদের স্মরণ, শোক প্রকাশ এবং ন্যায়বিচারের দাবি মানবিক ও ন্যায়সংগত। কিন্তু সেই স্মরণের মঞ্চে সন্তু লারমার কুশপুত্তলিকা নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ ও তা পোড়ানোর দৃশ্য, বিশেষত মিছিলের সামনের সারিতে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি, আমাকে থমকে দিয়েছিল। শোকের আবহে প্রতিবাদের অধিকার অস্বীকার করার প্রশ্ন ...

চাঙমা সমাজের লোকবিশ্বাস, প্রথা ও ঐতিহ্য - ইজেব চাঙমা

ছবি
ভূমিকা একটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি শুধু তার ভাষা, পোশাক কিংবা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পূর্বপুরুষের বিশ্বাস, জীবনাচার ও প্রথার মধ্যেও তার ইতিহাসের পরিচয় লুকিয়ে থাকে। প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সহাবস্থানে গড়ে ওঠা চাঙমা সমাজের জীবনেও রয়েছে এমন বহু লোকবিশ্বাস। পাহাড়, অরণ্য, জুমচাষ, পশুপাখির আচরণ, স্বপ্ন ও মৃত্যু, এসবকে কেন্দ্র করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচলিত হয়েছে নানা ধারণা ও আচার। সব বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও চাঙমা সমাজের ঐতিহাসিক জীবনবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অনুধাবনে এগুলোর গুরুত্ব রয়েছে। শুভ-অশুভ লক্ষণ ও স্বপ্নের বিশ্বাস চাঙমা সমাজে অতীতে দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনাকে শুভ-অশুভের সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পথের ধারে ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে থাকতে দেখলে ‘বুকিত্তর’ বা মৃত্যুর আশঙ্কা করা হতো। রাত্রিবেলা ঘরের ভেতর জোনাকি প্রবেশ করলে অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হতো। অন্যদিকে, কুকুর ঘরের চালে উঠলে, চিল-শকুন চালে বসলে কিংবা কালা উয়, কালা জামুর সাপ, কচ্ছপ ও গোসাপ ঘরে প্রবেশ করলে গৃহস্থের অমঙ্গল হতে পারে বলে বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। দিনের বেলায় শিয়ালের ডাক এবং রাতে ঘুঘু-কাকের ডাককেও অনেকে অ...

মিঙিনি নদীর তীরে এক রক্তাক্ত ইতিহাস - ইনজেব চাঙমা

ছবি
এই তো সেদিন। চৌদ্দই অক্টোবর। মিঙিনি নদীর কূলে শরতের সিক্ত বাতাসে জ্বলে উঠেছিল চিতার লেলিহান শিখা। সেই আগুনে ধীরে ধীরে ভস্মীভূত হয়েছিল এক নিরন্ন, নিরীহ মানুষের দেহ। আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। সারা বেলা ঝরেছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। প্রকৃতি যেন নিজেও সেদিন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। তবু নিভে যায়নি চিতার আগুন। কারণ, সে আগুন কেবল কাঠের স্তূপে জ্বলেনি; জ্বলে উঠেছিল মানুষের বুকে, শোকাতুর জনতার হৃদয়ে, অধিকারবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘশ্বাসে। যাঁর দেহ সেদিন মিঙিনি নদীর তীরে আগুনের লেলিহান শিখায় ছাই হয়ে গিয়েছিল, তাঁর নাম শহীদ ভরদাস মনি চাঙমা। বয়স ষাট বছর। পিতা প্রয়াত কুমুদ্যা চাকমা। নিবাস বানছড়া, ৫১ নং দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। তিনি কোনো যুদ্ধজয়ী সেনাপতি ছিলেন না, ছিলেন না অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা কোনো যোদ্ধা। তিনি ছিলেন পাহাড়ের মাটিতে শিকড় গেড়ে বেঁচে থাকা এক সাধারণ মানুষ, একজন জুম্ম কৃষক। জুমের ধান, বনের আলু আর নাতি-নাতনিদের মুখের হাসিতেই ছিল তাঁর জীবনের সুখ। মাটির সঙ্গে ছিল তাঁর নাড়ির সম্পর্ক; ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো আর পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়াই ছিল তাঁর প্রতিদিনের সংগ্রাম। পাহাড়ী ...

পার্বত্য চুক্তির ছায়াতলে পাহাড়ের দীর্ঘশ্বাস: মুক্তি না মুক্তিপণ? - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইবে বলে স্বপ্ন দেখেছিল জুম্ম জনগণ। মনে হয়েছিল , দীর্ঘ দশকের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় শেষে এবার বুঝি ফিরবে নিজ ভূমিতে অধিকার , জুমে ফলবে সোনালি ফসল। কিন্তু স্বপ্নের আয়ু বড় ক্ষণস্থায়ী। চুক্তির কাগজের কালি শুকোতে না শুকোতেই পাহাড় দেখল এক নতুন অন্ধকার। চাকমা প্রবাদে বলে , “ এ্যারা খেইয়ে বাঘ দরে ধেই , চিত খেইয়্যা বাক লাঘত পায় ” অর্থাৎ এক বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে না পেতেই আরও ভয়াবহ বিপদে জড়িয়ে পড়া। আজকের পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জীবনের নির্মম সত্য যেন এই প্রবাদটিই। একদিকে চুক্তি মোতাবেক বেদখল হওয়া জায়গা - জমি আজও ফেরত মেলেনি। ভূমি কমিশন কাগজে - কলমে আছে , বাস্তবে নেই।   চুক্তি বাস্তায়ন হয়নি। অন্যদিকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের আগুনে পুড়ছে পাহাড়। আধিপত্যের লড়াই , চাঁদাবাজি , অস্ত্রের ঝনঝনানি , আর প্রতিনিয়ত অপহরণের আতঙ্কে পাহাড়ি মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। যে চুক্তি মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল , সেই চুক্তির পরেই যেন দুর্দশা আরও নতুন ...