পোস্টগুলি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

“আমাদের সংগ্রাম অদম্য, আমাদের লক্ষ্য অবিচল” - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  পাহাড় কেবল মাটি-পাথরের স্তূপ নয়; এটি একটি সভ্যতা, একটি সংস্কৃতি, একটি জাতিসত্তার পরিচয়। যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বঞ্চনা, ভূমি বেদখল ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার। “যতই ভয় দেখাও, দমিয়ে রাখা যাবে না; পাহাড় জাগছে তার অধিকারের দাবিতে!”—রাণী ইয়ান ইয়ানের এই উচ্চারণ সেই জাগরণেরই প্রতিধ্বনি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ যখন অধিকার আদায়ে রুখে দাঁড়ায়, তখন তা আর নিছক দাবি থাকে না, হয়ে ওঠে অস্তিত্বের সংগ্রাম। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস গৌরবের, আবার বেদনারও। তাদের নিজস্ব সামাজিক কাঠামো, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও শাসনরীতি ছিল শতাব্দীপ্রাচীন। কিন্তু উপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোতে ধীরে ধীরে তাদের ঐতিহ্যবাহী ভূমি অধিকার খর্ব হয়েছে। উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ, বন ও পর্যটন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব পাহাড়ি জীবনকে ক্রমশ কোণঠাসা করেছে। রাণী ইয়ান ইয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন—এই শোষণের বিরুদ্ধে পাহাড় আজ জেগেছে, কারণ অধিকার হারানোর জন্য নয়, আদায়ের জন্য তারা লড়তে শিখেছে। রাণী ইয়ান ইয়ানের ঘোষণায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর চারটি মৌলিক দাবি উঠে এসেছে। এগুলো কোনো করুণা ...

বাকস্বাধীনতা ও অধিকারের লড়াই - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলো তার স্বাধীন মতপ্রকাশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে, যখনই কেউ নিজের ন্যায্য অধিকার বা সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে কথা বলে, তখনই তাকে 'সতর্কবার্তা' বা 'রাষ্ট্রদ্রোহের' তকমা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সাম্প্রতিক চাঙমা রাণী ইয়েন ইয়েনকে সতর্কবার্তা বা এ জাতীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে—আমরা কি সত্যিই একটি স্বাধীন দেশে বাস করছি, নাকি ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করার সেই পুরনো ঔপনিবেশিক সংস্কৃতিতেই আটকে আছি?   ইতিহাস সাক্ষী দেয়, শোষক গোষ্ঠী সবসময়ই সত্য উচ্চারণকারীকে 'সন্ত্রাসী' বা 'রাষ্ট্রদ্রোহী' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত—বাংলার দামাল ছেলেরা যখনই অধিকারের কথা বলেছে, তখনই তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা, সবার বিরুদ্ধেই একসময় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা ছিল। আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, ৫...

পাহাড়ের ভোর, তবুও আঁধার- ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য  চট্টগ্রামের  সুউচ্চ  পাহাড়গুলোতে  যখন  ভোরের  প্রথম  আলো  এসে  পড়ে , তখন  প্রকৃতির  সেই  স্নিগ্ধতা  জুম্ম  নারী  ও  শিশুদের  মনে  প্রশান্তি আনে না ; বরং  নিয়ে  আসে  এক  অজানা  শঙ্কা জাতিসংঘের  আদিবাসী  বিষয়ক  স্থায়ী  ফোরামের  ২৫তম  অধিবেশনে  পিসিজেএসএস-  এর  প্রতিনিধি  অগাস্টিনা  চাকমা  যখন  বলেন- ”তারা জানে না পরবর্তী  হামলা  থেকে  বেঁচে  থাকতে  পারবে  কিনা "— তখন  সভ্যতার  সব  আস্ফালন  থমকে  দাঁড়ায়। পাহাড়ের  বুক  চিরে  প্রবহমান  ঝর্ণার  শব্দের  চেয়েও  সেখানে  এখন  ভারী  হয়ে  উঠেছে  মানুষের  হাহাকার। ১৯৯৭ সালের সেই ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ছিল এক দীর্ঘ যুদ্ধের অবসানে শান্তির নীল নকশা। সেখানে প্রতিশ্রুতি ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের , স্বপ্ন ছিল নিজের ভ...