বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা: মঙ্গল কুমার চাকমা

 

ছাত্রদের কোটা সংস্কার তথা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটেছে এবং অত:পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার। স্বভাবতই অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যে কোন বৈষম্যের অন্যতম নির্মম শিকার হয়ে থাকে দেশের পিছিয়ে পড়া দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে আদিবাসী জুম্ম জনগণের উপর দশকের পর দশক ধরে চলমান বৈষম্যের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে ষাট দশক থেকে গণআন্দোলন সংঘটিত হয়ে আসছে। সেই আন্দোলনের ফসল হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান তথা জুম্ম জনগণের উপর বিদ্যমান বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার চুক্তির কিছু বিষয় বাস্তবায়ন করলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ দুই-তৃতীয়াংশ ধারা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। ফলে অন্যান্যের মধ্যে যেসব বিষয়সমূহ অবাস্তবায়িত থেকে যায় সেগুলো হলো– পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের জন্য আইনী ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা; পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসনব্যবস্থার অধীনে প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি ন্যস্ত করা এবং নির্বাচন বিধিমালা ও ভোটার তালিকা বিধিমালা প্রণয়ন ও স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ পূর্বক এসব পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা; পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে পার্বত্য পুলিশ বাহিনী গঠন করা; ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করে জুম্মদের বেহাত হওয়া জায়গা-জমি ফেরত দেয়া এবং এলক্ষ্যে ভূমি কমিশনের বিধিমা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবি শ্যামল তালুকদার : চাঙমা সাহিত্যের নীরব সাধক - ইনজেব চাঙমা

আধুনিক চাঙমা সাহিত্যের অভ্যুদয়ের ইতিহাস মূলত কবিতার হাত ধরেই বিকশিত হয়েছে। পাহাড়ের জীবন, মানুষের অনুভব, সমাজের টানাপোড়েন এবং জাতিসত্তার অস্ত...