পোস্টগুলি

জুলাই ১২, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মাচাং মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা: গিরি-কন্যা খাগড়াছড়ির এক আলোকবর্তিকা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
সবুজ অরণ্যে ঘেরা, মেঘের চাদরে মোড়া খাগড়াছড়ি। যেখানে পাহাড়েরা ফিসফিসিয়ে গল্প বলে, ঝর্ণার জল সুর তোলে। সেই মায়াবী ভূমির কোলে, ১৯৭৪ সালের ২৬শে মে, এক নবজাতকের কান্না পাহাড়ি বাতাসে মিশে গিয়েছিল। কে জানত, সেই কান্নাই একদিন পাহাড়ের ভাষার কান্না হয়ে বাজবে, আবার সেই কণ্ঠই হবে পাহাড়ের জয়গান? পিতা মাচাং বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সুবোধ আর মাতা সবিতা রাণী ত্রিপুরার কোমল স্নেহের ছায় তাঁর শৈশব। চেঙের ধুলো-মাটি গায়ে মেখে, খাগড়াছড়ির পাঠশালার চৌকাঠে তাঁর প্রথম বর্ণপরিচয়। কিন্তু এই বর্ণমালা তাঁর তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি। বিদ্যার অদম্য পিপাসা তাঁকে টেনে নিয়ে গেল চট্টগ্রামের সবুজ চত্বরে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে তিনি এক গভীর সত্য আবিষ্কার করলেন, যে জাতি তার শিকড়কে ভোলে, তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ২০০০ সালে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি ফিরে এলেন। তবে চাকরির মোহে নয়, ফিরে এলেন ঋণ শোধ করতে, মাটির ঋণ, মায়ের ভাষার ঋণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের চকচকে স্বপ্নকে পেছনে ফেলে তিনি জড়িয়ে পরেন, ‘জাবারাং কল্যাণ সমিতি’। জাবারাং মানে কি কেবল একটি এনজিও? না। জাবারাং হলো পাহাড়ি শি...

চাঙমা উপন্যাস সাহিত্যের অগ্রদূত ও ভাষা-নবজাগরণের নির্মাতা: আর্য্যমিত্র চাঙমা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  চাঙমা ভাষা ও সাহিত্যের আধুনিক ইতিহাসে যে কজন সাহিত্যসাধক তাঁদের সৃষ্টিশীল কর্মে এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন, তাঁদের অগ্রভাগে উচ্চারিত হয় কবি, ঔপন্যাসিক, অভিধানকার, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ আর্য্যমিত্র চাঙমা-এর নাম। চাঙমা ঔপন্যাসিক ধারার কথা উঠলেই সর্বাগ্রে স্মরণ করা হয় তাঁকে। কারণ, তিনি কেবল একজন ঔপন্যাসিক নন; বরং চাঙমা ভাষার সাহিত্যভুবনে উপন্যাসের স্বতন্ত্র ভিত্তি নির্মাণকারী এক অগ্রদূত। বহুদিন ধরে যে শূন্যতা চাঙমা সাহিত্যে অনুভূত হচ্ছিল, তাঁর কলমেই তার পূর্ণতা লাভ করে। বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একসময় চাঙমা ভাষায় মৌলিক উপন্যাস রচিত হওয়ার যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন, আর্য্যমিত্র চাঙমা তাঁর সৃষ্টিশীল প্রতিভায় সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। নিজস্ব চাঙমা ভাষা ও বর্ণমালায় ধারাবাহিকভাবে উপন্যাস রচনা করে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।   আনুমানিক ১৯৬২ সালের ২১ জুন (৭ আষাঢ়) খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মিঙিনি নদীর তীরবর্তী মনোরম কাঠালতলী গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা বৈরেন্দ্র চাকমা এবং মাতা আনন্দবালা চাকমা। প্রকৃতির নিবিড় স...

চাকমা নাট্যসাহিত্যের অন্যতম প্রধান রূপকার: সুনানু মৃত্তিকা চাঙমা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  বাংলাদেশের আদিবাসী সাহিত্য ও নাট্যধারায় মৃত্তিকা চাকমা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নাট্যআন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে নিরলস অবদান রেখে চলেছেন। বিশেষত চাকমা ভাষায় আধুনিক নাট্যসাহিত্যের বিকাশ, লোকঐতিহ্যকে নাট্যরূপ প্রদান, শিক্ষা, পরিবেশ, জাতিসত্তা, সামাজিক পরিবর্তন ও মানবিক মূল্যবোধকে নাটকের বিষয়বস্তু হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক নাট্যচর্চার প্রসারে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নাট্যসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৩ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। মৃত্তিকা চাকমা ১৯৫৮ সালের ১২ জানুয়ারি রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা মৌজার মুগছড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি পাহাড়ি সমাজের লোকসংস্কৃতি, মৌখিক ঐতিহ্য, জুমজীবন ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হন। পরবর্তীকালে তাঁর সাহিত্যসৃষ্টিতে এই অভিজ্ঞতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তিনি লোগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে চ...

জুমপাহাড়ের শব্দসারথি- কেভি দেবাশীষ চাঙমা : ইনজেব চাঙমা

ছবি
  পার্বত্য চট্টগ্রামের রক্তিম ও সবুজ শৈলশ্রেণির বুক চিরে যে জীবনধারা প্রবহমান, তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও সংবেদনশীল রূপকার কেভি দেবাশীষ চাঙমা। সমকালীন চাঙমা সাহিত্যের অঙ্গনে তিনি কেবল একজন স্রষ্টা নন, বরং এক আলোকবর্তিকা—যিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সম্পাদক ও সংগঠক। জুম্ম জনগোষ্ঠীর শতাব্দীর প্রাচীন ইতিহাস, আদিভিটা হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ, শরণার্থী জীবনের অনিশ্চয়তা, জুমচাষের আদিম ও কঠোর সংগ্রাম, জাতিসত্তার অস্তিত্বের সংকট এবং পার্বত্য অঞ্চলের জটিল সামাজিক-political বাস্তবতা তাঁর লেখনীর প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি ব্যক্তিক যন্ত্রণাকে সামষ্টিক ইতিহাসের ক্যানভাসে এমন এক গভীর মানবিক বোধে উন্নীত করেছেন, যা তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে কালজয়ী শিল্পরূপ।   ১৯৭৬ সালের ২৮ মে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলার রাঙাপানিছড়া গ্রামের এক শান্তিময় সকালে এই শব্দশিল্পীর জন্ম। পিতা সরেন্দ্র লাল চাকমা এবং মাতা বিজয়মুখী চাঙমার স্নেহছায়ায় বেড়ে ওঠা সাত ভাই-বোনের পরিবারে তিনি ষষ্ঠ সন্তান। ২০১১ সালে তিনি তুষিতা চাকমার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং তাঁদের যৌথ জীবনের আঙিনা আলো করে আসে কন্যাসন্তান 'অঝরা চাঙমা...

পাহাড়ের বুক চিরে জেগে ওঠা ত্রিশটি দীপশিখা (নলবনিয়ার চাকমা তরুণদের উচ্চশিক্ষা জয়ের মহাকাব্য) - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  যে জাতির ভিটে কেড়েছে কাপ্তাইয়ের নীল সলিল, যে জাতির স্বপ্ন পিষেছে সেটেলার পুনর্বাসনের লৌহচাকা—সেই চাকমা জাতির ললাটে বিধাতা বুঝি হীরকের কলমে লিখে দিয়েছেন একটিমাত্র শব্দ: ‘মেধা’। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ—শাসকের রং বদলায়, বদলায় না পাহাড়কে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা। তবু পাহাড় নত হয় না। বরং শতাব্দীর শোষণ ডিঙিয়ে সে আকাশ ছোঁয় আপন শিরদাঁড়ার জোরে। বাঘাইছড়ির অরণ্যচারী পথের শেষে ঘুমিয়ে আছে নলবনিয়া—একটি গ্রাম, না-কি একখণ্ড কবিতা? চারপাশে ধ্যানমগ্ন গিরিশ্রেণি, বুকের ওপর দিয়ে বয়ে চলে কাজালং স্রোতস্বিনী। এখানে ভোর হয় জুমের ধোঁয়ায়, সন্ধ্যা নামে কৃষকের কপালের ঘামে। বর্ষায় পথ ডোবে কর্দমাক্ত দীর্ঘশ্বাসে, শীতে হিম ঝরে টিনের চালে। কলেজ নেই, লাইব্রেরি নেই, আলোর চেয়ে অন্ধকারই বেশি। তবু এই গ্রামের ঘরে ঘরে জ্বলে অন্য এক প্রদীপ—অক্ষরের প্রদীপ, স্বপ্নের প্রদীপ। দুঃসময়ের মেঘে ঢাকা পার্বত্যের আকাশে হঠাৎই বেজে উঠল বাঁশি। ফেসবুকের পাতায় ভেসে এলো খবর , নলবনিয়ার ত্রিশটি ছেলেমেয়ে এবার দেশের নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহদ্বার পেরিয়েছে (১২ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বরিবার)। কেউ শুনবে রোগীর হৃদস্পন্দন, কেউ গড়বে সেতু, কেউ লিখবে ...