ম্যাকলিন চাকমা : পাহাড়ের ভাষা, মানুষের কবি -ইনজেব চাঙমা
কিছু কবি শব্দ লেখেন, কিছু কবি সময়কে লিপিবদ্ধ করেন; আর কিছু কবি আছেন, যাঁরা একটি ভূখণ্ডের আত্মাকে ভাষা দেন। তরুণ চাঙমা কবি ম্যাকলিন চাকমা সেই বিরল কণ্ঠগুলোর একজন। তাঁর কবিতায় পাহাড় কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; পাহাড় সেখানে কথা বলে, নদী স্মৃতি বহন করে, জুমের ধোঁয়া ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস হয়ে আকাশে মিশে যায়। তাঁর কাব্যে ফুল ফোটে কেবল বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে নয়, বরং মানুষের স্বপ্ন, বেদনা ও অস্তিত্বের অনিবার্য প্রতীক হয়ে। তাই তাঁর কবিতা পড়া মানে শুধু সাহিত্য পাঠ নয়; যেন পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির অন্তর্লোকের সঙ্গে এক নিবিড় আলাপ। ১৯৯৩ সালের ১০ অক্টোবর রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার সুভলং ইউনিয়নের হাজাছড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা অলঙ্গ কুমার চাকমা এবং মাতা অলকা দেবী চাকমার স্নেহধন্য সন্তান তিনি। ছোট বোন পপি চাকমাকে নিয়ে তাঁদের পরিবার। শৈশব কেটেছে পাহাড়ের বুক চিরে, জুমের পথ ধরে, বিরেচমরা পাহাড় থেকে ছোটহরিণার খুকিছড়া পর্যন্ত এক জুম থেকে আরেক জুমে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে। প্রকৃতির সেই অন্তরঙ্গ সংসর্গ তাঁর রক্তে মিশিয়ে দিয়েছে পাহাড়ের রং, ঝরনার সুর আর বনভূমির নৈঃশব্দ্য। পরবর্তীকালে...