সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

লেখক সি. আর. চাকমা: ভাষা, ইতিহাস ও সাহিত্যচর্চার আর এক নিবেদিত সাধক- Injeb Changma

চাকমা ভাষা, সাহিত্য ও জাতিসত্তার ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে লেখক সি. আর. চাকমা আরো এক নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও সাহিত্যসাধক। তিনি ১৯২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বড়াদম এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নবচন্দ্র কার্বারি চাকমা। শৈশব থেকেই তিনি নিজ জাতির ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। তবে কর্মজীবনের শেষ পর্বে এসে তিনি উপলব্ধি করেন যে, একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান ভিত্তি তার মাতৃভাষা, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। এই উপলব্ধিই তাঁকে গবেষণা, রচনা এবং ভাষা-সংরক্ষণের কাজে আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বেই তিনি চাকমা ভাষার অভিধান, ব্যাকরণ এবং জাতীয় ইতিহাস প্রণয়নের কাজে হাত দেন। অবসর-পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্য ও গবেষণাকর্ম আরও বিস্তৃত হয়। তাঁর রচনায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, ইতিহাসচর্চা এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন সমান গুরুত্ব লাভ করেছে। বিশেষ করে চাকমা ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং জাতির অতীত ইতিহাসকে দলিলভিত্তিকভাবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প্রকাশিত গ্রন্থ
সি. আর. চাকমার প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
১. চাঙমা কধা
২. নবচন্দ্র পত্থম চাঙমা ব্যাকরণ
৩. যুগ বিবর্তনে চাকমা জাতি (প্রাচীন যুগ)
৪. যুগ বিবর্তনে চাকমা জাতি (মধ্যযুগ)
অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি
প্রকাশিত গ্রন্থের পাশাপাশি সি. আর. চাকমা বহু গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিও রচনা করেন, যা তাঁর বহুমাত্রিক চিন্তা ও গবেষণার সাক্ষ্য বহন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
১. Learn Chakma Language in Bengali, Hindi and English
২. Progressive Development of Telecommunication System in Railways
৩. Kiss is the Key of Love and Love is the Lock of Life —
৪. জিঙ্গানী (জীবনসূত্র)
৫. চাকমা–অসমীয়া ভাষাতত্ত্ব ও ব্যাকরণ সমালোচনা

সি. আর. চাকমার সাহিত্যকর্ম কেবল গ্রন্থ রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর সমগ্র সাধনার লক্ষ্য ছিল চাকমা ভাষা ও জাতিসত্তার সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা সুশৃঙ্খলভাবে তুলে ধরা। অভিধান, ব্যাকরণ, ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব, আত্মজীবনী এবং উপন্যাস—বিভিন্ন ধারায় তাঁর বিচরণ তাঁকে একজন বহুমাত্রিক সাহিত্যিক ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষত চাকমা ভাষার প্রমিত রূপ নির্ধারণ, ভাষার শব্দভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং জাতীয় ইতিহাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বি.দ্র.: সি. আর চাঙমার মৃত্যু তারিখ ও তার সর্ম্পকে কাহারোর ধারনা থাকলে শেয়ার করা জন্য অনুরোধ থাকলো। হোয়াটঅ্যাপ: 01516195366

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পাহাড়ের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার আওতায় আসুক- ইনজেব চাঙমা

  ইনজেব চাঙমা মানুষ জন্ম নেয় একটি ভূখণ্ডে, কিন্তু তার প্রকৃত জন্ম ঘটে একটি ভাষায়। মায়ের কণ্ঠে উচ্চারিত প্রথম শব্দ, ঘুমপাড়ানি গানের সুর, শৈশব...