পোস্টগুলি

আগস্ট ৯, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

উদয় শংকর চাকমা: জীবন, শৈশব ও সাহিত্যযাত্রা

ছবি
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার প্রত্যন্ত শিলাছড়া গ্রাম। পাহাড়, অরণ্য আর মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপনের ভেতর ১৯৯৬ সালের ১ আগস্ট জন্ম নেন কবি উদয় শংকর চাকমা নিউটন । পিতা সুশীল জীবন চাকমা , মাতা শশীরাণী চাকমা । তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজো। কিন্তু তাঁর শৈশবের আকাশ খুব বেশিদিন নির্মেঘ থাকেনি। ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন পিতাকে। আর যখন তিনি উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্র, তখন মৃত্যুর কাছে হারাতে হয় মাকেও। জীবনের একেবারে শুরুর প্রহরেই পরপর দুই অভিভাবককে হারানোর বেদনা তাঁর মনোজগতে যে গভীর রেখা এঁকে দিয়েছে, তা হয়তো তাঁর কবিতার নীরব পঙ্‌ক্তিগুলোর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি পাঠ করা যায়। পিতৃহারা হওয়ার পর পড়াশোনার পথ যেন থেমে না যায়, সেই দায়িত্ব আপন করে নিয়েছিলেন তাঁর কাকা বিমল কান্তি চাকমা । কাকার স্নেহ, আশ্রয় ও প্রেরণায় তিনি এগিয়ে চলেন শিক্ষার পথে। আর তাঁর শৈশবের আরেকটি বড় বিদ্যালয় ছিল ঘরের উঠোন—যেখানে পাঠ্যবইয়ের অক্ষরের পাশাপাশি দাদু-দিদার কণ্ঠে তিনি শুনেছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা গল্পের অমলিন ধারা। বেভে কাত্তোল্যা ও কাত্তোলি -র মুখে শোনা মহাভারত , রামায়ণ , নানা চাঙমা পচ্জন বা রূপকথা, কাপ্ত বাধ –এর গল্প—এসব কে...

চাঙমা বর্ণমালার সাহিত্যচর্চা: ইতিহাসের নীরব প্রান্তে - ইনজেব চাঙমা

ছবি
১৪ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক কালের কণ্ঠ -এ প্রকাশিত শুভ্র জ্যোতি চাকমার দাদা (গবেষণা কর্মকর্তা, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট), ‘পাহাড়িদের সাহিত্যচর্চা’ প্রবন্ধটি পড়তে গিয়ে একদিকে যেমন পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্যভুবনের একটি বিস্তৃত পরিচয় পাওয়া যায়, অন্যদিকে তেমনি চোখে পড়ে এক ধরনের নীরব অনুপস্থিতি। বিশেষ করে চাঙমা ভাষা ও চাঙমা বর্ণমালায় প্রকাশিত সাহিত্য, লিটলম্যাগ, সাময়িকপত্র, সংবাদপত্র, কবিতা, ছড়া, অনুবাদ, অভিধান ও শিশু-কিশোর সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ পথচলা সেখানে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। একটি সাহিত্যভূমির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নির্মাণ করতে গেলে শুধু কয়েকজন লেখক, কয়েকটি বই কিংবা পরিচিত কিছু প্রকাশনার দিকে তাকালে চলে না। তার সঙ্গে দেখতে হয় ভাষার বিবর্তন, বর্ণমালার ব্যবহার, পত্রপত্রিকার জন্ম, ছোট কাগজের উত্থান, অনুবাদচর্চা, অভিধান নির্মাণ, শিশু-কিশোর সাহিত্য এবং সেইসব মানুষের নিরলস শ্রম- যাঁরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রত্যাশা ছাড়াই একটি ভাষার অক্ষরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। চাঙমা বর্ণমালার সাহিত্যচর্চা সেই অর্থে কোনো বিচ্ছিন্ন বা প্রান্তিক উপাখ্যান নয়। এটি চাঙমা জাতিসত্তার ভাষিক ও সা...

সোহেল তালুকদার: মাটির মানুষ, আলোর স্বপ্ন - ইনজেব চাঙমা

ছবি
                পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে কিছু মানুষের জন্ম হয় - যাদের জীবনকে কেবল ব্যক্তিগত জীবনের আয়নায় দেখলে তার প্রকৃত অর্থ ধরা পড়ে না। তাঁদের জীবন জড়িয়ে থাকে মাটি , মানুষ , ভাষা , সংস্কৃতি ও আগামী প্রজন্মের স্বপ্নের সঙ্গে। সোহেল তালুকদার তেমনই এক নীরব স্বপ্নচারী - যিনি নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও জ্ঞান , সাহিত্য , সমাজসেবা ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসাকে জীবনের পথচলার অবলম্বন করে নিয়েছেন। সনদপত্র অনুযায়ী সোহেল তালুকদারের জন্ম ১০ আগস্ট ১৯৯৪। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলার ১ নম্বর সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫৪ নম্বর কেরেঙ্গানাল মৌজার হেমন্ত পাড়ার এক সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা শুদ্ধধন তালুকদার , মাতা প্রীতি রেখা চাকমা। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। পাহাড়ের যে জনপদে জীবনযাত্রা আজও প্রকৃতির খেয়াল , দুর্গম পথ আর সীমিত সুযোগের সঙ্গে প্রতিদিন বোঝাপড়া করে , সেই হেমন্ত পাড়াই তাঁর শৈশবের প্রথম বিদ্যালয় - আর সেই মাটিই তাঁর...