পোস্টগুলি

আগস্ট ৩০, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জ্যোতিপ্রভা লারমা: পাহাড়ি জীবনের আলো ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রদীপ - ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামের রূপ-মাধুর্যের আড়ালে যে দীর্ঘ ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তা কেবল সবুজ পাহাড়, কুলকুল ধ্বনিতে বহমান নদী কিংবা কুয়াশাঘেরা অরণ্যের সৌন্দর্য নয়; সে ইতিহাস মানুষের অধিকারবোধ, আত্মপরিচয়ের অস্তিত্ব রক্ষা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও এক চিরন্তন সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস কোনো কেবল নিরপেক্ষ ঘটনাপঞ্জি নয়, তা গড়ে ওঠে কিছু আত্মনিবেদিত প্রাগ্রসর মানুষের যৌথ পদচিহ্নে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও সামাজিক-রাজনৈতিক রূপান্তরের সেই দীর্ঘ আলোকিত অধ্যায়ে একজন জ্যোতিপ্রভা লারমা কেবল একটি ব্যক্তিনাম নন; তিনি পার্বত্য জনপদের চেতনা, নারীজাগরণের পথিকৃৎ এবং প্রজ্ঞার এক দীপ্ত শিখা।   ১৯৩৮ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের এক শান্ত থমথমে বৃহস্পতিবার। রাঙামাটি জেলা সদরের অদূরে সবুজে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম ‘মহাপুরম’ (স্থানীয়দের প্রিয় ‘মাওরুম’)। সেই রূপময় গ্রামে শিক্ষক চিত্তকিশোর চাঙমা ও ধার্মিক সমাজসেবিকা সুভাষিনী দেওয়ানের ঘর আলো করে ভূমিষ্ঠ হন জ্যোতিপ্রভা লারমা। চার ভাই-বোনের মধ্য তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ।  পিতৃগৃহের পরিমণ্ডলটি ছিল মুক্তচিন্তা ও বিদ্যানুরাগের এক অপূর্ব তীর্থভূমি। পিতা চিত্তকিশোর চাকমার শিক্ষার প্র...

তিন পার্বত্য জেলার সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট: মাতৃভাষার জন্য কী রেখে যাচ্ছে?

  [অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার বাইরে নজর দেওয়া হোক মাতৃভাষা, বর্ণমালা ও প্রকাশনায়] পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- তিন জেলাতেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা, গবেষণা ও প্রকাশনা- এসব তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। তবে এই বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের মধ্যে মাতৃভাষা ও বর্ণমালা সংরক্ষণ বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। কারণ একটি জনগোষ্ঠীর ভাষার সঙ্গে তার ইতিহাস, সাহিত্য, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গভীরভাবে যুক্ত। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে- মাতৃভাষা ও বর্ণমালার জন্য তারা কী প্রকাশ করেছে এবং সেই কাজের ধারাবাহিকতা কতটা?   রাঙামাটি ও বান্দরবান ইনস্টিটিউটের সরকারি তথ্যেই মাতৃভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষণার কথা উল্লেখ রয়েছে। তিন জেলার কার্যক্রমের দিকে তাকালে কিছু পার্থক্যও চোখে পড়ে। বান্দরবান ইনস্টিটিউটের সরকারি ওয়েবসাইটে মাতৃভাষা শিক্ষা কোর্স, মাতৃভাষায় সাহিত্য প্রতিযোগিতা, রচনা ও বক্তৃতাসহ পৃথক মাতৃভাষাভি...

কিশলয় চাঙমা : চাঙমা সাহিত্যের এক নিবেদিত কবি - ইনজেব চাঙমা

ছবি
“বিঝু গেল, বিঝু এল, ফাওন গেল, ফাওন এল— তুইওদ তুই ন’ এলে চম্পা, তুই কুধু গেলে।”      চাঙমা ভাষার জনপ্রিয় এই গানের পঙ্‌ক্তিতে ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে মিশে আছে অপেক্ষা, ভালোবাসা ও বিরহের অনুভূতি। বিঝু ও ফাল্গুন আসে-যায়, সময় এগিয়ে চলে, অথচ প্রতীক্ষিত মানুষটির দেখা মেলে না। সহজ-সরল ভাষায় গভীর আবেগ প্রকাশের এই ক্ষমতাই কবি কিশলয় চাঙমার সৃষ্টির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।      চাঙমা সাহিত্যজগতে কিশলয় চাঙমা একজন কবি ও গীতিকার হিসেবে সুপরিচিত। শৈশব থেকেই কবিতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ, যা পরবর্তীকালে নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় পরিণত হয়। চাঙমা ভাষায় প্রথম সনেট রচনার কৃতিত্বও তাঁর সঙ্গে যুক্ত। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃতি, মানুষের জীবন, সামাজিক বাস্তবতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তাঁর সৃষ্টির প্রধান অনুষঙ্গ। নিজের মাতৃভাষাকে সৃজনের মাধ্যম করে তিনি পাহাড়ের জীবন ও মানুষের অনুভূতিকে সাহিত্যে রূপ দিয়েছেন। তাঁর এই নিরন্তর প্রয়াস চাঙমা ভাষার সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।      কিশলয় চাঙমার সার্টিফিকেট অনুযায়ী, তাঁর...

চাঙমা ভাষার লেখকদের নিরুৎসাহিত নয়, উৎসাহিত করাই সময়ের দাবি - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  কোনো ব্যক্তিকে ‘কবি’ বলা যাবে কি না, এ নিয়ে সাহিত্যিক বা একাডেমিক আলোচনা হতেই পারে। একজন কবির কবিত্ব, তাঁর সৃষ্টির পরিমাণ, মান, প্রকাশনা কিংবা সাহিত্যিক অবদান নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। কিন্তু সেই আলোচনারও একটি পরিমিতি, সৌজন্য ও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন।  বিশেষ করে চাঙমা ভাষা ও বর্ণমালার বর্তমান বাস্তবতায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।   আজকের বাস্তবতা হলো, চাঙমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা থাকা সত্ত্বেও চাঙমা ভাষায় নিয়মিত লেখালেখির চর্চা অত্যন্ত সীমিত। বর্ণমালার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয়ও দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। চর্চার অভাবে অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেই নিজস্ব বর্ণমালা অপরিচিত হয়ে উঠছে। এটি হয়তো আমাদের জন্য অপ্রিয় সত্য, কিন্তু এই সত্যকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।   এমন বাস্তবতায় কেউ যখন চাঙমা ভাষায় লিখতে শুরু করেন, কবিতা লেখার চেষ্টা করেন, নিজের ভাবনা নিজের মাতৃভাষায় প্রকাশ করেন, তখন তাঁর প্রথম প্রয়োজন কঠোর বিচার নয়, বরং উৎসাহ। কারণ আজ যে তরুণটি দু-একটি কবিতা লিখছে, আগামী দিনে সেই হয়তো আরও ভালো লিখবে, আরও বেশি লিখবে এবং অন্যদেরও চাঙমা ভাষায় লিখতে অনুপ্রাণিত করবে...

প্রগতি খীসা: প্রতিকূলতার পথ পেরিয়ে সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে এক অভিযাত্রা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
জীবন কখনো সরলরেখায় এগিয়ে চলে না । কখনো তা কণ্টকাকীর্ণ পথ , কখনো অন্ধকার গিরিপথ , আবার কখনো প্রতিকূলতার বুক চিরে উঠে আসা আলোর রেখা । মানুষের জীবনকে বুঝতে হলে শুধু তার সাফল্যের দিকে তাকালে চলে না ; জানতে হয় সেই সাফল্যের পেছনে থাকা দীর্ঘ সংগ্রাম , বঞ্চনা , স্বপ্ন ও অদম্য পথচলার ইতিহাস । প্রগতি খীসার জীবনও তেমনই এক পাঠক্রম — যেখানে পারিবারিক ঐতিহ্য , শিক্ষার সাধনা , সাহিত্যচর্চা , সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে নিরন্তর লড়াই পরস্পরের সঙ্গে মিশে গেছে । প্রগতি খীসা জন্মগ্রহণ করেন ৫ মার্চ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৫৯ নম্বর বন্দুকভাঙ্গা মৌজার দুরখেয়া গ্রামে । পিতা কংশসুর খীসা এবং মাতা তনুপতি খীসা । পাহাড় , নদী , ঝরনা ও প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে তাঁর শৈশবের শিকড় বিস্তৃত । তাঁর মাতৃপরিবারের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে চাকমা সমাজের একটি ঐতিহ্যবাহী বংশপরম্পরা । তাঁর মা তনুপতি খীসার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চেঙীনদীর তীরে , বুড়িঘাটের অনতিদূরের ছোট মহাপ্...