রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

গোপনীয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম।

 


গোপনীয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম।
স্মারক নং ১০২৫(৯)সি
তারিখ রাঙ্গামাটি, ১৫ই সেপ্টেম্বর/৮০
প্রেরক: জনাব আলী হায়দার খান
জেলা প্রশাসক, পার্বত্য চট্টগ্রাম।
প্রতি জনাব: ......................................................
বিষয়: পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিহীন অ-উপজাতি পরিবারের পুনর্বাসন। দ্বিতীয় পর্যায়।
২১-৮-৮০ তারিখে ঢাকায় আমাদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের ৬৬/(৯)/সি নং পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে... ৪-৯-৮০ তারিখের উপরোক্ত বিষয়ের উপর, আমি ক্যাটস (CATS)-এ অন্যান্য জেলা থেকে ভূমিহীন অ-আদিবাসী পরিবারদের পুনর্বাসন কর্মসূচী সংক্রান্ত নিম্নোক্ত নির্দেশিকা প্রদান করছি:
১) পরিবার নির্বাচন ১৫ই অক্টোবর, ৮০ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
২) সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সংযুক্তি (ক)-তে প্রদত্ত ফরম অনুযায়ী নির্বাচিত পরিবারগুলিকে পরিচয়পত্র প্রদান করবেন।
৩) দলভিত্তিক পরিবারের নাম ২২শে অক্টোবর/৮০ তারিখের মধ্যে আমাদের কাছে পাঠাতে হবে। এই তালিকাগুলি পাওয়ার পর, তাদের কোথায় পুনর্বাসন করা হবে সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং দলগুলিকে কোন কোন তারিখে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পের (তীর্থ শিবির) অভ্যর্থনা কেন্দ্রে রিপোর্ট করতে হবে তা আপনাকে জানিয়ে দেব।
৪) অভ্যর্থনা কেন্দ্রে একজন কর্মকর্তা বসতি স্থাপনকারীদের দেখাশোনা করবেন এবং পুনর্বাসন ব্লকে তাদের যাত্রার ব্যবস্থা করবেন। তবে, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা করবেন।
৫) অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বসতি স্থাপনকারীদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০০/- টাকা করে দেওয়া হবে এবং তাদের পুনর্বাসন ব্লকে পৌঁছানোর পর আরও ৫০০/- টাকার একটি কিস্তি প্রদান করা হবে। এরপর, প্রত্যেক পরিবারকে আরও পাঁচ মাস ধরে প্রতি মাসে ২০০/- টাকা করে অতিরিক্ত অনুদান (গ) দেওয়া হবে। এছাড়াও, ‘খাদ্যের বিনিময়ে কাজ’ কর্মসূচির অধীনে বসতি স্থাপনকারীদের নিজেদের বাড়ি নির্মাণ, জমি পুনরুদ্ধার, তাদের জন্য গ্রামের রাস্তা তৈরি এবং নিজেদের পাড়ায় পুকুর খননের জন্য ৬ মাস ধরে প্রতি পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে ১২ সের গম দেওয়া হবে। আরও ছয় মাসের জন্য এর ব্যবস্থা থাকবে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

“আমাদের সংগ্রাম অদম্য, আমাদের লক্ষ্য অবিচল” - ইনজেব চাঙমা

 


পাহাড় কেবল মাটি-পাথরের স্তূপ নয়; এটি একটি সভ্যতা, একটি সংস্কৃতি, একটি জাতিসত্তার পরিচয়। যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বঞ্চনা, ভূমি বেদখল ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার। “যতই ভয় দেখাও, দমিয়ে রাখা যাবে না; পাহাড় জাগছে তার অধিকারের দাবিতে!”—রাণী ইয়ান ইয়ানের এই উচ্চারণ সেই জাগরণেরই প্রতিধ্বনি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ যখন অধিকার আদায়ে রুখে দাঁড়ায়, তখন তা আর নিছক দাবি থাকে না, হয়ে ওঠে অস্তিত্বের সংগ্রাম।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস গৌরবের, আবার বেদনারও। তাদের নিজস্ব সামাজিক কাঠামো, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও শাসনরীতি ছিল শতাব্দীপ্রাচীন। কিন্তু উপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোতে ধীরে ধীরে তাদের ঐতিহ্যবাহী ভূমি অধিকার খর্ব হয়েছে। উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ, বন ও পর্যটন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব পাহাড়ি জীবনকে ক্রমশ কোণঠাসা করেছে। রাণী ইয়ান ইয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন—এই শোষণের বিরুদ্ধে পাহাড় আজ জেগেছে, কারণ অধিকার হারানোর জন্য নয়, আদায়ের জন্য তারা লড়তে শিখেছে।
রাণী ইয়ান ইয়ানের ঘোষণায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর চারটি মৌলিক দাবি উঠে এসেছে। এগুলো কোনো করুণা নয়, বরং সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার:
১. ঐতিহ্যবাহী ভূমি অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা: প্রথাগত জুমচাষ, বন ও গ্রামের সামাজিক মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া; ভূমি কমিশন কার্যকর করা
২. ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ: মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা, উৎসব ও রীতিনীতির স্বীকৃতি
৩. স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকারে প্রকৃত ক্ষমতায়ন, সংসদে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব
৪. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের ন্যায্য অংশ: পাহাড়ের ভূ-প্রকৃতি উপযোগী শিক্ষা-স্বাস্থ্য অবকাঠামো, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, কর্মসংস্থানে কোটা বাস্তবায়ন
“শুনুন হে জেলা প্রশাসক!”—এই সম্বোধন কেবল একজন কর্মকর্তার প্রতি নয়, সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি। প্রতিবাদের আগুন ভয় দেখিয়ে নেভানো যাবে না। পাহাড়ি জনগণের এই জাগ্রত চেতনা উপেক্ষা করলে তা নতুন ইতিহাস রচনা করবে—যে ইতিহাস হবে অধিকার আদায়ের। তাই প্রশাসনকে যৌক্তিক দাবিসমূহ অনুধাবন করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আলোচনার দরজা খোলা আছে, কিন্তু নিষ্ক্রিয়তা বা দমন-পীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়।
এই লড়াই আবেগের নয়, অস্তিত্বের। “বুকের রক্ত দিয়ে হলেও আমাদের অধিকার রক্ষা করব”—এই পঙক্তি প্রমাণ করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী আর পিছু হটবে না। তাদের সংগ্রাম অদম্য কারণ লক্ষ্য অবিচল: মর্যাদা ও সম-অধিকার নিয়ে বাঁচা। রাষ্ট্রের মূল স্রোতে থেকেও নিজস্ব পরিচয়ে বিকশিত হওয়ার অধিকার তাদের জন্মগত।
রাণী ইয়ান ইয়ানের বক্তব্য একটি ঘোষণাপত্র—নিপীড়নের বিরুদ্ধে, আত্মমর্যাদার পক্ষে। পাহাড়ের অধিকার মানে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যের সুরক্ষা। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভূমি, ভাষা, রাজনীতি ও অর্থনীতির অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। পাহাড় জেগেছে। এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই জাগরণকে সম্মান জানিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাধানে এগিয়ে আসা।

বাকস্বাধীনতা ও অধিকারের লড়াই - ইনজেব চাঙমা

 


একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলো তার স্বাধীন মতপ্রকাশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে, যখনই কেউ নিজের ন্যায্য অধিকার বা সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে কথা বলে, তখনই তাকে 'সতর্কবার্তা' বা 'রাষ্ট্রদ্রোহের' তকমা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সাম্প্রতিক চাঙমা রাণী ইয়েন ইয়েনকে সতর্কবার্তা বা এ জাতীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে—আমরা কি সত্যিই একটি স্বাধীন দেশে বাস করছি, নাকি ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করার সেই পুরনো ঔপনিবেশিক সংস্কৃতিতেই আটকে আছি?
 
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, শোষক গোষ্ঠী সবসময়ই সত্য উচ্চারণকারীকে 'সন্ত্রাসী' বা 'রাষ্ট্রদ্রোহী' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত—বাংলার দামাল ছেলেরা যখনই অধিকারের কথা বলেছে, তখনই তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা, সবার বিরুদ্ধেই একসময় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা ছিল। আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, ৫৪ বছর পরেও স্বাধীন বাংলাদেশে নিজের অধিকারের কথা বললে সেই একই 'রাষ্ট্রদ্রোহ' বা 'সতর্কবার্তা'র মুখোমুখি হতে হয়। যে কালচার পাকিস্তানি শাসনামলে ছিল, তার প্রতিফলন স্বাধীন বাংলাদেশে কাম্য নয়।
 
জেলা প্রশাসন বা রাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গের দায়িত্ব হলো নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা, অধিকার হরণ করা নয়। একজন নাগরিক যখন তার জীবন, জীবিকা বা আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাকে আইনি ভয় দেখানো বা সতর্কবার্তা দেওয়া স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী। সংবিধানে স্বীকৃত 'বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা' কোনো দয়া নয়, বরং এটি নাগরিকের জন্মগত অধিকার। অধিকারের কথা বলা যদি রাষ্ট্রদ্রোহ হয়, তবে বুঝতে হবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটিই সেখানে সংকটাপন্ন।
 
বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে একটি রাষ্ট্র কতটা উন্নত, তা পরিমাপ করা হয় সেই রাষ্ট্রের নাগরিকরা কতটা নির্ভয়ে কথা বলতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে। ভয়ের সংস্কৃতি বা 'কালচার অফ ফিয়ার' তৈরি করে সাময়িকভাবে কাউকে চুপ করানো যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। সমালোচনাই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সমালোচনাকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে রাষ্ট্রের মৌলিক স্তম্ভগুলোই দুর্বল হয়ে পড়ে।
 
দেশ স্বাধীন হয়েছে শোষণের শৃঙ্খল ভাঙার জন্য, নতুন কোনো শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। রাঙামাটি বা দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষ যখন তার অধিকারের কথা বলে, তখন তা রাষ্ট্রদ্রোহ নয় বরং দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মনে রাখা উচিত, তারা জনগণের সেবক, মালিক নন। বাকস্বাধীনতাকে রুদ্ধ করে কোনো দেশ উন্নত হতে পারে না। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে অধিকারের কথা বললে হাতে 'সতর্কবার্তা' নয়, বরং 'সমাধান' এসে পৌঁছাবে।
 
২৫ এপ্রিল ২০২৬ লেখা 

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

পাহাড়ের ভোর, তবুও আঁধার- ইনজেব চাঙমা



পার্বত্য চট্টগ্রামের সুউচ্চ পাহাড়গুলোতে যখন ভোরের প্রথম আলো এসে পড়ে,তখন প্রকৃতির সেই স্নিগ্ধতা জুম্ম নারী ও শিশুদের মনে প্রশান্তিআনেনা; বরং নিয়ে আসে এক অজানা শঙ্কা জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে পিসিজেএসএস- এর প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা যখন বলেন- ”তারা জানে না পরবর্তী হামলা থেকে বেঁচে থাকতে পারবে কিনা"—তখন সভ্যতার সব আস্ফালন থমকে দাঁড়ায়।পাহাড়ের বুক চিরে প্রবহমান ঝর্ণার শব্দের চেয়েও সেখানে এখন ভারী হয়ে উঠেছে মানুষের হাহাকার।

১৯৯৭ সালের সেই ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ছিল এক দীর্ঘ যুদ্ধের অবসানে শান্তির নীল নকশা। সেখানে প্রতিশ্রুতি ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের, স্বপ্ন ছিল নিজের ভূমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার আর সংকল্প ছিল নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টেছে, সময় গড়িয়েছে, অথচ সেই প্রতিশ্রুতির শিকলগুলো আজ জীর্ণ। অগাস্টিনা চাকমার বক্তব্যে উঠে এসেছে এক রূঢ় সত্যচুক্তির সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আজ ভাঙা কাঁচের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাহাড়ি পথে, যা প্রতিনিয়ত জুম্ম প্রান্তিক মানুষের রক্ত ঝরাচ্ছে।

আমরা সমতলে বসে যে সূর্যোদয়কে নতুনের আবাহন মনে করি, পাহাড়ে সেই সূর্যোদয় বয়ে আনে অনিশ্চয়তা। সেখানে প্রতিদিন ভোর হয় ঠিকই, কিন্তু জুম্ম জীবনের আকাশে অন্ধকারের ঘনঘটা কাটে না। সহিংসতা আর বঞ্চনা সেখানে নিত্যসঙ্গী। যে ভূমিতে তাদের পূর্বপুরুষের হাড় মিশে আছে, সেই ভূমি আজ তাদের কাছে পরবাসী। এই অস্তিত্বের সংকট কেবল লাঞ্ছনা নয়, বরং একটি জাতির শিকড় উপড়ে ফেলার নামান্তর।

অগাস্টিনা চাকমার এই সাহসী উচ্চারণ আমাদের স্তব্ধ করে দেয়, কিন্তু একইসাথে আমাদের ভেতরের ঘুমন্ত বিবেককে নাড়া দেয়। এই প্রগাঢ় অন্ধকার দূর করার দায়ভার আজ বর্তমান প্রজন্মের। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, শোষণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা এবং ঐক্য। "পাহাড়ের এই দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার দূর করতে হলে সেই প্রজন্মকে জেগে উঠতে হবে, যাদের হৃদয়ে নিজের শিকড়ের প্রতি টান আছে।"

শেকড়হীন মানুষ যেমন ঝড়ে টিকে থাকতে পারে না, তেমনি নিজের অধিকার সংস্কৃতি সম্পর্কে উদাসীন জাতি কখনো মুক্তি পায় না। পাহাড়ের প্রতিটি জুম্ম নারী শিশুর চোখে যে অনিশ্চয়তার ছায়া, তা মোছার জন্য প্রয়োজন এক নতুন জাগরণযে জাগরণ কেবল চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নয়, বরং মানুষের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্ব নিশ্চিত করবে।

অগাস্টিনা চাকমা কেবল এক প্রতিনিধি নন, তিনি পাহাড়ের কণ্ঠস্বর। তাঁর সেই "সুন্দর অথচ বেদনাবিধুর" কথাগুলো আজ ধূলিকণায় মিশে যেতে দেওয়া চলে না। পাহাড়ের চূড়ায় ভোরের সত্যিকারের আলো তখনই পৌঁছাবে, যখন প্রতিটি শিশু নির্ভয়ে ঘুম থেকে উঠবে এবং প্রতিটি নারী ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা পাবে। শিকড়ের টানে, অস্তিত্বের লড়াইয়ে নতুন প্রজন্মকে সেই মশাল হাতে নিতে হবে যা এই দীর্ঘ অন্ধকারকে চিরতরে নির্বাসিত করবে।

অন্ধকার যতই গভীর হোক, পাহাড়ের বুক চিরে সত্যের সূর্য একদিন উদিত হবেইএই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

গোপনীয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম।

  গোপনীয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম। স্মারক নং ১০২৫(৯)সি তারিখ রাঙ্গামাটি, ১৫ই সেপ্টেম্বর/...