হৃদয়ের ঔদার্য আর সত্যের আলোয় যিনি প্রদীপ্ত, ক্ষমতার উচ্চাসনে বসেও তিনি মাটির মানুষকে ভুলে যান না। বর্তমান জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, প্রাজ্ঞ আইনবিদ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সম্প্রতি তাঁর নির্বাচনী এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত জনপদে পা রেখে তেমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। সবুজ পাহাড় আর অরণ্যঘেরা সেই জনপদের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে অবলোকনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত হলো এক মহাসত্যের বাণী।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন গৌরব ও বর্তমান বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে তিনি দীপ্ত কণ্ঠে বলেন:
"প্রকৃতপক্ষে ওরাই এই মাটির আদি সন্তান, আদিবাসিন্দা। আজ অবহেলা আর তাচ্ছিল্যে অনেকে ওদের 'ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী' বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু আমি বলি—ওরা ক্ষুদ্র নয়, ওরা হৃদয়ে ও ঐতিহ্যে অনেক বড়। মানবসভ্যতার ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে, এই অঞ্চলে ওদেরই প্রথম পদাচারণা ঘটেছিল। সেই অমোঘ সত্যের আলোকেই আমি ওদের আদিবাসী বলি।"
আদিবাসীদের উন্নত জীবনবোধের প্রশংসা করে এবং আত্মোপলব্ধির এক বেদনাকাতর স্বরে ডেপুটি স্পিকার আরও যোগ করেন, "সংখ্যায় ওরা হয়তো আজ সংখ্যালঘু, কিন্তু ওদের মন-মানসিকতা, নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি অনন্য উচ্চতায় মহিমান্বিত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ ওরা মৌলিক রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো, আমরা বাঙালিরা পরবর্তীতে এখানে এসে ওদের চিরকালীন চারণভূমি ও জায়গা দখল করে নিয়েছি।" তাঁর এই সত্যনিষ্ঠ ও সংবেদনশীল উচ্চারণ আদিবাসী মানুষের হৃদয়ে যেমন আশার আলো জ্বেলেছে, তেমনি সুধীসমাজে সৃষ্টি করেছে এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসা।
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই মানবিক ও সংবেদনশীল রূপটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; এটি তাঁর দীর্ঘদিনের আপসহীন ও ত্যাগের রাজনীতি থেকেই উৎসারিত। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী দুঃসময়ে যখন চারদিকে ছিল ভীতির পরিবেশ, তখন তিনি বুকে সাহস বেঁধে বিএনপির হাজার হাজার নির্যাতিত নেতাকর্মীর পক্ষে আদালতের প্রাঙ্গণে বীরত্বের সাথে আইনি লড়াই লড়েছেন। বিশেষ করে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জননেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলাগুলো মোকাবিলায় তাঁর বিশ্বস্ততা ও আইনি প্রজ্ঞা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দলের অনেক সুপরিচিত আইনজীবী যখন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্বিধাগ্রস্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলেন, তখন ব্যারিস্টার কামাল একজন খাটি ও নিষ্ঠাবান জাতীয়তাবাদী সৈনিক হিসেবে নিজের ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব পালন করেছেন পরম বিশ্বস্ততায়।
ত্যাগের এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, দলীয় অবদানের যথাযোগ্য স্বীকৃতিস্বরূপ দলীয় মনোনয়নে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মেধা ও নিষ্ঠার পুরস্কার হিসেবে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত হন।
সংসদের উচ্চাসনে আসীন হওয়ার পর থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ক্ষমতার মোহাতীত এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে অত্যন্ত দক্ষতা, ধৈর্য এবং সুষম নিরপেক্ষতায় তিনি সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করছেন। তাঁর এই ন্যায়নিষ্ঠ ভূমিকা কেবল নিজ দলের মাঝেই নয়, বরং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের হৃদয়েও গভীর শ্রদ্ধার আসন তৈরি করেছে। এমনকি কট্টর ও আপসহীন সরকারবিরোধী সমাজিক মাধ্যমকর্মী এবং ব্লগারদের মুখেও আজ তাঁর সংসদীয় নিরপেক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারের পক্ষে তাঁর এই বজ্রকণ্ঠ এবং সংসদের ভেতর তাঁর ন্যায়পরায়ণ ভূমিকা—উভয়ই প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণের এক অতন্দ্র প্রহরী। তাঁর এই গৌরবময় কার্যক্রম দেশবাসীকে যেমন আনন্দিত করেছে, তেমনি এক আলোর দিশা দেখিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন