পোস্টগুলি

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনের অবসান চাই: Binota M Dhamai

ছবি
"একটা জায়গায় একজন লিখেছেন: "বমরা প্রায় অর্ধেক দেশ ছেড়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ মনে হয় বম পার্বত্য চট্টগ্রামে খুব বেশি পাওয়া যাবে না। থাকলে জেলা ও উপজেলা শহরে দু-এক পরিবার থাকবে। অধিকারের ললিপপ দেখিয়ে অপরাধীকরণ করে এখন অপরাধী ধরার অভিযান চলছে। বমরা পুরোটাই তথাকথিত কাউন্টার ইন্সারজেন্সি পলিটিক্সের শিকার।" বৈষম্যের বেড়াজাল কাকে বলে, আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে সংক্ষেপে এখানে একটু যোগ করি। পার্বত্য চট্টগ্রামে যা এখনো চলমান - চুক্তির আগে এবং পরে - যে নামেই ডাকুক না কেন, অপারেশন দাবানল বা অপারেশন উত্তরণ, সেটা হলো তাত্ত্বিকভাবে কাউন্টার ইন্সার্জেন্সি স্ট্রাটেজি। এই পলিসি ব্রিটিশরা এশিয়া অঞ্চলে মালয়েশিয়াতে সরাসরি প্রয়োগ করেছিল এবং সেই একই ব্যবহারিক দিক আমাদের দেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর প্রয়োগ করছে। এই তাত্ত্বিক দিকে কয়েকটি বিষয় বিদ্যমান, প্রথমতঃ loyal population তৈরী করা। সেটা দুইভাবে করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। একটি হলো transmigration - বাইরে থেকে এনে বাঙালিদের পূর্ণবাসন করে জনমিতি বদলে দেওয়া, এবং সেটা করে ফেলেছে। আরো একটি হলো ভাগ করো শাসন করো যেখানে আমাদের পাহাড়...

পাহাড়ের আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণ: হিল ভয়েসের ন্যারেটিভে শেখ হাসিনা সরকারের সময়কাল (২০২০-২০২৪): ড. অনুরাগ চাকমা

ছবি
দেশে-দেশে আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপিত হবে। যাদেরকে ঘিরে আমাদের বাংলাদেশেও এই বিশেষ দিবসটি বহু বছর ধরে উদযাপিত হয়ে আসছিল, তাদের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কটা কেমন ছিল, আছে এবং থাকবে, দেশের এই কঠিন সময়ে সেটা অনেকের মত আমাকেও ভাবিয়ে তুলেছে। তবে শুরুতে বলতে চাই, অতীত সরকারের বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক পলিসি, পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অনেক বিষয় নিয়ে অনেক লেখা লিখেছিলাম। আমার সেসব অনেক লেখা IPNEWS সহ অনেক জায়গায় ছাপানো হয়েছিল। কিন্তু, আজকের আলোচনাটা হিল ভয়েসের ন্যারেটিভসগুলোর মধ্যে রাখতে চাই এবং দেখাতে চাই, সদ্য বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে (২০২০ থেকে ২০২৪ এপ্রিল পর্যন্ত) পাহাড়ের আদিবাসী জনগণের সাথে রাষ্ট্র কেমন আচরণ করেছে। তবে এটাও যুক্ত করতে চাই, শুধু শেখ হাসিনার আমলে নয়, অতীতের সব সরকারের সময়ে পাহাড়ের আদিবাসীরা নির্যাতিত হয়ে এসেছে। ১৯৭১ সাল থেকে আমরা সবসময় পরাধীন থেকে গেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বাদ আমরা কোনোদিন উপভোগ করতে পারিনি। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারিতে হিল ভয়েসের ফেসবুক পেইজটি যাত্রা শুরু করে। তখন থেকে এযাবৎ পর্যন্ত পার্বত্য চট্...

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা-বিদ্রোহ (১৭৭৬-৮৭) : সুপ্রকাশ রায়

ছবি
  চাকমা জাতির জীবনধারা   চট্টগ্রাম জেলার সমতলভূমির উপরিভাগে অবস্থিত পাহাড় - পর্বতময় অঞ্চলটির নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি " যাযাবর চাষীদের বাসস্থান। প্রকৃতির কঠোরতা এবং ততোধিক দুর্ধর্ষ ও বন্য প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে কঠোর সংগ্রাম করিয়া ইহাদের জীবন ধারণ করিতে হয়। " [1] ভারতবর্ষের অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চলের আদিম অধিবাসীদের মতই এই অঞ্চলের চাকমা , কুকি প্রভৃতি পার্বত্য অধিবাসীরা প্রকৃতির সহিত নিরবচ্ছিন্নভাবে কঠোর সংগ্রাম করিয়া জীবন ধারণ করে। সেই কঠোর সংগ্রামই তাহাদিগকে দুর্ধর্ষ করিয়া তুলিয়াছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলটি প্রথমে ছিল কুকি জাতির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বাসস্থান। পরে চাকমাগণ কুকিদের আরও উত্তর - পূর্ব দিকে তাড়াইয়া দিয়া আরাকান অধিকার করে। কিন্তু ব্রহ্মযুদ্ধের সময় ( ১৮২৪ - ৫২ ) মগেরা আসিয়া চাকমাদের বিতাড়িত করিয়া চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণ অংশ অধিকার করিলে চাকমাগণ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করিয়া সেই স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করিতে...