বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩

আহ্’ল পালনি: ইনজেব চাঙমা

আহ্’ল পালনি

ইনজেব চাঙমা

বারিজে কাল, আঝার মাচ ৭ তারিক, আহ্’ল পালনি দিন। মামা গেল্লে কেল্যা জুমত্তুন মামরা, চিনদিরে সুমুত্তুন নানান জুম’ তোন-পাত তোগে আনিল’। আজু-ভেভেদাঘি সমারে আদাম’ দ্বি/একজনরে আহ্’ত ধোই দিবার বলান্যা দিল’ বাবা।

এচ্যে আহ্’ল পালনি দিনত কয়েকজনরে আহ্’ত ধোই দিবং শুনি মুইও ভজান খুজি ওলুং। ম’ চিজি কল- দাদা, তরলোই দ্বিজনে কুর চিত ঘিলেনি খেবং। বাবা থেঙান খেব’ আ মামা শিরেবো খেব।

বেন্যা মামা যাদি গুমত্তুন উদি বেক জুগল গচ্ছে। মুই উদিলুং ঘুমত্তুন যাদি। ভেভে গুজং গুজং গরি বেন্যা পোত্যা এই মামারে পিদে ভাঙা বল দের। শান্দি পিদে, বিনি পিদে, বরা পিদের ভাঙে ভেবে। মামা ভাত রানে। বাবা মরে কল’- দিঘোল বাবা, ত’ কাক্কাদাঘিরে কোই আয়গোই বেন্যা আমা ইধু সুদমুদ’ ভাত খেদগি। কেল্যা অক্ত ন’ পাং তারা ইধু যেবার।

মুই আ ম’ আওজোর বোন্নু দ্বিজনে কাক্কাদাঘিদু যেলং। কাক্কারে কুর গম গরের লাগত পেলঙ। কাক্কা আমারে দিঘি বিগিদি গরি কল’ –  সাঙুআন তিনচিদোর গরি থ’, দিঘোল্যাদাঘি  উদি ন’ পারন পারা। মুই কিঝেখিজ্যা গরি কাক্কারে কলুং- কাক্কা, তরে আমি বলান্যা দিবাত্তে এলং। বাবা আ মামা কোইয়োন আমা ইধু ভাত খেবারলোই। সমারে চিজি  ফিত্তিরে আনিদে। তা কাক্কা কল- অ। আ ইক্কে বলান্যা ন’ দিদা দ’ ঘরতও উদি ন’ পেলায়ুন। তারাতাঙুরি জধা কল- কাক্কা, আমিও কুর কাপ্যাই। মুই আ দাদা দ্বিজনে চিত-ঘিলেনি খেবং। বাবা থেঙান আ মামা শিরেবো খেব’। আমি ভেভে ফিত্তিরে ন’ দিবং। ফিত্তি জধাত্তুন দ্বি বঝর জেত। ফিত্তি খাক্কন পর ঘরত্তুন নিঘিলি এল- আহ্’দত,  কলা পাদা উগুরে মামারা, চিনদিরে, মক্যা বিজি আ নানান জুগল গচ্চে পোইসান চাল উগুরে তুলি দিনেই কল’- ও বাপ দেবারাজ, এচ্যা তরে আক ভাত, তোন, জুম তোন পাত, মামরা-চিনদিরে বেক দুঙোর। আমার ঝর লাগিলে ঝর দিচ, রোদ লাগিলে রোদ দিচ, ………………….। ঝু ঝু বাপ দেবারাজ। সেলাঙ গরি আ মাদি যেনেই কল- ও মা মেদেনি,  এচ্যা তরে আক ভাত, তোন, জুম তোন পাত, মামরা-চিনদিরে বেক দুঙোর। আমা খেত-খিতি দোল অয় পারা ………………….। ঝু ঝু মা মেদিনি।

জধা কল- ফিত্তি ভেভে, আমি তোমারে কজা এলং, আমা ইধু ত’ বাবালোই যেবার। আমি কুর কাপ্যাই। মামা জুমত্তুন মামরা, চিনদিরে, মক্যা আন্নেগোই। আমিও ত’ সান গরি দেবাবোরে, মাদিয়ানরে আ মালক্ষী মারে দিদায় খেবং। ত’ বাবা লগে এইচ বুঝু ভেভে।

ফিত্তি কল- দাদা দিঘল, এয’ আমা ইধু উদগি। আমা ইধু ভাত খেবং। এ অক্তত দিঘল বাপ্পো দাঘের যাদি যেবার দিঘলরে। নাদে ফিত্তি বাবা দাগের কি কাম আঘে। ন’ উদিবং। কাক্কা, আমা ইধু খামাক্কায় গরি ভাত খেদেগোই। পারললে এক্কা যাদি যেবার কল বাবা। মা লক্ষীমা মত্তান খেবারলই।

এ অক্ত দাঙর এক লেজা ঝর এযের। আমি দ্বি ভেইবোনে ধাবা দি দি ঘরত এলং।

মামা সক্কে বেক আজের অল’। সালাং গরি মা লক্ষীমা ভাত পোইবো তুলের। আজু দাঘি মদ খাদন, নিগুচ নিগুচ নাগর মাদন।  আজু কায় যেনেই পুজোর গরলুং- আহ্ল কিত্যা পালান আজু? এ অক্তত কাক্কা লুমিলগি। মামা ভাত ভারের।

আজু কল’- সময় গঙারে বেক বদলি যায়। এচ্যে আমা আহ্’লপালনিবোও বদলি যেল। ইক্কে আমি আহ্’ল পালনি অক্তত মাদিত তাগল ন’ বাজেই। আজল কধা এ দিন্নো কাম ন’ গরানা। আহ্’ল্যা নাঙল-জোঙল, ফাগারা বেক ধোই দায় তুলি থন। মা লক্ষীমারে খেত-খিত্তিত্তুন আক আক তোন পাত্তোই ভাত দিই। বুড় মানুচ্ছুন ঘরে ঘরে বেড়ান। আগেদি এধক্যে ন’ এল’। এ আহ্’লপালনিবো আজলে সাক্কো(শাক্য) জাদরবপ্পমঙ্গলদিবসবাআহ্লসুয়ানা দিন। এ দিন্নো চাচ-বাঝর উগুরে ভর গরি পেত তরেয়্যা সাক্কোউনে তারার জাদর উচ্সপ ইজেবে পত্তিক বঝর আহ্’লসুয়ানা বা আহ্’ল ফেলানা উচ্সপ গরন। যিয়েনবপ্পমঙ্গলদিবসকয়। রাজা-প্রজা, মিলে-মরত, গুরোহ্-বুরোহ্ মিলিনেই বেক্খুনে উচ্ছোমুচ্ছোই সে দিন্নো পালান। সে আহ্’লসুয়ানা উচ্সপ্পান রাজা আহ্’লত লামিনেই ফাঙ্ গরে। ফুলে রঙে, জুঙোল আহ্্ল’জোরা সাজেনেই রাজা রেজ্জোত বেক চাঝাউনোত্তেই আহ্’লসুয়ানা ফাং  গরি দে।

মাত্তর ইক্কে বেক উগুদো অল’। মামা দাঘি ভাত আনিলাক। এক সমারে বেক্কুনে ভাত খেলং। আজু কুরো থেঙানিলোই সাম্পা চেল’।

শুক্রবার, ২৬ মে, ২০২৩

ইরুক দিনর চাঙমা সাহিত্য: ইনজেব চাঙমা

১৯৩৬সালত চাঙমা রাজঘরত্তুন “গৈরিকা” নাঙে এক্কান পত্রিকা পয়ধে পয়ধে গরি ফগদাঙ অদ’। সিয়োত দ্বিবে এক্কো চাঙমা ভাঝর কবিদে লিক্খোন সুনানু চুনিলাল দেবান, সুনানু মুকুন্দ চাঙমা আ সুনানু সলিল রায়দাঘি। তার আগে ফিরিংচান নাঙে এক্কো কবি “আলঝি মিলের কবিদে ফগদাঙ গরে। আমি চাঙমা ভাঝে রোজিয়্যা ইরুক দিনর চাঙমা সাহিত্যরে চের কত্তা গরি পারি।
পলিম কত্তাবো ১৯৩০-১৯৭০ সাল’ সং।  তা জেরে কত্তাবো-
১৯৭০-১৯৯০ সাল সং। তা জেরে কত্তাবো -
১০৯০-২০০০ সাল সং। তা জেরে কত্তাবো -
২০০০-ইরুক সং।
১৯৩০-১৯৭০ সাল’ সং আমি চাঙমা ভাঝে সিদিক্কে রোজিয়্যা  ন’ পেই। সলিল রায় কিঝু গান আর’ ৬৬ সালর ফগদাঙি ৩ মাস পর পর ফগদাঙ গচ্যা “ঝরণা” নাঙে পত্রিকাত  রাধামান ধনপুদি পালার কিঝু কত্তা/অংশ ফগদাঙ গরা অয়। ১৯৬৭ সালত বিজার মোহন দেবানে “পার্বত্য বাণী” নাঙে এক মাস্যা পত্রিকা ফগদাঙ গরে। খালিক  সিয়ত চাঙমা সাহিত্য কুতদুর চচযা গরা অয়ে খবর পা ন’ যায়।
১৯৭০ সালত ননাধন চাঙমা “রাঙামত্যা” নাঙে এক্কো চাঙমা কবিদে বই ছাবায়। ১৯৭০ সালত আমি বানা কবিদে আ ধান ফগদাঙ আ নোয়ারাম চাঙমা অঝাপাত্তো নুঅ গরি পরান দেনা সমারে বাইবেলত্তুন কিঝু গল্প ভাচ বদল গত্তে দিঘি।
১৯৭০-১৯৯০ সালত্তুন ধরি আমা চাঙমা সাহিত্য এক্কা বল পায়। এ অক্তত ভালকজনে চাঙমা ভাঝন্দি কবিদে রোজিয়ন। দীপংকর শ্রীজ্ঞান, ননাধন, মৃত্তিকা, ডা. ভগদত্ত খীসা, সুহৃদ, কৃঞ্চ চন্দ্র, বীর, ঝিমিতি ঝিমিত, চিরজ্যোতি, ফেলাজিয়্যা, সমিত রায়, রনজিৎ দেবানসুমুত্ত আর’ ভালক জনে কবিদে, গান রোজিয়ন। তারা কবিদে গান বাদে অন্য জাগান আহ্’ত ন’ দ্যুন। তারা অক্তত কবিদেত এক কিথ্যাদি লড়বোইনর মন’ ভিদিরে যে কধা সিয়ানি কন’ কন’ কবিয়ে আনিবাত্তে চিওন।  ফেলাজিয়্যা তার “জুম্মবী পরানী মর” কবিদেবোত  আমা জাদ’ মিলেউনরে নিনেই,  তারার নিজ’ জাদ’ ধক ধক আজন্যে বাঙাল মিলে সান কবার কধা কোইয়ে-
জুম্মবী কধে চাং, এধক কেঙেরি অলে
পোঝাগে আ ধগে ধাগে কধা কধে
বাঙাল মিলে সান? - -  - ত্যুঅ তা পরানীরে লাড়ে গরিবাত্তেই দাক্কে। কোইয়ে-
চিক্কপুদী, তুই আয়
আঝার বঝরর বুক ধীবাধীপ্যা
আন্ধার উজুলেঙত্তুন
তুই নিঘিলি আয়।
---------------
---------------
লাচ, দর চিদা জাঙার ঝুরুনি ছারিনেয়
আয় তুই পুগ দুঅরত।
চাগি রোদ, চাগি রাঙা পুগ বেল।
১০৯০-২০০০ সাল সং আমা চাঙমা সাহিত্যরে কোই পারি- এ অক্তত আমা জাত্তো ভালকদিন সং ধজা পড়া খেইনেই বহুত চাঙমা পিত্তমরা অইয়ে। সে পিত্তমরা অহ্’নার সমারে জাদর মুঝুঙো লড়িয়েউনে আমারে আর’ জাগে তুলিবাত্তেই ধারাচ গচ্ছোন তারার লেঘা লেঘিনেই। ১২ ফেব্রæয়ারি ১৯৯৪ সালত সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমাদাঘি “কার্পাচ্ছোই শাপ খেলং ১৭৮৫ত্” চাঙমা জাগর বিজগর নাটক লেঘি চাঙমা জাত্তোরে ভজান বল বারে দিয়্যা। সে সমারে হিল চাদিগাঙর নানা কিথ্যাত্তুন উদো, আলাম, সাঙু নাঙে নানান ধক্কে ম্যাগাজিন ফগদাঙ অদে দিঘি।  সে ফগদাঙত বানা কবিদে নয়, পচ্জন, কিত্তো, চিগোন কিত্তো লেঘা অয়।
১৯৯৩ সালত বাাংলাদেঝর কধা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসে তার এক্কান লেঘাত “চাঙমা উপন্যাস” ধারাচ গচ্ছে।  সে পরে  ২০০২ সাল আমি কেভি দেবাশীষ চাঙমা “বেল্যা মাধান” নাঙে চাঙমা উপন্যাস পেলং।  
২০০০-ইরুক সং এ অক্তবো চাঙমা সাহিত্য স্বর্ণযুক কোই যায়। এ ভিদিরে  আমি ভালক জন কবিদে বই, উপন্যাস, দাগ কধা, বানা, কিত্তো চাঙমা ভাঝে, চাঙমা অক্কোরলোই ফগদাঙ গত্তে দিঘি। ভাচ বদলও ভালুক্কোই বই আ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র-জাতি গোষ্ঠীর জন্য উচ্চ আদালতে সরকারি আইনি সেবা লেঘাসুমুত্ত ভালক্কানি লেঘা, কবিদে ভাচ বদল গরা অইয়ে। গান আ নাদক কিথ্যাদি চেলেও বুক ভরি যায়। আগত্তুন ইক্কে বেচ ধর্মগান  আ নাদক দিঘির। খাগাড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউদত্তুন “রাধামন ধনপুদি পালা” গীতিনাট্যবো আর’ বেচ পরান জুরে দিল।
চাঙমা আহ্’রগে, চাঙমা ভাঝে লিখ্যা বই এবার বহুত দেঘা যার-
“ফেবো” দেবপ্রিয় চাঙমা,  যুনিও নানান পত্রিকাত উপন্যাস ইজেবে কোই কয় আজলে ইবে এক্কো ছোটগল্প)। “মেগুল েেদবা আহ্’ঝি” সুরোজ কান্তি , “মনবি” আর্য্যমিত্র, “তুই এভে ভিলে” শ্যামল কান্তি, “তিন ফাগারা” আর্য্যমিত্র।
ম্যাগাজিন: “মা ভাচ (মাতৃভাষা)” ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খগাড়াছড়ি। চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা “চাদি” (তিন মাজ্যা নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ; “তারুম” উদয় শংকর, রাঙামাত্যা ফগদাঙ: ১ জুলাই ২০১৭ খ্রি. ২ পয়ধে সং ফগদাঙ অয়।
“জুম চাব” কবিদে কাবিদ্যাঙ ইনজেব চাঙমা ফগদাঙ ২০২১ খ্রি. ২ পয়ধে, সং ফগদাঙ

কবিদে:
“ফুল বারেঙ” সুনানু আলোময়,     “ধেবা কুল্যা নাগরি” সোহেল, “আহ্’ভিল্যাচ” বিনয় বিকাশ,     “আহ্’লি গাদিয়্যা মালি ফুল” প্রিয়দর্শী, “মেঘ  সেরে মোন’ চুক”  মৃত্তিকা, “ধনপুদি”, “উত্তিপুত্তি”  ইনজেব।
ছড়া:
“জুনিপুক” শ্যামল, “ওলি ওলি” কাবিদ্যাঙ: ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় আ দেবপ্রিয়, “মিল কধা নকবাচ” মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আ জাবারাং

পত্রিকা:
“করোদি” কাবিদ্যাং  সুভাশীষ, ২০১৫ খ্রি তিন পয়ধে সং ফগদাঙ।
চিজি বই
শব্দ কোই, তারুম আ রানজুনি- ইনজেব, সোনামণি, তুহিন । চিজি অংক তারা,  অঝাপাদর ছড়া,  এয’ অংক শিঘি- শান্তি, শ্রেয়সী, কে.ভি. দেবাশীষ।  এক সমারে ভালক্কানি- প্রসন্ন কুমার, প্রিয়সী, মণি। চাঙমা শব্দ বই- চিজির তালমিলতি কধা- সম্ভুমিত্র, পরেশ, এলিয়েন্স । হ্’েমান আ পেইক মনর সবন- জ্ঞানদর্শী, এজেন্সী, পুর্ণাঙ্গ। আমা ফল পাগোর আ গুলগুলি- চিজির অহ্’রক বই- আর্য্যমিত্র, কুশলী, লক্ষীপতি। ইক্কুল’ অক্ত- ভবেশ মিত্র, লুসী , নীল চন্দ্র।
 
আমি যুনি এ বইউন লিক্খে সাহিত্যআনরে তচবিচ গরি দিঘিবং কন’জনে কোচপানালোই লিক্খোন, কন’জনে জাদর বিজক, ঐতিহ্য, রাধামন ধনপুদি, শরনার্থী দুঘর জীংকানি, উদ্ভাস্তÍু দুগর লামা কধা লোইনেই লিেিক্খান। ইরুক দেগা যার নানা জধায়ে বই ফগদাঙ গত্তন। এ ধারবো বে যেলে চাঙমা সাহিত্য খামাক্কায় একদিন পহ্’র ছিদিব। আমি পেবং আর্মি-বাঙালে চাঙমা কাপ্পোন, জাগা জমি আহ্’রি লুয়ন, লংগদু, লো-গাঙ, চংড়াছড়ি, নান্যাচর, মালছড়ি বা হিল চাদিগাঙর ঘদনা নিনেই উপন্যাস, পচ্জন আ কিত্তো। এ আঝায় চেই থেবং সে দিঘোল পথ ধুরি।  

শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩

আমি চাঙমা সাহিত্য বাহ্’ত্তুন পদত্যাগ ন’ গরি, গচ্ছেই দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্’ত্তুন: ইনজেব চাঙমা


যে লাম্বা ১৮ বঝর ধুরি চাঙমা লেঘা শেঘানা কামান এগাচিত্তে এগামনে নিআলচি গরি যার তে অহ্’ল সুনানু ইনজেব চাঙমা। তার জনম ১৯ ডিসেম্বর ১৯৮১ খ্রি. বাজেইছড়া ২৯ নং ছোট মেরুং মুউজ, চাঙমা সার্কেলত। চাঙমা লেঘা শেঘানা সমারে চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা, হিল চাদিগাং, জুম চাব, মেদিনি আ জুম নাঙে ম্যাগাজিন কাবিদ্যাঙ গচ্ছে। তাত্তুন চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা “চাদি” এ এজাল কাবিদ্যাঙ সুনানু বর্ষা চাঙমা আ সুনানু ধর্ম বিকাশ চাঙমাদাঘি মুঝুঙ’ পুজোর জোপ লুয়ন।

চাদি: সিঝি বেন্যা মাধান আ ঝু ঝু।
ইনজেব: তমারেও সিঝি বেন্যা মাধান আ অতালিয়ে কোচপানা।
চাদি: কেঝান আঘচ দা?
ইনজেব: গাউলি গম আঘং।
চাদি: চাঙমা সাহিত্য, ভাচ আ ওক্কোর নিনেই যে কাম গরর কেঝান চলের?
ইনজেব: খুপ গম চলের। কিত্তে? ইরুক পিড়িউন ঘুমত্তুন জাগিলাক। তারা আজার দুগর সেরে সেরে নিজ’ গধেল কিঝু অপুরন থানার পরও জাদত্যাই লেঙে লেঙে, ফোবে ফোবে কাম গরি যাদন।
চাদি: চাঙমা লেঘা শিঘানা চিদেয়ান কেনে সমেল?
ইনজেব: আচ্ছা, দোল এক্কান পুজোর। এ কধা কদ’ যেলে পল্যা পিচ্ছে ফিরি চেই পেবং। সে ১৮৬০ সালত ব্রিটিঝে পার্বত্য চট্টগ্রামান দঙল গরানা পর চন্দ্রঘোনা বোর্ডিং ইক্কুল নাঙে এক্কান ইক্কুল চালু গরা অয়। সিয়োত বাংলা, ইংরেজি সমারে চাঙমা আ মারমা ভাচ শেঘেবার এক্কান জু দিয়্যা অয়। মাত্তর! আমা চেলাউন সিয়ান গজি ন’ লন। সে পরে ১৯৩৭/৩৮ সালত মিলান সাপ্যা রাঙামাত্যা মা ভাচ্ছোই লেঘা শিঘেবার চেল’। সিয়োত সক্কে চেলা সুনানু কামিনী মোহন দেবানে ন’ চানার আ ১৯৫৯ সালত পাকিস্তান আমলত সুনানু নোয়ারাম চাঙমা “চাকমার পত্থম শিক্ষা” বইবো প্রাইমারি ইক্কুলত দিঙিরি পেলেও দেবানদাঘি ন’ চানার, মা-ভাচ্ছোই লেঘা শিঘিবার ন’ চানার আর শেঘা ন’ অয়।
এ গেল’ ব্রিটিশ আমল আ পাকিস্তান আমল। এ পর এল’ বাংলাদেশ আমল। দাঙর আহ্ভিল্যাঝর কধা, যে দেচ মা-ভাঝর পোইদ্যানে লাড়েই গরি এক্কান দেচ, বাবদা পেল সেই দেঝর অন্য ভাঝর বাজার কন’ খবর নেই। লাম্বা এক্কো অক্ত লাড়েই গরি পেলং পার্বত্য চুক্তি। সে পার্বত্য চুক্তিত লেঘা থেলেয়্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে মা-ভাঝে লেঘা শেঘেবার কন’ গরচ মনে ন’ গরে। পাবর্ত্য চুক্তি এক যুক পর মহান জাতীয় সংসদত ২০১০ সালত জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষণা গচ্ছে। সিয়োত দেঝর যা আদিবাসী আঘন যা যা মা ভাচ্ছোই লেঘা শেঘেবার  কধা এল’ আ কো কোইয়ে- ২০১৪ সালত্তুন ধুরি পল্যাদি বাংলাদেঝর ছ’য়ান আদিবাসী ভাচ্ছোই লেঘা শিঘিবার। মাত্তর! ২০১৪ সাল এনেই দেঘা গেল বাজেট নেই। ইয়ানি ম’ কধা নয়। নানান কিথ্যাত্তুন তথ্য ম’ আহ্’দত আঘে। সেনে কামান চালে ন’ পাত্তন। এ অক্তত কয়েক্কো এনজিও মুজুঙে আক্কোই এলে সংশ্লিষ্ট লেঘিয়্যাউনরে ঢাকাত নিনেই বই বানা ধরল। সক্যেও কো অয়ে ১৫ সালত্তন ধরি বই আহ্’দত তুলি দিব’। সে ১৫ সালতও কন’ বই দেঘা নেই। আর কো কয় ১৬ সাল কধা। সক্কেও দেঘা নেই বই।  
ইন্দি বাংলা ভাচ্ছান মরা মচ্যে গরি ভুগে দের। দিন দিন আমাহ্ ভাচ্ছান চাংলা আ চাংলিশ অই যার। আমি দ’ সরকার আঝায় বোই থেলে ন’ অভ’। ইয়ান আমার কাম। আমাত্তুন গরা পরিব’। এধক্যে এক্কান ভাপ উদি ২০১৪ সালত্তুন ধুরি এঘামার গরি এ চাঙমা লেঘা শেঘানা কামান গরি যের। যুনি মুই ২০০৪ সালত্তুন ধুরি চাঙমা লেঘা শেঘে থাং।
চাদি: চাঙমা লেঘা ছিদি দেনা কামান গত্তে কেঝান এজাল পা যিয়্যা?
ইনজেব: এজাল ন’ পেলে এত্তমান কাম আমাহ্ পক্কে গরানা সম্ভব নয়। চাঙমা লেঘা শেঘানা কামান ২০০৪ সালত্তুন ধুরি আরগানি অলেও মূলত ২০১৪ সালত্তুন ধুরি এঘামার গরি গরা অয়ে। সক্কে দিঘীনালা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুনানু সুসময় চাঙমা ১৫০০ তেঙা এজালে ফ্রি চাঙমা লেঘা কোর্স ফাংফগদাঙ গরা অয়। চাঙমা লেঘা শিঘিবার উচ্চোপুক তুলি দিবাত্তে ফ্রি চাঙমা লেঘা ২০১৫-২০১৬ সাল সং দ্বি’বঝর গরা অয়ে। ২০১৭ সালত সুনানু শ্রেয়সী চাঙমা এজালে বাবুছড়া ফ্রেন্ডশীপ ইক্কুলত কোর্স গরানা পর আর’ বেচ চাঙমা লেঘা শেঘানা কামান ভারি যিয়ে। ২০১৮ সালত খাগাড়াছড়ি জেলা পরিষদর সাবাঙ্গি সুনানু শতরুপা চাঙমাদাঘি ১০ হাজার তেঙা এজাল দিলে ৩৩জন চাঙমা লেঘা পর্বোয়াদাঘিরে টিওটি ট্রেনিং দেনার পর ঢাকা, রাঙামাত্যা, বান্দরবানসুমুত্ত নানান জাগাত চাঙমা লেঘা এয সং শেঘে যের।  সে পরে জেএসএস (লারমা) একলাক তেঙা এজাল দিলে আমি দিঘীনালাত অফিস গরি পারির। ২০১৮ সালত ২০ হাজার চাঙমা লেঘা বই ছাবে মাগানা ভাক গরিদিবার উদ্যোগ ললে ইয়োত বহুত মানুঝর এজাল পা যিয়ে। এধক্যে গরি নানান জনর এজালে আমি এয’ মুজুঙে আহ্’দি যের।
চাদি: আমি দেঘিলং বিশেষ গরি তর অবদানে, তর নিআলচি কামর বলে এচ্যে এক ঝাঁক কাম্মো চাঙমা সাহিত্য বাহ্’বো পিত্তিমি বুগত ছিদি পচ্যে। মাত্তর! এধক খাদুনির পর যে বাহ্ শূন্যত্তুন এক্কান জাগা জুরি দিলা কধ’ গেলে সহ¯্রকোটি গরিনেই কিত্তে পদত্যাগ গরিলা?
ইনজেব: আমি চাঙমা সাহিত্য বাহ্’ত্তুন পদত্যাগ ন’ গরি, গচ্ছেই দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্’ত্তুন। ইয়োত বানা আমি নয়, যারা দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্’ ভিলিনেই বুঝি পাচ্ছোন তারা পদত্যাগ গচ্ছোন প্রায় ১০০ উগুরে সাবাঙ্গি কাম্মো। ২০২০ সালতও শ্রেয়সী, প্রিয়সী, সম্ভুমিত্র, এলিয়েন্স, বিকেন সুমুত্ত ২০/২৫ জনর এক্কো তম্ভা চাঙমা সাহিত্য বাহ্’ত্তুন আহ্’ত ইরি যেলাক।  
বেগে ভাবন চাঙমা সাহিত্য বাহ্ আমাহ্ চাঙমা জাদর এক্কো জধা। মুই ভাবিদুঙ চাঙমা সাহিত্য বাহ্ মানে বেক চাঙমাউনর এক্কো সাহিত্য বাহ্’। সেনে মুই এধক্যে গরি কোচপিয়োং রাধামনে সাপ’ কুদুন খেব’ খবর পেনেও ধনপুদিরে নাকশা ফুল্লো পারি দিয়্যা। এ যে লাঙ, কোচপানা থিক সেধক্যে গরি মুই চাঙমা সাহিত্য বাহ্ লাঙত পচ্ছোং। সেনে মর নিজ’ ঘর সংসার কক্কে উবোত ভচ যিয়ে থাহ্’র গরি ন’ পারং। মর’ সবন আ আঝা এল’ এ চাঙমা সাহিত্য বাহ্’বোত্তুন ঝাক ঝাক কবি, লেঘিয়্যা, শিল্পী নিঘিলি এবাক। সেনে মর দিন রেত সময় দি যেলুং। ঘরত অসুক, ইন্দি চাঙমা সাহিত্য বাহ্ দ্বিদশক পূর্তি ত্যুঅ নিজ’ মোক্কো অসুগত সময় ন’ দিনেই বাহ্’বোত সময় দি যাঙর। ভাবিদুং মর’ বানা দ্বিবে পুঅ, এ বাহ্’বোত শত শত পুঅ। তারা চেদন জাগি তুলি পারিলে আমার অনতন ন’ থেব’। রাহ্’ত ন’ থেব কন’। মাত্তর, যেদক দিন, মাচ, বঝর পর বঝর যার বুঝি পারিলুং ইবে দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্, চাঙমা সাহিত্য বাহ্ নয়। কিত্তে? তার কধালোই বেক্কানি চলে, তারে কন’ জনে কিঝু পুজোর গরিলে তারে খারাপ ভাবে। তা পিচ্ছেদি মানুচ লাগেই দ্যা।  এধক্যে গরি কন’ জধা মুজুঙে আক্কোই ন’ যায়, যেই ন’ পারে আ কন’ জাতয়্য মুঝুঙে আক্কোই যেই ন’ পারে। কমিতি মেয়াদ শেচ ন’ অদে তা মনে মতন ন’ অলে আর কমিতি বানায় আ কন’ কমিতিলোই তেম্মাং নেই, সল্লা নেই গরি।  গঠনতন্ত্র ন’ মানি  তে কাররে কোচপেলে, গম লাগি নীতি নিধারর্ণী কমিতি আনে। তেহ্, তা ধক্যে তে কাম গরেনাত্যাই আমি দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্’ত্তুন পদত্যাগ গরিলুং, চাঙমা সাহিত্য বাহ্’ত্তুন নয়। আমি এজ’ কাম গরি যের। সিয়ান বাদেয়্য তুমি যিবে চাঙমা সাহিত্য বাহ্ মনে গরর ইবে এক্কো বিশেষ আঞ্চলিক দল’ আঞ্জামে যিয়ে। আমি মনে গরি ইরুক হিলর দিন মাধানে কয় কন’ আঞ্চলিক দলরে কোচ পেলেও কোচপানা দেঘে পারা ন’ যায়। দেঘেলে সক্যে আমাহ্ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সফল ন’ অভ।   
চাদি: চাঙমা সাহিত্য বাহ্ আ দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্ কধান ভাঙি কবে?
ইনজেব: চাঙমা নাঙান গোদা চাঙমা জাত্তোরে প্রতিনিধিত্ব গরে আ দেবপ্রিয় বানা এক্কো বন্দা। মুই ভাগ্যবান যে, যে জাদে এক অক্তত সাগুচ্যা দেচ জয় গচ্ছে, যে জাদে এক অক্তত রাজা এল’ যে জাদত্তুন গৌতম বুদ্ধ আ এম.এন লারমা সান দাঙর দাঙর মানুচ জনম অন সে জাদর মুইও এক্কো সাবাঙ্গি। মাত্তর! আহ্’ভিল্যাচ থায়, আমি যেম্বা শিক্ষিত অই না কেন আমাহ্ মনানি ভারি চিগোন। এ চিগোন মন্নোই মুঝুঙে আক্কোই যে ন’ পারে। বিশ্চেচ রাঘা পরে, কোচপানা রাঘা পরে। সে জিনিচ্ছান দেবপ্রিয় চাঙমদাঘির নেই। যুনিও তে এক্কো লেখক। লেখকর ধর্ম সিয়ান নয়।    
কিত্তে চাঙমা সাহিত্য বাহ্ এক্কান চিদে এল’ লাম্বা এক্কান অক্তত নমিজিল্যা(সামন্ত) সমাচ্ছোই লুদু পুদু গরি এলং। কবি সুনানু আলোময় চাঙমা লেঘা, সুনানু কে.ভি দেবাশীষ চাঙমা লেঘা ছাবা ন’ যেব’। আ লেঘিয়্যা সুনানু আর্য্যমিত্র চাঙমাদাঘিরে কন ফাংশানত ফাং গরা ন’ যেব’। ইয়ানি চাঙমা সাহিত্য বাহ্’বোরে ন’ মানায়। এ ন’ মিজিল্যা খাজ্যাক্কোত্তুন নিঘিলি আনানা আমার ধর্ম। মাত্তর, সুনানু দেবপ্রিয় চাঙমাদাঘি সিয়ান গরন। সিয়ান বাদেও চাঙমা সাহিত্য বাহ্ বানা আমি কাম গরি ভিলে আমার নয়, ইবে বেক চাঙমাউনর এক্কো বাহ্’। আ সে বিপরিত দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্’। মুই বিশ্চেচ আ অমহদ’ গরি কোচপেদুং সুনানু দেবপ্রিয় চাঙমাদাঘিরে। ম’ সাঙু বইবো তারে উৎসর্গ গরিলুং। মনে গত্তুং তেও পারিব’ জাদত্যাই কিঝু গরি। মাত্তর! যদ’ দিন, মাস, বঝর পর বঝর ভিদি যার সেধক ম’ মনত তার এধক্যে কারবারলোই মর চিদমুরুত্তুন বিশ্চেচ উদি যেল’। ইয়ান সত্য দেবপ্রিয় চাঙমা এ বাহ্’বোত যক্কে আহ্’ত ন’ দ্যা সক্কে আমি দোলে কাম গরি যিয়েই। সে কামত তেজে তার চোগত যক্কে উদিল’ সক্যে নানান সল্লা-পরামর্শ দি যার আর আমাহ্ জধা ভাঙি যা ধরল’।  
চাদি: কে.ভি. দেবাশীষ চাঙমা চাঙমা সাহিত্য বাহ্ গরা কমিতি জধানানু এল?
ইনজেব: এল’। মুই যক্যে ফ্রি চাঙমা লেঘা কোর্স দিঘীনালা বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদত ফাং গরঙর সক্যে তে সে ফাংশানত যিয়ে। মুই তারে সক্যে ন’ চিনং যুনিও তার বই পড়ি থাং। সিয়োত চিনপচ্যা অহ্ল’। সিত্তুন ধুরি এক্কো রেগা অল’। সে রেগা নালে ২০১৮ সাল তারে জধানানু বানে আ মুই দাঙর কাবিদ্যাঙ ইজেবে কাম চালে নেযা অয়ে। মাত্তর, দেবপ্রিয় চাঙমা একবুচ্ছে সিদ্ধান্তত্যাই মেয়াদ থুম ন’ অদে আর’ কমিতি বানা অয়ে। আহ্’ভিল্যাঝর কধা সুনানু দেবাশীষ দাও খবর ন’ পায় কমলে কমিতি অহ্ল। ফেসবুকত দেঘিনেই এক্কান কমেন্ট গচ্ছে কে.ভি দা- কমলে কমলে মেয়াত থুম অল খবর ন’ পাং, বঝরউন এক্কি বাদি? সিয়োত দেবপ্রিয় দা চাঙমা সাহিত্য বাহ্ পেজত্তুন কমেন্ট গচ্ছে।                                                                           
চাদি: দেবপ্রিয় চাঙমাদাঘি তরে বদনাম গত্তন তুই নায়ি তেঙা মারি খেইয়োচ?
ইনজেব: মুই দেবপ্রিয় দারে ভারি গরি কোচপেদুং, মর আঝা এল’ দ্বিজনে আমি চাঙমা জাত্তোত্যারে দোল কিঝু এক্কান দি পারিবং। সিয়ান আর বলবলা অয়ে আমা সমারে একঝাঁক লড়বো আঘন। যারা কিঝু গরিবার আওচ আঘে। যুনিও তে “পার্বত্য চুক্তি” মানি ন’ পারে। তারপরও মর বিশ্বেচ এল’ তে একদিন বুঝিব’। এ আঝালোই লাম্বা প্রায় ২২ বঝর সং তা পরামর্শলোই কাম গরি যেলুং। মুই জধানানু অহ্’লেও তা পরামর্শ বাদে কন’ কাম আহ্’দত ন’ লং। ইক্কে কধা কত্তে, তারা সে কধান এর আগে কাররে কোইয়ে নিনা? খামাক্কায় কাররে ন’ কন আ কবার জুও নেই। কিত্তে, আমি নিজ’ পেদ উন’ রাঘেনেই, নিজর লাগেদে দরপ ন’ কিনিনেই, ন’ খেইনে তেঙা বাজে বাজে এ কামান গচ্ছেই- সাক্কোন গাচ বিজি, সোনা চেইন বন্ধক দি। এ অক্তত মথুরা বিকাশ দা কধান ইধোত উদিল। তে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পেনেই তারারে কোচপানা গজা যেনেই তে মত্তুন পুজোর গরে - কেনে কাম গরি পারচ? অয়, গরি পারে কন’ কাম সাতকাম ভাবিলে। মুই এ কামান জীংকানিত এক্কান দাঙর কত্তা ভাবং।
এক্কো কোর্সত্তুন কয় তেঙা পেই। যা পেই সে তেঙাউন ন’ কুলান কোর্স চালাদে। এ কধা মুই ন’ কোম তুমি যারা কোর্স চালান তারাত্তুন পুজোর গরিলে আর দোল জোপ পেবা। কোর্সত যে ফি উদন সিত্তুন বানা সার্টিফিকেট প্রিন্ট খরচও পাদে ন’ পারন অনেগে। সালেন কেনে তেঙা মারি খানা কধা উদি এ অক্তত? যে অক্তত আমি দেবপ্রিয় সাহিত্য বাহ্’বোত্তুন পদত্যাগ গরিলং।
বানা তুমি নয় মুই গম গম মানচ্ছোত্তুন শুন্নোং ১০/১৫ লাক তেঙা মারি খেনেই পদত্যাগ গচ্ছোং এ কধা দেবপ্রিয় কর। সালেন পুজোর এযে এ তেঙা উত্তুন পা যিয়ে? বরং ইয়োত মর ২০২০ আ ২০২২ অর্থ বঝরত ১,৬৭,৭৭২ তেঙা খরচ অলাক। ১৫-১৬ সালত ২০ হাজার, ১৬-১৭ সালত ১৫ হাজার, ১৮-১৯ সালত ৮০ হাজার, ১৯-২০ সালত ২৩ হাজার তেঙা খরচ অলাক। সে বাদে ভালুক্কো তেঙা খরচ আঘন যা মুই ইজেপ ন’ রাঘাং, রাঘেবারও মনে ন’ গরং। কিত্তে, এ কামানি আমা কাম, নিজর কাম। ২০১৫ সালত্তুন ধুরি বানা মোবাইল বিল আ নেদর খরচ দিঘিলে দেবপ্রিয় চাঙমাদাঘি উগুরি উদিবাক। ২০১৫ সালত্তুন ধুরি দেবপ্রিয় কয় তেঙা এজাল দিল? বানা ৮০০০ তেঙা। কেভিড- ১৯ অক্তত ত্রাণ দিবাত্যা সিয়োত দিল ৪০০০ তেঙা। মর জানার মদে তে এক্কো মদর পার্টি দিলে বানা মদতও ১০/১৫ হাজার তেঙা খরচ গরে। মাত্তর, এ জধাবো তে কয় তেঙা এজাল দিল সিত্তুন কোই পারি বানা নাঙত্যাই তে কাম গরে। এ অক্তত নাঙ বাজানা কধা ন’ এযে। খারাপ কধা কয় পারা- আঘাহ্ নাত্তুন ভুরুত্তান দাঙর গরিলে ভিশন মিশন সবনত থেই যায়।
সালেন যে জাগাত তারা কন মুই তেঙা মারি খেলুং। ইয়ান তলবিচ তমাদাঘিদু। মুই কলুং ভিলে ম’ কধা বিশ্চেচ ন’ যিয়ে। ইয়ান কোম, চিগোন মনদোই কন’ কাম গরি ন’ পারে, মন খুলি আ বেক্কুনরে বিশ্চেচ যেই কাম গরা পরে।
চাদি: ফেসবুগত দেঘা যিয়ে তুই পদত্যাগ গচ্ছো আ চিত্তি নাঙে একজনরে জধানানু পদত দেঘা যিয়ে সিয়ান কিধক্যে?
ইনজেব: সিয়ান লাম্বা এক্কান পজ্জন। গেল্লে ১৩/০৫/২০২২ খ্রি. সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রো বেটার লাইফ (পিবিএল) এ তপ্পেত্তুন ১। সুনানু জয়া চাঙমা (ক্রীড়া), ২। সুনানু প্রমোদ বিকাশ চাঙমা (সাহিত্য ও প্রকাশনা), ৩। সুনানু রনজিৎ দেবান (শিল্প ও সাহিত্য), ৪। সুনানু বিভূতী চাঙমা (প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন) , ৫। পার্বত্য যান বাহন মালিক সমিতি (উদ্যোক্ত ও ব্যবসা), ৬। জাবারাং কল্যাণ সমিতি (শিক্ষা ও গবেষণা) আ ৭। উন্মেষ (সমাজ সেবা)। [সূত্র: পূর্ব কোণ ১৪ মে ২০২২] দাঘিরে মান দিয়্যা অহ্’য়্যা, গুণীজন সম্মাননা পদক-২০২২ মুলুক কধালোই সামাজিক ব্যবসা জধা (প্রতিষ্ঠান) “প্রো বেটার লাইফ” বা পিবিএল এ ব্যানারত। আ ইয়ান খামাক্কাই পাত্তুরুতুরু পেবার লাক। মুইও পিবিএলরে সাধুবাদ আ পাত্তুরুতুরু জানাঙর। তারা এ কামান আর’ ঈয়োত লাম্বা ওক।
মাত্তর, মর পুজোর বা সমালোচনা এল’ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন পোইদ্যানে দ্বিজন মানচ্যা কাম গচ্ছোন,  ইলেট্রনিক, প্রিন্ট, বøগার, গবেষকর রেফারেন্স মজিম সুনানু জ্যোতি চাঙমা আ সুনানু বিভূতি চাঙমাদাঘি। সে পোইদ্যানে এধক্যে গরি এক্কান স্ট্যাটাস দিলুং ম’ ফেসবুক টাইম লাইলত- “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর লেঘা বাংলা বর্ণমালার ‘বর্ণপরিচয়’ আ সীতানাথ বসাক লেঘা ‘আদর্শ লিপি’ যেমেন বিজগ পাদাত থিদ’ অই আঘে তেমেন চাঙমা জাদর দ্বিবে নক্ষত্র নিআলচি কামত্যাই এচ্যে চাঙমা ওক্কোরুন উরবোতদত সমে পাচ্ছোন। .................... দ্বিজনে কাম গরিনেই কিত্তে সুনানু চাঙমাদাঘিরে মান দিয়্যা ন’ অয়। .............।”  ইয়ান  দেঘি সুনানু বিভুদি চাঙমাদাঘিত্তুন কিয়ে গরম অই যেল’। তার কধা জ্যোতি চাঙমা কন’ অবদান নেই।
ইয়ানর পোইদ্যান যারা আমি ফেসবুগত লারি তারা খামাক্কায় খবর পেবং। যা ওক, পরে আমার এক্কান তেম্মাঙত সিদ্ধান্ত উয়ে দ্বিজনরে মান দিনেই ফেসবুকত এক্কা জানোনি দিবার। কধা এলে চাঙমা সাহিত্য বাহ্ নীতি নির্ধারণী কমিতি জুধানানু দেবপ্রিয় চাঙমা আ গরা কমিতি জধানানু ইজেবে মুই স্বাক্ষর দিনেই চাঙমা সাহিত্য বাহ্ ফেসবুক পেজত্তুন আপলোড দেনা। লেঘান পল্যা লেখ্য রনজিত চাঙমাদাঘি সিয়ান নীতি নির্ধারণী কমিতি গ্রুপত দিয়্যা অয় চেবাত্তে। পরে মুই কিঝু সোর গরি পাদেলুং স্বাক্ষর দিনেই দেবপ্রিয়দাঘিরে। ইক্কে তে গরল’ কি তে স্বাক্ষর ন’ দে। বানা ম’ স্বাক্ষরবোলোই ফেসবুকত আপলোড দিল’। সিয়ান দিঘি বিভূতি চাঙমাদাঘি লাম্বা লাম্বা স্ট্যাটাস লেঘা ধরিল। শেজে মামলা গরিবার হুমগি দিনেই দেবপ্রিয় চাঙমা এক জুরুরি মিটিং দাঘি মরে পদত্যাগ গরা বাজে দিল’।
এ মিটিঙত কয়েকজনে পদত্যাগ কধা উদিনেই মানসম্মান কধা তুলিলাক। মাত্তর খামাক্কায় মত্তুন পদত্যাগ গরা পরিব কল দেবপ্রিয় চাঙমাদাঘি। না অয় তারা চাগুরি আহ্’রেবাক। তারা কধা ভাবি মর পদত্যাগ গরানা। দেবপ্রিয়দাঘি আর গরিলাক এজাল জধানানু থাক্কে এক্কো সুধুরুঙো সাবাঙ্গিরে জধানানু পদত আনিলাক। সক্কেত্তুন ধুরি বুঝি পারঙর মুই দাঙর এক্কান গন্দচক্রত পরলুং।  
চাদি: তরে আর কধন চাঙমা সাহিত্য বাহ্ গরা কমিতি সভাপতি পদ ন’ পেনেই পদত্যাগ গচ্ছোচ ইয়ান কি সত্য?
ইনজেব: তারাদ’ ইক্কে মনত্তুন মুয়েদি যা কোই পারে কধন কন’ তলবিচ ছারা। সে সমারে কয়েক জন মানুচয়্য সে কধা বিশ্চেচ গত্তন। মুই ইক্কে তে বুঝি পারঙর, মুই যক্কে রাঙা সকাল ফাংশান ফাং পেলুং সিত্তুন ধুরি এ গন্দচক্রয়ান আর বেচ গাভুর অল’। তারা জধানানু আ দাঙর কাবিদ্যাঙ কামান লবাত্তে ১ বঝর আঘে গঠনতন্ত্র সোর গচ্ছোন। গঠনতন্ত্র  ১০নং ধারা খ (৫) উপধারা এল’ নীতি নির্ধারণী কমিতিত্তুন যে কন’ একজনে ক্ষমতা বলে গরা কমিতির যে কন’ গুরুত্বপূর্ণ পদত থেই পারিব’। সিয়ান সোর গরি ৩ জন (সোর গরানা পুর: ১৮/৩/২০২১) গরা অহ্’য়ে। আ সে ধগে তারা কারলোই তেম্মাঙ নেই গরি কমিতি দিঙিরি দিলাক, জধানানু রনজিত চাঙমা, দাঙর কাবিদ্যাঙ দেবপ্রিয় চাঙমা আ ভান্ডালি কাবিদ্যাঙ রিমি চাঙমা সুমুত্ত ১৩ সাবাঙ্গি। সিয়ানদোই মর কন’ আহ্’ভিল্যাচ নেই, নেই ধুন্দুক। মুই সক্কে তারারে ম’ ফেসবুক টাইম লাইনত্তুন পাত্তুরুতুরু জানেলুং। সমারে রেত-দিন কাম গরি যাঙর। আমার প্ল্যান এল’ ২০২৩ সালত ফেব্রæয়ারি মাঝত ২০ বো কবিদে বই একসমারে ফগদাঙ গরানা। সে কাম গরঙর। তারা যে কধান কধন সিয়ান তারা মরে কেনে বেকাদেত ফেলেবাক সে কধা বাদে কিচ্ছু নয়।  
চাদি: তুমি দ’এক্কো সাহিত্য জধা বানেলা, কামও গরি যর’ মানচ্ছোর চোগত পরে পারা ইয়োত কি চ্যালেঞ্জ আঘে ভিলে মনে গরর?
ইনজেব: চ্যালেঞ্জ কধে কিঝু নেই। চ্যালেঞ্জ অলদে নিজ’ মনান। বানা সুক্কানও বর মাগং। তবে ইয়ান সত্য আহ্’ভিচজনে ভালক্খানি কধা শুনঙর। কাররে কাররে ফোন গরিনেই দেবপ্রিয় চাঙমাদাঘি কোই দিলাক-দেদন আমারে এজাল ন’ দিবার। সিয়ান মুই কিচ্ছু মনে ন’ গরং। সিকান্দার আবু জাফর কবিদেত লিখ্যা- “হোক না পথের বাধা প্রস্তর শক্ত/অবিরাম যাত্রার চির সংঘর্ষে/একদিন সে পাহাড় টলবেই/চলবেই চলবেই/জনতার সংগ্রাম চলবেই/আমাদের সংগ্রাম চলবেই।”
সিয়ান যার ফাজা তা সিধু থায়। তবে ইয়ান সত্য আমা চাঙমাউনে এক্কান ফাজা আঘে। কন’জনে কার’ আহ্’ভিচজনে এক্কান কধা কলে সিয়ান সহজে গজি লন, বিশ্চেচ যান। তবে ইয়ানও আমি আঝা গরি পারি সে ভুল একদিন ভাঙিব’ আমাহ্ লারেহ্’ তেজে। সক্কে তারা আজল গদনার বুঝিবাক।
চাদি: এক্কা পিচ্ছে যেই। তুই কলে শ্রেয়সী, সম্ভু, প্রিয়সী, এলিয়েন্স সুমুত্ত ২০/২৫ জন পদত্যাগ গচ্ছোন। তারা কিত্যা পদত্যাগ গচ্ছোন ভিলে মনে অয় তমার?
ইনজেব: আমি মানুচ দ’, সে ইজেবে আমার আবেগ বেচ থায়। তবে মর বিশ্চেচ ন’ এল’ তারা পদত্যাগ গরিবাক। তারা চিদে চর্চা বেক্কানি দোল, জাদর কধা ভাবন। দিন তারিক ইরুক মর ইধোত ন’ উদের। সে এক অক্তত দেবপ্রিয় চাঙমা চাঙমা সাহিত্য বাহ্ গরা কমিতি গ্রæপত কল বানা আমি তিন জন থেলেও চাঙমা সাহিত্য বাহ্ চলিব’। এ এক্কান চিগোন কধাত্তুন তারা পদত্যাগ গচ্ছোন ভিলে মর মনে কয়।
চাদি: সে তিন জন কন্না কন্না?
ইনজেব: মুই, কৃতি আ দেবপ্রিয়দাঘি। তবে মুই তারারে সে বারত বোঝেবার চেলুং, তে মদ খেনেই সে কধা কোইয়ে। সিয়ান যুদি দাঙর ভাবি কাম কেনে গরানা। তুমি দেবপ্রিয়রে নয়, ম’ মু চেই থাগ’। সে দিন্নে শ্রেয়সী কল- তুইও বিপদত পরিবে। এচ্যা তারা বেক্কুনর কধা ভারি গরি ইধোত উদের।
বানা সিয়ান নয়, মর আর মনে কয়- কে.ভি দেবাশীষ চাঙমাদাঘিরে চাঙমা সাহিত্য বাহ্’ত ন’ রাঘানা এক্কান দাঙর আহ্’ভিল্যাচ এল’।
চাদি: আমি ফেসবুকত দিক্যায় তারা দ’ বাঙাল এক্কো উপদেষ্টা পদত আনিনেই পদত্যাগ গচ্ছোন?
ইনজেব: “পেইক্কোও পরিবার দিন পাদানও ঝুরিবার দিন” সিয়ানর সান। আমার সে ভেজালান তার আগে আরগানি অয়ে। সক্কে গাঙর পানি ভালকদুর গঙে যিয়ে। মোয়াজ্জেম দাদারে উপদেষ্টা পদত আনানা তারা অন রবামত ন’ এল’। বেগর মত দেনায় গরা অয়ে। যক্কে মোয়াজ্জেম দাদারে উপদেষ্টা পদত আনা ফেসবুকত পোস্ট দিলং সক্কে নানান কধা উদিলে তারারে নানা জনে সমালোচনা গরানাত্তুন বাজিবাত্তে তারা পদত্যাগ পত্রআনি ফেসবুকত আপলোড দিলাক।
চাদি: বাঙাল্যারে কেনে বা কি চিদে গরিনেই উপদেষ্টা পদত আনা অয়ে?
ইনজেব: গঠনতন্ত্র মজিম উপদেষ্টা পদত যারে গম ভাবা যায় তারে আনি পারে। সিবে মেয়াদ বানা দ্বি বঝর। সিয়ান বাদেও আমি যুনি রিনি চেই বাংলা ভাচ্ছান দরমর, বলবলা অহ্’নার ত্রিপুরা মানিক্য রাজগিরিদাঘির দাঙর অবদান আঘে। আমা চাঙমাউন যারা খেই দেই পারন তারা ভাচ, ওক্কোর, সাহিত্য সংস্কৃতি পোইদ্যানে মনানি চিগোন। তারাত্তুন যেদক এজাল পেবার আমি আঝা গরি তারাত্তুন সেধক এজাল পা ন’ যায়।
মোয়াজ্জেম দাদারে বানা বাঙাল এ চোগে চেই ন’ পারিবং। তে দ’ এক্কো দাঙর মানবতা সৈনিক। মোয়াজ্জেম হোসেন আলমগীরদাঘি দেঝর বারে সুইডেনত থেলেও ৫শত্তুন বেচ পুঅ/ঝিরে লেঘা শেঘার দেঝর ভিদিরে যারা নানান ইক্কুল, কলেজ আ বিশ^বিদ্যালয়ত পড়ন। আ পদ’ গুরইনত্যাই বানেয়্যা আনন্দ বিদ্যা নিকেতন, শেখের টেক পথ শিশু পাঠ শালা আ বড়ি বাধ শিশু আনন্দ লয়। সে বাদেয়্য দ্বিয়ান অবৈতনিক সাংস্কৃতিক স্কুল পরিচালনা গরে। নড়াইলত অলকাপুরী সাংস্কৃতিক ইক্কুল।  এধক্কে এক্কো দাঙর বন্দারে উপদেষ্টা পদত আনা অয়ে।  
আমার এধক্কে অইয়ে, চিবিদি খেলে জিল ঘা অলে ধই পিলে দেলে দরগরে। সেনে ইক্কে বাঙাল কলে জার কাদা উদন। মাত্তর, ইয়ান ভাবা পরিব, বাঙাল ন’ অলে আমি আমার উত্তিপুত্তি ন’ পেবং। যেমন মেজবাহ কামালদাঘি দাঙর অবদান রাঘে যাদন। আ বাংলা সাহিত্যরে ত্রিপুরা রাজাদাঘি বলবলা গচ্ছোন।    
চাদি:  ইক্কে তুমি কি ভাব?
ইনজেব: জাদত্যায় কাম গরানা বাদে অন্য কিঝু ভাবিবার জু নেই। এচ্যা বাংলাদেচ সরান পিয়ে পাকিস্তানত্তুন ৫১ বঝর অল’। এ ৫১ বঝর পরে আমি কেঝান আঘি আ তার আগে কেঝান এলং ভাবিলে চোগ পানি এযে।
মর কধা, মুই নিজরে কোচপেলে খামাক্কায় জাত্তোরে কোচপা পরিব’। বুদ্ধ কোইয়ে “জ্ঞাতি ছাবাসান দাঙর ছাবা নেই।” আমা পিড়িত যুনি কাম গরি যেই ন’ পারি সালেন আমা পরে যে পিড়িবো এত্তন, এবাক তারাত্তুন গেইল খেবং। যুনি না আমি উত্তিপুত্তি থিদ’ গরি দি যেই ন’ পারি।
চাদি: আমারে এদক্কন অক্ত দেনাত্যাই তমারে ঝু ঝু।
ইনজেব: তোমারেও ঝু ঝু আ পাত্তুরুতুরু।

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩

উত্তিপুত্তি/অধিকার: সুনানু ইনজেব চাঙমা


কন্না কয়-

পুকদাক ছাবা পরি যেল’ জুম্ম জাদর?

মুই ভাবঙর-
পজিম’ মোনত ফুদিব’ বেন্যা বেলর’ ছদক।
কন্না কয়-
এম.এন. লারমা নেই সংসারত?
মুই ভাবঙর-
এম.এল লারমা আঘে পত্তিক বন্দার চেদনত।
কন্না কয়-
নোয়ারাম চাঙমা মুরি যেল’?
মুই ভাবঙর-
নোয়ারাম চাঙমা আঘে পত্তিক চাঙমা ঘরত।
কন্না কয়-
উত্তিপুত্তি নেই জুম্ম জাদত?
মুই ভাবঙর-
কৃষ্ণ কিশোরদাঘিরে ইধোত তুলি
বেগর চিদত চেদন দিই,
সক্কে ন’ পারিবাক আমারে দঙে
সংসার লাগর বন্দা আমি অলে।
এ আঝায় আহ্’দি যেবং আজার গন্দচক্র সেরে সেরে।
এযোক না ঝর-বোইয়ের, এযোক কাল বোজেক
ত্যুঅ আমি আহ্’দিবং সে লো পচ্যা চোক খুঝত তরে ফেলে।

শনিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৩

নাগরিক ইজেবে আমা উত্তিপুত্তি আমাত্তুন আদায় গরি লো পুরিবো সুনানু জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা

"আমি সিদ্ধ চলো ধক্কে ঝরা ঝরা থেলে দ’ ন’ অবহ্, বিনি ভাদর ধক্কে বোদাবুদি, আমার একতা আন, সংহতি আন সেক্কেন অহ্’না দরগার আঘে। আমার লুঙি মারিলে থিয়েই থেই পারি পারা, সেবাত্তে মনর জোর লাগিব। পাদারা অলে দ’ ন’ অহ্’ব। আমা জীবনান দ’ এনেবাদে নানা দুগোত। সিয়েনত্তুন নিগিলি এবাত্তেই আমার যিয়েন দরগার, সিয়েন আমাত্তুন ভাবানা গরচ আঘে। আমা সমাজর ভিদিরে, হিলত যে আমি তেরো ভাষাভাষী যে চৌদ্দবোয়া জাত আঘি, এ চৌদ্দবোয়া জাদর ভিদিরে ঐক্য -সংহতি আন ইয়ান গমত্তুন গম, দরত্তুন আর’ দর’, গম অত্তুন আরো গম গরানা গরচ আঘে। এ বাস্তবতা আন বুঝানা গরচ। আমার বাজি থানার যে অবস্থানান, সে বাজি থানার অবস্থানান আমার আহ্’দত নেই আর। ইয়েন দ’ লাজেলে-দরেই থেলে ন’ অবহ্ আর। ইয়ান দ’ মনর কধা খুলি কো-কি গরিনেই, আমার জীবনান দোলে থেই পারি পারা, সিয়ান ভাবানা গরচ আঘে। বিশেষ গরি ইয়োত যারার ঘরত পো চা আঘন, গাভুজ্যা মানুচ আঘন, তারারে উচ্চোমি দেনা গরচ। আমি দেগি লেগাপড়া পাজ্জে মানুচ, যারা চাগরিত আঘন, তেঙা-পয়জ্যা লোনেই যারা ব্যবসা বানিজ্যত আঘন, সিউনোর বেশি, যারা সমাজত নেতৃস্থানীয় বিলিনেই দাবি গরন, তারা ভিদিরে বেশি দেগা যায়, এ যে নিজ’ আলুবো নিজে কুরানা আন বেচ আঘে। এচ্যা ভাবানা গরচ আঘে, দেচ জাত যুদি ন’ বাজেদে অয়, ইধুগোর মানুচউনোর সমাজ-সংস্কৃতি ন’ বাজেদে অয়, তার আজার তেঙা-পয়জ্যা থেলেও, খেবার দেবার থেলেও, তে কি বাজি পারিবো? তা জীবনান কি আমি কোই পারি, তে গেচ্ছেক গরিনেই এক্কান মানজোর জীবন কাদার বিলিনেই? এচ্যা আমার জীবনান যে অবস্থাত লুমোদে বাধ্য ওয়েই, সে জীবনানত্তুন নিগিলি এযানা গরচ আঘে। আমার মানুচ ইজেবে আমার মান-মর্যাদা, উত্তিপুত্তি নিনেই আমাত্তুন বাজিবার উত্তিপুত্তি আঘে। আমি স্বাধীন দেঝর নাগরিক। নাগরিক ইজেবে আমা উত্তিপুত্তি আমাত্তুন আদায় গরি লো পুরিবো। তে এচ্যা সংগ্রামী সুধী সমাচ, যারা ইধু এচ্ছু, আমি বেক্কুনি ভুক্তভোগী, আমি বেক্কুনি যে বাস্তবতা আনত আঘি, এ বাস্তবতাত্তুন নিগিলি এজা পরিবো। আমি পিকনিক গরিবোঙ, আমি এগত্তর অবঙ, প্রীতি সম্মেলন গরিবোঙ, আমি গীত গেবঙ, আমি নাজিবোং, আমি আজিবোঙ, কিন্তু আমার যিয়ান গরচ, আমার উত্তিপুত্তি পেবাত্তেই, আমার জীবনান, আমার সংস্কৃতি আন, নুঅ গরি সাজেবাত্তেই, মুজুঙেদি এগে নিবেত্তেই, যিয়েন বেগত্তুন বেচ গরচ, সিয়ান অলদে পার্বত্য চুক্তি গরিনেই জুম্ম জনগনরে যে উত্তিপুত্তি দিয়্যা অয়ে, সে েউত্তিপুত্তি আমার প্রতিষ্ঠা গরা পুরিবো। আমি চেরো কিথ্যাত্তুন ঘিরে অবস্থায় আগি, কন্না ঘিরি আগে সিয়ান আমি ভালো বুঝি। সে ঘিরাত্তুন নিগিলি এজা পুরিবো।"
সুনানু জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
১৪ জানুয়ারি ২০২৩
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উদ্যোগে প্রীতি সম্মেলন ও বার্ষিক বনভোজন

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২

ইনজেব চাঙমা লেঘা পাচ্ছো কবিদে

 


কবিতা নাঙ: তুমি ভাবনি?
লেঘিয়্যা: ইনজেব চাঙমা

তুমি ভাবনি?
কুধু যেল’ বেংগমা বেংগমি
কুধু যেল’ রাধামন বিজয় গিরি
কুধু যেল’ জানবক্স খা রুনু দেবান
কুধু যেল’ শিবচরণ নোয়ারাম
কুধু যেল’ জুম্ম জাদর পাত্থলি এম.এন.লারমা।
তুমি ভাবনি?
কুধু যেল’ দাগ কধা
কুধু যেল’ উভগীত গেংখুলি
কুধু যেল’ বারমাস পালা
কুধু যেল’ বানা
কুধু যেল’ ধুধুক শিঙে
কুধু যেল’ বাজি খেংগরং
কুধু যেল’ ঘিলে খারা,
গুদু খারা পত্তি খারা আ রং ধং।
তুমি ভাবনি?
কুধু যেল’ জধা?
কুধু যেল’ দিওন সিওন
কুধু যেল’ ঘর সুক।
এয’ লামি বাগত নিজে আহ্’ঙি যা আঘে বুগত
ছিদি দি ঘরে ঘর।
পুর: ২৩ আগস্ট ২০২২ খ্রি.
 

কবিদে নাঙ: কি আর লিঘিম?
লেঘিয়্যা: ইনজেব চাঙমা

কি আর লিঘিম?
মুহত ভাচ নেই।
কি আর লিঘিম?
কলম ধরি ন’ পারঙর আহ্’ত ঘিরঘিরার।
কি আর লিঘিম?
চোঘ’ পানিয়ে কিচ্ছু ন’ দেঘঙ।
বানা রণ কাবে,
রিবেং গুজুরে।
চোক থেনেই কান,
কান থেনেই কাল,
মু থেনেই বুব।
আমি কি মানুচ?
মানচ কলে ঈশ্বর বেজার।
অ মানুচ কলে তুই বেজার।
ভচ যেবং ভচ যেবং,
কন দিন ভালা ন অবং।
যুনি ন’ বদলেই আমা কাচ্যেক্কানি।
১৯ এপ্রিল, ২০১৭


কবিদে নাঙ: মুই চাঙমা
লেঘিয়্যা: সুনানু ইনজেব চাঙমা
বাংলাদেঝত আঘং বিলি নয় মুই বাঙালি
মুই চাঙমা।
মুই মগ/মারমা।
মুই ত্রিপুরা।
মুই লুসাই।
মুই বোম।
মুই পাংখো।
মুই খুমি।
মুই মুরুং।
মুই তঞ্চঙ্গ্যা।
মুই চাক।
ইত্তুন বেচ দাঙর চিনপচ্যে মুই জুম্ম জাদি
হিল চাদিগাঙর আদিবাসী।
মুই বাংলাদেঝি।  
মর আঘে ভাচ।
মর আঘে অঝাপাত।
মর আঘে রিদিসুধোম/সংস্কৃতি।
মর আঘে আল্যাক/সাহিত্য।
বেক মুই তমাত্তুন আলাদা।
ত্যুঅ কিত্তে বারবাঙানে, পিড়িত্তুন পিড়ি কোই যর
বাংলাদেঝত যারা আঘি আমি বেক্কুন বাঙালি,
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, উপজাতি?
মুই এলুং তমা সান শাসক জাত,
দেচ এল’ তমা সান।
সময়র গঙারে ইক্যে মুই রনহীন
সেনে কি তুমি অনসুর ভেঙা চোগে চেবা?
রনহীন নয়। রন কাবের মর,
মরও দ’ লো আঘে, আঘে তমা সান
চোক, কান, আহ্ত’ থেং যা তমার আঘে।
বানা নয় মুই বেজবান, কধা দিনেই কাররে ন’ থগাঙ।
মুই চাঙমা।
যেদক দিন থেব’, কেওক্রডং, পুরোমোন, আলুটিলা
যেদক দিন গঙেব চেঙে, মিঙিনি, শংখ, ফেনী, মাতামহুরী আ বরগাং,
সেদক দিন থেইম
মুই চাঙমা।
 

কবিদে নাঙ: কি অভ’
লেঘিয়্যা: ইনজেব চাঙমা

কি অভ’ নলাক মণি বিদ্যা শিঘিনেই?
যুনি ন’ লাগে জাদ’ কামত।
কি অভ’ দাঙর দাঙর বই পরিহ্ নেই?
যুনি ন’ বুঝিলে জাদর দুক।
কি অভ’ অজন অজল লেঘা লিঘিনেই?
যুনি আমনর মনান কাজর থায়।
কি অভ’ নিবার্ণ সবন দেঘেনেই?
যুনি থেঙত তলে মাদি ন’ থায়।
কি অভ’ বাজি থেনেই?
যুনি কন’ অধিগার ন’ থেলে।

কবিদে নাঙ: সবন
লেঘিয়্যা: ইনজেব চাঙমা

আমিলিয়্যা সিগোন সাক নয়
নয়, নমিজিল্যা এগা চায্যা,
আমি অবঙ কাত্তোল’ কজা
বোজেক্কে সিমেত্তুল’ ধক
বোইয়ের সমারে ছিদি পরিবং
গোদা পিত্থিমীআনত।
চোগত-মুয়োত ওক এক্কান সবন-
ভাচ, অঝাপাত, জাদ’ সুদোম বানি বুগত।
যে যেই কামত থেইনা মিজি
যে যেই সাগিন থেই ভিলে
নিজ’ ভাচ, নিজ’ লেঘা, নিজ’ গীত -
কোই যেবং, সিঘি যেবং, গেই যেবং,
সংসমারে গলা র’ (সুর) তুলি।
সক্যে-
নুয়ো গরি এ্যাইলে সাজিব’ মা-মেদেনি
মরা ধিঙিবো কুজি দিক উদিব’
কুজুনো কুরোব’ দাক দিব’
নাজি উদিব চেঙে, কাজালং আ মিঙিনি।
                           ১১ মে, ২০১৯ খ্রি.


কবিদে নাঙ: তুই কি?
লেঘিয়্যা: ইনজেব চাঙমা

তুই কি লেঘিয়্যা-
মান পেবাত্তে পর ভাচ্চোই সাহিত্য চচযা গরচ।
মা-ভাচ্ছোই কধা ন’ কচ।
তুই লেঘিয়্যা নয়।
তুই তুগন’ বাচ
তরে দেলে মর ঈচ অহ্’য়।

তুই কি কবি-
দাঙর মান পেবাত্তে পর ভাঝে কবিদে লেঘচ।
কধায় কধায় চাঙলা, চাঙলিচ ভাঝে মাদচ।
তুই কবি নয় তুই এক্কো দুলো ধচ্যে।
তরে দেঘে মর সেপ এযে মুহ্’ত।

তুই এধক্যে এক্কো লেঘিয়্যা-
মা-ভাঝর কন’ দয়ে নেই
পর ভাচ্ছোই কানচ।
তুই কি খবর ন’ পাচ তর বেক আঘে?
তে কিত্তে এধক
ভিন ভাঝত্যাই পরান কানের?

তুই এধক্যে এক্কো কবি-
নিজ’ ঘর-দুয়োর ন’ সুরি
পর ঘর-দুয়ো আঝর।
মরা তেরতের মা-ভাচ্ছানত্যাই তবনা ন’ গরি
ভিন ভাচ্ছান ভালেদি তবনা গরর।

তরে দেঘিলে মর বুক আহ্’ঙে-
এধক্যে বজঙত্যাই জাত্তো অধেপদে!
নিজ’ পিরিহ্’ল্যা ভাচ্ছানরে কিথ্যা চোক নেই
নাঙ ফুদেবাত্তে পর’ ওক্কোর, পর’ ভাচ্চোই লুদুপুদু অই আঘচ।
তুই কি খবর ন’ পাচ?
এ অক্তআন বেকুজ্যা অহ্’লে
মা-ভাচ, অঝাপাত, রিদিসুদোম, সাহিত্য
বেক আহ্’জে ফেলেবে।


রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২

মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহনের অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিৎ না: সেমিনারে সেলিনা হোসেন

 


৪ ডিসেম্বর ২০২২, ঢাকা: মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহনের অধিকার প্রতিটি শিশুর রয়েছে। সেই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিৎ না বলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা সাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমীর সভাপতি সেলিনা হোসেন অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সাথে বাংলা একাডেমীতে পরিচালকের সাথে আলোচনা করে আদিবাসীদের সাহিত্য চর্চার জন্য আলাদা সেল খোলার ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।

আজ ৪ ডিসেম¦র ২০২২, সকাল ১১টায় , কাপেং ফাউন্ডেশন ও মাল্টি-লিংগুয়েল এডুকেশন ফোরাম-এর উদ্যোগে ‘ বাংলাদেশে মাতৃভাষা-ভিত্তিক বহুভাষিক প্রাথমিক শিক্ষা: সংকট ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা’ আয়োজন করা হয়েছে ঢাকার কাওরান বাজারের ডি ডেইলী স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন কথা সাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমীর সভাপতি সেলিনা হোসেন।
ফাল্গুনী ত্রিপুরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার, সুইজারল্যান্ড এ্যাম্বেসীর ইরস রব্বাইনী, এমএলই ফোরামের সমন্বয়কারী তপন কুমার দাশ, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী লেলুং খুমী প্রমুখ। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।
ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন তিনি এমএলই ফোরামের সাথে ২০১৮ সাল থেকে যুক্ত কিন্তু করোনার কারনে কিছুটা স্থবির হয়েছে। সাঁওতালী ভাষার সংকট হলো ভাষার বাহন বর্ণমালা নির্ধারণ তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মাতৃভাষায় শিক্ষা বাস্তবায়ন সংকটের ক্ষেত্রে শিক্ষা উপকরন ও সহায়িকা সরবরাহের সংকট আছে বলে জানান। সেজন্য এনসিটিবিকে কমিউনিটি থেকেই তাগিদ দিলে এই সংকট রোধ করা যাবে। তিনি নীতি নির্ধারকের সাথে লবি এ্যাভোকেসী বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। আদিবাসী ভাষায় প্রকাশিত বই এনসিটিবিতে রাখার উদ্যোগ গ্রহন করবেন বলে কথা দিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ড এ্যাম্বেসীর ইরস রব্বাইনী বলেন ভাষার বৈচিত্র্যতা মানুষের জন্য গর্ব ও আনন্দের সর্বজনীন উৎস। ভাষা মানুষের পরিচয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক এবং মানুষের সমতা ও অধিকারের সূচক।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন ২০১৪ সালের পর আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা দ্বিতীয় পর্যায়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনও হয়নি। বিপন্নতার দিক দিয়ে বিবেচনা করে খুমি, লুসাই, সাঁওতালী ভাষাসহ এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানান। সাংস্কৃতিক একাডেমী গড়ে উঠেছে কিন্তু সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কাযকর ভুমিকা রাখার ক্ষেত্রে কাযকরি উপদেষ্টা কমিটি করা দরকার মনিটরিং করার ক্ষেত্রে। কমিউনিটি বেতারকেন্দ্র এর সুযোগদানসহ জাতীয়ভাবে অমর একুশে আদিবাসী কবিতা পাঠের আয়োজন করার জোর দাবী জানান।
সৌরভ সিকদার বলেন গুণগত মানের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষন ব্যবস্থা করতে পারলে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ৮০% সমস্যা সমাধান হবে। সেই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদের শুধু আন্তরিকতা ও সহযোগিতা দরকার। মিডিয়া, বেতার কেন্দ্র, টিভি নিয়মিত আদিবাসী ভাষায় প্রোগ্রাম করার আরো উদ্যোগ নিতে হবে।
কমিউনিটির ভিত্তিক পাড়ায় পাড়ায়, মন্দিরকেন্দ্রীক মাতৃভাষায় সেন্টার ব্যবস্থা জোরদারকরন, দৈনন্দিন চর্চায় আর যে সময়ে মত প্রচার করা সেসময়ে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন এই প্রতিষ্ঠান নানা আমলাতান্ত্রিকতায় জর্জরিত। যার কারণে ভাষা নিয়ে গবেষনার কাজ এক্ষেত্রে বিঘ্নিত হচ্ছে। সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন বাংলা ভাষার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রিকে।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন যে, আজকে পলিসি মেকার থাকলে খুব ভালো হত বিশেষ করে যারা মাতৃভাষায় প্রাথমিক ভাষার শিক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করেন। তিনি আরো বলেন আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা অনুবাদকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেমন “আমার সোনার বাংলা.. আমি তোমায় ভালোবাসি” জাতীয় সঙ্গীতের অর্থ যখন মাতৃভাষায় অনুবাদ করে গায়, তখন সেটা শুধু সুর নয়, বরং অনুভব করতে পারবে। নিজেদের মধ্যে ব্যবহারের মাত্রা ক্রমশ কমে যাচ্ছে যা আমাদের ভাষাকে হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি আমাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জাতীয় শিক্ষা নীতিতে আদিবাসী বিষয়ক সুন্দর সুন্দর ধারা থাকলেও শিক্ষক পদায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে যেমন চাকমা স্কুলে মারমা শিক্ষক নিয়োগ, ত্রিপুরা অধ্যুষিত এলাকায় চাকমা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আরো মনোযোগী দেয়ার আহ্বান জানান। আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে কাজ করার জন্য বাংলা একাডেমীতে সুযোগ সৃষ্টির জন্য দাবী জানান।
আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা ৫টি ভাষা ছাড়াও আরো অনেক ভাষায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করার আশ্বাস দিয়েছেন এমএলই ফোরামের তপন কুমার দাশ। সেই সাথে বাংলা একাডেমীতে আদিবাসী বিষয়ক ডেক্স রাখার আহ্বান জানান।
লেখক ও মানবাধিকার কর্মী লেলুং খুমী বলেন খুমি ভাষার যে সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে (পার্বত্য চট্টগ্রামে মাতৃভাষায় বিপন্নতার দিক দিয়ে প্রথমে লুসাই ভাষা, দ্বিতীয় হলো খুমী ভাষা) তা বাস্তব। তাদের জীবনধারা প্রান্তিক পর্যায়ে তো আছেই। সেই সাথে যেসব ভাষাগুলো (লুসাই, খুমী) বিপন্নতার মুখে রয়েছ সেগুলোর সংরক্ষন করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাা ইনস্টিটিউটের সম্পৃক্তকরণ সময়ের দাবীদার। শুধু তাই না সরকারী বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা জোরদার করা জরুরী মনে করেন।
পল্লব চাকমা মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় বলেন ২০১৭ সালে প্রথম ৫টি ভাষার (চাকমা, মারমা, ককবরকক, গারো, এবং সাদ্রী) মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশী। কিন্তু এই শুভ উদ্যোগ আজ কিছুটা স্থিমিত দেখেছি। তাই কোথায় কোথায় সংকট আছে তার চিত্র ও যথাযথ বাস্তবায়নের সুপারিশের জন্য আজকের এই আয়োজন। শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় অভিভাবকেরা জানান। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম আরো উন্নীত করা দরকার। সেই সাথে বই পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে পড়ানোর সময়সুচি না থাকায় এই শুভ উদ্যোগ বিফলে যাবে বলে সন্দিহান প্রকাশ করেন অনেকে। এক্ষেত্রে মনিটরিং এর কোন বিকল্প নেই। স্থানীয়ভাবে নিজ উদ্যোগে মাতৃভাষা শিক্ষা চালু আছে কিন্তু এক্ষেত্রে বাজেট কম থাকায় মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষায় হুমকির মুখে পড়েছে। খুমী ভাষার চর্চা খুব কম, তাই এই ভাষাকে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ সরকারীভাবে এখনই গ্রহন করা জরুরী।
মুক্ত আলোচনায় সন্তোষিত চাকমা বকুল, জান্নাতুল-ই ফেরদৌসী, বিনোদন ত্রিপুরা, সান্তনা খীসা, প্রসন্ন কুমার চাকমাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি প্রমুখ অংশগ্রহন করেন।
আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন মাতৃভাষায় শিক্ষক সংকট সব জায়গায়। সরকারী পরিকল্পনায় আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কোন বিকল্প নেই। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বলেন সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুবা আরেকটি ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে ঐ জাতিগোষ্ঠির সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া।
By Hill Voice -December 4, 2022
 

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২

পার্বত্য চুক্তি করে পিসিজেএসএস কি ভুল করেছে? - Anurug Chakma

 

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি করে পিসিজেএসএস জুম্ম জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে সন্ত লারমা জুম্ম জনতার সাথে বেইমানি করেছে। জুম্ম জনগণের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করেছে। এটা কতটুকু সত্য কতটুকু মিথ? চুক্তির ২৫ বছর পরেও এই প্রশ্নটি জুম্ম সমাজে প্রাসঙ্গিক থেকে গেছে।

পিসিজেএসএস কেন শান্তি চুক্তি করল? আপনি এই প্রশ্নটি নিয়ে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ভাবতে পারেন। বিশ্বে কি শুধুমাত্র পিসিজেএসএস সরকারের সাথে শান্তি চুক্তি করেছে? চুক্তি করার মাধ্যমে জনগণকে প্রতারিত করেছে? আপনার-আমার পারসেপশন অনুসারে প্রতিটি শান্তি চুক্তি যদি প্রতারণার বিষয় হয়, তাহলে UCDP Peace Agreement Dataset Version 22.1 তথ্য মতে ১৯৭৫-২০২১ সালের মধ্যে দেশে-দেশে ৩৭৪টি শান্তি চুক্তি কিভাবে হল? পিসিজেএসএস না হয় প্রতারণা করল, দালালি করল, ভুল করল, তাহলে দেশে-দেশে শত-শত অধিকারকামী সংগঠন কেন একই ভুল করবে? আমার প্রশ্নটা সেখানে।
গবেষণা দাবি করে, স্নায়ু যুদ্ধের পরে বিশ্বে শান্তি চুক্তি কয়েকগুন বেড়েছে। এজন্য আপনাকে বুঝতে হবে, কেন শান্তি চুক্তি হয়? কখন সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো চুক্তি করে? এই প্রশ্ন নিয়ে আমাদের ডিসিপ্লিনে অনেক গবেষণা হয়েছে। এসব অনেক গবেষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Johns Hopkins University-এর অধ্যাপক I. William Zartman-এর দেওয়া Ripeness Theory ব্যবহৃত হয়েছে। এই তত্ত্বের মূল বক্তব্য হল, দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত গোষ্ঠীগুলো (Conflicting Parties) এমন সময়ে চুক্তিতে উপনীত হয় যখন উভয় পক্ষ উপলব্ধি করতে পারে এক পাক্ষিক (Unilateral means) পদক্ষেপ/কৌশলের মাধ্যমে যুদ্ধের সন্তোষজনক কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসবে না। বরং, যুদ্ধ চলমান থাকলে উভয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেটাকে আমরা Negative-Sum Outcome বলে থাকি। উভয় পক্ষ যখন এটা বুঝতে পারে সেই সময় এবং বাস্তবতাকে আমরা “Ripe Moment” এবং “Mutually Hurting Stalemate” হিসিবে অধ্যয়ন করে থাকি। অর্থাৎ, Ripe Moment-এ উভয় পক্ষ যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যার একটা সমাধান (Way Out/Positive-Sum Outcome) করার চেষ্টা করে। অনেকটা Prisoner Dilemma Game থেকে বের হয়ে Cooperative Game শুরু করে।
তত্ত্ব নিয়ে লেখাটা জটিল করতে চায় না। বরং, Simulation-এ গেলে বুঝতে সুবিধা হবে। আমরা সবায় জানি, সরকার শান্তি চুক্তি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পেরেছে। সরকার নানা দিকে থেকে লাভবান হয়েছে। আপাতত সরকারের লাভ-ক্ষতির হিসাবটা (Cost-benefit analysis) বাদই দিন। বরং পিসিজেএসএসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটা নিয়ে ফোকাস করা যাক। ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি না হলে জুম্মরা কি লাভবান হত? লাভবান হলে কিভাবে হত? স্বায়ত্তশাসনের বেশি পেতেন? নাকি বর্তমান শান্তি চুক্তির চেয়ে বেশি রাজনৈতিক অধিকার পেতেন? মাইগ্রেশন থেমে থাকত? পাহাড়িদেরকে উচ্ছেদ করার কর্মযজ্ঞ বন্ধ থাকত?
এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য আপনার আফ্রিকায় যাওয়ার দরকার নেই। ল্যাটিন আমেরিকায় যাওয়ার দরকার নেই। দক্ষিণ এশিয়া থেকে সিমিলার কেস স্টাডি নিতে পারেন। প্রতিবেশী ভারতে মিজোরা কি পেয়েছে? শ্রীলঙ্কায় তামিলরা কি পেয়েছে? ভারতের কাশ্মীরে জনগণ কি পেয়েছে? পাকিস্তানের বেলুচেস্তানে জনগণ কি পেয়েছে? আপনার সমস্যা তো আপনার একার না। দেশে-দেশে লড়ায়-সংগ্রাম চলছে। এসব কেস স্টাডি বিবেচনায় নিলে আপনার কি মনে হয়, বর্তমান শান্তি চুক্তি আপনার জন্য কম হুয়েছে?
বর্তমান চুক্তিতে ভাল কিছু কি একেবারে নেই? তবে হ্যাঁ, চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং রোডম্যাপ নেই। কথা সত্য। বিশ্বে কি একমাত্র পিসিজেএসএস এই কাজটি করেছে? আমাদের এটা জানা দরকার। অনেক দেশের শান্তি চুক্তিতে বাস্তবায়নের সময়সীমা নেই। ক্রোয়েশিয়ার ১৯৯৫ সালের Erdut Agreement এবং ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী সরকারের সাথে নেলসন ম্যাণ্ডেলার স্বাক্ষরিত Interim Constitution Accord-এ চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ নেই। Kroc Institute-এর মতে, চুক্তি সম্পাদনের দশ বছরের মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের হার ৭৩.৩৩ শতাংশ। অপরদিকে, চুক্তি সম্পাদনের দশ বছরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের হার ৯২.০০ শতাংশ। চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ না থাকার পরেও এই দুটো চুক্তির অগ্রগতি কি প্রমাণ করে না, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বরং সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ?
তাই, চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং রোডম্যাপ (যেটা দিয়ে পিসিজেএসএসকে খোঁচা মারা হয়) থাকলে যে চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেটা সন্দেহাতীতভাবে ভাবা অনেকটা বোকার স্বর্গে বসবাস করা। কেন বলছি জানেন? দুটো উদাহরণ দিয়ে বিষয়টার ব্যাখ্যা করি। Djibouti-তে ২০০১ সালে শান্তি চুক্তি হয়েছিল। বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ থাকার পরেও চুক্তি সম্পাদনের দশ বছরের মধ্যে মাত্র ৫১.৮৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। Philippines-এ ১৯৯৬ সালে Mindanao Final Agreement হয়েছে। এই চুক্তিটিতেও বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ থাকার পরেও এই চুক্তির মাত্র ৫৯.৭২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এই দুটো চুক্তির বাস্তবায়নের অগ্রগতি অনেকটা আমাদের পার্বত্য চুক্তির মত বলা যেতে পারে। তাই, আমাদের পার্বত্য চুক্তিতে না হয় বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ নেই। কিন্ত এই দুই দেশের চুক্তিতে তা উল্লেখ আছে। তাহলে কেন এই দুটো চুক্তির বাস্তবায়ন থমকে গেছে? বাস্তবায়নের সময়সীমার সাথে চুক্তির অগ্রগতির হওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে, এই দুটো উদাহরণ তা ভুল প্রমাণিত করে। তবে হ্যাঁ, চুক্তিতে বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং রোডম্যাপ থাকলে ক্ষতি হয় না। তবে, এটা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একমাত্র Explanatory Variable না।
চুক্তি বাস্তবায়ন প্রত্যাশিতভাবে না হলেও সরকারের পাশাপাশি পাহাড়িদেরও একটা বিশাল অর্জন হয়েছে। সেটা হল, শান্তি চুক্তি করার মাধ্যমে সরকার পাহাড়িদের অধিকার মেনে নিয়েছে। পাহাড়িরা দীর্ঘ দুই যুগের বেশি যে লড়ায়-সংগ্রাম করেছে তা যে যৌক্তিক ছিল অন্তত তার বৈধতা মিলেছে। একথা কমবেশি আমাদের সবায়কে মানতে হবে।
শেষ করব এই বলে, নিজের ইতিহাসকে অস্বীকার করে কেউ নিজের ভবিষ্যতকে গড়তে পারে না। ভুলে গেলে চলবে না, ১৯৭২ সাল থেকে জুম্ম জনগণের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে লড়ায়–সংগ্রামের গোরবোজ্জল ইতিহাস, সেটার জন্ম দিয়েছে আজকের দিনের এই পিসিজেএসএস। তখন তো আজকের দিনের মত অনেক সংগঠন ছিল না। মনে রাখবেন, আপনি যদি আপনার সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সন্মান করেন, আপনার জুনিয়ররাও আপনাকে সন্মান করবে। কারণ, আপনি সেই শিক্ষা আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়েছেন। জুম্ম জনগণের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসুক। ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সঠিক ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে সমাজে মঙ্গল আসুক – এই প্রত্যাশা রইল।

কেন আঞ্চলিক স্বায়ত্ব শাসন?

বাংলাদেশ খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির নিকট পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের শাসনতান্ত্রিক অধিকার দাবীর- আবেদন পত্র গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভাবী ...