শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

সংস্কৃতি হারানোর দায় কার? Injeb Changma

 


পাবলিক-এর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে
একটি গাছ যেমন চেনা যায় তার শাল ও ফল দিয়ে, তেমনি একটি জাতি চেনা যায় তার সংস্কৃতি দিয়ে। সংস্কৃতি কোনো আলগা বিষয় নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও জীবনবোধের সমষ্টিগত প্রতিফলন। চাঙমা জাতিসত্তার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি ছিল আমাদের শক্ত ভিত্তি। কিন্তু আজ বাস্তবতা বলছে—আধুনিকতার নামে সেই সংস্কৃতি ক্রমেই অপসংস্কৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে।
একসময় চাঙমা সংস্কৃতি ছিল সংযত, মার্জিত ও স্মার্ট। সামাজিক আচরণে ছিল শালীনতার স্পষ্ট সীমারেখা। আমাদের মায়েরা, ঠাকুরমারা পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরে নিজেদের আচরণে ছিলেন সচেতন। শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সামনে বা জনসমক্ষে শিশুকে দুধ পান করানোর ক্ষেত্রেও ছিল সামাজিক শালীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। সে সময় দেহ নয়, মূল্যবোধই ছিল সংস্কৃতির মূল বাহন।
আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ আধুনিকতার ভুল ব্যাখ্যায় নিজেদের শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আধুনিক হওয়া আর অসংযত হওয়া—এই দুইয়ের পার্থক্য আমরা ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছি। ফলে শালীনতা, সংযম ও সামাজিক সংবেদনশীলতা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তবে এই পরিবর্তনের দায় এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা কোনো নারীকে দেওয়া অন্যায় হবে। এই লেখা কোনো মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, কোনো নারীর স্বাধীনতার বিরোধিতাও নয়। বরং এটি একটি আত্মসমালোচনামূলক স্বীকারোক্তি। কারণ, আমরাই—আমরা সবাই—অধিকারের কথা বলতে বলতে, প্রগতির কথা বলতে বলতে নিজেদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অনেক মূল্যবান উপাদান হারিয়ে ফেলেছি।
অধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দায়িত্ব ছাড়া অধিকার সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে না; বরং দুর্বল করে। সংস্কৃতি রক্ষা মানে কাউকে বেঁধে রাখা নয়, বরং নিজের পরিচয়কে সচেতনভাবে বহন করা। আধুনিকতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রয়োজন ছিল সাংস্কৃতিক বাছবিচার—যা আমরা অনেক ক্ষেত্রে করতে ব্যর্থ হয়েছি।
সংস্কৃতি কখনো স্থবির থাকে না; সময়ের সঙ্গে তার রূপ বদলায়। কিন্তু পরিবর্তন আর অবক্ষয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। আধুনিকতার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটাতে না পারলে আমরা কেবল অনুকরণপ্রবণ এক সমাজে পরিণত হব—যেখানে নিজস্বতা থাকবে না।
আজ তাই প্রশ্নটা অন্য কাউকে নয়, নিজেকেই করা জরুরি—আমরা কি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি শিকড়সমৃদ্ধ পরিচয় দিতে পারছি? নাকি আধুনিকতার মোড়কে নিজেরাই সেই শিকড় কাটছি? সংস্কৃতি রক্ষার দায় কোনো একক প্রজন্মের নয়; এটি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আত্মজিজ্ঞাসা শুরু হোক—এটাই সময়ের দাবি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

𑄃𑄧𑄇𑄴𑄈𑄧𑄢𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟 𑄎𑄖𑄴 - 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄎𑄬𑄝𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟

  𑄝𑄨𑄎𑄧𑄉𑄧𑄢𑄴 𑄖𑄬 𑄉𑄬 𑄖𑄬 𑄉𑄬 𑄇𑄨𑄏𑄪 𑄎𑄖𑄴 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄟𑄴 𑄦𑄧 𑄣𑄧 𑄝𑄚 𑄗𑄨𑄉𑄨 𑄗𑄬𑄝𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄝𑄧𑄢𑄧𑄁 𑄚𑄚𑄚𑄴 𑄏...