পোস্টগুলি

প্রগতিশীল চিন্তক লালন কান্তি চাঙমা- ইনজেব চাঙমা

ছবি
  কবি লালন কান্তি চাঙমা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝিরির কলতানে মুখরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম। তবে এই নয়নাভিরাম রূপের সমান্তরালে রয়েছে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সামাজিক বিবর্তনের এক জটিল ইতিহাস। এই পটভূমিতেই জন্ম নেন এমন কিছু মানুষ, যাঁরা কেবল নিজের আত্মউন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং নিজ সমাজ ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠেন। সমকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামের জ্ঞানচর্চা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জাগরণের তেমনই এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব লালন কান্তি চাকমা। একাধারে শিক্ষক, কবি, প্রগতিশীল চিন্তক, সম্পাদক ও সমাজসংগঠক হিসেবে তিনি সমকালীন পাহাড়ি জনপদে এক স্বতন্ত্র ও গৌরবময় পরিচয়ে ভাস্বর। কবি লালন কান্তি চাঙমা ১৯৬৯ সালের ১১ জুন খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার প্রত্যন্ত ও সবুজ-শ্যামল তারাবন্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত সুরেন্দ্রলাল চাকমা এবং মাতা প্রয়াত বিরাজ মুখী চাকমা। পাহাড়ের কোলেই তাঁর বেড়ে ওঠা। শৈশবে প্রকৃতির উদারতা যেমন তাঁর মনকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনই সেই সময়কার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা ও প্রান্তিক মানুষের নিত্যদিনের জীবন...

শান্তির এক চিলতে রোদ এবং কুয়াশার আগ্রাসন- ইনজেব চাঙমা

ছবি
আজ ৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার। গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই চারপাশ প্লাবিত হয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠে যখন দেখি গত রাতের বন্যার পানি কিছুটা কমেছে, তখন মনের ভেতর এক দীর্ঘশ্বাস আর প্রশ্ন জেগে ওঠে, এমন তো আগে ছিল না! অতীতে এর চেয়েও অনেক বেশি বৃষ্টি হতো, কিন্তু প্রকৃতি ছিল সুরক্ষিত। চারিদিকে গাছপালা ছিল, নদী-নালা, খাল-বিলে ছিল মাছ, কাঁকড়া, ইজে (চিংড়ি) ও শামুকের প্রাচুর্য। আজ নদী-নালা ভরাট হয়ে গেছে, সবুজ প্রকৃতি ধ্বংসপ্রাপ্ত। প্রকৃতির এই বিপর্যয়ের সমান্তরালে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার এবং মর্যাদাও আজ বিপন্ন। আজ জুম্মদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম সম্মানটুকু যেন হারিয়ে গেছে; তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি, পারস্পরিক অবিশ্বাস আর অপপ্রচার। এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি, এর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পটভূমি।   ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বারুদ আর বুলেটের গন্ধ মাখা অধ্যায়ের অবসান ঘটেছিল। অবরুদ্ধ উপত্যকায় উঁকি দিয়েছিল এক চিলতে শান্তির রোদ। কিন্তু সেই রোদ্দুর ...

লাঙলের হাত থেকে কলমে: চাকমা আধুনিক সাহিত্যের মহীরুহ কবি মুকুন্দ চাকমা লেখা: ইনজেব চাঙমা

ছবি
  পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য-ইতিহাসে কিছু নাম কেবল ব্যক্তি-পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা একটি যুগের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। তাঁদের জীবন, সাহিত্য এবং সংগ্রাম মিলেমিশে জাতিসত্তার ইতিহাসের অংশে পরিণত হয়। কবি মুকুন্দ চাকমা তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু একজন কবি নন; তিনি চাকমা ভাষার আধুনিক কাব্যধারার অন্যতম প্রধান নির্মাতা, মাতৃভাষার নিবেদিতপ্রাণ সাধক এবং পাহাড়ের মানুষের জীবনসংগ্রামের এক বিশ্বস্ত কথক। চাকমা আধুনিক সাহিত্যের সূচনায় যে নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তিনি স্বর্গীয় চুণীলাল দেওয়ান। তাঁর হাতে রোপিত আধুনিক সাহিত্যচর্চার চারাগাছকে দীর্ঘ সাধনা, সৃজনশীলতা এবং গভীর জীবনবোধ দিয়ে মহীরুহে রূপ দিয়েছেন কবি মুকুন্দ চাকমা। তাই তাঁকে যথার্থই চাকমা আধুনিক কবিতার দ্বিতীয় প্রধান পুরুষ বলা হয়। ১৯৩১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বগা গোজার অন্তর্গত ধজ্যা গোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা অর্জুন চন্দ্র তালুকদার এবং মাতা শুভদ্রা চাঙমা। সহধর্মিণী নীলিমা চাঙমা। তাঁদের ছয় সন্তান—দেব জ্যোতি চাঙমা, পরিতোষ চাঙমা, জ্ঞানর আলো চাঙমা, অপরাজিতা চাঙমা, আলপনা চাঙমা এবং শতরূপা চাঙমা। পারিব...

অবক্ষয়ের পুঁজিকাল ও বিপন্ন মাতৃভাষা: এক অন্তর্দহন- ইনজেব চাঙমা

ছবি
হৃদয়ের গহীন থেকে আজ এক তীব্র আর্তি ক্রমাগত চাবুক মারছে আমায়—"আমি আমার মাতৃভাষাকে কতটুকু ভালোবাসি?" এই প্রশ্ন যেন কোনো শান্ত নদী নয়, বরং এক অশান্ত মেঘের গর্জন, যা আমার আত্মসত্তাকে কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। ভাষা তো কেবল শুষ্ক ঠোঁটের কোনো যান্ত্রিক কথন নয়, কিংবা নয় কেবল দুটি মানুষের মাঝে আলগা যোগাযোগের সেতু। ভাষা হলো একটি জাতির শতাব্দীর রক্ত দিয়ে চেনা রূপ, তার ললাটের তিলক এবং তার অস্তিত্বের পরম আশ্রয়। অথচ আজ এই ঘোর কলিকালে, এই সর্বগ্রাসী পুঁজিতান্ত্রিক বাস্তবতায় আমরা আমাদের সেই পরম আশ্রয়কেই হারিয়ে ফেলছি। চাকমা তথা জুম্ম জাতির অন্তহীন উদাসীনতা আজ আমাদের সেই গৌরবের ইতিহাসকে এক চরম অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আমাদের এই তথাকথিত মাতৃভাষা প্রীতির স্বরূপ যেন আমাদেরই এক চিরন্তন চাঙমা প্রবাদের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এক নির্মম পরিহাস: "কোচপাং কলে গালত পরে, কোচ ন পাং কলেও গালত পরে।" (ভালোবাসি বললেও চড় খেতে হয়, না বললেও চড় খেতে হয়।) আমরা আজ এক অদ্ভুত দ্বিমুখী চেতনার দোলাচলে দুলছি। হৃদয়ে ভাষা-প্রেমের অভিনয় করছি ঠিকই, কিন্তু সত্যকে বরণ করার সাহস হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের এই মে...

ক্ষতবিক্ষত পাহাড়ের আর্তনাদ ও মুক্তির অন্বেষণ- ইনজেব চাঙমা

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম, বহু যুগ ধরে এক অসুস্থ, ক্ষতবিক্ষত জনপদ। এই ভূখণ্ডের ক্ষত কেবল উপশম হয়নি, সময়ের নির্মম আবর্তে তা আরও গভীর, আরও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। স্মৃতির পাতা উল্টালে দেখি এক দুঃসহ কাল—যখন পাহাড়ের মানুষকে দিনের আলো নিভে যাওয়ার আগেই রাতের আহার সেরে নিরাপদ আশ্রয়ে আত্মগোপন করতে হতো। নিস্তব্ধ রজনীতে কুকুরের করুণ আর্তনাদও বুকের রক্ত হিম করে দিত। ভয়ের সেই করাল গ্রাসে দিনকে মনে হতো দীর্ঘ এক যুগ, আর রাতকে মনে হতো অন্তহীন এক শতাব্দী। চারিদিকে কেবল থমথমে, নিস্পৃহ নীরবতা। তখন পাহাড়ের সরল প্রাণের কাছে চিরস্থায়ী আতঙ্কের প্রতিশব্দ ছিল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আর সেটেলার বাঙালি। ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সেই ভয়ের রাজত্বে কিছুটা হলেও স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দিয়েছিল। মানুষ আগের চেয়ে শিক্ষা-দীক্ষায় মন দিতে পেরেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে পা বাড়িয়েছে, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। কেউ কেউ ইট-কাঠের সুন্দর ঘর তুলেছে, অথচ জনসংখ্যার বিশাল অংশ আজও মৌলিক অধিকারের ন্যূনতম স্পর্শ থেকে বঞ্চিত। তবু স্বাধীনতা-উত্তর রক্তাক্ত অধ্যায়ের তুলনায় চুক্তি-পরবর্তী সময় নগণ্য হলেও জুম্ম জনগণের সামনে...

𑄘𑄬𑄠𑄣𑄧𑄖𑄴 𑄛𑄨𑄖𑄴 𑄝𑄎𑄚 𑄃 𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄖𑄳𑄢𑄨𑄛𑄪𑄢 𑄃𑄪𑄌𑄴𑄇𑄢𑄨: 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄎𑄬𑄝𑄴 𑄌𑄋𑄴𑄟

ছবি
"𑄡𑄬 𑄥𑄚𑄴𑄘𑄨𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄣𑄮 𑄘𑄨𑄣𑄧𑄁, 𑄡𑄬 𑄥𑄚𑄴𑄘𑄨𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄥𑄚𑄴𑄘𑄨 𑄝𑄦𑄨𑄚𑄩 𑄎𑄧𑄚𑄧𑄟𑄴 𑄦𑄧𑄠𑄬, 𑄡𑄬 𑄥𑄚𑄴𑄘𑄨𑄖𑄳𑄠𑄭 𑄦𑄖𑄳𑄠𑄢𑄴 𑄎𑄧𑄟 𑄘𑄨𑄠𑄳𑄠 𑄦𑄧𑄠𑄬 𑄥𑄬 𑄥𑄚𑄴𑄘𑄨 𑄃𑄢𑄴 𑄛𑄢𑄴𑄝𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄌𑄧𑄑𑄴𑄧𑄉𑄳𑄢𑄟𑄴 𑄚𑄧 𑄗𑄬𑄝𑄧𑅁 𑄥𑄬𑄚𑄬 𑄇𑄧𑄋𑄧𑄢𑄴, 𑄃𑄃𑄮𑄏𑄮𑄢𑄴 𑄝𑄁𑄣𑄘𑄬𑄌𑄴, 𑄃𑄃𑄮𑄏𑄮𑄢𑄴, 𑄝𑄋𑄣𑄨 𑄃 𑄛𑄦𑄢𑄨 𑄥𑄧𑄟𑄧𑄎𑄳𑄠𑄃𑄪𑄚𑄴, 𑄌𑄮𑄇𑄴 𑄟𑄬𑄣𑄨 𑄢𑄨𑄚𑄨 𑄌𑄧𑅁 𑄌𑄮𑄇𑄴 𑄟𑄨𑄣𑄨 𑄢𑄨𑄚𑄨 𑄌𑄬𑄝𑄢𑄴 𑄃𑄧𑄇𑄴𑄖𑄧 𑄃𑄬𑄥𑄳𑄠𑄬𑅁” 𑄉𑄬𑄣𑄴𑄬 𑄸𑄹 𑄎𑄪𑄚𑄴 𑄸𑄶𑄸𑄼, 𑄝𑄚𑄴𑄘𑄧𑄢𑄴𑄝𑄚𑄴 𑄣𑄟 𑄃𑄪𑄛𑄧𑄎𑄬𑄣 𑄚𑄎𑄨𑄢𑄟𑄴 𑄖𑄳𑄢𑄨𑄛𑄪𑄢 𑄃𑄘𑄟𑄧𑄖𑄴 𑄎𑄪𑄟𑄴𑄧𑄃𑄪𑄚𑄧𑄢𑄴 𑄎𑄉 𑄝𑄬𑄘𑄧𑄋𑄧𑄣𑄴, 𑄦𑄟𑄴𑄣 𑄃 𑄃𑄉𑄪𑄚𑄴 𑄝𑄎𑄬 𑄘𑄬𑄚 𑄥𑄪𑄠𑄮𑄣𑄬 𑄎𑄪𑄉𑄧𑄣𑄨𑄠𑄬 𑄃𑄬𑄉𑄧𑄖𑄴𑄧𑄢𑄨 𑄈𑄧𑄣𑄝𑄮𑄖𑄴 𑄃𑄬 𑄇𑄧𑄙 𑄇𑄮𑄃𑄨𑄠𑄬 𑄉𑄝𑄧𑄎𑄳𑄠 𑄃𑄬𑄃𑄮𑄎𑄨 𑄎𑄧𑄚𑄴 𑄖𑄳𑄢𑄨𑄛𑄪𑄢𑄘𑄊𑄨𑅁 𑄖 𑄃𑄬 𑄇𑄧𑄙𑄖𑄴 𑄝𑄚 𑄥𑄪𑄘𑄪𑄢𑄪𑄋𑄮 𑄥𑄪𑄠𑄮𑄣𑄴 𑄚𑄧𑄠𑄴, 𑄣𑄟𑄴𑄝 𑄖𑄨𑄚𑄴 𑄘𑄧𑄥𑄧𑄇𑄧𑄢𑄴 𑄇𑄠𑄴 𑄇𑄪𑄠𑄴 𑄡𑄬 𑄛𑄢𑄴𑄝𑄧𑄖𑄳𑄠𑄧 𑄌𑄧𑄑𑄴𑄧𑄉𑄳𑄢𑄟𑄴 𑄌𑄪...

পাহাড়ের দেয়ালে ঠেকা পিঠ এবং জন ত্রিপুরার বিস্ফোরক সতর্কতা- ইনজেব চাঙমা

ছবি
জন ত্রিপুরা "যে শান্তি জন্য রক্ত দিয়েছি, যে শান্তির জন্য শান্তি বাহিনী গঠন হয়েছিল, শান্তির জন্য অস্ত্র জমা দিয়েছিল, সে শান্তি আর পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকবে না। তাই বলছি, প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় সরকার, প্রিয় বাঙালি বন্ধুরা, প্রিয় পাহাড়ি বন্ধুরা, চোখ খুলুন আপনাদের। চোখ খোলার সময় এসে গেছে।" গত ২৩ জুন ২০২৬, বান্দরবানের লামা উপজেলার নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় পাহাড়িদের ভূমি বেদখল, হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন জুম্ম তরুণদের প্রতিনিধি জন ত্রিপুরা। তাঁর এই বক্তব্য কেবল কোনো সাধারণ প্রতিবাদ নয়, বরং দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের মনে জমে থাকা গভীর ক্ষোভ ও তীব্র বারুদের এক বিস্ফোরক বহিঃপ্রকাশ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পাহাড়ের সেই ঐতিহাসিক চুক্তি আজো পূর্ণাঙ্গ আলোমুখ দেখেনি। ভূমি কমিশন কার্যকর না থাকায় প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ হতে হচ্ছে আদিবাসীদের। এই চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে জন ত্রিপুরা সমাবেশে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন: "এই লেখা পড়া আমাদের কাজে দিবে না, টাকা পয়সা আম...

পাহাড়ি ঝরনার বাঁক ও একটি ক্লান্ত তরীর উপাখ্যান: পার্বত্য চুক্তির তিন দশক: ইনজেব চাঙমা

ছবি
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরের শীতের সকালটি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এক নতুন বসন্তের আবাহন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে পাহাড়ের বুক চিরে কেবল বুলেটের আর্তনাদ আর বারুদের গন্ধ বের হতো , সেখানে এক টুকরো শান্তির কপোত উড্ডয়ন করেছিল ‘ পার্বত্য চুক্তি ’ র হাত ধরে। চুক্তির সেই ঐতিহাসিক দলিলটি ছিল পাহাড়ের জখম হওয়া বুকে এক পশলা উপশম। কিন্তু কালের নিয়মে , সময়ের দীর্ঘ নদী বেয়ে আজ যখন আমরা প্রায় তিন দশক পার করছি , তখন সেই শান্তির কপোত কি সত্যি নীড় খুঁজে পেয়েছে , নাকি তা কোনো চোরাবালিতে ডানা হারিয়ে ছটফট করছে — তা আজ এক বিরাট জিজ্ঞাসার মুখোমুখি। সম্প্রতি পাহাড়ের এক তরুণ কণ্ঠের আক্ষেপ — যেখানে তিনি নেতৃত্বকে " মাঝনদীতে দিক হারানো এক বিকল ইঞ্জিনের জাহাজের " সাথে তুলনা করে জনগণকে সেই ভাঙা তরী মেরামতের ‘ মেকানিক ’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন — তা আমাদের এক গভীর আত্মোপলব্ধির দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। সমালোচকদের চোখে (অংহ্লাচি মারমা, তথ্য প্রচার সম্পাদক,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। গত কাল ২৩...

বৃত্তবন্দী মানুষেরা- ইনজেব চাঙমা

ছবি
সেদিন ছিল ১৭ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, এক অলস বুধবার। চারদিকের আকাশ সকাল থেকেই মেঘের ঘন চাদরে ঢাকা। মাঝে মাঝে সেই মেঘের বুক চিরে সূর্য তার তেজস্বী উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে বটে, কিন্তু তাতে আলো ছড়ানোর চেয়ে গুমোট ভ্যাপসা গরমই বাড়ছিল কেবল। প্রকৃতির এই অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মাঝেই আমি ডুবে ছিলাম প্রিয় কাজে—চাকমা সাহিত্য পত্রিকা ‘চাদি’ ও চাঙমা সংবাদ পত্র “হিলর পচ্জন”র প্রকাশনা নিয়ে টেবিলজুড়ে আমার ব্যস্ততা। বেলা ঠিক ১১:৫৬ মিনিটে হাতের মুঠোফোনটি তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান চাকমা (নলেজ)-এর নাম। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে গম্ভীর ও কিছুটা তাড়া মেশানো কণ্ঠ ভেসে এল, "জেএসএস অফিসে আসো।" সকালে স্রেফ নুন দিয়ে ভাত খাইয়ে আমার ছোট্ট মেয়ে জধা চাকমাকে সবেমাত্র ঘুম পাড়িয়েছিলাম। একটু ইতস্তত করে বললাম, "মেয়েটা ঘুমাচ্ছে তো, একটু পরে আসলে হয় না?" উত্তর এল সংক্ষিপ্ত ও অনমনীয়, "তাড়াতাড়ি আসলে ভালো হয়।" মনটা কু ডাকল। এক টা সংশয় মনের কোণে উঁকি দিল—কী এমন জরুরি দরকার, যা আমার জন্য অপেক্ষা করছে? আবার ভাবলাম, কদিন আগেই তো ...