মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

অধিকার ছাড়া কোনো জাতির ভবিষ্যৎ স্থায়ী হয় না -ইনজেব চাঙমা

প্রতিটি বস্তুরই নিজস্ব ধর্ম আছে, আছে নিজস্ব সত্তা ও বৈশিষ্ট্য। একই রক্ত-মাংসের মানুষ হলেও প্রত্যেকের চিন্তা, চেতনা, উপলব্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। একই গোত্র, একই জাতি কিংবা একই সমাজের অন্তর্ভুক্ত হয়েও মানুষের চিন্তাভাবনা ও অভিব্যক্তির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই পার্থক্য থাকে। কারণ প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার আলোকে পৃথিবীকে দেখে এবং সেই উপলব্ধি থেকেই নিজের মত প্রকাশ করে।

তাই আমার লেখাকে কেউ সমালোচনা করলে আমি তা খুশি মনেই গ্রহণ করি। সমালোচনা চিন্তার বিকাশ ঘটায়, ভুল ধরিয়ে দেয় এবং নিজের অবস্থানকে নতুন করে যাচাই করার সুযোগ তৈরি করে। তবে আমি কাউকে পূজা করতে পারি না—তার মানে এই নয় যে আমি কাউকে অশ্রদ্ধা করি। বরং ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের আমি শ্রদ্ধা করি, তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অন্তরের গভীরতা থেকেই আসে। অন্ধ আনুগত্য আর শ্রদ্ধা এক বিষয় নয়; শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রশ্ন থাকতে পারে, মতপার্থক্য থাকতে পারে, এমনকি সমালোচনাও থাকতে পারে।

গত মার্চ মাস থেকে আমি বাংলা ভাষায় কিছু লেখা শুরু করেছি। বিষয়টি অনেকের কাছে হয়তো বিস্ময়ের কারণ হতে পারে। কারণ আমি মূলত চাঙমা ভাষায় লেখালেখি করি এবং দীর্ঘদিন ধরে চাঙমা ভাষা ও বর্ণমালা নিয়ে কাজ করে আসছি। তাহলে হঠাৎ বাংলা ভাষায় কেন লিখছি, এর পেছনে অবশ্যই একটি কারণ রয়েছে। সেই কারণ এখনই বিস্তারিত বলতে চাই না। সময় হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আপাতত মূল আলোচনায় আসি।

আমি জানি, আমার লেখা অনেকের কাছে বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তাঁদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁদের কাছে আমার একটি প্রশ্নও আছে, কেন আমি লিখছি, সেটিও কি একবার ভেবে দেখা যায় না?

দীর্ঘ বছর চাঙমা ভাষা ও বর্ণমালা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি একটি বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিঅধিকার ছাড়া কোনো কাজই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একটি জাতির ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য কিংবা বর্ণমালা যতই সমৃদ্ধ হোক, সেই জাতির নিজের অধিকার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা না থাকলে তার অস্তিত্ব ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অধিকারহীন জাতি অনেকটা পরগাছার মতো বেঁচে থাকে, নিজের শিকড় থাকলেও নিজের মাটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

এই উপলব্ধিই আমাকে শুধু ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে।

আমাদের সমাজের দিকে তাকালে এখনো কিছু পুরোনো মানসিকতার অস্তিত্ব চোখে পড়ে। ব্যক্তিবাদ, আত্মীয়বাদ, গোত্র-গোষ্ঠীবাদ, এলাকাবাদ, এসবের সঙ্গে সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে আছে দলবাদ। দলীয় পরিচয় অনেক সময় ব্যক্তির চিন্তা, যোগ্যতা ও কাজের মূল্যায়নের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে কেউ কোনো কথা বললে তার বক্তব্যের সত্যতা, যুক্তি কিংবা প্রয়োজনীয়তা যাচাই না করেই তাকে সমালোচনা কিংবা আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়।

কখনো বক্তব্যে ত্রুটি না পেলে ব্যক্তির জন্মপরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা অতীত টেনে এনে আক্রমণ করা হয়। এটি কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। মতের বিরোধিতা যুক্তি দিয়ে হওয়া উচিত, ব্যক্তিকে আক্রমণ করে নয়।

আমি এই সংস্কৃতির বাইরে আসতে চাই। আমি চাই, আমাদের সমাজে মানুষকে তার দল, গোত্র, পরিবার কিংবা পরিচয় দিয়ে নয়, তার চিন্তা, কর্ম, যুক্তি ও অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক। মতের পার্থক্য থাকবে, সমালোচনা থাকবে, বিতর্ক থাকবে; কিন্তু সেই বিতর্ক যেন যুক্তিনির্ভর ও সভ্য হয়।

আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই, আমরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও মতকে আলাদা করতে শিখিনি। একজন মানুষকে শ্রদ্ধা করা মানেই তার প্রতিটি বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া নয়। আবার কারও বক্তব্যের সমালোচনা করা মানেই তাকে অসম্মান করা নয়। এই সহজ সত্যটি আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি।

এই জায়গা থেকেই আমি মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির কোন বিষয় সঠিক, কোন বিষয় অসম্পূর্ণ, কোন বিষয় নিয়ে সংশোধন বা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন আছে, এসব নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু চুক্তির বাস্তবায়নের প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অধিকারগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

চুক্তির বাস্তবায়ন কেবল প্রশাসনিক কোনো বিষয় নয়; এটি আমাদের সমাজের চিন্তা ও চেতনার বিকাশের সঙ্গেও সম্পর্কিত। অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্বাধীনভাবে ভাবতে পারে। তখন ভাষা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাহিত্য, অর্থনীতি, আত্মপরিচয় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সবকিছু নিয়েই আরও গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি হয়।

আমার কাছে তাই ভাষার অধিকার এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অধিকার পরস্পর বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। চাঙমা ভাষা ও বর্ণমালা রক্ষার সংগ্রাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অধিকার ও পরিবেশ প্রতিষ্ঠাও গুরুত্বপূর্ণ।

আমি কারও পূজা করতে চাই না, কারও অন্ধ অনুসারীও হতে চাই না। আমি চাই প্রশ্ন করতে, জানতে, ভুল হলে ভুল স্বীকার করতে এবং যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে। আমার বক্তব্য ভুল হলে সমালোচনা করুন; যুক্তি দিয়ে ভুল প্রমাণ করুন। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, চলুন আমরা চিন্তার সঙ্গে চিন্তার, যুক্তির সঙ্গে যুক্তির এবং ধারণার সঙ্গে ধারণার মোকাবিলা করি।

কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ কেবল আবেগ দিয়ে নির্মিত হয় না; তা নির্মিত হয় জ্ঞান, অধিকার, আত্মসমালোচনা, যুক্তিবোধ ও দূরদর্শী চিন্তার ভিত্তির ওপর।

আজ আমি বাংলা ভাষায় লিখছি, এরও একটি উদ্দেশ্য আছে। সেই উদ্দেশ্য হয়তো আজ সবার কাছে স্পষ্ট নয়। সময়ই তার উত্তর দেবে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি কারও বিরুদ্ধে লিখতে চাই না; আমি লিখতে চাই আমাদের নিজেদের নিয়ে। আমাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে, আমাদের সম্ভাবনা নিয়ে, আমাদের অধিকার নিয়ে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

কারণ অধিকারহীন অবস্থায় শুধু টিকে থাকা নয়, নিজের ভবিষ্যৎ নিজের মতো করে নির্মাণ করাই একটি জাতির প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

সুপায়ন চাকমা অক্ষরের আলোয় এক স্বপ্নযাত্রী - ইনজেব চাঙমা

সুপায়ন চাঙমা
    পাহাড়ের বুকজুড়ে যে পথ আঁকাবাঁকা হয়ে দূর অজানার দিকে চলে গেছে, সেই পথের মতোই কিছু মানুষের জীবনও এগিয়ে চলে স্বপ্নের সন্ধানে। তাঁদের হাতে থাকে না ক্ষমতার পতাকা, থাকে না প্রাচুর্যের অহংকার; থাকে কেবল মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, নিজস্ব সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার এবং আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু করে যাওয়ার গভীর প্রত্যয়। সুপায়ন চাকমা তেমনই একজন স্বপ্নসারথি, যিনি চাঙমা ভাষা, অঝাপাত বর্ণমালা, সাহিত্য সংস্কৃতির আলো মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

    তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন চাঙমা সমাজের প্রতিটি ঘরে অঝাপাত বর্ণমালায় লেখা বই পড়বে নতুন প্রজন্ম। শিশুরা মাতৃভাষার অক্ষরে নিজেদের প্রথম শব্দ লিখবে, কবিতার পঙ্ক্তিতে খুঁজে পাবে পাহাড়ের সৌন্দর্য, আর ভাষার ভেতর আবিষ্কার করবে নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি আত্মপরিচয়। এই স্বপ্ন তাঁর কাছে কেবল কল্পনার রঙিন ছবি নয়; এটি তাঁর কর্মের প্রেরণা, পথচলার শক্তি এবং জীবনের এক গভীর সাধনা।

    সুপায়ন চাকমার জন্ম ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ সালে। তাঁর পিতা লাজুক্যা চাকমা ও মাতা সুমিতা চাকমা। রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের লাম্বাছড়া গ্রামে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। পাহাড়ের প্রকৃতি, সহজ-সরল জীবন ও পারিবারিক মূল্যবোধে তাঁর শৈশব গড়ে ওঠে।

    শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ অগ্রযাত্রা তাঁকে উচ্চশিক্ষার পথে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজে মাস্টার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। তাঁর কাছে শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের সিঁড়ি নয়; শিক্ষা হলো সমাজকে জানার, মানুষকে বোঝার এবং নিজের জাতি সংস্কৃতির জন্য দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার এক আলোকিত পথ।

    ব্যক্তিজীবনে তিনি ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর খাগড়াছড়ির চিকিৎসক চিনুর বড় কন্যার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেও তিনি ভাষা, সাহিত্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পথ থেকে সরে যাননি। বরং ব্যক্তিজীবন সামাজিক দায়িত্বের সমন্বয়ে তিনি তাঁর স্বপ্নকে আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করে চলেছেন।

    চাঙমা সাহিত্য একাডেমির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বর্তমানে তিনি একাডেমির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মহালছড়ি কলেজ শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দায়িত্ব পালন কেবল পদধারণের ইতিহাস নয়; বরং ভাষা সাহিত্যকে এগিয়ে নেওয়ার পথে তাঁর শ্রম, নিষ্ঠা অঙ্গীকারের স্মারক।

    চাঙমা ভাষা অঝাপাত বর্ণমালার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি দীর্ঘকাল ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে ভাষা বর্ণমালা প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে আসছেন। একজন চাঙমা ভাষার স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি শিশু-কিশোর আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার অক্ষরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। তাঁর হাতে অক্ষর শেখা মানে শুধু পড়তে বা লিখতে শেখা নয়; বরং নিজের শিকড়কে চিনে নেওয়া, জাতির ইতিহাসকে অনুভব করা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে হৃদয়ে ধারণ করা।

    তিনি জানেন, একটি ভাষা হারিয়ে গেলে কেবল কিছু শব্দ হারায় না, হারিয়ে যায় বহু প্রজন্মের স্মৃতি, লোককথা, গান, ইতিহাস জীবনবোধ। তাই তিনি নীরবে অক্ষরের প্রদীপ জ্বালিয়ে চলেছেন। তাঁর এই স্বেচ্ছাশ্রম যেন পাহাড়ের ভোরের প্রথম আলো, ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মনে, জাগিয়ে তোলে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা।

    সাহিত্যচর্চাও তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত কবিতা লেখেন। তাঁর কবিতায় কখনো পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি, কখনো মানুষের হাসি-কান্না, কখনো মাতৃভাষার প্রতি মমতা, আবার কখনো জাতিসত্তার স্বপ্ন আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা জীবন্ত হয়ে ওঠে।

    তাঁর সাহিত্যযাত্রার উল্লেখযোগ্য সংযোজন যৌথ কাব্যগ্রন্থ পুববেল, যা নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থগুলো সম্পূর্ণ চাঙমা ভাষা অঝাপাত বর্ণমালায় প্রকাশিত। নিজস্ব ভাষা বর্ণমালায় সাহিত্যচর্চার এই প্রয়াস কেবল সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেনি; বরং চাঙমা ভাষা অঝাপাত বর্ণমালার ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং প্রসারের পথকেও সুদৃঢ় করেছে।

    তিনি চাঙমা সাহিত্যপত্রিকা চাদি-তে কবিতা লেখেন। তাঁর কবিতার পঙ্ক্তিতে মাতৃভাষার সুর, পাহাড়ের জীবন এবং মানুষের অনুভূতি একাকার হয়ে ওঠে। তাঁর লেখালেখি যেন ভাষার প্রতি এক নীরব অঙ্গীকার, যতদিন শব্দ থাকবে, ততদিন বেঁচে থাকবে মানুষের স্মৃতি; যতদিন অক্ষর থাকবে, ততদিন জাগ্রত থাকবে জাতির আত্মপরিচয়।

    সুপায়ন চাকমার পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বড় পরিবর্তনের শুরু কখনো কখনো একটি ছোট শ্রেণিকক্ষ থেকে হয়; একটি শিশুর হাতে প্রথম অক্ষর তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়েই একদিন জেগে উঠতে পারে একটি জাতির নতুন ভবিষ্যৎ। তিনি হয়তো কোনো বড় মঞ্চের আলো খোঁজেন না; কিন্তু তাঁর স্বেচ্ছাশ্রমের প্রতিটি মুহূর্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একেকটি আলোর প্রদীপ হয়ে জ্বলছে।

    আজ তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থী নন; তিনি একজন ভাষাসেবী, স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষক, কবি, সাহিত্যকর্মী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। চাঙমা সাহিত্য একাডেমির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা কর্মপ্রেরণা আগামী দিনেও ভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশে নতুন পথ দেখাবে, এমন প্রত্যাশা করা যায়।

    পাহাড়ের মাটি, মাতৃভাষার মাধুর্য এবং জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে সুপায়ন চাকমা তাঁর স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর স্বপ্ন একদিন সত্য হোক, চাঙমা সমাজের প্রতিটি ঘরে ঘরে অঝাপাত বর্ণমালায় লেখা বই পৌঁছে যাক; শিশুরা মাতৃভাষায় পড়ুক, লিখুক, কবিতা রচনা করুক; আর চাঙমা ভাষার অক্ষর হয়ে উঠুক আগামী প্রজন্মের গর্ব আত্মপরিচয়ের উজ্জ্বল আলো।

    
সুপায়ন
চাকমা, তিনি অক্ষরের আলোয় পথচলা এক স্বপ্নযাত্রী; চাঙমা ভাষা বর্ণমালার স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষক, সাহিত্যপ্রেমী, কবি, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং মাতৃভাষার ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিবেদিত এক তরুণ কর্মী।

 

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

চাঙমা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নিবেদিত কর্মী পাভেল চাঙমা ভূবন - ইনজেব চাঙমা

“যে মানুষ নিজের মাতৃভাষার আলো জ্বালিয়ে রাখেন, তিনি কেবল অক্ষর শেখান না—তিনি একটি জাতির ইতিহাস, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেন।”

    

পাভেল চাঙমা
    পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ ও জনপদের মানুষের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক দীর্ঘ ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে হৃদয়ে ধারণ করে চাঙমা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে যাঁরা নীরবে কাজ করে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে পাভেল চাঙমা ভূবন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী, সাহিত্যসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক।

    দীর্ঘদিন ধরে তিনি চাঙমা সাহিত্য একাডেমির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে চাঙমা ভাষা, অঝাপাত বর্ণমালা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চাঙমা সাহিত্য একাডেমির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া, ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা এবং জাতির নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সুদৃঢ় করার কাজে তিনি আন্তরিকভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

    পাভেল চাঙমা ভূবন ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নান্যাচর উপজেলার যাত্রামণি আদাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আনন্দ বিকাশ চাঙমা ও মাতা কনিকা চাঙমা। তিন ভাই মধ্যে তিনি সবার বড়। পাহাড়ের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠায় শৈশব থেকেই তিনি নানা অভাব-অনটন ও প্রতিকূলতার সঙ্গে পরিচিত হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে রুপিনা চাঙমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

    তিনি রাঙামাটি সাপছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পারিবারিক আর্থিক সংকট ও অভাবের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন খুব বেশি দূর এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু শিক্ষার পথ সীমিত হলেও তাঁর জ্ঞানপিপাসা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ কখনো থেমে থাকেনি। জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন।

    পাভেল চাঙমা ভূবন শুধু একজন সংগঠক নন; তিনি একজন চাঙমা ভাষার স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষক। মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি স্বেচ্ছাশ্রমে চাঙমা ভাষা ও অঝাপাত বর্ণমালা শেখানোর কাজে অংশগ্রহণ করে আসছেন। তাঁর বিশ্বাস—মাতৃভাষা একটি জাতির আত্মার ভাষা; আর সেই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখা মানে জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বকে রক্ষা করা।

    শিশু-কিশোর ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে চাঙমা ভাষা ও বর্ণমালার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ভাষাশিক্ষার মাধ্যমে তিনি কেবল অক্ষরজ্ঞান ছড়িয়ে দিতে চান না; বরং নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং জাতিগত পরিচয়ের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে চান। তাঁর এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ চাঙমা ভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারের আন্দোলনে একটি মূল্যবান অবদান।

    ব্যক্তিজীবনে তিনি রুপিনা চাঙমার সঙ্গে সংসার জীবন গড়ে তুলেছেন। তাঁদের তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ, ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্য সময় দেওয়া তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সংসারের ব্যস্ততা তাঁকে তাঁর সাংস্কৃতিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি।

    চাঙমা জাতির ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা তাঁর শখের গণ্ডি পেরিয়ে এক ধরনের জীবনসাধনায় পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, একটি জাতির ভাষা হারিয়ে গেলে তার ইতিহাসের অনেক অমূল্য স্মৃতি হারিয়ে যায়; আর সাহিত্যচর্চা থেমে গেলে দুর্বল হয়ে পড়ে জাতির আত্মপ্রকাশের পথ। তাই তিনি নিজের সামর্থ্য ও সাধ্যের মধ্যে থেকে চাঙমা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার কাজে অবিচল রয়েছেন।

    আর্থিক অনতনে এখনো তাঁর কোনো একক গ্রন্থ প্রকাশিত না হলেও তিনি নিয়মিত লেখালেখি করে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখায় কখনো উঠে আসে পাহাড়ের প্রকৃতি ও মানুষের জীবন, কখনো ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা, আবার কখনো জাতিসত্তা ও আত্মপরিচয় রক্ষার প্রত্যয়।

    তাঁর সাহিত্যযাত্রার উল্লেখযোগ্য সংযোজন যৌথ কাব্যগ্রন্থ “পুববেল”। গ্রন্থটি নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য  সংসদ থেকে প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি “আবেদি” নামের আরেকটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ জাবারাং কল্যাণ সমিতি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থগুলো সম্পূর্ণ চাঙমা ভাষা ও চাঙমা বর্ণমালায় রচিত। মাতৃভাষা ও নিজস্ব বর্ণমালায় সাহিত্যসৃষ্টির এই প্রয়াস চাঙমা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি অঝাপাত বর্ণমালার ব্যবহার ও প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    একটি ভাষা কেবল ভাব বিনিময়ের মাধ্যম নয়; ভাষার ভেতর বাস করে একটি জাতির ইতিহাস, লোকজ স্মৃতি, সংস্কৃতি, অনুভব ও স্বপ্ন। পাভেল চাঙমা ভূবন সেই সত্যকে উপলব্ধি করেই ভাষা ও সাহিত্যচর্চার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর কর্মজীবন প্রমাণ করে—সুযোগের সীমাবদ্ধতা কিংবা জীবনের প্রতিকূলতা মানুষের স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না, যদি তার হৃদয়ে সমাজ ও জাতির জন্য কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার থাকে।

    চাঙমা সাহিত্য একাডেমির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং চাঙমা ভাষার স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি আজ ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। একদিকে তিনি সংগঠনের মাধ্যমে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করছেন, অন্যদিকে ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছেন মাতৃভাষার অমূল্য উত্তরাধিকার।

    পাহাড়ের মাটি, মানুষের জীবন, মাতৃভাষার মাধুর্য এবং নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসাকে হৃদয়ে ধারণ করে পাভেল চাঙমা ভূবন তাঁর পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর শ্রম, নিষ্ঠা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গীকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

    পাভেল চাঙমা ভূবন—তিনি একজন সমাজসেবী, সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, চাঙমা ভাষার স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষক এবং চাঙমা ভাষা, সাহিত্য ও জাতিসত্তার নিবেদিত কর্মী।

 

শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

অঝাপাতের আলোর পথিক সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমা (আনন্দ ময়): জীবন, সাধনা ও সৃজনের এক অনন্য অধ্যায় - ইনজেব চাঙামা

মানুষেরআয়ুফুরিয়েযায়, কিন্তুমানুষেরমহৎকর্মসময়েরবুকথেকেকখনোমুছেযায়না।

    

আনন্দ মোহন চাঙমা
পৃথিবীতে মানুষ আসে ক্ষণিকের জন্য; কিন্তু সবাই সময়ের স্মৃতিতে জায়গা করে নিতে পারে না। কেউ নিজের জীবনকে ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখে, আবার কেউ নিজের স্বপ্ন, শ্রম সাধনাকে সমাজের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়ে হয়ে ওঠে একটি জাতির আলোকবর্তিকা। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার নাম কিংবা পদবিতে নয়তার পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার কর্মে, ত্যাগে এবং মানুষের জন্য রেখে যাওয়া ভালোবাসার চিহ্নে।

    চাঙমা জাতির অঝাপাত লিপি, মাতৃভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ঐতিহ্যের আকাশে যাঁরা নীরবে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম এক উজ্জ্বল নাম সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমা, যিনি সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনেআনন্দ ময়নামে পরিচিত। তিনি কেবল একজন শিক্ষক নন; তিনি একজন লেখক, কবি, গবেষক, সংগঠক, সংস্কৃতিসেবক এবং জাতিগত আত্মপরিচয়ের এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।

    তাঁর জীবন যেন একটি দীর্ঘ যাত্রাপথ, যে পথে আছে শিক্ষা, সমাজসেবা, সাহিত্যচর্চা, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং নিজ জাতির ভাষা ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক নিরলস অঙ্গীকার।

    ১৯৫৪ সালের জুলাই, পার্বত্য প্রকৃতির সবুজ ছায়াঘেরা মায়নী নদীর উপত্যকায় বাঘাইছড়িদুঅর নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমা। তাঁর পিতা ছিলেন চিত্রজিৎ চাঙমা এবং মাতা রঞ্জিতা চাঙমা।

    পাহাড়ের নিসর্গ, ঝিরির কলকল ধ্বনি, বনভূমির নীরবতা এবং চাঙমা সমাজের লোকজ ঐতিহ্যের ভেতর দিয়ে তাঁর শৈশব বেড়ে ওঠে। সেই শৈশবের মাটি থেকেই তিনি শিখেছিলেনমানুষ একা বাঁচে না; মানুষ বেঁচে থাকে তার সমাজ, ভাষা, সংস্কৃতি পূর্বপুরুষের স্মৃতিকে ধারণ করে।

    তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু হয় জ্ঞানাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারপালি টোলে। পরে তিনি উদলবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাবুছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভ করেন। শিক্ষা তাঁর কাছে কেবল চাকরির পথ ছিল না; শিক্ষা ছিল মানুষকে আলোকিত করার এক মহৎ শক্তি।

    ১৯৭৩ সালের ২৮ মে তিনি ধনপাতা চন্দ্রমনি কার্বারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেই দিন থেকে তাঁর হাতে ধরা পড়ে শুধু পাঠ্যবই নয়ধরা পড়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন।

    পরবর্তীতে তিনি উদলবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নং বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। এর ফাঁকে ১৯৭৭ সালে স্বীয় পিতা মাতার নামে নিজ গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করেন চিত্রজিৎ রঞ্জিতা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে নিরলসভাবে সরকারের সাথে দেনদরবার করার ফলশ্রুতিতে  ১৯৮৪ ইং হতে সরকারি কার্যাক্রম শুরু হয়। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০১২ সালে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত চিত্রজিৎ-রঞ্জিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতা জীবন সমাপ্ত করেন।

    কিন্তু তাঁর শিক্ষকতা কখনো বিদ্যালয়ের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেনএকজন শিক্ষক কেবল অক্ষর শেখান না; তিনি মানুষের ভেতরে স্বপ্ন জাগান, বিবেক জাগান এবং নিজের সমাজ সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করেন।

    শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজেকে নিবেদন করেন সমাজ সংস্কৃতির কাজে। ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাবকে পেছনে রেখে তিনি চাঙমা জাতির ভাষা, সাহিত্য, অঝাপাত লিপি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজে যুক্ত হন।

    নব্বই দশকের বিরাজিত পার্বত্য পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন এবং জীবনের নিরাপত্তার তাগিদে ১৯৮৯ হতে ১৯৯৪ ইং পর্যন্ত প্রায় বছরের কাছাকাছি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়ার পরে তৎকালীন বিএনপি সরকার জুম্ম শরনার্থী কল্যাণ সমিতির সাথে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ১৯৯৪ সালে ২৪ শে আগষ্ট তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। প্রত্যাবর্তনের পরপরেই তিনি নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেনচাঙমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীনামে একটি সংস্কৃতি সংগঠন। এটি শুধু একটি সংগঠন ছিল না; ছিল চাঙমা সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক স্বপ্নের ঠিকানা। সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত দায়িত্ব পালন করে তিনি সাহিত্য, নাটক, গান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতিগত চেতনা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।

    সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমার কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে জনমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি জাতির আত্মপরিচয় টিকে থাকে তার মাতৃভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি একের পর এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা আজও চাঙমা সমাজে স্মরণীয় হয়ে আছে।

    দীঘিনালায় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সাহিত্যচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ১২ এপ্রিল তাঁর প্রত্যক্ষ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় দীঘিনালার প্রথম বইমেলা। পার্বত্য অঞ্চলে বইকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস ছিল সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। বইমেলাটি শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন ছিল না; এটি ছিল জ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার এক মিলনমেলা।

    মাতৃভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে তিনি ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ চাঙমা বর্ণমালা কোর্স চালু করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরসহ নতুন প্রজন্মের মধ্যে অঝাপাত লিপি ও চাঙমা ভাষা শেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং মাতৃভাষা শিক্ষার একটি সুসংগঠিত ভিত্তি নির্মাণের পথ উন্মুক্ত হয়।

       ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অগ্রণী। ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে তাঁর উদ্যোগে বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিসেবী ও সমাজকর্মীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেদিন সম্মাননায় ভূষিত হন মুকুন্দ চাঙমা, আর্য্যমিত্র চাঙমা, লালন কান্তি চাঙমা, কেভি দেবাশীষ চাঙমা, জ্ঞানকীর্তি চাঙমা, কৃতি চাঙমা,  ইনজেব চাঙমা, , পলাশ বড়ুয়া এবং জাহাঙ্গীর আলম রাজু। একই অনুষ্ঠানে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় নোয়ারাম চাঙমা, সুধীরঞ্জন বড়ুয়া, সুহৃদ চাঙমা এবং গোরিকা বালা ত্রিপুরাকে

    এই সম্মাননা অনুষ্ঠান ছিল কেবল পুরস্কার প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং চাঙমা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে যাঁরা আজীবন অবদান রেখে গেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এর মধ্য দিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেন, যে জাতি তার গুণীজনকে সম্মান করতে জানে, সেই জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি কখনো বিলীন হয় না।

    শিক্ষকতা পেশার সার্থক আলো ছড়াতে ১৯৯৫ সালের প্রারম্ভে তিনি বাবূছড়া ইউনিয়নের ধনপাতা এলাকার দীঘি নালা ইউনিয়নের কেশব চন্দ্র পাড়ার গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিজ বাড়িতে দেখে এনে সর্বসম্মত মতামত গ্রহণ করে "ধনপাতা বাঙাল্যা করুনা পাড়া রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়" "কেশব চন্দ্র পাড়া রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়" নামে দুটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজে হাত দেন ও বাবুছড়া কলেজের জন্যও ১০ শতক (ক্রয়মূল্য) জমি দান করেছেন। যা বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে দুটি ও কলেজ প্রতিষ্ঠান স্বগৌরবে অবস্থান করতেছে। এক সময়ে তিনি জুম্ম ফুল অনাথ আশ্রমের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ান। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে গেলেও মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার এই অধ্যায় আজও তাঁর জীবনের মানবিক পরিচয় বহন করে। এতদভিন্ন তিনি ক্রসুত্রে প্রাপ্ত জমি দান করে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান বাবু শাক্য মুনি চাকমার সহযোগিতায় "বাঘাইছড়ি মুখ কমিউনিটি ক্লিনিক" প্রতিষ্ঠা করে বিনামূল্যে শত শত মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুগম করে দিয়েছেন।

    ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; ভাষা একটি জাতির আত্মা, ইতিহাস অস্তিত্বের স্মারক। এই উপলব্ধি থেকেই ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিইউএনডিপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশ চাঙমা ভাষা পরিষদে গবেষক সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

    চাঙমা ভাষার গবেষণা, সংরক্ষণ বিকাশে তাঁর এই ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভাষার ভেতর যে জাতির স্মৃতি লুকিয়ে থাকে, সেই স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে তিনি নিজের শ্রম মেধা নিবেদন করেন। শিক্ষা সংস্কৃতির পাশাপাশি তিনি স্থানীয় উন্নয়ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন।

    ২০০৫ সালে তিনি প্রায় একটানা ১৮ বছর উদলবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালের ৮ই জুলাই শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণের পর-পরেই তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন দীঘিনালা উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে একটানা ৯বছর অর্থাৎ তিন পিরিয়ড মেয়াদ সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। অবশ্য এক সময়ে তিনি চিত্রজিৎ-রঞ্জিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাবুছড়া কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    এই একই বছরের জানুয়ারি তিনি নিজ এলাকায়আনন্দ বাজারনামে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহজতর করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই বাজারের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেন। তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনের একজন প্রিয় ব্যক্তি হিসেবে দীঘিনালা উপজেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি ত্রাণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির অনারারি সদস্য হিসেবে কাজ করে গেছেন এবং বর্তমানেও উপজেলা ধান চাউল ক্রয় কমিটি, উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির অনারারি সদস্য এবং দুর্নীতি দমন কমিশন, চট্টগ্রাম ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

    ২০১৩ সালে তিনি দীঘিনালা নাট্যদলের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নাটক তাঁর কাছে ছিল মানুষের জীবন, ইতিহাস, সংস্কৃতি সমাজের কথা বলার এক জীবন্ত শিল্পমাধ্যম।

    ২০১৫ সালে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বহুভাষিক মাতৃভাষা বিষয়ক লেখক সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি। মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসার এবং চাঙমা ভাষার পাঠ্যসামগ্রী তৈরিতে তাঁর এই ভূমিকা ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

    ২০১৭ সালে বাংলাদেশের নিবন্ধিত সংগঠনচাঙমা সাহিত্য পরিষদ”-এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্য সাংস্কৃতিক পথচলা আরও বিস্তৃত হয়।

    সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমা কেবল সংগঠক বা শিক্ষক নন; তিনি একজন সৃজনশীল লেখক সাহিত্যসাধক। তাঁর রচনায় চাঙমা জাতির ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা এবং আত্মপরিচয়ের নানা রূপ উঠে এসেছে।

    তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃজনকর্মের মধ্যে রয়েছে১। কার্পাচ্চোই সেপ খেলং- ১৭৮৫  আগরতলা, ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪; ২। চাঙমা জাদর বিজক  বুদ্ধপূর্ণিমা, ২০ মে ১৯৯৬; ৩। চাঙমা ভাষা শিক্ষার গ্রন্থ পগোনপাদা ১৩ এপ্রিল ২০০৬।

    এই রচনাগুলো কেবল সাহিত্যকর্ম নয়; এগুলো চাঙমা জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ভাষাগত অস্তিত্ব রক্ষার একেকটি সৃজনশীল দলিল।

নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য তাঁর জীবন যেন নীরবে একটি কথাই বলে

নিজের জন্য বাঁচা সহজ; কিন্তু সমাজ জাতির জন্য কিছু করতে হলে ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়।

    জীবনের লাভ-ক্ষতির হিসাবের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বিশ্বাস করেছেনমানুষের প্রকৃত অর্জন তার ব্যক্তিগত সম্পদে নয়; বরং সমাজের জন্য রেখে যাওয়া কর্মে। তাঁর পথচলা তাই কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ইতিহাস নয়; এটি চাঙমা সমাজের শিক্ষা, ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি এক মানুষের দীর্ঘ ভালোবাসার ইতিহাস। একটি জাতির ভাষা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা কোনো সহজ দায়িত্ব নয়। সীমিত সুযোগ, নানা প্রতিবন্ধকতা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যেও যাঁরা নিজেদের শ্রম, সময় মেধা জাতির জন্য উৎসর্গ করেন, তাঁরা ইতিহাসের নীরব নির্মাতা।

    সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমা তেমনই একজন কর্মসাধক। তিনি আলোচনার কেন্দ্র হওয়ার জন্য কাজ করেননি; তিনি কাজ করেছেন চাঙমা ভাষা সংস্কৃতির আলোকে আরও উজ্জ্বল করার জন্য। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বাইরে এসে একজন গবেষক হতে পারেন, একজন সংগঠক হতে পারেন, একজন সংস্কৃতির রক্ষক হতে পারেন এবং একটি জাতির স্মৃতি সংরক্ষণের দায়িত্বও নিতে পারেন।

    মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মহৎ কর্মের আয়ু দীর্ঘ। সময় একদিন মানুষের নামকে স্মৃতির আড়ালে নিয়ে যায়; কিন্তু সমাজের জন্য করা সৎ সৃজনশীল কাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলো ছড়ায়। সুনানু আনন্দ মোহন চাঙমা (আনন্দ ময়) চাঙমা সাহিত্য সংস্কৃতির অঙ্গনে এমনই এক আলোকিত পথিক। তাঁর শিক্ষা, সাহিত্য, গবেষণা, সংগঠন সমাজসেবার কর্মধারা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

চাঙমা ভাষা, অঝাপাত লিপি, সাহিত্য সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় তাঁর কর্মের আলো যুগ থেকে যুগান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।

ইলন চাকমা, বিশ্বসাহিত্যের স্বপ্নে এক তরুণ অক্ষরযাত্রী- ইনজেব চাঙমা

  “ একটি ভাষার অক্ষরে যখন একটি জাতির স্বপ্ন জেগে ওঠে , তখন সেই ভাষা আর কেবল একটি জনগোষ্ঠীর সম্পদ থাকে না , সে হয়ে ওঠে বি...