কিছু মানুষ দীর্ঘ জীবন বাঁচার জন্য পৃথিবীতে আসেন না; তাঁরা আসেন একটি সময়কে আলোকিত করে যেতে। তাঁদের জীবনকাল সীমিত হলেও স্বপ্ন ও সৃষ্টির আয়ু হয়ে ওঠে দীর্ঘতর। কবি দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। মাত্র ছেচল্লিশ বছরের জীবনে তিনি চাঙমা ভাষা ও সাহিত্যের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পরও সেই স্বপ্নের আলো নিভে যায়নি।
১৯৪৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির মহাজনপাড়া আদামে জন্মগ্রহণ করেন দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা। তাঁর পিতা সত্যব্রত চাঙমা এবং মাতা শশীবালা চাঙমা। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
তাঁদের মধ্যে ছিলেন, মালবিকা চাঙমা, দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা, হিরোহিত চাঙমা, কনিষ্ক চাঙমা, শ্রীগীত চাঙমা, মিজিকো চাঙমা ও টলস্টয় চাঙমা। তাঁদের মধ্যে হিরোহিত চাঙমা অধ্যক্ষ, কনিষ্ক চাঙমা চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং টলস্টয় চাঙমা চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হন।
দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমার সহধর্মিণী ................................ চাঙমা। তাঁদের একমাত্র পুত্র দিগন্ত চাঙমা।
পাহাড়ের প্রকৃতি, জুমজীবন এবং পাহাড়ি মানুষের সহজ-সরল সম্পর্ক তাঁর শৈশবের চেতনায় গভীর ছাপ ফেলেছিল। নিজের সমাজ, সংস্কৃতি ও ভাষার যে আবহে তাঁর বেড়ে ওঠা, পরবর্তী জীবনে তাঁর সাহিত্যচিন্তার ভিত নির্মাণে সেই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তাঁকে পাহাড়ের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৭৪ সালে বি.এ. (অনার্স) ও এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীকালে তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতা ছিল তাঁর পেশা, কিন্তু সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চা ছিল তাঁর জীবনভাবনার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।
কর্মজীবনের প্রয়োজনে তিনি দেশের বাইরেও ভ্রমণ ও অবস্থান করেন। লিবিয়া, ইতালি, গ্রিস ও ভারত তাঁর জীবন-অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় তাঁর চিন্তার পরিসরকে প্রসারিত করলেও নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো শিথিল হয়নি। বরং দূরের পৃথিবীকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের শিকড়কে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল।
দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমার সাহিত্যচিন্তার কেন্দ্রে ছিল মাতৃভাষা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কোনো ভাষার অস্তিত্ব কেবল মুখের ব্যবহারে টিকে থাকে না; তাকে লিখিত রূপ দিতে হয়, সাহিত্য সৃষ্টি করতে হয়, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। এই উপলব্ধি থেকেই তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল-
“আমি শিক্ষিত মানুষ হয়ে যদি চাঙমা লেখা-মু ভেদেদেই কন্না চাঙমা লেখানি উন্নতি গরিব... চাঙমা লেঘা ইক্কুল, কলেজ, বিশ্ব ইক্কুল চালেবাত্যা আমাত্তুন চাঙমা লেঘা শিঘা পরিব... চাঙমা সাহিত্য সৃষ্টি গরি পারি...”
এই বক্তব্য কেবল একজন কবির ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়; এর মধ্যে ছিল একটি জাতির ভাষা ও সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখার সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধ। তিনি চেয়েছিলেন, শিক্ষিত চাঙমা সমাজ নিজের ভাষায় লিখুক, সেই ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টি করুক এবং ধীরে ধীরে বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চাতেও চাঙমা ভাষার ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হোক।
তাঁর কাছে মাতৃভাষা ছিল আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাই নিজের ভাষায় লেখা তাঁর কাছে নিছক সাহিত্যচর্চা ছিল না, এ ছিল সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার এক ধরনের দায়িত্ব।
দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমার প্রধান পরিচয়, তিনি কবি। তাঁর কবিতায় পাহাড়, মানুষ, প্রকৃতি, জীবন এবং অন্তর্জগত পরস্পরের সঙ্গে মিশে গেছে। তাঁর কাব্যভাষায় ছিল সংক্ষিপ্ততা, শব্দের পুনরাবৃত্তি, নীরবতার ব্যবহার এবং আধুনিক অনুভূতির প্রকাশ।
১৯৭২ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘লুরা’ ও ‘ফুরামোন’। ‘লুরা’ প্রকাশিত হয় এপ্রিল মাসে, ১ বৈশাখ ১৩৭৯ বঙ্গাব্দে; পরে বৈশাখী পূর্ণিমায় প্রকাশিত হয় ‘ফুরামোন’। চাঙমা ভাষায় মুদ্রিত সাহিত্য তখনও ছিল সীমিত। সেই বাস্তবতায় এই দুটি প্রকাশনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঘটনা। এগুলো শুধু সাহিত্য প্রকাশের উদ্যোগ ছিল না; মাতৃভাষায় সৃজনশীল লেখার সম্ভাবনাকেও দৃশ্যমান করেছিল।
তাঁর কবিতার উল্লেখযোগ্য সংকলন ‘পাদারং কোচপানা’ ও ‘অর্ন্তগত বৃষ্টিপাত’ । এই কাব্যগ্রন্থ তাঁর কবিসত্তার বিস্তৃত পরিচয় বহন করে। ‘লুরা’ ও ‘ফুরামোন’-এর সঙ্গে ‘পাদারং কোচপানা’ ও ‘অর্ন্তগত বৃষ্টিপাত’ মিলিয়ে তাঁর সাহিত্যিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সন্ধান পাওয়া যায়।
নিজের ভাষায় কবিতা লিখে ও প্রকাশ করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, চাঙমা ভাষা আধুনিক সাহিত্যচর্চার উপযুক্ত একটি সৃজনশীল মাধ্যম। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতি, পাহাড়ি জীবন, প্রকৃতি, ভাষা ও সাংস্কৃতিক চেতনা একটি স্বতন্ত্র কাব্যিক রূপ পেয়েছে।
সাহিত্যকে তিনি কখনো ব্যক্তিগত সাধনার গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখেননি। ১৯৭২ সালে তিনি ‘জুভাপ্রদ’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে চাঙমা সাহিত্যচর্চাকে সংগঠিত করার পাশাপাশি নবীন লেখকদের জন্য একটি সৃজনশীল পরিসর তৈরির চেষ্টা করেন।
সাময়িকী প্রকাশেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। সে সময়ের বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সাময়িকীর প্রকাশনা-উদ্যোগে তিনি অংশ নেন এবং নিজেও নিয়মিত লেখালেখি করেন। ফলে তাঁর ভূমিকা ছিল দ্বিমুখী—একদিকে তিনি ছিলেন স্রষ্টা, অন্যদিকে সাহিত্যিক পরিসর নির্মাণের একজন সক্রিয় সংগঠক। তাঁর সঙ্গে যুক্ত সাময়িকীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- গেংখুলি — ১৯৭৭
- রঙধং — ১৯৭৮, বিঝু
- রেঙ — সেপ্টেম্বর ১৯৮০
- বিজু — এপ্রিল ১৯৮১
- হুয়াঙ ছেরে চাঙমা গীত — ১৯৮১, বিঝু
- Ray — এপ্রিল/বিঝু, ১৯৮৫
- এক ঝাক বিজোল রোদ — ১৯৮৬, বিঝু
এসব সাময়িকীর পাতায় তাঁর লেখালেখি চাঙমা ভাষার সাহিত্যকে সমকালীন চিন্তা, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেছিল। একই সঙ্গে এগুলো নতুন লেখক ও পাঠকদের জন্য একটি সাহিত্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল।
তাই দীপঙ্করের সাহিত্যিক অবদান শুধু তাঁর প্রকাশিত কবিতা বা কাব্যগ্রন্থ দিয়ে বিচার করলে পূর্ণতা পাওয়া যায় না। কবিতা লেখা, কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ, সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলা, সাময়িকী প্রকাশে অংশ নেওয়া এবং সেখানে নিয়মিত লেখা, সব মিলিয়ে তাঁর সাহিত্যসাধনা একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক উদ্যোগের রূপ লাভ করেছিল।
১৯৭৩ সালে তাঁর ‘অন্যমনে’ কবিতা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে কবিতাটি রুশ ভাষায় অনূদিত হয়ে একটি রুশ ভাষার সংকলনে স্থান পায়। একটি পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় লেখা কবিতা যখন অনুবাদের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষার পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তা নিঃসন্দেহে চাঙমা সাহিত্যের সম্ভাবনারও একটি পরিচায়ক হয়ে ওঠে।
নিজেও দীপঙ্কর অনুবাদে আগ্রহী ছিলেন। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫–৭৬ সালের দিকে সুগত চাঙমার ‘হিল্লো মিলেবো জুমত যায় দ্যা’ গানটি তিনি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। ‘রেত্তুয়া জনমবো ন’ থেব’ গানটিও তিনি অনুবাদ করেন।
এই অনুবাদকর্ম তাঁর সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তিনি শুধু নিজের ভাষায় লেখার কথা ভাবেননি; নিজের ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও অনুভব করেছিলেন।
দীপঙ্করের সাহিত্যিক স্বাতন্ত্র্যের আরেকটি দিক ছিল নতুন শব্দ ও প্রকাশভঙ্গি নির্মাণের চেষ্টা। তাঁর কাছে ভাষা কোনো স্থির কাঠামো ছিল না; সময়, সমাজ ও মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভাষাকেও সমৃদ্ধ হতে হয়, এমন একটি ধারণা তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে।
আধুনিক জীবন ও নতুন অভিজ্ঞতা প্রকাশের উপযোগী করে চাঙমা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস তাঁর সাহিত্যিক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর কিছু কবিতায় পরবর্তীকালে সুরারোপ হয়ে গানও তৈরি হয়। ফলে তাঁর সাহিত্য মুদ্রিত পাতার সীমা অতিক্রম করে শ্রুতিমাধ্যমেও প্রবেশ করে।
প্রকাশিত গ্রন্থের বাইরে তাঁর কিছু রচনা অপ্রকাশিত থেকে যায়। সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে ‘অলর গাচ্ছুয়া পাদা লরে’, ‘জুঁদা পিত্তিমি’, ‘অদেঘা’ প্রভৃতি রচনার উল্লেখ রয়েছে। এসব রচনা তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের মূল্যবান অংশ। ভবিষ্যতে তাঁর পাণ্ডুলিপি ও অপ্রকাশিত রচনাগুলো অনুসন্ধান, সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা চাঙমা সাহিত্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চাঙমা আধুনিক সাহিত্য কোনো একদিনে তৈরি হয়নি। ১৯৪০-এর দশক থেকে চুনীলাল দেওয়ানের হাত ধরে যে আধুনিক সাহিত্যচর্চার বিকাশ শুরু হয়, পরবর্তীকালে মুকুন্দ চাঙমা, ডা. ভগদত্ত খীসা, সলিল রায়, অরুণ রায় প্রমুখ সাহিত্যিক সেই ধারাকে সমৃদ্ধ করেন।
এই ধারাবাহিকতায় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমার বিশেষত্ব হলো—তিনি একই সঙ্গে কবি, সম্পাদক, সংগঠক, প্রকাশনা-উদ্যোক্তা ও অনুবাদক। তিনি কবিতা লিখেছেন, কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন, সাহিত্য সংগঠন গড়ে তুলেছেন, সাময়িকী প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, নিজে লিখেছেন এবং ভাষার প্রকাশক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
অতএব, তাঁর অবদান কোনো একক গ্রন্থ বা কবিতায় সীমাবদ্ধ নয়। চাঙমা আধুনিক সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
১৯৯৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪৬ বছর বয়সে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমার জীবনাবসান ঘটে। তাঁর জীবন থেমে যায় এমন এক সময়ে, যখন তাঁর সাহিত্যিক সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হওয়ার কথা ছিল। আরও কবিতা, আরও অনুবাদ, আরও নতুন শব্দ, আরও সাহিত্যিক উদ্যোগ হয়তো তাঁর কলম থেকে আসতে পারত। তাঁর এই অকালপ্রয়াণ চাঙমা সাহিত্যজগতের জন্য ছিল গভীর ক্ষতি। কিন্তু একজন কবির জীবনাবসান তাঁর সৃষ্টির সমাপ্তি নয়। দীপঙ্করের ক্ষেত্রেও তা ঘটেনি।
তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হয়তো কোনো একক গ্রন্থে নয়; বরং একটি প্রশ্নে, শিক্ষিত হয়ে আমরা কি নিজের ভাষার জন্য কিছু করব? এই প্রশ্ন তাঁর সময় অতিক্রম করে আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবন দেখায়, বিশ্বকে জানার সঙ্গে নিজের শিকড়কে জানার কোনো বিরোধ নেই। বরং নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত শক্ত করেই বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরি করা সম্ভব।
লিবিয়া, ইতালি, গ্রিস ও ভারত ঘুরে দেখা মানুষটি শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছিলেন নিজের ভাষার কাছে। তাঁর কবিতা, কাব্যগ্রন্থ, সাময়িকী, অনুবাদ, সাহিত্য সংগঠন এবং ভাষা নিয়ে তাঁর ভাবনা—সবকিছুতেই সেই প্রত্যাবর্তনের চিহ্ন রয়েছে।
১৯৯৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর জীবন থেমে গেলেও তাঁর সাহিত্যিক পদচিহ্ন মুছে যায়নি। পুরোনো সাময়িকীর পাতায়, কবিতার পঙ্ক্তিতে, কাব্যগ্রন্থে, অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির সম্ভাবনায় এবং নতুন প্রজন্মের মাতৃভাষাচর্চায় তাঁর স্মৃতি এখনও বেঁচে আছে।
একটি স্বল্পায়ু জীবন কখনো কখনো একটি দীর্ঘ সাহিত্যিক উত্তরাধিকার রেখে যায়। দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান চাঙমা সেই বিরল উত্তরাধিকারেরই একজন নির্মাতা। তিনি চলে গেছেন; কিন্তু তাঁর ভাষার প্রতি দায়বোধ, সাহিত্যিক স্বপ্ন এবং সৃষ্টির আলো এখনও পাহাড়ের সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে জ্বলছে।
তথ্যসূত্র
সবিতা চাঙমা; শুভ্র জ্যোতি চাঙমা; আর্য্যমিত্র চাঙমা (নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ এ পক্ষ থেকে কবির মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ১০ সেপ্টেম্বর২০২৩), রান্যাফুল (কবিতাগ্রন্থ); জুমজার্নাল।
ছবি সংগ্রহ: কবিতা চাঙমা (অস্ট্রেলিয়া)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন