রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: আর কত নীরব থাকব - ইনজেব চাঙমা

মাত্র ৩১ দিনের হিসাব। একটি মাসের ব্যবধানে ৫৫ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন, ৫৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকারদের মধ্যে ৩৬ জনই কন্যাশিশু। ১৩টি ঘটনা ছিল দলবদ্ধ ধর্ষণের। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দুজনকে। আরও ১৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনা ২৫২টি

এগুলো নিছক কিছু সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন মানুষ, একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন এবং একটি অসমাপ্ত জীবন। আমরা এই নির্মমতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

যে শিশুর হাতে থাকার কথা বই, যে শিশুর স্কুলে যাওয়ার কথা নিরাপদে, যে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা, সে কেন আজ সহিংসতার শিকার হবে? একজন নারী কেন নিজের ঘর, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাস্তায় নিরাপত্তাহীন বোধ করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার আর সুযোগ নেই।

আমরা শুধু ঘটনার পর শোক প্রকাশ করতে চাই না। আমরা চাই অপরাধের আগে প্রতিরোধ, অপরাধের পরে দ্রুত বিচার এবং অপরাধীর নিশ্চিত জবাবদিহি। প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ কিংবা সামাজিক অবস্থান, কোনো কিছুই যেন অপরাধীর ঢাল হতে না পারে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ২৫২টি ঘটনাই পুরো বাস্তবতা নয়। সামাজিক লজ্জা, ভয়, পারিবারিক চাপ, হুমকি কিংবা বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় বহু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তাই প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বাইরেও যে আরও অনেক নিপীড়নের ঘটনা রয়ে গেছে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রতিটি ধর্ষণ, প্রতিটি হত্যা, প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনা আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সতর্কবার্তা। একটি শিশুকে নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়া মানে শুধু একটি পরিবারকে ব্যর্থ করা নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ব্যর্থতা।

তাই আজ প্রশ্ন শুধুকতজন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হলেন? প্রশ্ন হলোআর কতজন হলে আমরা সত্যিকার অর্থে জেগে উঠব?

আর কত পরিবারকে কাঁদতে হবে? আর কত শিশুর শৈশব নষ্ট হবে? আর কত অপরাধী আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে? আমরা নীরব থাকতে চাই না। আমরা ভয়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে চাই না।
আমরা বিচারহীনতাকে মেনে নিতে চাই না।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। অপরাধীর বিচার করতেই হবে। রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।

কারণ একটি সভ্য সমাজের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার ক্ষমতাবান মানুষের নিরাপত্তা নয়তার সবচেয়ে অসহায় নারী ও শিশুটি কতটা নিরাপদ, সেটিই তার সভ্যতার প্রকৃত মানদণ্ড।

 

তথ্যসূত্র

১. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদ—আগস্ট ২০২৬-এর নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনসংক্রান্ত প্রতিবেদন; ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও ২টি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সংকলিত।

২. প্রথম আলো, “আগস্টে ধর্ষণের শিকার ৫৪ জনের মধ্যে ৩৬ জনই কন্যাশিশু”, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

৩. দ্য ডেইলি স্টার, “আগস্টে ৫৫ নারী-শিশু হত্যা, ৫৪ জনকে ধর্ষণ: মহিলা পরিষদ”, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

৪. ইত্তেফাক, “আগস্টে ধর্ষণের শিকার ৫৪ জনের মধ্যে ৩৬ জনই কন্যাশিশু: মহিলা পরিষদ”, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবি রিপন তালুকদার : পাহাড়ের প্রেম ও বেদনার কবি - ইনজেব চাঙমা

জুম্ম আদিবাসী সমাজে সাহিত্যচর্চার পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও নতুন প্রজন্মের অনেক লেখক - কবি নিজেদের জীবন , সমাজ , প্রকৃতি , প...