১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯-
এই দিনে
পাহাড়ের আকাশে উঠেছিল এক নতুন সূর্য,
তুমি এসেছিলে-
পৃথিবী হেসেছিল,
আর পাহাড়ের বহুদিনের কান্না
পেয়েছিল একটি কণ্ঠ।
তোমার জন্মদিনে
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়
নেচেছিল জুমের সবুজে,
বাতাসে উঠেছিল রেং (বিজয়ের ধ্বনি);
নির্যাতিত, নিপীড়িত জুম্ম মানুষের চোখে
জ্বলে উঠেছিল
একটি নতুন ভোরের স্বপ্ন।
তুমি এসেছিলে
শুধু একটি জীবনের জন্য নয়-
এসেছিলে ইতিহাসের অন্ধকারে
একটি প্রদীপ হাতে।
নতুন বাংলাদেশের
সংসদে
তুমি উচ্চারণ করেছিলে
বৈষম্যের বিরুদ্ধে পাহাড়ের ভাষা;
বলেছিলে—
এই লাল-সবুজের দেশ
শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের নয়,
এ দেশ সকল মানুষের,
সকল জাতির,
সকল স্বপ্নের।
তুমি চেয়েছিলে
সংবিধানের পাতায়
জুম্ম মানুষের নামটিও
সমান মর্যাদায় লেখা থাকুক।
কিন্তু
ক্ষমতার কানে পৌঁছায়নি
পাহাড়ের সেই আর্তনাদ।
মাটি সরে গেল
পায়ের নিচ থেকে,
জাগা-জমি হারালো আপন ঠিকানা,
পাহাড়ের বুকজুড়ে
নেমে এলো উচ্ছেদের দীর্ঘ ছায়া।
তখন তুমি
নীরব পাহাড়কে বলেছিলে-
বাঁচতে হলে
জাগতে হবে,
জাগতে হলে সংগ্রাম করতে হবে।
তোমার হাতে
উঠেছিল অস্ত্র,
কিন্তু তারও আগে
তুমি মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিলে
ভাষা ও কলম।
সেই কলম আজও থামেনি।
দূর বিদেশের
মাটিতে
লাল-সবুজের পতাকা হাতে
ঋতুপূর্ণা, মনিকা, রূপনা সুরাকৃষ্ণরা
বয়ে নিয়ে যায় পাহাড়ের স্বপ্ন;
তুফান, জয়তুরারা
রং ও রেখায় লিখে চলে
অধিকারের অমোচনীয় অক্ষর।
জাতিসংঘের প্রাঙ্গণে
আজ নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে
তোমারই প্রতিধ্বনি—
শোনো পাহাড়ের
কথা,
শোনো মানুষের কথা,
শোনো অধিকারহারা ইতিহাস।
আগস্টিনা চাঙমার
কণ্ঠে
আজও জেগে ওঠে
পার্বত্য চট্টগ্রামের
নির্যাতন ও গণহত্যার স্মৃতি।
তবু
আমাদের স্বপ্ন প্রতিহিংসার নয়—
আমরা চাই শান্তির সকাল,
চাই ন্যায়ের আলো,
চাই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন।
মানবেন্দ্র
নারায়ণ লারমা-
আজ তোমার জন্মদিন।
তুমি নেই,
তবু পাহাড়ের বাতাসে
তোমার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি আছে;
জুমের মাটিতে
তোমার পদচিহ্ন আছে;
তরুণের চোখে
তোমার অসমাপ্ত স্বপ্ন আছে।
তাই আজ
ফুল দিয়ে শুধু তোমাকে স্মরণ নয়—
আমরা স্মরণ করি
তোমার স্বপ্নকে।
একটি বাংলাদেশ—
যেখানে কোনো জাতি পরবাসী নয়,
কোনো মানুষ অধিকারহীন নয়,
আর পাহাড়ের মানুষ
নিজের মাটিতে, নিজের ভাষায়,
নিজের পরিচয়ে
মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।
এই হোক
তোমার জন্মদিনে
আমাদের সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধাঞ্জলি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন