পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন: চুক্তির বদলে নতুন কমিটি, নাকি সমাধানের নতুন পথ?
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংকটের ইতিহাস দীর্ঘ। সংঘাত, অবিশ্বাস, ভূমি ও অধিকার প্রশ্ন, প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সব মিলিয়ে পাহাড়ের সংকট বহুস্তরীয়। এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসান এবং রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের অধিকার ও স্বশাসনের প্রশ্নকে স্বীকৃতি দেওয়া।
কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বরং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের নতুন তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পর সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। ১০ সেপ্টেম্বর সরকার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’ ও ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠন করে। এরপর থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন এসব কমিটির গঠন, প্রতিনিধিত্ব ও কার্যপরিধি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।
প্রশ্ন তাই স্বাভাবিকভাবেই উঠছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান কাঠামোকে কার্যকর করার বদলে নতুন নতুন কমিটি গঠন কি সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি করবে, নাকি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নটিকেই আরও জটিল করে তুলবে?
১৯৯৭ সালের চুক্তি ছিল দীর্ঘ সংঘাতের পর একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত নিরসন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান এবং স্থায়ী অধিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে চুক্তির কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোন কোন ধারা এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এই বাস্তবতায় চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াগুলোকে কতটা কার্যকর করা হয়েছে, তার চেয়ে নতুন কমিটি গঠনই যদি প্রধান উদ্যোগ হয়ে ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য নতুন কোনো কাঠামো প্রয়োজন, নাকি বিদ্যমান চুক্তিভিত্তিক কাঠামোকেই কার্যকর ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন?
সরকারের গঠিত তিন কমিটির কাঠামো দেখলে বোঝা যায়, এগুলোর মধ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৯ সদস্যের জাতীয় কমিটিতে অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ভূমি, আইন, বিচার ও সংসদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা রয়েছেন। তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সভাপতি করে গঠিত ১৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, এনএসআই, ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারসহ সামরিক, গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রয়েছেন। এই কমিটির দায়িত্বের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন, সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রচলিত আইন ও চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, নয় সদস্যের পরামর্শক কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রাখা হয়েছে। এই কমিটিকে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে নির্বাহী কমিটির কাছে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। কিন্তু এখানেই পাহাড়ের নাগরিক সমাজের মূল প্রশ্ন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে পাহাড়ের জনগণ ও চুক্তির সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কতটা নিশ্চিত হয়েছে?
২৭ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে পাহাড়ের বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরকারের নতুন উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানান। খাগড়াছড়িতেও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিরী প্রাধান করা হয়। রাঙ্গামাটি বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন হলেও যথাযথ প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাঁরা সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান।
সমাবেশের বক্তব্যগুলোর মধ্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, পাহাড়ের সমস্যার সমাধান যদি রাজনৈতিক হয়, তাহলে সমাধানের প্রক্রিয়াটিও রাজনৈতিক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া প্রয়োজন।
অর্থাৎ, প্রশ্নটি কেবল কে কমিটিতে আছেন তা নয়; বরং পাহাড়ের মানুষের রাজনৈতিক মতামত, চুক্তির পক্ষসমূহের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কীভাবে প্রতিফলিত হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সরকারের তিন কমিটি গঠনকে চুক্তি পরিপন্থী ও একতরফা বলে অভিহিত করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির মৌলিক বিধানকে পাশ কাটিয়ে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেও তারা উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছে।
জেএসএস আরও বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের পরিবর্তে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। তারা তিন কমিটি বাতিল, চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সময়সূচিভিত্তিক রোডম্যাপের মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
এটি অবশ্য জেএসএসের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান। তবে তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের রাজনৈতিক সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে এসেছে, সমস্যাটিকে মূলত রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখা হবে, নাকি আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যেই প্রধানত বিবেচনা করা হবে?
সরকারের তিন কমিটি নিয়ে দেশের ৫২ জন বিশিষ্ট নাগরিকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, একতরফা পদক্ষেপ পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। কমিটিগুলোর সচিবালয়-সংক্রান্ত সুবিধা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অর্পণের বিষয়টিও তাঁরা প্রশ্নের মুখে তুলেছেন।
এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৭ সালের চুক্তি স্বাক্ষরের বহু বছর পরও এর মৌলিক ধারাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে পাহাড়ের জনগণের মতামত ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিবেচনা, নতুন তিন কমিটির কার্যক্রম বাতিল বা পুনর্বিন্যাস, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বৈধ প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রয়োজনীয় কমিটি পুনর্গঠন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধিদল রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি প্রদান করে।
সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন কমিটিগুলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সমন্বিত নীতি ও কর্মকৌশল প্রণয়নের একটি কাঠামো হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলোতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
কিন্তু পাহাড়ের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটকে কেবল প্রশাসনিক সমন্বয়ের সমস্যা হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক চরিত্র যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে না। এখানেই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি চুক্তি যদি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাতের অবসানের ভিত্তি হয়, তাহলে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আস্থা ও অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কমিটি গঠন করা যেতে পারে; কিন্তু সেই কমিটি যদি চুক্তি বাস্তবায়নের বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত না হয় কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করতে না পারে, তাহলে কমিটির সংখ্যা বাড়লেও সমস্যার সমাধান নিশ্চিত হয় না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর একটি হতে পারে একটি সময়সূচিভিত্তিক রোডম্যাপ। কোন ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, কোন ধারা বাকি রয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠান কোন দায়িত্ব পালন করবে এবং কত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে, এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশেও চুক্তি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
একটি কার্যকর রোডম্যাপ থাকলে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিমাপের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যেও সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা। ১৯৯৭ সালের চুক্তিই তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তাই আজকের প্রশ্নও হতে পারে, নতুন কমিটি কতটি হলো, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে কতটা আলোচনা হচ্ছে?
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্বার্থ যেমন বিবেচনায় রাখতে হবে, তেমনি পাহাড়ের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, চুক্তির অঙ্গীকার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর
মতামতকেও আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে হবে। কারণ আস্থা কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনে তৈরি হয় না। আস্থা তৈরি হয় আলোচনায়, অংশগ্রহণে এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নটি আজও পাহাড়ের রাজনীতি ও জনজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন তিন কমিটি গঠন সেই প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সরকারের কমিটিগুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন এর প্রতিনিধিত্ব ও কার্যপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এই মতপার্থক্যকে উপেক্ষা না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে না। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক আস্থা, কার্যকর সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ১৯৯৭ সালের চুক্তি বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট ও সময়সূচিভিত্তিক প্রক্রিয়া।
তাই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো, নতুন কমিটি গঠনই কি সমাধানের পথ, নাকি চুক্তির অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন আরও কার্যকর সংলাপ ও একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সরকারের হাতে নয়; পাহাড়ের জনগণ, চুক্তির সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং রাষ্ট্র, সবার পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন