সাজেকের রাজনীতি: জনগণের মুক্তি, নাকি দলীয় আধিপত্য? - ইনজেব চাঙমা

পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফের রাজনীতি দেখে আমি লজ্জিত ও হতাশ। যে রাজনীতি জুম্ম জনগণের অধিকার ও মুক্তির স্বপ্ন দেখায়, সেই রাজনীতিই যদি মানুষকে বিভক্ত করে, প্রতিপক্ষকে বিতাড়িত করতে চায় এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে সেই রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

আজ ১১ অক্টোবর সাজেকে সড়ক অবরোধ (সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু), মিছিল কিংবা সমাবেশে অংশগ্রহণ না করলে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে, এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা উদ্বেগজনক। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণকেই যদি জরিমানার ভয় দেখানো হয়, তবে সেই আন্দোলনে মানুষের স্বাধীনতার মূল্য কোথায়?

অবরোধের উদ্দেশ্য যদি জেএসএসকে সাজেক থেকে বিতাড়িত করা হয়, তবে প্রশ্ন জাগে, এক দলকে সরিয়ে দিয়ে কি জুম্ম জনগণের মুক্তি আসবে? এর আগে এগত্তর পন্থীদের পক্ষ থেকেও নিজ নিজ এলাকা থেকে সংগ্রাম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দের যুগের পরও এই বিভক্ত রাজনীতি জুম্ম জনগণের ভাগ্য কতটা বদলাতে পেরেছে? বরং দলীয় বিরোধের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

আমার বিশ্বাস, জুম্ম জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে বিভক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিকে সুসংহত করতে হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, এলাকা দখল কিংবা প্রতিপক্ষকে বিতাড়িত করা নয়।

প্রিয় সাজেকবাসী, আমি জানি, আপনারা খুব একটা ভালো নেই। তাই আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, দলীয় বিরোধের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেবেন না। কোনো আন্দোলনে অংশ নেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনার নিজের। বিবেক দিয়ে বিচার করুন, এই সংগ্রাম সত্যিই জনগণের কল্যাণের জন্য, নাকি দলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য।

পাহাড়ের রাজনীতিতে জেএসএসের ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমার বিবেচনায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জেএসএসের দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও অবদান বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই অবদান নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। তবে কোনো দলের অতীতের অবদানই বর্তমানের প্রতিটি কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। সব দলেরই দায়িত্ব জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

পাহাড় কোনো দলের একার সম্পত্তি নয়; এটি পাহাড়ের মানুষের আবাসভূমি। দলকে জেতাতে গিয়ে জনগণকে হারাবেন না। প্রতিপক্ষকে বিতাড়িত করার মধ্যে নয়, নিজেদের বিভেদ দূর করে ঐক্য গড়ে তোলার মধ্যেই জুম্ম জনগণের ভবিষ্যৎ নিহিত।

পাহাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে অধিকারের জন্য, একে অপরের প্রতিপক্ষ হওয়ার জন্য নয়। এবার অন্তত জনগণের স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জ্ঞান কীর্তি চাকমা : চাঙমা চলচ্চিত্র আন্দোলনের এক নিবেদিত সংস্কৃতিসাধক - ইনজেব চাঙমা

বৃত্তবন্দী মানুষেরা- ইনজেব চাঙমা

হেমা চাকমা: পাহাড়ের মাটি থেকে তারুণ্যের সাহসী উচ্চারণ - ইনজেব চাঙমা