পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন , যাঁরা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও তাঁদের নিরলস কর্মে নির্মাণ করেছেন এক অনন্য অধ্যায়। তাঁরা বিশ্বাস করেন , সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের বিষয় নয় ; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় , আত্মমর্যাদা , ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। চাঙমা ভাষা , সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার এই দীর্ঘ সংগ্রামে যাঁরা নীরবে আজীবন কাজ করে চলেছেন , তাঁদের অন্যতম জ্ঞান কীর্তি চাকমা । তিনি একাধারে কবি , নাট্যকার , চিত্রনাট্যকার , অভিনেতা , চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক — সব পরিচয়ের সমন্বয়ে এক নিবেদিত সংস্কৃতিসাধক। জ্ঞান কীর্তি চাকমার জন্ম ( সার্টিফিকেট অনুসারে ) ২০ জানুয়ারি ১৯৮৪ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার উদাল বাগান গ্রামে। তাঁর পিতা সুপেন্দ্র চাকমা এবং মাতা তৃপ্তি বালা চাকমা। তাঁর সহধর্মিণী মধুমিতা মারমা। তাঁদের দুই কন্যা — রাশিয়া চাকমা ( দীঘিনালা সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ) এবং এশিয়া ...
সেদিন ছিল ১৭ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, এক অলস বুধবার। চারদিকের আকাশ সকাল থেকেই মেঘের ঘন চাদরে ঢাকা। মাঝে মাঝে সেই মেঘের বুক চিরে সূর্য তার তেজস্বী উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে বটে, কিন্তু তাতে আলো ছড়ানোর চেয়ে গুমোট ভ্যাপসা গরমই বাড়ছিল কেবল। প্রকৃতির এই অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মাঝেই আমি ডুবে ছিলাম প্রিয় কাজে—চাকমা সাহিত্য পত্রিকা ‘চাদি’ ও চাঙমা সংবাদ পত্র “হিলর পচ্জন”র প্রকাশনা নিয়ে টেবিলজুড়ে আমার ব্যস্ততা। বেলা ঠিক ১১:৫৬ মিনিটে হাতের মুঠোফোনটি তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান চাকমা (নলেজ)-এর নাম। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে গম্ভীর ও কিছুটা তাড়া মেশানো কণ্ঠ ভেসে এল, "জেএসএস অফিসে আসো।" সকালে স্রেফ নুন দিয়ে ভাত খাইয়ে আমার ছোট্ট মেয়ে জধা চাকমাকে সবেমাত্র ঘুম পাড়িয়েছিলাম। একটু ইতস্তত করে বললাম, "মেয়েটা ঘুমাচ্ছে তো, একটু পরে আসলে হয় না?" উত্তর এল সংক্ষিপ্ত ও অনমনীয়, "তাড়াতাড়ি আসলে ভালো হয়।" মনটা কু ডাকল। এক টা সংশয় মনের কোণে উঁকি দিল—কী এমন জরুরি দরকার, যা আমার জন্য অপেক্ষা করছে? আবার ভাবলাম, কদিন আগেই তো ...
পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু পাহাড় , অরণ্য আর নদীর ভূগোল নয় ; এটি ইতিহাস , সংস্কৃতি , ভাষা , আত্মপরিচয় এবং অধিকার - চেতনার এক দীর্ঘ অভিযাত্রার নাম। এই ভূখণ্ডের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে আছে প্রকৃতি , জুমচাষ , নিজস্ব ভাষা , বর্ণমালা , গান , নৃত্য , সাহিত্য ও ঐতিহ্য। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই আত্মপরিচয় বহন করে চলেছে জুম্ম জনগোষ্ঠী। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মের যে কজন তরুণ - তরুণী শিক্ষা , সংস্কৃতি , মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে জীবনের অনুষঙ্গ করে সামনে এগিয়ে চলেছেন , হেমা চাকমা তাঁদের অন্যতম। পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদ পানছড়ির ২ নম্বর চেঙ্গী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবন জগৎ মোহন পাড়ার মাটিতে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালে হেমা চাকমার জন্ম। তাঁর শৈশবের প্রথম পাঠশালা বনশ্রী শিশু নিকেতন। তাঁর পিতা অনিল চন্দ্র চাকমা (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)। মা, মিনতি চাকমা। বড় ভাই অমর প্রিয় চাকমা। হেমার শৈশব কেটেছে পাহাড়ের প্রকৃতি , মানুষের জীবন এবং সমাজের বাস্তবতার খুব কাছাকাছি। ...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন