পোস্টগুলি

চাকমাজাতির আদিনিবাস সন্ধানে-১ - By Pulak Khisa

ছবি
আমরা চাকমারা বিশ্বাস করি আমাদের পূর্বপুরুষরা এসেছে চম্পক নগর থেকে। আমাদের এই ধারণাটা চলে আসছে বংশ পরম্পরায় – বাপ-দাদা, পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে শুনে, আমাদের ‘গেংখুলি গীত’ নামক লোকগীতি বা পালাগানের মাধ্যমে। কিন্তু ঝামেলা হলো আমরা জানিনা কোথায় এই চম্পক নগর। চাকমা জাতির ইতিহাস লিখতে গিয়ে চাকমাদের এই আদি বাসস্থান চম্পক নগরের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে কিন্তু চম্পক নগরের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এই লেখাতে আমারও ক্ষুদ্র প্রয়াস থাকবে চাকমাদের চম্পক নগরের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য। তবে চম্পক নগরের অবস্থান নির্ণয়ের আগে সম্ভবতঃ বিগত কয়েক শতাব্দীর প্রমাণযোগ্য ইতিহাস নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, যা থেকে আমরা কিছুটা ইঙ্গিত পাবো যে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসার আগে, বা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও চাকমারা কোথায় বসবাস করতো। এর অংশ হিসেবে আমরা এখানে রামু জনপদে চাকমাদের অবস্থানের উপর আলোকপাত করবো। রামু জনপদে চাকমারা চাকমারা বর্তমানে মূলত চট্টগ্রামের উত্তর-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে বসবাস করছে। তবে তারা চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিশেষতঃ রামু জন...

চাকমাজাতির আদিনিবাস সন্ধানে-৩ -- By Pulak Khisa

ছবি
এই পর্বে আমরা ভারতের ত্রিপুরায় চাকমাদের সম্ভাব্য চম্পকনগরের অবস্থান জানার চেষ্টা করবো যেখান থেকে চাকমাদের আদিরাজা বিজয়গিরি ও সেনাপতি রাধামন চট্টগ্রাম-রামু অঞ্চলের উদ্দেশ্যে বিজয় অভিযানে যাত্রা করেন। চাকমারকূলে চাকমা নেই, চাকমাঘাটে চাকমা নেই -------------------------------------------------------- আগের পর্বে আমরা দেখেছি সপ্তম শতাব্দী থেকে চট্টগ্রাম রামু এলাকায় হরিকেল রাজ্য ছিল যার রাজধানী ছিল চম্পক নগর। নবম শতাব্দীতে বিরচিত ‘কর্পূর-মঞ্জুরী’ নাটকে হরিকেলের রাজধানী হিসেবে এই নাম দেখা যায়। একমাত্র চাকমারা ছাড়া এতদঅঞ্চলের অন্য কোন জাতির এই নাম ব্যবহার করার কথা নয়। কাজেই সপ্তম শতাব্দী থেকে চাকমারা এই অঞ্চলে ছিল বলে ধারণা করা যায়। এখন আমরা দেখি চাকমাদের ইতিহাস মতে এতদঅঞ্চলে বিজয়গিরির অভিযান কখন পরিচালিত হয়েছিল। ‘চাকমা জাতির ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের দ্বিতীয় পরিচ্ছদের বর্ণনা মতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল আনুমানিক ৫৯০ খৃষ্টাব্দে (পর্ব -৩, সংযুক্তি–১)। ষষ্ঠ শতাব্দীর একদম শেষের দিকে বিজয়গিরির চট্টগ্রাম, রামু অঞ্চলে অভিযান ও বিজয় এবং ইতিহাসের বর্ণনামতে তাদের এতদঅঞ্চলে বসতি স্থাপনের সাথে ...

চাকমাজাতির আদিনিবাস সন্ধানে-২ -- By Pulak Khisa

ছবি
আদিবাসী বন্ধুদের সবাইকে আদিবাসী দিবসের শুভেচ্ছা। এবারের পোস্ট থেকে আমরা যা জানবোঃ ১) প্রাচীন ভারত বা বর্তমান বাংলাদেশের পূর্বাংশে আরাকান সংলগ্ন বর্তমান চট্টগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামে এক প্রখ্যাত ও সম্মৃদ্ধশালী রাজ্য বা জনপদ ছিল। ২) এই হরিকেলের রাজধানী ছিল চম্পানগরী বা চম্পকনগর যা সম্ভবত চাকমাদের আদিবাসস্থানের একটি। ৩) হরিকেলের রাজারা সম্ভবতঃ একসময় চাকমাদের আদিরাজা বিজয়গিরির অনুরূপ ‘গিরি’ উপাধি ধারণ করতেন এবং এই উপাধিতে রৌপ্য মুদ্রাও প্রবর্তন করেছিলেন। আগের পর্বে আমরা জেনেছি একসময় চাকমাদের বসবাস ছিল প্রায় ২০০০ বছর প্রাচীন ঐতিহাসিকভাবে সম্মৃদ্ধ রামু জনপদে। তবে চাকমারা এই রামু জনপদে কখন থেকে বসবাস করে এসেছে সে সম্বন্ধে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না। আমাদের সিংহভাগ ইতিহাসবিদ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যে চাকমারা এসেছে আরাকান-রামু হয়ে বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামে। কিন্তু এই ইতিহাসবিদরা এটা বিশ্লেষণের চেষ্টা করেননি যে এককালে রামু-চট্টগ্রাম এসব অঞ্চল আরাকানেরই শাসনাধীন ছিল এবং চাকমারা বর্তমান আরাকানে বসবাস না করলেও তারা এককালে আরাকান অধীনস্ত রামু-চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছে...

এচ্যে চাঙমা রাজার চিগোন রানির সুনানু ইয়েন ইয়েন সিঝি জনমপুর: চাঙমা সাহিত্য বাহ্ তপ্পেত্তুন কোচপানা

ছবি
  এচ্যে ২১ আগস্ট ২০২০ ইংরেজি, ভাদমাজ ৫, ১৪২৭ বাংলা শুক্করবার চাঙমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়র চিগোন রানির (মক্কো) সিজি জনমপুর। এক্কো পুঅ কুমর ত্রিভূন আর্য্য দেব রায় আ এক্কো ঝি রাজ কুমরী আয়েত্রী আরাধনা রায় ফেলে যেই চাঙমা রাজার পল্লে রাণী তাতু রায় ১৯৯৮ সালত মরি যায়। দাঙর রাণি মরি যানার পর গেল্লে ৫ জুলাই ২০১৪ ইং দাঙর রাখাইন মিলে ইয়েন ইয়েন লগে চাঙমা সার্কেল কর্তা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়’ সমারে জধন অহ্’য়।  অস্ট্রেলিয়ার এডিলেইড বিশ্ববিদ্যালয়ত পর্বোয়া বান্দরবানর ঝি ইয়েন ইয়েনর লগে চিনপচ্যে অহ্’লে ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ইং দ্বি’জনে আহ্নদিক পিনে দি-দি গরন। এচ্যে চাঙমা রাজার, চাঙমাউন চিগোন রাণী ইয়েন ইয়েন জনমপুরত চাঙমা সাহিত্য বাহ্ তপ্পেত্তুন চাঙমা সাহিত্য বাহ্ গরা কমিতি জধানানু আ দাঙর কাবিদ্যাঙ সাইন গচ্ছে পেডত অতালিয়ে কোচপানা জানানার সমারে তার নিরোক আ ঈয়োত লাম্বা বর মাগি দিলাক। ইয়ান চাঙমা সাহিত্য বাহ্’ কামর পত্তম কাররে ফেসবুক টাইম লাইত অফিসিয়ালি পেডত কোচপানা জানানা। যনি মিঙিনি চাগালাত চাঙমা সাহিত্যিক সুনানু মুকুন্দ জনমপুর আ আনন্দমোহন চাঙমা জনমপুর পালে এত্তন।     

স্মৃতির অন্তরালে ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান এবং তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি - Dhiman Khisa

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সম্প্রদায় হতে নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনে যারা অগ্রগামী ছিলেন ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। পার্বত্যচুক্তি সম্পাদনের পূর্বে দীর্ঘ অনেক বছর যাবত তিনি পার্বত্য চট্টগাম জনসংহতি সমিতির অান্তর্জাতিক মূখপাত্র ছিলেন। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডে গেলে তিনি অার দেশে ফিরেননি। দীর্ঘ অনেক বছর যাবত বিদেশে অবস্থানের কারনে এখানকার সাধারন জনগণ তাঁর সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিফহাল নন। পাহাড়িদের স্বায়ত্বশাসন অান্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদান থাকলেও সে সম্পর্কে খুব কম জনেই অবগত অাছেন। তরুন প্রজন্মের কাছে তিনি অজানাই রয়ে গেছেন। তাই কালের পরিক্রমায় তিনি মেঘে ঢাকা তারার ন্যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে অন্তরীণ হয়েছেন। এ মহান ব্যক্তির বীরত্বগাঁথা তুলে ধরার প্রয়াসে অামার এ ক্ষুদ্র লেখার অবতারনা। তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জিঃ ড. অার এস দেওয়ান ১৯৩২ সালে বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলাধীন খবংপড়িয়া(খবংপুজ্যা) গ্রামে লার্মা গোজা পীড়েভাঙা গুত্তি(চাকমাদের গোত্র)র এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রমেশ চন্দ্র দেওয়ান ও ...

দেশবিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম

ছবি
শুরুর কথা,১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে “ভারত স্বাধীনতা আইন- ১৯৪৭“ পাশ হয়। এই আইন পাশ ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান নিশ্চিত করে ।এক মাস পরে ভারত দুভাগ হয়ে যায় ।দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে ।ভারতের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী   এবং গুরুত্বপূর্ণ দুটো   প্রদেশ – বাংলা ও পাঞ্জাবকে পূর্ব-পশ্চিম অংশে ভাগ করা হয় ।ব্রিটিশ সরকার স্বীকৃত স্বশাসিত রাজ্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্পূর্ণ   অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে পাকিস্তানে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।দেশবিভাগের ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায় এবং ১.২ কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়।   দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণাঃ এই তত্ত্বের প্রবর্তক মুহম্মদ আলী জিন্নাহ । এই তত্ত্ব অনুসারে পাকিস্তান রাষ্ট্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গঠিত হয়।এবং ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র থেকে যায়।প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ-বেলুচিস্তান(৯১.৮%),সিন্ধুর (৭২.৭%)   মুসলিম জনসংখ্যা পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে। এছাড়া বাংলা প্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ব অংশ এবং পাঞ্জাবের মুসলিম অধ্যুষিত উত্তর-পশ্...