পোস্টগুলি

দিনাজপুরের বাক প্রতিবন্ধী এক আদিবাসী সান্তাল কিশোরীকে ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেফতার

ছবি
২০২০,দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা পল্লীতে বাকপ্রতিবন্ধী এক আদিবাসী সান্তাল কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩১ আগস্ট ২০২০, সোমবার বিকাল ৩:৩০ টায় দিকে উপজেলার পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর মা বাক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা রেখে বড় মেয়ের চিকিৎসার জন্য পাশ্ববর্তী ফুলবাড়ি উপজেলায় যায়। বিকেল সাড়ে তি নটার দিকে বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে একা পেয়ে পাশ্ববর্তী পরিত্যাক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে শামিম হোসেন নামের এক যুবক। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। এদিকে ন্যায় বিচার চেয়ে কিশোরীর মা বাদী হয়ে ওই যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শামিম হোসেনকে আটক করে। আটক শামিম হোসেন উপজেলার পুলবান্ধা গ্রামের শমভু হোসেনের ছেলে। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার চৌহান বলেন, বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত যুবককে অভিযান চালিয়ে...

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সংগ্রাম ও গৌরবের ২৭ বছর

ছবি
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আজ ৩১ আগষ্ট ২০২০ তারিখ সকাল ১১.০০ টায় বর্তমানে আদিবাসীদের জীবনের সংকট এবং তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাজশাহীর মহানগরীর আলুপট্টির মুক্তযুদ্ধ পাঠাগারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে আদিবাসীদের জীবনের সংকট এবং তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি উপর মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় সদস্য রাজকুমার শাও, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান, সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলিপ পাহান। সম্মেলনে মুল প্রবন্ধের বক্তব্যে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, বর্তমানে আদিবাসীদের জীবন সংকটাপুর্ন হয়ে পড়েছে এবং তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে চরম অবনতি ঘটছে। আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা দিনদিন প্রকট আকার ধারণ করেছে। এক শ্রেণীর ভূমিদস্যু ও ...

পার্বত্য চট্টগ্রাম সেটলার ধর্ষকদের অভয়রণ্য হওয়ায়.... মহালছড়িতে বাঙালি সেটেলার কর্তৃক এক মারমা কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, দশ হাজারে মিটমাট!!!

ছবি
গত ৩১ আগস্ট ২০২০ ইং সোমবার খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে চার বাঙালি সেটেলার যুবক কর্তৃক রাতভর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এক মারমা কিশোরী (১৪) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর স্থানীয় আওয়ামীলীগের এক ইউনিয়ন সভাপতির নেতৃত্বে ও মধ্যস্থতায় আয়োজিত এক সালিশে ভিকটিমের পরিবারকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে জঘন্য ঘটনাটি মিটমাট করা হয় বলে জানা যায়। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে কোথাও কাউকে না জানাতে এবং মামলা না করতে সালিশে নেতৃত্বদানকারীদের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়। ফলে ঘটনাটি প্রায় ধামাচাপা পড়ে যায়। জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি মহালছড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। তার নিজের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মাইসছড়ি গ্রামে। বর্তমানে পড়ালেখার কারণে মারমা অধ্যুষিত থলিপাড়া গ্রামে অবস্থান করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট ২০২০ বিকাল আনুমানিক ৫:০০ টার দিকে মহালছড়ি উপজেলার মহালছড়ি সদর ইউনিয়নের টিলাপাড়া নিবাসী আল আমিন (২৪) এর নেতৃত্বে ৪ সেটেলার যুবক মেয়েটিকে একা পেয়ে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে অনেকটা জোর করে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তারা টিলাপাড়া সংলগ্ন মহেন্দ্র যানবাহন স্টেশন...

মানবিক এজাল: হিলচাগিদাঙত শিক্কে পহ্’র আর’ বেচ দোল গরি ছিদি পরের

ছবি
এওজি, খাগাড়াছড়ি : চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা: তোমার মা-বাপ নেই, নেই তেঙা তে কি অইয়ে একঝাক মানুচ দ’ আঘন তোমা কায়। ইক্যে তমার বানা একনিমোন গরি লেঘা-পারাহ্ গরিবার অক্ত, নয় পাবজি, ফ্রী ফাইয়ার আ নানান খেলেবার। শিক্কে এক্কান নিধুকতুক/একমাত্র আহ্’ত্যার যে কন’ জিংকানি দোল গরি সাজে দে।   এচ্যে গদা সংসারত এক্কান দরগরে পা বিধি দংগা পিরেহ্ কোভিড- ১৯ লাই মানুজোর আয় ইনকাম নেই। সিত্যাই একঝাক নুঅ ফুদন্দি ফুল ফাগোন মিলি ন’ পাত্তন। সিয়ান বাদেয়্য হিলত “পার্বত্য চুক্তি” বাস্তবায়ন ন’ অনার দাঙর এক্কো শ্রেণী দিককাভুল অই দিনমাধান গঙে দেদন। আঝা-সবন নেই অলে সুয়াই। এধক্যে খেনত   প্রিয়দর্শী _ শিক্ষা _ কল্যাণ _ তহবিল , পাহাড়ী _ উদ্দোক্তা _ হাট আ মানবিক কল্যাণ সংঘ   এ তিন্নো জধা উজে এলাক। গেল্লে ২৮ আগস্ট ২০২০ ইং শুক্করবার বেন্যা মাধান ১০ টা গরি ৫নং পেরাছড়া ইউনিয়ন হল রুমত এক্কো তেম্মাং খলাত জুগল গরি ২৮ জন গরিব, মা-বাপ নেই, মেধাবি পর্বোয়ারে এ তিন্নো জধা তারা আহ্’দত তেঙা তুলি দিল। তেম্মাং খলাবোত সুনানু প্রিয়দর্শী চাঙমা   খলানানুয়্যা নকবাচ্যা গরবা ইজেবে সরিত অইয়ে,   খাগাড়াছড়ি সরকারি কল...

“তুমি বানা কন’ এক্কো বন্দা/ব্যক্তি নয় আ বানা এক্কান আদাম-চাগালার এওজি/প্রতিনিধি নয়, নয় তুমি গোদা হিলচাদিগাঙর এওজি/প্রতিনিধি, তুমি লক্ক, লক্ক/লাখো, লাখো পর্বোয়ার/শিক্ষার্থীর অঝা-সবনর এওজি”

ছবি
এওজি দিঘীনালা: “চাঙমা সাহিত্য বাহ্ ফাউন্ডেশন শিবচরণ শিক্ষা বৃত্তি- ২০২১:  চাঙমা সাহিত্য বাহ্ এক্কো অরাজনৈতিক, অলাভজনক, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ভালেদি স্বেচ্ছাসেবী জধা। যা ২০০০ সালত ১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসত থিদ অয়্যা। থিদ’ অনার সমারে সমারে তারা দেচ-জাত সাহিত্য আ সংস্কৃতি ভালেদি বহুত কাম গরি এচ্চোন আ গরদন। ১.    ১০০০ চাঙমা লেঘার কীবোর্ড বানানা অইয়ে। ২.    ৭৮৮৩ জন মানজোরে চাঙমা লেঘা শেঘানা অইয়ে (২০০৪-২০১৯)। ১.    চাঙমা সাহিত্য পত্রিকা ১৯ সংখ্যা সং, জুম- ২ সংখ্যা, হিল চাদিগাং- ২ সংখ্যা, মেদিনী, বিজক নাঙে সাহিত্য ম্যাগাজিন ছাবা অইয়ে আ ৩০০আন চাঙমা লেঘা চার্ট বানা অইয়ে। ২.    দাঘকধা ১৪০০, ছড়া ৭০ বো, বানা ৫০ আন, পালা ২ বে থুবানা অইয়ে। ৩.    আর কিজু মানজো ইদু----আমা সবনান পার গত্তে দেনা। ইক্কে কিজু মানুচ আমা সান চাঙমা লেঘার উজন্দি সবন দেঘন। ৪.    চাঙমা লেঘার নীতি নির্ধারন গত্তে আর সরকারর নানান কামত যেমন: ল্যাংগুয়েজ ব্রিজিং) অবদান রাঘানা। ৫.    পিএইচডি ক্যান্ডিডেটরে পিএইচডি গবেষ...

পানছড়িতে বিজিবি কর্তৃক অস্থায়ী বাজারের দোকানপাট ভাংচুর

ছবি
  ২৬ আগস্ট ২০২০, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ২নং চেঙ্গী ইউনিয়নের তারাবন গীর্জা এলাকায় একটি অস্থায়ী বাজারের দোকানপাট ভাংচুর করেছে বিজিবি সদস্যরা। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এলাকাবাসী অস্থায়ীভাবে এ বাজারটি স্থাপন করেছে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা বাজারে আসা লোকজনকে তাড়িয়ে দেয় এবং সেখানে বাজার বসানো যাবে না হুমকি প্রদান করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ ২৬ আগস্ট ২০২০ বুধবার সকাল ৮ টার সময় বিজিবি পানছড়ি জোনের লে. কর্নেল মোঃ রুবায়েস আলম-এর নেতৃত্বে একদল বিজিবি সদস্য উক্ত অস্থায়ী বাজারে হানা দেয় এবং ১৫-২০টি দোকান ভাংচুর করে। পানছড়ি বাজার ও লোগাং বাজার ব্যতীত অন্য কোথাও কোন বাজার বসানো যাবে না বলে বিজিবি সদস্যরা হুমকি প্রদান করে। তারা লাঠিসোটা হাতে মারমুখি হয়ে বাজারে আসা লোকজনকে তাড়িয়ে দেয় এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ফলে বাজারে আসা লোকজন যার যার বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিজিবি’র এমন অমানবিক আচারণে এলাকার জনগণ অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

লংগদুতে সেটেলার কর্তৃক প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জমির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি
হিল ভয়েস, ২৬ আগস্ট ২০২০, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেল ার লংগদুর বগাচতর এলাকায় দুই ভূমিদস্যু মুসলিম সেটেলার উপজেলা ভূমি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উল্টো জমির মালিক দুই জুম্মর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এর পরপরই উপজেলা প্রশাসন উক্ত দুই ভূমিদস্যু মোঃ আবদুল্লাহ ও মোঃ আল আমিনকে গ্রেফতার করে এবং নবীনচান চাকমার মালিকানাধী জায়গার উপর অবৈধভাবে তাদের নির্মিত বাড়িটি অপসারণ করে দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন মোঃ আবদুল্লাহ ও মোঃ আল আমিনের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্তেও সম্প্রতি রাঙ্গীপাড়ার মুসলিম সেটেলার মজনু সরকারের দুই ছেলে মো: আবদুল্লাহ ও মো: আল আমিন নবীনচান চাকমার জায়গার উপর অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ করে। নবীনচান চাকমার পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হলে, প্রশাসন অবৈধভাবে নির্মিত বাড়িটি ২০ আগস্ট ২০২০ তারিখের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু সেটেলার বাঙালিরা বাড়িটি অপসারণ না করে তারা উল্টো জায়গার মালিক নবীন চান চাকমা ও তার উত্তরাধিকারী দেবেন্দ্র চাকমার নামে রাঙ্...

চাকমাজাতির আদিনিবাস সন্ধানে-১ - By Pulak Khisa

ছবি
আমরা চাকমারা বিশ্বাস করি আমাদের পূর্বপুরুষরা এসেছে চম্পক নগর থেকে। আমাদের এই ধারণাটা চলে আসছে বংশ পরম্পরায় – বাপ-দাদা, পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে শুনে, আমাদের ‘গেংখুলি গীত’ নামক লোকগীতি বা পালাগানের মাধ্যমে। কিন্তু ঝামেলা হলো আমরা জানিনা কোথায় এই চম্পক নগর। চাকমা জাতির ইতিহাস লিখতে গিয়ে চাকমাদের এই আদি বাসস্থান চম্পক নগরের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে কিন্তু চম্পক নগরের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এই লেখাতে আমারও ক্ষুদ্র প্রয়াস থাকবে চাকমাদের চম্পক নগরের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য। তবে চম্পক নগরের অবস্থান নির্ণয়ের আগে সম্ভবতঃ বিগত কয়েক শতাব্দীর প্রমাণযোগ্য ইতিহাস নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, যা থেকে আমরা কিছুটা ইঙ্গিত পাবো যে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসার আগে, বা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও চাকমারা কোথায় বসবাস করতো। এর অংশ হিসেবে আমরা এখানে রামু জনপদে চাকমাদের অবস্থানের উপর আলোকপাত করবো। রামু জনপদে চাকমারা চাকমারা বর্তমানে মূলত চট্টগ্রামের উত্তর-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে বসবাস করছে। তবে তারা চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিশেষতঃ রামু জন...

চাকমাজাতির আদিনিবাস সন্ধানে-৩ -- By Pulak Khisa

ছবি
এই পর্বে আমরা ভারতের ত্রিপুরায় চাকমাদের সম্ভাব্য চম্পকনগরের অবস্থান জানার চেষ্টা করবো যেখান থেকে চাকমাদের আদিরাজা বিজয়গিরি ও সেনাপতি রাধামন চট্টগ্রাম-রামু অঞ্চলের উদ্দেশ্যে বিজয় অভিযানে যাত্রা করেন। চাকমারকূলে চাকমা নেই, চাকমাঘাটে চাকমা নেই -------------------------------------------------------- আগের পর্বে আমরা দেখেছি সপ্তম শতাব্দী থেকে চট্টগ্রাম রামু এলাকায় হরিকেল রাজ্য ছিল যার রাজধানী ছিল চম্পক নগর। নবম শতাব্দীতে বিরচিত ‘কর্পূর-মঞ্জুরী’ নাটকে হরিকেলের রাজধানী হিসেবে এই নাম দেখা যায়। একমাত্র চাকমারা ছাড়া এতদঅঞ্চলের অন্য কোন জাতির এই নাম ব্যবহার করার কথা নয়। কাজেই সপ্তম শতাব্দী থেকে চাকমারা এই অঞ্চলে ছিল বলে ধারণা করা যায়। এখন আমরা দেখি চাকমাদের ইতিহাস মতে এতদঅঞ্চলে বিজয়গিরির অভিযান কখন পরিচালিত হয়েছিল। ‘চাকমা জাতির ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের দ্বিতীয় পরিচ্ছদের বর্ণনা মতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল আনুমানিক ৫৯০ খৃষ্টাব্দে (পর্ব -৩, সংযুক্তি–১)। ষষ্ঠ শতাব্দীর একদম শেষের দিকে বিজয়গিরির চট্টগ্রাম, রামু অঞ্চলে অভিযান ও বিজয় এবং ইতিহাসের বর্ণনামতে তাদের এতদঅঞ্চলে বসতি স্থাপনের সাথে ...

চাকমাজাতির আদিনিবাস সন্ধানে-২ -- By Pulak Khisa

ছবি
আদিবাসী বন্ধুদের সবাইকে আদিবাসী দিবসের শুভেচ্ছা। এবারের পোস্ট থেকে আমরা যা জানবোঃ ১) প্রাচীন ভারত বা বর্তমান বাংলাদেশের পূর্বাংশে আরাকান সংলগ্ন বর্তমান চট্টগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামে এক প্রখ্যাত ও সম্মৃদ্ধশালী রাজ্য বা জনপদ ছিল। ২) এই হরিকেলের রাজধানী ছিল চম্পানগরী বা চম্পকনগর যা সম্ভবত চাকমাদের আদিবাসস্থানের একটি। ৩) হরিকেলের রাজারা সম্ভবতঃ একসময় চাকমাদের আদিরাজা বিজয়গিরির অনুরূপ ‘গিরি’ উপাধি ধারণ করতেন এবং এই উপাধিতে রৌপ্য মুদ্রাও প্রবর্তন করেছিলেন। আগের পর্বে আমরা জেনেছি একসময় চাকমাদের বসবাস ছিল প্রায় ২০০০ বছর প্রাচীন ঐতিহাসিকভাবে সম্মৃদ্ধ রামু জনপদে। তবে চাকমারা এই রামু জনপদে কখন থেকে বসবাস করে এসেছে সে সম্বন্ধে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না। আমাদের সিংহভাগ ইতিহাসবিদ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যে চাকমারা এসেছে আরাকান-রামু হয়ে বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামে। কিন্তু এই ইতিহাসবিদরা এটা বিশ্লেষণের চেষ্টা করেননি যে এককালে রামু-চট্টগ্রাম এসব অঞ্চল আরাকানেরই শাসনাধীন ছিল এবং চাকমারা বর্তমান আরাকানে বসবাস না করলেও তারা এককালে আরাকান অধীনস্ত রামু-চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছে...

এচ্যে চাঙমা রাজার চিগোন রানির সুনানু ইয়েন ইয়েন সিঝি জনমপুর: চাঙমা সাহিত্য বাহ্ তপ্পেত্তুন কোচপানা

ছবি
  এচ্যে ২১ আগস্ট ২০২০ ইংরেজি, ভাদমাজ ৫, ১৪২৭ বাংলা শুক্করবার চাঙমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়র চিগোন রানির (মক্কো) সিজি জনমপুর। এক্কো পুঅ কুমর ত্রিভূন আর্য্য দেব রায় আ এক্কো ঝি রাজ কুমরী আয়েত্রী আরাধনা রায় ফেলে যেই চাঙমা রাজার পল্লে রাণী তাতু রায় ১৯৯৮ সালত মরি যায়। দাঙর রাণি মরি যানার পর গেল্লে ৫ জুলাই ২০১৪ ইং দাঙর রাখাইন মিলে ইয়েন ইয়েন লগে চাঙমা সার্কেল কর্তা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়’ সমারে জধন অহ্’য়।  অস্ট্রেলিয়ার এডিলেইড বিশ্ববিদ্যালয়ত পর্বোয়া বান্দরবানর ঝি ইয়েন ইয়েনর লগে চিনপচ্যে অহ্’লে ১২ ডিসেম্বর ২০১৪ ইং দ্বি’জনে আহ্নদিক পিনে দি-দি গরন। এচ্যে চাঙমা রাজার, চাঙমাউন চিগোন রাণী ইয়েন ইয়েন জনমপুরত চাঙমা সাহিত্য বাহ্ তপ্পেত্তুন চাঙমা সাহিত্য বাহ্ গরা কমিতি জধানানু আ দাঙর কাবিদ্যাঙ সাইন গচ্ছে পেডত অতালিয়ে কোচপানা জানানার সমারে তার নিরোক আ ঈয়োত লাম্বা বর মাগি দিলাক। ইয়ান চাঙমা সাহিত্য বাহ্’ কামর পত্তম কাররে ফেসবুক টাইম লাইত অফিসিয়ালি পেডত কোচপানা জানানা। যনি মিঙিনি চাগালাত চাঙমা সাহিত্যিক সুনানু মুকুন্দ জনমপুর আ আনন্দমোহন চাঙমা জনমপুর পালে এত্তন।     

স্মৃতির অন্তরালে ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান এবং তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি - Dhiman Khisa

ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সম্প্রদায় হতে নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনে যারা অগ্রগামী ছিলেন ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান ছিলেন তাঁদের মধ্যে একজন। পার্বত্যচুক্তি সম্পাদনের পূর্বে দীর্ঘ অনেক বছর যাবত তিনি পার্বত্য চট্টগাম জনসংহতি সমিতির অান্তর্জাতিক মূখপাত্র ছিলেন। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডে গেলে তিনি অার দেশে ফিরেননি। দীর্ঘ অনেক বছর যাবত বিদেশে অবস্থানের কারনে এখানকার সাধারন জনগণ তাঁর সম্পর্কে খুব একটা ওয়াকিফহাল নন। পাহাড়িদের স্বায়ত্বশাসন অান্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদান থাকলেও সে সম্পর্কে খুব কম জনেই অবগত অাছেন। তরুন প্রজন্মের কাছে তিনি অজানাই রয়ে গেছেন। তাই কালের পরিক্রমায় তিনি মেঘে ঢাকা তারার ন্যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে অন্তরীণ হয়েছেন। এ মহান ব্যক্তির বীরত্বগাঁথা তুলে ধরার প্রয়াসে অামার এ ক্ষুদ্র লেখার অবতারনা। তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জিঃ ড. অার এস দেওয়ান ১৯৩২ সালে বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলাধীন খবংপড়িয়া(খবংপুজ্যা) গ্রামে লার্মা গোজা পীড়েভাঙা গুত্তি(চাকমাদের গোত্র)র এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রমেশ চন্দ্র দেওয়ান ও ...

দেশবিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম

ছবি
শুরুর কথা,১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে “ভারত স্বাধীনতা আইন- ১৯৪৭“ পাশ হয়। এই আইন পাশ ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান নিশ্চিত করে ।এক মাস পরে ভারত দুভাগ হয়ে যায় ।দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে ।ভারতের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী   এবং গুরুত্বপূর্ণ দুটো   প্রদেশ – বাংলা ও পাঞ্জাবকে পূর্ব-পশ্চিম অংশে ভাগ করা হয় ।ব্রিটিশ সরকার স্বীকৃত স্বশাসিত রাজ্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্পূর্ণ   অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে পাকিস্তানে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।দেশবিভাগের ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায় এবং ১.২ কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়।   দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণাঃ এই তত্ত্বের প্রবর্তক মুহম্মদ আলী জিন্নাহ । এই তত্ত্ব অনুসারে পাকিস্তান রাষ্ট্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গঠিত হয়।এবং ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র থেকে যায়।প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ-বেলুচিস্তান(৯১.৮%),সিন্ধুর (৭২.৭%)   মুসলিম জনসংখ্যা পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে। এছাড়া বাংলা প্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ব অংশ এবং পাঞ্জাবের মুসলিম অধ্যুষিত উত্তর-পশ্...