পোস্টগুলি

কবি নূতন ধন চাঙমা: শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজচেতনার অন্যতম এক আলোকবর্তিকা - ইনজেব চাঙমা

ছবি
"যে মানুষ এক হাতে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালান, অন্য হাতে কবিতার অক্ষরে একটি জাতির আত্মপরিচয় রচনা করেন, তাঁর জীবন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের ইতিহাস নয়; তা হয়ে ওঠে একটি জনপদের সাংস্কৃতিক জাগরণের দলিল।" পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে জন্ম নেওয়া কবি নুতন ধন চাঙমা সেইসব আলোকিত মানুষের অন্যতম, যাঁরা শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ত্রিমাত্রিক সাধনায় নিজেকে নিবেদিত করেছেন। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন সৃজনশীল কবি, দায়িত্বশীল সংবাদকর্মী এবং সমাজমনস্ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কলমে যেমন পাহাড়ের প্রকৃতি প্রাণ পায়, তেমনি উচ্চারিত হয় মানুষের জীবনসংগ্রাম, ভাষার অস্তিত্ব এবং জাতিসত্তার অম্লান চেতনা। ১৯৭৮ সালের ৩০ এপ্রিল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গল পাড়ায় তাঁর জন্ম। পিতা আনন্দ রাখাল চাঙমা এবং মাতা চন্দ্র বালা চাঙমা। পারিবারিক স্নেহ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত নির্মাণ করে। পরবর্তীকালে জীবনের সহযাত্রী হন সুপিলা চাঙমা, যিনি তাঁর সাহিত্য ও কর্মজীবনের নীরব প্রেরণার উৎস। নুতন ধন চাঙমার শিক্ষাজীবন...

অনুকরণীয় শিক্ষক সুমনা চাঙমা: পাহাড়ের কোলে আলোর দ্যুতি - ইনজেব চাঙমা

ছবি
মানুষ গড়ার কারিগর এক আলোকিত শিক্ষকের গল্প    সুমনা চাঙমা মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের মহৎ কর্ম সময়ের বুক থেকে কখনো মুছে যায় না। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ জন্ম নেয়, আবার একদিন নীরবে চলে যায়। কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক মানুষই তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও মানবিকতার মাধ্যমে মৃত্যুকেও অতিক্রম করে অমরত্ব লাভ করেন। তাঁদের জীবন ব্যক্তিগত সাফল্যের ইতিহাস নয়; সমাজের, জাতির এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনির্বাণ প্রেরণার উৎস।      একজন আদর্শ শিক্ষকও তেমনি একজন নির্মাতা। তিনি ইট-পাথরের স্থাপনা নির্মাণ করেন না; তিনি নির্মাণ করেন মানুষের বিবেক, চরিত্র, মনন ও স্বপ্ন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরাই একদিন সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।      পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়, ঝরনার সুর, জুমক্ষেতের ঘ্রাণ আর নিরাভরণ মানুষের জীবনসংগ্রামের ভেতর জন্ম নিয়েছেন এমনই এক আলোকিত মানুষ- সুমনা চাঙমা। তিনি কেবল একজন প্রধান শিক্ষিকা নন; তিনি একজন স্বপ্নসাধক, সংস্কৃতিসেবী, মানবিক শিক্ষাবিদ এবং অনেক অনেক শিক্ষার্থীর জীবনের নীরব স্থপতি।    ...

শব্দের ভুবনে এক নিবেদিত প্রাণ: কবি বিনয় বিকাশ তালুকদার

ছবি
কবি বিনয় বিকাশ তালুকদার "একটি জাতির ভাষা যখন তার নিজস্ব বর্ণমালায় উচ্চারিত হয়, তখন সেই ভাষার প্রতিটি শব্দ ইতিহাসের মতো দীপ্তিমান হয়ে ওঠে। আর সেই ইতিহাসকে যাঁরা কলমে ধারণ করেন, তাঁরাই জাতির প্রকৃত আলোকবর্তিকা।" পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় শুধু সবুজ বনানী, ঝরনা আর মেঘের নিবাস নয়; এটি শতাব্দীপ্রাচীন ভাষা, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক জীবন্ত ভাণ্ডার। সেই ভাণ্ডারের নীরব প্রহরীদের অন্যতম কবি বিনয় বিকাশ তালুকদার , যিনি জীবনের আরাম-আয়েশ নয়, বেছে নিয়েছেন শব্দের কঠিন সাধনা এবং জাতিসত্তার সেবাকে। ১৯৬১ সালের ১১ নভেম্বর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার নাবিদে পাড়ায় তাঁর জন্ম। পিতা রেবতি রঞ্জন তালুকদার এবং মাতা কল্পলতা চাঙমার স্নেহছায়ায় বেড়ে উঠলেও শৈশব ছিল অভাব, অনটন ও সংগ্রামে ঘেরা। কিন্তু দারিদ্র্য তাঁর স্বপ্নকে পরাজিত করতে পারেনি; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস এবং নিজের জাতির জন্য কিছু করার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই তাঁর জীবনের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। শিক্ষাজীবনের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন—একটি জাতিকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র তার ভা...

সবার আগে আমি একজন মানুষ - ইনজেব চাঙমা

ছবি
মানুষের পরিচয় কি কেবল তার ধর্মে? সে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ না খ্রিস্টান—এই প্রশ্নের উত্তরেই কি তার সমস্ত অস্তিত্ব সীমাবদ্ধ? নাকি মানুষের পরিচয়েরও আগে আছে একটি হৃদয়, একটি মন, কিছু স্বপ্ন, কিছু আনন্দ এবং মুক্তভাবে বেঁচে থাকার অধিকার?   সম্প্রতি ‘শ্রাবণে মেঘগুলো’ ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্কুলশিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল সমালোচনার মুখে পড়েছেন (২৩জুলাই ২০২৬ ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে সমালোচনা শুরু হয়)। তাঁকে ঘিরে যখন নানা প্রশ্ন, মন্তব্য ও বিতর্কের ঢেউ উঠেছে, তখন প্রতিবাদে সরব হয়েছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ, কবি সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমনা মানুষেরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মনে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে, আমরা কি একজন মানুষকে তাঁর কর্ম দিয়ে বিচার করছি, নাকি তাঁর পরিচয়ের দেয়াল দিয়ে মাপছি?   একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি পাতা নন। তিনি বিদ্যালয়ের ঘণ্টা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ থাকা বন্ধ করেন না। শ্রেণিকক্ষের বাইরে তাঁরও একটি পৃথিবী আছে, সেখানে আছে হাসি, গান, অনুভূতি, সংস্কৃতি, আনন্দ আর নিজের মতো করে বেঁচে থাকার ছোট ছোট ইচ্ছা। দিনের পর দিন অন্যের সন্তানকে মানুষ ...

কবি বিনয় শংকর চাঙমার জীবন, সাহিত্য ও সংগ্রাম - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  “যে কবি নিজের জনপদের কান্না শুনতে পান, তিনিই একদিন একটি জাতির স্মৃতির ভাষা হয়ে ওঠেন।” পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় কেবল সবুজ অরণ্যের বিস্তার নয়; তার প্রতিটি ঢালে জমে আছে ইতিহাসের স্তর, প্রতিটি ছড়ায় প্রবাহিত হয় মানুষের হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ, সংগ্রাম ও স্বপ্নের দীর্ঘ উপাখ্যান। সেই উপাখ্যানকে শব্দে, কবিতায় এবং গানে রূপ দিয়েছেন কবি বিনয় শংকর চাঙমা। তিনি শুধু একজন কবি নন; তিনি পাহাড়ের স্মৃতিরক্ষক, স্বজাতির ভাষার প্রহরী এবং সংস্কৃতির অন্যতম নিবেদিতপ্রাণ সাধক। প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক অনিশ্চয়তা এবং জীবনের নির্মম বিপর্যয় তাঁর সাহিত্যযাত্রাকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিটি ক্ষত তাঁর সৃষ্টিকে করেছে আরও গভীর, আরও মানবিক। তাই তাঁর কলমে যেমন ফুটে উঠেছে পাহাড়ের অপরূপ প্রকৃতি, তেমনি উচ্চারিত হয়েছে মানুষের বেদনা, ইতিহাসের দহন, জাতিসত্তার সংগ্রাম এবং অস্তিত্ব রক্ষার অদম্য প্রত্যয়। তাঁর অমর সৃষ্টি “লোগাং ছড়া কুলে কুলে” আজও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। ১৯৪৯ সালের ১১ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার কিয়াংঘাট গ্রামে জন্মগ্...

পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তির প্রতিশ্রুতি, রক্তের পুনরাবৃত্তি - ইনজেব চাঙমা

ছবি
  ইনজেব চাঙমা

সুরের অমলিন প্রদীপ: শিল্পী তৃপ্তি তালুকদার - ইনজেব চাঙমা

ছবি
শিল্পী তৃপ্তি তালুকদার সুরের অমলিন প্রদীপ: শিল্পী তৃপ্তি তালুকদার মানুষের জীবন কখনো কখনো একটি গানের মতো—কখনো উচ্ছ্বাসে ভরা, কখনো বেদনার সুরে বিষণ্ন। কিন্তু সত্যিকারের শিল্পীর জীবন কোনো একক জীবনের সীমানায় আবদ্ধ থাকে না; তাঁর কণ্ঠ, তাঁর শিল্প আর তাঁর সৃষ্ট স্মৃতি সময়ের স্রোত পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে স্পর্শ করে। শরীর একদিন নিঃশেষ হয়, অথচ শিল্পের অনুরণন থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে, ইতিহাসের পাতায়, একটি জাতির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংগীত-ঐতিহ্যে তৃপ্তি তালুকদার ছিলেন তেমনই এক উজ্জ্বল নাম—যাঁর জীবন ছিল সংগীত, সংস্কৃতি, সৌন্দর্যবোধ ও মানবিকতার এক অনন্য সমন্বয়। তৃপ্তি তালুকদার নামে তিনি সর্বাধিক পরিচিত হলেও জন্মসূত্রে ছিলেন এক সম্ভ্রান্ত দেওয়ান পরিবারের কন্যা। তাঁর পিতা তেজেন্দ্র লাল দেওয়ান এবং মাতা জ্যোতির্ময়ী দেওয়ান। ১৯৪০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন লারমা গঝা পিড়াভাঙা গুত্তিভুক্ত এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে। এই পরিবারে শিক্ষা, শিল্পচর্চা, সংস্কৃতিপ্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ছিল উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জিত মূল্যবোধ। সেই পরিবেশেই শৈশবের তৃপ্তির হৃদয়ে প্রথম জেগে ওঠে সংগীতে...

মাতৃভাষার প্রদীপ ও বর্ণমালার রূপকার

ছবি
ইনজেব চাঙমা  “একটি ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে কেবল কিছু শব্দের বিলুপ্তি নয়; হারিয়ে যায় একটি জাতির স্মৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের দীর্ঘ উত্তরাধিকার।” ইতিহাসের প্রতিটি সময়ে এমন কিছু মানুষ জন্ম নেন, যাঁরা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সীমা অতিক্রম করে নিজেদের জীবনকে একটি বৃহত্তর আদর্শের কাছে সমর্পণ করেন। তাঁদের হাতে কোনো রাষ্ট্রক্ষমতা থাকে না, থাকে না বিপুল অর্থসম্পদ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব; কিন্তু তাঁদের নীরব শ্রমই একদিন একটি ভাষাকে নতুন প্রাণ দেয়, একটি বিলীয়মান বর্ণমালাকে পুনর্জাগরিত করে এবং একটি জাতির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়কে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।   পার্বত্য চট্টগ্রামের চাঙমা ভাষা, অঝাপাত বর্ণমালা এবং সমকালীন চাঙমা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে এমনই এক নিবেদিতপ্রাণ সাধকের নাম ইনজেব চাঙমা। তিনি কেবল একজন লেখক নন; তিনি ভাষাসংগ্রামী, সংগঠক , সম্পাদক, পাঠাভ্যাস আন্দোলনের উদ্যোক্তা এবং মাতৃভাষা পুনর্জাগরণের এক নিরলস কর্মযোদ্ধা। ১৯৮১ সালে ১৯ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের চাঙমা সার্কেলের ২৯ নম্বর ছোটমেরুং মৌজার বাজেইছড়া গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ ...